Home » প্রচ্ছদ কথা » সরকার কতোদিন টিকবে আর আগামী নির্বাচন কবে?

সরকার কতোদিন টিকবে আর আগামী নির্বাচন কবে?

আমীর খসরু

political-cartoons-41ভোটারবিহীন, একদলীয় এবং মহাপ্রশ্নসাপেক্ষ তামাশার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটিকে পুঁজি করে, এমন নড়বড়ে খুঁটির উপরে ভর করেই বর্তমান সরকারটি চলছে। যেহেতু সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি এবং সরকারের দেশীয় বর্হিদেশীয় চালক ও পরামর্শকরা এই নির্বাচন এবং সরকারের নড়বড়ে খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি খুব ভালো করেই জানে, আর সে কারণে উভয়ে মিলেই এখন দুনিয়া জুড়ে চলছে ‘সনদ বা সার্টিফিকেট’ যোগাড়ের নানাবিধ চেষ্টা এবং তদবীর। চীনরাশিয়াসহ দু’একটি দেশকে ব্যবসাবাণিজ্যের লোভ দেখিয়ে বা অন্য উপায়ে অভিনন্দন বার্তা জুটিয়ে নেয়া হয়েছে বটে, কিন্তু প্রধান প্রধান দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সনদ প্রাপ্তি ঘটেনি। বরং তাদের পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারির ওই অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কারণে ‘সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়েছে’ বলে বলাও হচ্ছে। এরপরেও চেষ্টা চলছে নানা উপায়ে, নানা দিক থেকে। বাংলাদেশের হয়ে অন্য দেশটিরও কূটনৈতিক তদবীরের অন্ত নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জার্মানী, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ প্রধান প্রধান দেশগুলো ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচনটিকে এবং বিদ্যমান সরকারী ব্যবস্থাকে বৈধতা না দেয়ার কারণে বাংলাদেশ সরকারের বৈধতার প্রশ্নে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই। সরকারের ব্যাপারে তাদের অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীনরা প্রথমদিকে একটি কৌশলের আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেছিল এবং এখনো যে তা বন্ধ হয়েছে তা নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ এসব দেশগুলোর পক্ষ থেকে একই অবস্থান ব্যক্ত করে যে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তাতে বলা হচ্ছে যে, তারা সরকার, এনজিও, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী মহলসহ সবার সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশে এবং এর জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সামগ্রিক সহায়তা বজায় রাখার জন্য। মোদ্দা কথা তারা আওয়ামী লীগের এই সরকার নয়, বাংলাদেশের সঙ্গেই সম্পর্ক রক্ষা করছে। যদিও স্বাভাবিক সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটি হয়ে থাকে দুই সরকারের মাধ্যমেই। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা জনগণকে এটা বোঝাতে চাইছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ওই সব সরকারের কোনোই সমস্যা নেই। সমস্যা বলতে তারা আসলে কি বোঝাতে চান তা বোধগম্য নয়।

সমর্থন দেয়া না হোক, অন্তত ‘চুপচাপ থাকুক’ এমন একটা অবস্থার জন্যও চেষ্টা চলছে। এ সপ্তাহেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ওয়াশিংটন সফর করে এলেন তাদের মনোভাবের কোনো পরিবর্তন আনা যায় কিনা এমন চেষ্টায়। কিন্তু ওয়াশিংটন তাদের ওই একই অবস্থানের কথা কোনো নড়চড় ছাড়াই ঢাকাকে জানিয়ে দিয়েছে। তারা ওই নির্বাচনকে বৈধ বলে মনে তো করেই না, বরং যতো শিগগিরই সম্ভব নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সে লক্ষ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনের পর পরই জানুয়ারিতে মার্কিন সিনেটে বাংলাদেশ সম্পর্কিত প্রথম দফা শুনানি এবং কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের শ্রম অধিকার নিয়ে যে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় তাতে বাংলাদেশের নির্বাচন, মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম নেতিবাচক মনোভাবের কথাই জানিয়ে দেয়া হয়েছে। শেষ শুনানিতেও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এসিস্ট্যান্ড সেক্রেটারি নিশা দেশাই বিশওয়াল ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে বলতে গিয়ে জনগণের অংশগ্রহণবিহীন, জনগণের আশাআকাঙ্খার প্রতিফলন নেই, অগ্রহণযোগ্যসহ নানা বিশেষণ ব্যবহার করেন। মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কেও নেতিবাচক বক্তব্য ও মনোভাব প্রতিফলিত হয়। পুরো শুনানির বক্তব্যেই একটি কথা বেরিয়ে এসেছে ওই নির্বাচন বৈধ নয় এবং নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে সংলাপের তাগিদ দেয়া হয়েছে। এমন কঠোর মনোভাব এবং বক্তব্যের জন্য সরকার মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলেও কাউকে মনের গোপন কথাটি বুঝতে দেয়নি। তাদের ধারণা ছিল, ‘কোনো না কোনোভাবে’ পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে। ইতোপূর্বে অবশ্য এই সরকারের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে সরকারেরই বর্হিদেশীয় চালক ও পরামর্শক দেশটি চেষ্টা চালিয়েছিল এবং ফলাফল দাঁড়িয়েছিল ওই দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।

তবে এতো সবের পরেও বাংলাদেশের সরকার হাল ছেড়ে দেয়নি, তার প্রমাণ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ। গত বছর জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দেওয়া জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে। তোফায়েল আহমদ এ মাসের গোড়ার দিকে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ পুনরায় মার্কিন জিএসপি সুবিধা ফিরে পাবে। এ জন্য তিনি যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, ১৬টি শর্তের মধ্যে ১৩টিই বাংলাদেশ পূরণ করেছে। যদিও গবেষণা সংস্থা সিপিডি বলছে, বাস্তবে ১৬টি শর্ত হলেও এর ধারাউপধারা মিলিয়ে শর্তের সংখ্যা অনেক বেশি। আর ওই ১৬ শর্তের মধ্যে মাত্র ৮টি হয় কিছুটা বাস্তবায়িত হয়েছে, কিংবা আংশিক, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে মাত্র। যাই হোক, মার্কিন সিনেটে দ্বিতীয় দফা শুনানির পরেই হঠাৎ করে তোফায়েল আহমদ সুর পরিবর্তন করে বললেন, রাজনৈতিক প্রশ্ন আনা হলে জিএসপি সুবিধা পাওয়া যাবে না। এরপরে জনাব আহমদ সেই যে চুপ হলেন আর এ জাতীয় কোনো কথা বললেন না। অবশ্য মার্কিন পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মে মাসে জিএসপি সংক্রান্ত বৈঠকের আগেই শর্তাবলী পূরণ হয়েছে অথবা হচ্ছে এমনটা দেখাতে হবে।

কার্যত সব শর্তের ঊর্ধ্বে এখন একটিই শর্ত অবিলম্বে নতুন নির্বাচন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সত্যিকার ও কার্যকর সংলাপ অনুষ্ঠানের জন্য সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে। কার্যত সব শর্তের ঊর্ধ্বে এখন একটিই শর্ত অবিলম্বে নতুন নির্বাচন। কানাডীয় রাষ্ট্রদূত বিবৃতি দিয়ে, বক্তৃতার মাধ্যমে এমন বার্তা দিয়েই যাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানও একই।

সরকার প্রথমে সংলাপ অনুষ্ঠানের নামে একটি লোক দেখানো উদ্যোগ নিলেও এক বৈঠকেই এর পরিসমাপ্তি ঘটেছে। সরকার এবং তাদের চালকদের পক্ষ থেকে সংলাপ অনুষ্ঠানের নামে সময়ক্ষেপণের একটি কূটকৌশল চালু করতে গিয়েছিল। কিন্তু অচিরেই তা ধরা পড়ে যাওয়ায় পুরো কৌশলই ভেস্তে গেছে।

নির্বাচনের আগে বলা হচ্ছিল, সংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য এমন নির্বাচন করতে হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের পরেই বলা হলো এবং এমনভাবে সবকিছু সাজানোগোছানো শুরু হলো যে, এ সরকারটি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে। এখনো সরকার তাই মনে করছে। এ পর্যায়ে সরকার উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নতুন আরেকটি কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল এই ভেবে যে, তাদের প্রার্থীরা সব উপজেলায় অগ্রগামী না থাকলেও সমান সমান থাকবে। এরই মধ্যে কৌশলে জয় ছিনিয়েও আনা যাবে। কিন্তু প্রথম পর্যায়ের নির্বাচনে হিতেবিপরীত হয়েছে। একদিকে বিএনপি ও তার জোট অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করেছে, অন্যদিকে নির্বাচনে জালিয়াতি এবং সংঘাত প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এই সরকারের অধীনে দলদাস নির্বাচন কমিশন দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন হতে পারে না।

সরকারের পক্ষ থেকে আরেকটি কৌশলও আগে থেকেই গ্রহণ করা হয়েছিল। যতোটুকু জানা যায়, সরকারের বর্হিঃদেশীয় চালক ও পরামর্শকের পরামর্শ মতেই এ কাজটি করা হয়েছে। কৌশলটি হচ্ছে, জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদ দমনের কথা উচ্চকিত স্বরে বলা এবং একটা শ্লোগান হিসেবে হাজির করা। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীনদের সবাই একযোগে এ কাজটি করলেন এই আশায় যে, এতে পশ্চিমা দুনিয়ার সহানুভূতি পাওয়া যাবে এবং মন গলবে। প্রধানমন্ত্রী এবং তারা সবাই নানা বক্তৃতাবিবৃতিতে বলতে শুরু করলেন একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষেই জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ মোকাবেলা করা সম্ভব। অন্যদের দিয়ে এ কাজটি হবে না। কিন্তু এখানেও গোল বেঁধে গেল। আলকায়দা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির অডিও বার্তা দেয়া হুমকি, দেশের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি জঙ্গীগোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পরে এ কথা স্পষ্ট হয় যে, এতোদিন জঙ্গীবাদ নিয়ে সরকার যে প্রচারপ্রচারণা চালাচ্ছিল তা ছিল আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ পর্যায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-র ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত তিন শীর্ষ সদস্যকে দুর্ধর্ষ কায়দায় ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে ঘটনা, তাতে দুটো বিষয় পরিষ্কার হয়েছে এক. জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ দমন আওয়ামী সরকার করে ফেলেছে বলে যা বলা হচ্ছিল তা যে সঠিক নয়, রাজনৈতিক কৌশল মাত্র এবং দুই. বাংলাদেশ বরং আগের তুলনায় এখন অনেক বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে আছে। এটিও প্রমাণ হয়েছে যে, এই সরকার মৌলবাদজঙ্গীবাদ দমন তো করতে পারেইনি বরং পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এ কথাও স্বীকার করতে হবে যে, আল কায়দার হুমকি এবং ইসলামী জঙ্গীগোষ্ঠীর এভাবে আসামী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। আর আসামী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাটি সাধারণ হিসেবেও এই প্রথম ঘটলো। বিরোধীদের দমনপীড়ন এবং রাজনৈতিক অস্থির ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় থাকলে জঙ্গীবাদ, মৌলবাদের যে উত্থান হয় তাই প্রমাণিত হয়েছে শেষ পর্যন্ত। এখন সরকারের এবং তাদের বর্হিদেশীয় চালকদের পক্ষ থেকে নানা খেলা হচ্ছে। এর শেষ কোথায় তা বলা মুশকিল।

সামগ্রিক পরিস্থিতি যখন এমনই তখন অবশ্য সরকার অভ্যন্তরীণভাবে রাজনৈতিক বিরোধীদের দিক থেকে তেমন কোনো চাপের মুখেই নেই। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টিতে প্রধান বিরোধী দল ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েই যাচ্ছে।

বিএনপি এখন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া, উপজেলা নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়াসহ অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে নানা মতদ্বৈততা, মতভিন্নতায় দ্বিধাবিভক্ত। বিএনপি আসলে কি চায় সে প্রশ্নেও আসলে তারা দ্বিধান্বিত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্দিহান। যতো দূর জানা যায়, বিএনপির এমনতর পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার ভালোভাবে ওয়াকেবহাল। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে সরকার ও তার চালকের পক্ষ থেকে নানামুখী কর্মতৎপরতাও রয়েছে বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র খবর দিচ্ছে। অথচ বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর হাতে, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে এমন পরিস্থিতি মোকাবেলার যেমন উদ্যোগ নেই, তেমনি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিষয়েও তারা দ্বিধান্বিত। এই উদ্যোগ ও উদ্যমহীনতা, ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার অনুপস্থিতি বিএনপিকে সংগঠন হিসেবে যেমন পর্যুদস্ত করে ফেলেছে, তেমনি এর সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা নৈরাশ্য চরম মাত্রায় কাজ করছে। আর এর সমর্থকরাও হতাশ হয়ে পড়ছেন দলটির কাণ্ডকারখানা দেখে।

তবে একটি বিষয়ে বিএনপিকে বেশ আস্থাশীল মনে হয়, আর তা হচ্ছে বিশ্বের তাবৎ বৃহৎ শক্তির চাপে অচিরেই সরকার নির্বাচন দিয়ে দেবে এমন একটা ভাবনা। আর এ ভাবনাটি ক্রমাগত তাদের অসীম বিশ্বাসে পরিণত হচ্ছে। এমন একটা ধারণাও তাদের অনেকের পক্ষ থেকে ছড়ানোর কারণে এটা এখন একটি সাধারণ বা কমন প্রশ্ন হয়ে গেছে যে, আগামী নির্বাচনটি কবে হচ্ছে, কতো তাড়াতাড়ি হচ্ছে?

এ প্রশ্নে বলা প্রয়োজন যে, কোনো অগণতান্ত্রিক, জনবিরোধী, জনবিচ্ছিন্ন এবং এ কারণে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা কোনো সরকার বা শাসকের হাত থেকে রেহাই পেতে হলে, রক্ষা পেতে গেলে নিজেকে শক্তিমান হতে হয়। ওই স্বৈরাচারী শাসন, শাসক সর্বোপরি সরকারটির উপরে বর্হিদেশীয় চাপ কতোটা আছে তা একমাত্র বিবেচ্য বলে ধরে নেয়া হলে এবং ওই বিবেচনায় নিজেকে শক্তিমান বা বলীয়ান ভাবাটা কোনো সুস্থ বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্নতার পরিচায়ক নয়। কিন্তু বিএনপি সে শক্তিতেই শক্তিমান বলে মনে করে। তারা মনে করে বিদেশীদের চাপ তাদের শক্তিতে পরিণত হবে। সাধারণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে নিজেদের শক্তিতে বলীয়ান, শক্তিমান হয়ে প্রতিপক্ষের উপরে প্রবল চাপ প্রয়োগ করতে পারাটাই আসল শক্তিমানের লক্ষণ। বিএনপি যখন নিজেদের অবস্থানকে ওই সীমায় পৌঁছানোর সক্ষমতা, দক্ষতা অর্জন করতে পারবে তখনই বিদেশীদের চাপ তাদের জন্য বাড়তি শক্তি হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে নতুবা নয়।

আগামী নির্বাচনটি কবে হবে তা এমন একটি পরিস্থিতির উপরই নির্ভর করে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিরোধী দল বিএনপি নতুন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে বাধ্য করার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেনি। পারবে, তারও কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। তারা শুধুই বসে আছে বাইরের দিকে তাকিয়ে। কাজেই আগামী নির্বাচনটি কবে হবে এবং সরকারের আয়ুষ্কাল কতোদিনের তা একটি বড় প্রশ্ন হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।।