Home » রাজনীতি » সাক্ষাতকার – ড. শাহদীন মালিক

সাক্ষাতকার – ড. শাহদীন মালিক

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবৈধ কাজের রাশ টেনে ধরার মতো যে নৈতিক ভিত্তি ও জনসমর্থন দরকার, এ সরকারের তা আছে বলে মনে হয় না”

shahdeen_malik. শাহদীন মালিক, সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব লএর পরিচালক। মতামত দিয়েছেন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বর্তমান সরকারসহ সরকারগুলোর ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও এর সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে।

আমাদের বুধবার: বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আপনি কিভাবে দেখেন?

শাহদীন মালিক: মোটাদাগে ধরা হয়, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রথম পর্যায় ছিল ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত। ২০০৭ সালে এটি কিছুটা কমে এসেছিল। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে যে সরকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাদের প্রথম দুই বছরে এ ঘটনা বেশি ঘটলেও শেষ দুই বছরে তা কমে আসে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচনের পর থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে গেছে। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন প্রতিদিন গড়ে একটি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এটা নিঃসন্দেহে সাংঘাতিক উৎকণ্ঠার ব্যাপার।

আমাদের বুধবার: এটি কি রাজনৈতিক কারণে বাড়ে?

শাহদীন মালিক: অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গঠন করা হলে তার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে। তবে অনেক সময় যেসব কাজ তারা ভালো মনে করে, সেগুলো নিজ উদ্যোগে করে। একটি বাহিনী অব্যাহতভাবে মানুষ হত্যার পরও যখন তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না, তখন তার সদস্যদের মধ্যে এ ধরনের কাজ আরো বেশি করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সমাজে এর উদাহরণ আছে। মনে হয়, সেই ফেইজটাও আমাদের এখানে এখন চলে এসেছে। এ ফেইজে মূলত বাহিনীর বিভিন্ন ছোট গ্রুপ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটায়। বাংলাদেশেও তাই হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশে যেটি হয়েছে তা হলো, তখন এ বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য খুন ছাড়াও অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে যায়। ডাকাতি, রাহাজানি, চোরাচালান প্রভৃতিতে জড়িয়ে যেতে পারে।

আমাদের বুধবার: র‌্যাব গঠনের পর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল বেশি। এখন দেখা যাচ্ছে, পুলিশও এ কাজটি করছে আরো বড় মাত্রায়। অর্থাৎ এ প্রবণতা পুলিশের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। এর কারণ কি?

শাহদীন মালিক: এ ধরনের সংক্রমণ খুবই স্বাভাবিক। পরবর্তী সময়ে এটি অন্যান্য বাহিনী যেমন বিজিবি, আনসার প্রভৃতির মধ্যে সংক্রমিত হতে বাধ্য। আবার বলছি, বিশ্বের প্রায় সবখানে এমনটিই হয়েছে। এর কারণটা হলো, র‌্যাব বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষ হত্যা করায় পুলিশ হয়তো মনে করছে আমরা পারব না কেন? এখন পুলিশের দেখাদেখি অন্যরাও একইভাবে ভাববে। এখন এটি বিচার বিভাগের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। এই অর্থে যে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হচ্ছে না। বিচার বিভাগ পদক্ষেপ নিচ্ছে না বা নিতে পারছে না। এটা সত্যই যে, বিচার বিভাগে নিজে বিশেষ কিছু করতে পারে না। তবে এতে জনমনে প্রচ্ছন্নভাবে এ ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে যে, বিচার বিভাগে গেলেও এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না। এতে রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গগুলো দোষী হয়ে পড়ছে।

আমাদের বুধবার: হাইকোর্ট তো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অনেক বিষয়ে রুল জারি করে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হচ্ছে না কেন?

শাহদীন মালিক: হাইকোর্ট তার আদেশ পালনের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণভাবে আমরা সবাই জানি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সরকারের এক ধরনের অনুমোদন আছে। এখন তাদের ব্যাপারে আদেশ দিয়ে তা যদি প্রতিপালন করা না হয়, তাহলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের মনোভাব আরো খেলো হয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, এ রকম পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগ ইচ্ছা করেই আদেশ বা নির্দেশ দেয় না। আদেশ না দেয়ার কারণে সমালোচনা হতে পারে। তবে আদেশ দেয়ার পর যদি তা পরিপালন করা না হয়, তাহলে তা অন্য বিভাগেও সংক্রমিত হতে পারে। আমি বলছি না, আমাদের বিচার বিভাগ এমনটি করছে। বলছি, বিভিন্ন দেশে এমনটি হয়েছে। ওই আশঙ্কা থেকেই বিচার বিভাগ হয়তো এ ধরনের আদেশ দেয়া থেকে বিরত আছে।

আমাদের বুধবার: আওয়ামী লীগ আগের দফায় নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রসফায়ারে নিহত হবে না এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যদিও তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং হচ্ছে না

শাহদীন মালিক: ২০০৫ কিংবা ২০০৬ সালের দিকে লিখেছিলাম, যারা এ ধরনের বাহিনী গঠন করে, তারাই পরবর্তীতে এদের শিকার বেশি হয়। নিয়তির নির্মম পরিহাস, এখন র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিএনপিই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করছে। বর্তমান সরকারও তো আজীবন ক্ষমতায় থাকবে না। একইভাবে শঙ্কার বিষয় হলো, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে অপব্যবহার করছে কিংবা তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের যেভাবে বৈধতা দিচ্ছে, ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর তারা যদি এদের অত্যাচারের শিকার হন, তাহলে তাদের প্রতিকার পাওয়ার মতো জায়গা থাকবে না। এতে আমরাও আশ্চর্য হব না। তবে এর প্রতিবাদ আমরা করেই যাব। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো ক্ষমতাসীনদের মধ্যে ইতিবাচক উপলব্ধি জাগ্রত করা। এ থেকেই হয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবৈধ কার্যক্রমের রাশ টেনে ধরা হবে। কিন্তু আমার ধারণা, ইতিবাচক উপলব্ধি ক্ষমতাসীনদের মধ্যে হয়তো হবে না। সে পর্যায়টা এরই মধ্যে অতিক্রম হয়েছে।

আমাদের বুধবার: সমাজের উপরে প্রভাবটাই বা কি হবে?

শাহদীন মালিক: সমাজে সহিংসতা বৃদ্ধির মূলে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট ঘটনা হলেও শিক্ষার্থীরা বন্দুক উঁচিয়ে এক অপরকে অন্যকে তাড়া করছে। মিছিলমিটিংয়ে ককটেল ও বোমাবাজি বেড়েছে। সমাজেও সহিংসতা বেড়ে উঠছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারায় মানুষ মনে করছে, বেআইনি কাজ করলেও তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। তাই বেআইনি কাজ থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখার প্রবণতাও ধীরে ধীরে কমে আসছে। সব ধরনের আইন বহির্ভূত আচরণের ক্ষেত্রেই এর প্রতিফলন ঘটবে। এভাবেই একটি সমাজ নষ্ট হয়ে যায়।

আমাদের বুধবার: আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এর মাধ্যমে?

শাহদীন মালিক: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তারা এটি উপলব্ধি করতে পারেন না। এজন্যই তারা হয়তো মনে করে, নিয়মের বাইরে কাজ করলে তেমন একটা ক্ষতি হবে না। মনে রাখা দরকার, কোনো প্রতিষ্ঠান যখন নিয়মের বাইরে চলে যায়, তখন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। কারণ সরকারের তখন নৈতিক শক্তি থাকে না।

নব্বইপরবর্তী সময়ে যে কয়টি সরকার দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের মধ্যে বর্তমান সরকারের নৈতিক ভিত্তি সবচেয়ে দুর্বল। নির্বাচনের কারণেই এমনটি হয়েছে।

আমাদের বুধবার: র‌্যাবকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো নৈতিক শক্তি কি ক্ষমতাসীনদের থাকে?

শাহদীন মালিক: নব্বইপরবর্তী সময়ে যে কয়টি সরকার দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের মধ্যে বর্তমান সরকারের নৈতিক ভিত্তি সবচেয়ে দুর্বল। নির্বাচনের কারণেই এমনটি হয়েছে। কিছু বিষয় তো রয়েছেই, যেগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের নৈতিক অবস্থান ও জনআস্থা এ দুইয়ের ওপর নির্ভর করে কঠিন পদক্ষেপ নিতে পারে তারা। ওই বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবৈধ কাজের রাশ টেনে ধরার মতো যে নৈতিক ভিত্তি ও জনসমর্থন দরকার, এ সরকারের তা আছে বলে মনে হয় না।

আমাদের বুধবার: উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে ক্রসফায়ারের পক্ষে বলছে। অপরাধ দমনে ক্রসফায়ারই নাকি সমাধান….

শাহদীন মালিক: এভাবে সমাধান করতে চাইলে কত বেশি অসভ্য হতে হয়, তা আমার জানা নেই। কী ধরনের বর্বর মানসিকতা হলে এমন চিন্তা কারো মাথায় আসতে পারে। সমাজের কিছু অংশ স্পষ্টতই এ ধরনের বর্বরতায় নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এটা বড়ই উদ্বেগজনক ব্যাপার। মানুষ মেরে ফেললে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, এ ধরনের মানসিকতা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে দেখা গিয়েছিল। এখন স্বাধীন বাংলাদেশে যারা এমনটি ভাবছেন, তাদের সঙ্গে আমি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মানসিক সমতা দেখতে পাই। বিশ্বের অনেক দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব মনে করেছিলেন, এ ধারায় অগ্রসর হলে হয়তো সমস্যার সমাধান হবে। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি বরং তারা সমাজকে এতটা পেছনে নিয়ে গেছেন যে, নষ্ট হওয়া সমাজগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে অনেক বছর লেগেছে। কোনো সমাজ যদি এ ধারায় অগ্রসর হয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারত, তাহলে আইনের শাসনের দরকার ছিল না। সব সমাজই এ পথে হাঁটত। অনেক সমাজেই এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে। তবে একপর্যায়ে গিয়ে সবাই উপলব্ধি করেছে যে, তারা মারাত্মক ভুল করেছে। এ ভুলের খেসারত ওসব সমাজকে তিনচার দশক বা তারও বেশি সময় ধরে দিতে হয়েছে এবং তাদের সমাজ পিছিয়ে গেছে। এত উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশে এটা অর্থাৎ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কেন করা হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়।

আমাদের বুধবার: আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কোনো কিছুই তো আমলে নেয়া হচ্ছে না। কেন?

শাহদীন মালিক: র‌্যাব যখন প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয়, এর প্রতি প্রচুর জনসমর্থন ছিল। অথচ এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাহিনীটির সমালোচনা বাড়ছে। মানুষ এখন ভুল বুঝতে পেরেছে। যারা সমাজ পরিচালনা করেন বা নেতৃত্বে আছেন, এটা তাদেরই প্রথমে বোঝা উচিত ছিল। সাধারণ মানুষের হলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে বোধোদয় কেন হচ্ছে না, সেটাই আশ্চর্যের বিষয়।

আমাদের বুধবার: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কতটা বাধা সৃষ্টি করছে?

শাহদীন মালিক: সমাজে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, তা থেকে উত্তরণের উপায় কী, বলা মুশকিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বলা হয়েছিল, এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত সমাজে আইনের শাসন ফিরে আসবে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্রেও বলা হয়েছিল এমন কথা। যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। আমি বলছি না যে, র‌্যাবের হত্যাকাণ্ড এসবের সমার্থক। কিন্তু র‌্যাবের একটি অংশ নির্বিচারে ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ খুন করছে। এর মাধ্যমে তারা দেশের আইনের শাসনের ভিত্তিটাকে প্রায় নষ্ট করে দিয়েছে।

আমাদের বুধবার: তাহলে এ পর্যায়ে সমাধানটা কীভাবে সম্ভব?

শাহদীন মালিক: র‌্যাবকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে হবে। সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের পর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। গোয়েন্দা শাখা রেখে র‌্যাবকে বিলুপ্ত করে দেয়া যেতে পারে। তাহলে পুলিশও এক ধরনের ধাক্কা খাবে। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর প্রবণতা কমে আসবে। র‌্যাবের মূল কাজ হবে তথ্য সংগ্রহ করা। গত দশ বছরে তারা যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সবগুলোর বিচার করা হয়তো এখন সম্ভব নয়। তবে কিছু বিচার করা অন্তত অত্যাবশ্যক। এ বাহিনীর মধ্যে যারা বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। সমাজকে সহিংসতামুক্ত রাখতে যত দ্রুত সম্ভব এ উদ্যোগ নেয়া উচিত। আমাদের সমাজে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য ব্যাপারে পরিণত হচ্ছে। যেখানে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, সেখানে সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব নয়।

আমাদের বুধবার: সবশেষ একটি বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিষয়টি হচ্ছে, ইসলামী জঙ্গী সংগঠন জেএমবি’র যে তিন শীর্ষ সদস্যকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল তাদের একজন অর্থাৎ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ার যাই বলুন তাতে হত্যা করা হয়। এমনটা কেন হলো? কারণ অনেক তথ্য তো বেরিয়ে আসতে পারতো

শাহদীন মালিক: ইদানীংকালে তথাকথিত ক্রসফায়ারে তো অনেক লোক মারা হয়েছে। বিশেষ উদ্বেগের ব্যাপার হলো বড় ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হচ্ছে। এবং এতে যেটা হচ্ছে, আমাদের ধারণা বড় ধরনের অপরাধে অনেকেই জড়িত থাকতে পারে, যেমন জঙ্গী অপরাধ বা বড় অপরাধে যেখানে অনেকে জড়িত থাকার কথা, সে ধরনের অপরাধের আসামী এবং সাজাপ্রাপ্তকে এভাবে মেরে ফেলার মধ্যদিয়ে এসব অপরাধের পেছনে কারা জড়িত আছে তা বের করার রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, পুলিশ বা র‌্যাব এবং যারা এসব মারছে তারা আইনের শাসনের তোয়াক্কা করে না। আর তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে ক্রমান্বয়ে আমাদের দেশে ঠান্ডা মাথায় খুন করার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটা বাহিনী না হলেও কিছু লোকজনকে কিন্তু সরকার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে। এগুলো আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এতো বড় হুমকি যে এখান থেকে যদি অবিলম্বে সরকার নিজেদের সরিয়ে না আনে তাহলে সমাজে শাসন, বিচার, শৃঙ্খলা সবকিছুই ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য।।