Home » শিল্প-সংস্কৃতি » জন-অধিকার প্রাপ্তির আকাঙ্খা যখন চলচ্চিত্রে

জন-অধিকার প্রাপ্তির আকাঙ্খা যখন চলচ্চিত্রে

ফ্লোরা সরকার

last 7একজন লোক নিখোঁজ হয়েছে, কিন্তু সে বেঁচে আছে না মরে গেছে তা আপনি জানেন না। এই যে লোক নিখোঁজ হবার ব্যাপারটা এখনো আমাদের সমাজে (ফ্রান্স) নতুন। ব্যাপারটা একধরণের তীব্র নিরাপত্তাহীনতা এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করে, আপনাকে নিদ্রাহীন করে তোলে।” পিটার এস.গ্রীনবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিকফরাসি চিত্রনির্মাতা কস্তা গারভাস (১৯৩৩ -) কথাগুলো বলেছিলেন। ১৯৭৩ সালে চিলির এক সামরিক অভূত্থানে সালভাদর আলেন্দের সরকারের পতন হলে, অভূত্থানের পর পর একজন মার্কিন অপেশাদার লেখক চার্লস হরম্যান প্রথমে নিখোঁজ এবং পরে খুন হলে পরিচালক কারভাস ১৯৮২ সালে তার ওপর নির্মাণ করেন ছবি “মিসিং”। তার আগে ১৯৬৭ সালে তার নির্মিত ‘জেড’ ছবিটি দিয়ে প্রথম সাড়া জাগালেন চলচ্চিত্র জগতে। ‘জেড’ ছবিটিও ‘মিসিং’ এর মতোই রাজনৈতিক ছবি। যেখানে গ্রিসের রাজনৈতিক অন্তঃসারশূন্যতাকে দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলেন। এমনকি ১৯৭০ এ নির্মিত তার ‘কনফেশান’ ছবিটিও রাজনৈতিক ছবি। ‘কনফেশান’ সম্পর্কে ঐ একই সাক্ষাৎকারে গারভাস বলছেন – “এই ছবিটিও নিষ্পেষন আর অত্যাচারের সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। তবে অত্যাচার বলতে পশ্চিমারা যা বোঝান অর্থাৎ ইলেকট্রিক শক, বেত্রাঘাত, ইনজেকশান এসব না। সেটা ছিলো বুদ্ধি বৃত্তিগত অত্যাচার। মানুষকে তার বিশ্বাস ও ভাবনার বিরুদ্ধে পরিচালিত করার চেষ্টা।” এমনকি ২০১২ সাল পর্যন্ত নির্মিত (সবশেষ ছবি ‘ক্যাপিটাল’) তার প্রায় সব ছবিই ছিলো রাজনৈতিক ছবি। তার মতে সব ছবিই রাজনৈতিক। এমনকি অ্যাকশান নির্ভর ছবিগুলিও তাই, কেননা সেখানে দেখা যায় নায়ক, এই ধরণীকে রক্ষা করছে বন্দুকের নল দিয়ে। তার আগ্রহ মূলত ক্ষমতার পিরামিডের সুউচ্চ বিন্দুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। যে কেন্দ্র বিন্দু সমগ্র বিশ্বায়নের বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক রাজনৈতিক, মতাদর্শিক এবং বিশ্বাসের আস্থার জায়গাগুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। ফ্রানৎস ফ্যানঁর বিখ্যাত The Wretched of the Earth বা “পৃথিবীর অভিশপ্তেরা” বইটির ভাষায় তোমরা ভালো করেই জানো যে আমরা শোষক। এবং এও জানো, আমরা প্রথমে সোনা আর অন্য ধাতুর দিকে হাত বাড়িয়েছি। তারপর নতুন মহাদেশের তরল সোনা (পেট্রোল) করায়ত্ত করেছি। সেগুলো নিজেদের পুরোনো মহাদেশে নিয়ে এসেছি। এসবের ফলপ্রসু ফল মিলেছে, আমাদের প্রাসাদগুলো, আমাদের গির্জা আর আমাদের বৃহৎ শিল্পনগরীগুলো তার সাক্ষ্য বহন করছে। আবার যখন মন্দার আশঙ্কা দেখা দিলো, উপনিবেশের বাজারগুলি দিয়ে তা দূর করা হয়েছে বা অন্যদিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।” আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়না এই শোষক শ্রেণী কারা এবং কোন শোষিতের বুক চিড়ে এসব অন্যায়ের পাহাড় গড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ছবি তাই এসব শোষকের (দেশি এবং বিদেশি) বিরুদ্ধে শোষিতের অন্যায়ের বিরুদ্ধের ছবি। জীবন. জীবনের বাস্তবতা, জীবন সংগ্রাম আর জীবন দর্শনের প্রতিচ্ছবি।

বিশ্ব চলচ্চিত্র চলচ্চিত্রের যাত্রারম্ভ থেকেই হলিউডি বানিজ্যিক ধারার বিরুদ্ধে যেয়ে সত্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক ছবি নির্মাণে মনোনিবেশিত ছিলো। তাই বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে লাতিন আমেরিকায় মোটা দাগে আমরা পাই প্রথম সিনেমা (হলিউড ধাঁচে নির্মিত), দ্বিতীয় সিনেমা (সাহিত্যশ্রয়ী, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে ভরপুর, সামাজিক বুর্জোয়া চলচ্চিত্র) এবং তৃতীয় সিনেমার (হলিউড এবং হলিউডি সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের মোকাবেলায় নির্মিত গেরিলা ছবি) স্তরভেদ। তৃতীয় সিনেমা যার প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রাণান্তকর সংগ্রাম করে গেছেন লাাতিন আমেরিকার চলচ্চিত্র নির্মাতাগণ। আর্জেন্টিনার ফার্নান্দো সোলানাস, যাকে এই তৃতীয় ছবির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে পরিগণিত করা হয়, তার “দ্য আওয়ার অফ দ্যা ফার্নেসেস” ছবিটি প্রচুর সাড়া জাগিয়েছিলো। ব্রাজিলের নুভো আন্দলোনের কর্ণধার, গ্লাউবার রউসা তো রীতিমতো “ক্ষুধার নন্দনতত্ত্ব” নামে ম্যানিফেস্টো লিখে ফেললেন। তার মতে তারাই ভায়োলেন্সের শিকার যারা ক্ষুধার্ত থাকে। তাই ঝলমলে পোষাকের গ্ল্যামার দিয়ে,সেই ভায়োলেন্সকে ঢাকা যায় না। অন্যায়ের ক্ষতগুলো প্রত্যক্ষ প্রদর্শিত না হলে অন্যায় দেখানো হবে কী করে? কিউবার ইউনাইটেড আর্টিস্টনির্মিত “ভায়োলেন্স” ছবিটি দেখলে যেকেউ বলবে দ্বীপটির রাজধানীর চারিদিক একটা বেশ্যাপড়া ছাড়া যেনো কিছু নয়। লাতিন আমেরিকায় নির্মিত এরকম আরো অনেক রাজনৈতিক ছবির নাম করা যেতে পারে। আফ্রিকার টনি ক্র্যাভেটজ নির্মাণ করলেন “দ্য টল ম্যান” প্রামাণ্যচিত্র ২০০৪ সালের ১৯ নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার পাম দ্বীপে সংঘঠিত একজন বর্ণবাদী পুলিশ কর্তৃক একজন আদিবাসীর গ্রেফতার এবং পুলিশ কাস্টডিতে তার খুন হবার সত্য কাহিনী। গ্রিসের প্রয়াত নির্মাতা থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাস রাজনীতিকে দেখেন একটি যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে। সেই যুদ্ধ আত্মার যুদ্ধ। মানুষকে সবসময় সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করে যেতে হয়। একজন শিল্পীও যেহেতু মানুষ কাজেই তাকেও একই ভাবে লড়ে যেতে হয়।

আফ্রিকার সেনেগালের চিত্রনির্মাতা ডিজিব্রিল ম্যামব্যাতি তার “হায়না” ছবিতে দেখিয়েছেন, কীভাবে হায়না রূপী আই.এম.এফ. এবং বিশ্ব ব্যাংক একদিকে মানুষ মারার এবং অন্যদিকে অর্থ প্রদানের রাজনীতির খেলা খেলে। তার সব ছবিই রাজনীতি কেন্দ্রিক। চার্লি চ্যাপলিন তার “দ্য গ্রেট ডিক্টেটর” এ মোটা দাগে দেখিয়ে দিয়েছেন একজন সৎ ও অসৎ রাষ্ট্রনায়ক কেমন হয়। প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম বিশ্ববরেণ্য নির্মতা আন্দ্রেই তারকোভস্কি তার ‘নস্টালজিয়া’ ছবিতে, মানুষের স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকার যে অসম্ভব সংগ্রামী জীবনের প্রতি উদ্বিগ্ন ছিলেন ঠিত তেমনি বিশ বছর আগে নির্মিত ‘সোলারিজ’এও ঐ একই রকম উদ্বিগ্নতা দেখা যায়। ‘সোলারিজ’ সম্পর্কে তার নিজের ভাষায় “মানুষকে তার সীমাবদ্ধ জীবনের মাঝে তার বিশ্বাস এবং নৈতিক রূপান্তরের সমস্যার মধ্যে দিয়ে আজীবন সংগ্রাম করে যেতে হয়” (হার্ভাড ফিল্ম আর্কাইভ)। ফ্রান্সের ক্রফোর “ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ” এর সেই ছোট ছেলেটি, যে সামাজিক অনাচারের শিকার তাকে দর্শক কখনোই ভুলতে পারেনা। ভোলা যায় না তার “ফারহেনহাইট ফোর ফিফটি ওয়ান” ছবি, যে ছবি ব্রেখটের সেই বই পোড়ানোর কবিতার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। রাষ্ট্র কীভাবে জনগণকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখে। কারণ শিক্ষা মানেই সবকিছু জেনেবুঝে ফেলা আর সবকিছু জানাবোঝা হয়ে গেলে রাষ্ট্র তথা সরকারের ভীত টলোমলো হয়ে ওঠে। ফ্রান্সের আরেক পুরোধা এবং বিতর্কিত নির্মাতা জঁ লুক গোদার তার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন – “আমি মনে করি শিল্প এক বিশেষ ধরণের বন্দুক। বন্দুক একটি কার্যকর আইডিয়া বা ভাবনা এবং একটি আইডিয়া হলো তাত্ত্বিক বন্দুক। চলচ্চিত্র সেই তাত্ত্বিক বন্দুক।”

১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার ইতিহাসে সংঘঠিত বৃহত্তম জাতিগত বিদ্বেষের প্রেক্ষিতে নির্মিত “হোটেল রুয়ান্ডা”। হুতু আর তুতসি দুই জাতি পরস্পরকে বিলীন করে দেবার জন্যে কী ভয়াবহ লোমহর্ষক গৃহযুদ্ধে মেতে ওঠে তার কাহিনী আমরা দেখি। সত্যজিৎ রায়ের “হীরক রাজার দেশে”র রাজারা আজও বিদ্যমান, তার “সাতরাঞ্জ কা খিলাড়ি” রা আজও সেভাবে খেলে যাচ্ছে। মৃণালসেনের প্রায় সব ছবিই রাজনৈতিক। তার “ইন্টারভিউ” ছবি প্রসঙ্গে তাই তিনি বলেন ক্ষমতার হাত বদল হলেও ক্ষমতায়নের কোনো বদল হয়না। অর্থাৎ ব্রিটিশের রেখে যাওয়া প্রশাসনিক ভূত আজও তাড়া করে বেড়ায়। “কোলকাতা ৭১” একটি আসাধারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী ছবি। এভাবেই আমরা একের পর এক বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অজশ্র জীবন ধর্মী এবং রাজনৈতিক ছবির সন্ধান পাই।

লর্ড ম্যাকলে (টমাস ব্যাবিংটন ম্যাকলে) তার বিখ্যাত ১৮৩৫ সালের Minute of the Indian Education”এর শেষ অংশে লিখছেন – “—আমাদের বর্তমান শ্রেষ্ঠ কর্মসূচী হবে এখানে এমন একটি বিশেষ শ্রেণী গড়ে তোলা­­ – যারা আমাদের আর জনগণের মাঝে একটি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। তারা বংশ এবং বর্ণে হবে ভারতীয় কিন্তু হঠকারিতায়, মতাদর্শে, নৈতিকতায় এবং বুদ্ধিমত্তায় হবে ইংরেজ ।” বর্ণবাদী এই শিক্ষা সংস্কারকের এই কয়েকটি বাক্যই আমাদের স্পষ্ট করে দেয় কাদের আদলে আমাদের গড়ে তোলা হয়েছিলো এবং আজও হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার আশি বছর বয়সে, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বোধকরি বিষয়টা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন আর তাই তার সভ্যতার সংকট প্রবন্ধে হতাশার সুরে লিখেছিলেন – “জীবনের প্রথম আরম্ভে সমস্ত মন থেকে বিশ্বাস করেছিলুম য়ুরোপের অন্তরের সম্পদ এই সভ্যতার দানকে। আর আজ আমার বিদায়ের দিনে সে বিশ্বাস একেবারে দেউলিয়া হয়ে গেল।” সভ্যতার নামে দেশে দেশে পশ্চিম কতটা বর্বর হয়েছিলো সেই ইতিহাস আজ পুরোনো, জীর্ণ।

তবে পশ্চিমকে এখন দোষারোপ না করে বরং নিজেদের দোষক্রটির দিকে একটু নজর দেয়া উচিত। কেননা, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে অনেক পানি ইতিমধ্যে গড়িয়ে গেছে। কিন্তু যে আত্মবিচ্ছেদের অভ্যাস আমরা গড়ে তুলেছি বহু বছর ধরে সেই আত্মবিচ্ছেদের বেড়াজাল থেকে আজও আমরা মুক্তো হতে পারিনি। নিজেদের সঙ্গে আত্মলিন হতে না পারলে কখনোই ফলপ্রসূ কোনো শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতা গড়ে তোলা যায়না। বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্রের ইতিহাসের দিকে যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দৃষ্টিপাত করা যায়, তাহলে দেখা যাবে অধিকাংশ চলচ্চিত্রই অনুকরণ আর অনুসরণ ছাড়া আর কিছু না। অতীত থেকে মূলত হলিউডের চলচ্চিত্রের মূল ধারার অনুসরণ করতে দেখি বলিউড চলচ্চিত্রকে, বলিউডের ধারায় চলে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র এবং সবশেষে পশ্চিমবঙ্গকে অনুসরণ এবং অনুকরণের ধারায় এদেশের চলচ্চিত্র। সৃষ্টিশীল চলচ্চিত্র আর অনুকরণীয় চলচ্চিত্রের মাঝের তফাৎটা অনুধাবন করতে পারিনি বলেই আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পে বড় ধরণের একটা শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিলো এবং আজও হচ্ছে। ১৯৫৬ সালের “মুখ ও মুখোশ” এর চলচ্চিত্র দিয়ে যাত্রা শুরু করে, আজ আমাদের চলচ্চিত্রের বয়স দাঁড়িয়েছে ৫৮ বছরে। গত শতাব্দীর ষাট এবং সত্তরের দশকের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের নাম করতে পারলেও কটা রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এই দেশে? একমাত্র জহির রায়হানের “জীবন থেকে নেয়া” ছবি ছাড়া আর কোনো ছবি কি আমাদের স্মরণে পড়ে? শুধুমাত্র একটা চাবির গোছা দিয়ে শোষকের যে সর্বজনীন চিত্র এঁকেছিলেন, বাংলাদেশের আর কোনো ছবিতে কি আমরা পেয়েছি? ভাবতে বিস্ময় লাগে যে দেশ এতো এতো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক অস্থিরতা আর বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়, সেই দেশে কোনো রাজনৈতিক ছবি নির্মিত হয় না। রাজনৈতিক ছবি একটি বিশেষ কাল, একটি বিশেষ স্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে। সেই কাল আর স্থানের ঘটনা যেখানেই ঘটুক না কেনো তা হয়ে ওঠে সর্বজনীন। “মিসিং” ছবির চার্লস হরম্যানকে কি এই দেশে পাওয়া যাবে না? “দ্য টল ম্যান” এর সেই আদিবাসির মতো এখানেও কি পুলিশ কাস্টডিতে মানুষের মৃত্যু ঘটে না? “হীরক রাজার দেশ” র রাজাদের কি এখানে দেখতে পাওয়া যায়না? পৃথিবীর সব দেশের বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের অন্যায়, অবিচার আর শোষণের প্রায় সব কাহিনী একই রকম শুধু সাহস করে বলার মানুষের বড় অভাব। বর্তমান বিশ্বে “প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ” বা “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ”র মতো ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘঠিত না হলেও তার চাইতে আরো বড় ও ভয়াবহ যুদ্ধের সম্মুখীন এখন মানুষ আর তা হলো বিশ্বাস, নৈতিকতা, আদর্শ আর বুদ্ধি বৃত্তিগত যুদ্ধ। যে যুদ্ধ খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু মানুষের একান্ত অনুভবের মধ্যে দিয়ে যা বয়ে চলে। “তোমাকে আমার বা আমাদের মতো হতে হবে” তার বিশ্বাস, নৈতিকতা বা আদর্শ যাই থাকুক না কেনো। ওসব পুরোনো জঞ্জাল। কিন্তু একজন সৎ ও সাহসী নির্মাতা কখনোই তার বিশ্বাস বা আদর্শ থেকে সরে যান না। বিশ্বাসের ভিতের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে যেকোনো কালজয়ী শিল্পকর্ম। এই সাহসী নির্মাতাদের এখন এই দেশে বড় অভাব। তবু আমরা অপেক্ষা করবো ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সেই সাহসী নির্মাতাদের আগমনের জন্যে। স্বাধীন দেশে স্বাধীন ছায়াছবি দেখার আশায়।।

লেখক: অভিনেত্রী এবং চলচ্চিত্র বিশ্লেষক