Home » প্রচ্ছদ কথা » এ কোন মৃত্যু উপত্যকা

এ কোন মৃত্যু উপত্যকা

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

coverদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে যে সব দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল, বিশেষ করে রাজতন্ত্র, সামরিক একনায়কতন্ত্র বা কম্যুনিষ্ট একনায়কতন্ত্র, যাই হোক না কেনএসব সরকারের নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কিছু বাহিনীর নাম খুব শোনা যেত। এসব বাহিনীর নাম শুনলেই সাধারন মানুষের রক্ত হিম হয়ে আসতো। পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সব বাহিনীর নাম এই মূহুর্তে মনে করা যাবে না, তবে এর মধ্যে সবিশেষ কূখ্যাতি অর্জন করেছিল, সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়নের গুপ্ত পুলিশ বাহিনী জিআরইউ, রেজা শাহ পাহলভীর দেশ ইরানের সাভাক, নিকারাগুয়া’র কন্ট্রা, পাকিস্তানের আইএসআই, এমনকি কথিত গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের সিআরপি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিয়ন্ত্রিত আল বদর নামক জল্লাদ বাহিনীর স্মৃতি এখনও কমবেশি মানুষের মনে রয়েছে। এসব বাহিনীর কাজই ছিল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বা ভিন্নমতালম্বী মানুষদের অপহরণ, গুম, হত্যা করে লাশটিকে নিখোঁজ করে দেয়া। গুপ্ত বাহিনী যে মানুষটিকে ধরে নিয়ে যেত তাকে আর কখনও ফেরত পাওয়া যাবে নাঘনিষ্ঠজনেরা এটা ভালভাবে জানতেন। তবুও দিনের পর দিন আশায় বুক বেধে থাকতেননিখোঁজ মানুষটি যদি ফিরে আসে। ষ্টেট সিকিউরিটি বা তথাকথিত জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এসব গুপ্ত পুলিশ বাহিনী হাজার হাজার মানুষকে গুম অথবা খুন করে ফেলেছেতার কোন ইয়ত্তা নেই।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে ৭০ দশকে নকশাল আন্দোলন দমনের নামে কত নিরীহ মানুষ হত্যাকান্ড ও গুমের শিকার হয়েছেন, সে সময়ের রাজনীতিবিদ এবং ইতিহাসের পাঠক মাত্রই মনে করতে পারবেন। জরুরী অবস্থা জারীর মাধ্যমে গোটা ভারতে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল ইন্দিরা সরকার। ঐ সময়ে বিরোধী দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনপীড়নে যে বাহিনীটিকে ব্যবহার করা হয়েছিল তার নাম সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ, সংক্ষেপে সিআরপি। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ছিল অজস্র খুন, গুম আর গুপ্ত হত্যার অভিযোগ। ৭০ দশকের এ সকল গুম ও গুপ্ত হত্যার বিষয়কে কেন্দ্র করে খ্যাতনামা ঔপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তার ‘ফেরা’ উপন্যাসের এক জায়গায় খুনী এবং খুন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় চরিত্রের ভাবনায় লিখেছিলেন, ..“যারা খুন করে তারা জানে না, একটা মানুষ মানে একটা জগৎ। কত সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে একটা মানুষবৌ, বাচ্চা, মা, বাবা, ভাই, বোন, বন্ধুতা ওরা ভুলে যায়। ওরা মারে বিচ্ছিন্ন একটা মানুষকে। সেই মার সেই লোকটাকে ছাড়িয়েও ছড়িয়ে যায়। একজন মানুষের সঙ্গে আরও কত মানুষ শেষ হয়। যারা খুন করে তারা কি তা জানে”?

এনফোর্সড ডিসএ্যাপিয়ারেন্স’ যাকে আমরা বলছি গুম বা নিখোঁজ হয়ে যাওযা কিংবা গুপ্ত হত্যার ইতিহাস বাংলাদেশ জন্মের শুরু থেকেই। সে সময়ে সরকারের অন্যতম আধা সামরিক বাহিনী ‘জাতীয় রক্ষী বাহিনী’র বিরুদ্ধে অসংখ্য গুম, গুপ্ত হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এই তালিকাটি এতই প্রলম্বিত যে, বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ রক্ষী বাহিনীর হাতে গুম বা হত্যার শিকার হয়েছে। এর পরে সামরিক একনায়কতন্ত্রের কালে ক্যু, পাল্টা ক্যু এবং সন্দেহের বশবর্তী হয়ে অসংখ্য লোক নিখোঁজ ও হত্যার শিকার হয়েছেন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এই সময়কালে বিভিন্ন বামপন্থী সশস্ত্র গ্রুপ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সশস্ত্র গ্রুপগুলোর হাতে গুপ্ত হত্যা ও দিনের শিকার হওয়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়। আবার এসব সশস্ত্র গ্রুপকে দমনের নামে সরকারী বাহিনীগুলো নির্বিচারে হত্যা করেছে অসংখ্য যুবা ও তরুনকে। এভাবেই একটি সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশে গুপ্তহত্যা ও নিখোঁজের ঘটনার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও এটি বন্ধ করার দৃশ্যমান প্রচেষ্টা কোন সরকার নিয়েছে এটি অন্তত: জনগনের জানা নেই।

বছর দশেক হলো বাংলাদেশে গুম ও গুপ্তহত্যার কালচারটি পুনরায় শুরু হয়েছে তথাকথিত গণতান্ত্রিক লেবাসধারী সরকারের আমলেই। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রদেয় তথ্যানুযায়ী গত চার বছরে গুম বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে ২৬৮ টি। কেবল বিরোধী দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী বা অন্য পেশাজীবিরাই অপহরণ বা গুমের শিকার হননি, সরকারী দলের নেতাকর্মীরাও বাদ যাচ্ছেন না। প্রায় ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে অপহরন বা গুমের ঘটনা অস্বীকার করা হয়। অস্বীকারের এই কালচার সাধারন জনগনকে করে তুলছে আতংকিত, ঠেলে দিচ্ছে মারাত্মক হুমকির মুখে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা হারাতে বসেছে মানুষ। সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একটি সাপ্তাহিকের সাথে সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, “দেশে কোন গুম, হত্যা হচ্ছে না। গুম, হত্যার কথা আমার সামনে বলবেন না। এগুলো আপনারা বলেন। আওয়ামী লীগ কখনও হত্যার রাজনীতি করে না”। তার এই কথা প্রমান করে যে, তিনি আওয়ামী লীগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অস্বীকার করলেও যে ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত ঘটছে, তাহলে সেগুলো কে বা কারা করছে, সেটি প্রমানের দায়িত্ব তার ওপরেই বর্তায়। না হলে এসব ঘটনার দায়দায়িত্ব আগামিতে তাকে এবং তার দলকেই যে বহন করতে হবে।

একজন পরিবেশ আন্দোলনকারী ও মানবাধিকার কর্মী রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিক অপহৃত হওয়ার ৩৫ ঘন্টা পরে ফিরে আসলে তাকে এ সময়ের সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ বলেই মনে হয়েছে। কারা তাকে অপহরণ করেছিল, কেন করেছিল, কিভাবে তিনি ছাড়া পেলেন সম্ভবত: সে সব ঘটনা রহস্যাবৃতই থেকে যাবে। সেটি বোঝা গেছে, পরবর্তীকালে সংবাদ সম্মেলনে রিজওয়ানার বক্তব্যে। তার মতে, তারা এতোটাই প্রভাবশালী এবং সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলে অবাধ বিচরনের কারনে তাদেরকে কখনো বিচারের মুখোমুখি করা যাবে কিনাএ সন্দেহ রিজওয়ানার রয়েছে। সিদ্দিকের অতি দ্রুত ফিরে আসার ঘটনায় গোটা জাতি আনন্দিত, প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন সরকারে দায়িত্ববানরা। কিন্তু মনে রাখা জরুরী, গত তিনমাসে গুম বা অপহরণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় ফিরেছেন মাত্র ৪ জন, লাশ পাওয়া গেছে ১২ জনের, ২৩ জনের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এরকম লক্ষাধিক মানুষ খুন, গুম, নিখোঁজ অথবা গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছে তিতাল্লিশ বছর বয়সী বাংলাদেশে। কতো মায়ের বুক খালি হয়েছে, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে, সন্তান হারিয়েছে পিতামাতাকে। আমাদের চেনাজানা জগতের কতো মানুষ যে আচমকাই এক সুন্দর প্রভাতে অথবা কালো নিশীথে নাই হয়ে গেছে, তার তো কোন হিসেব নেই। কতো সম্ভাবনা যে অকাতরে ঝরে গেছে নষ্টভ্রষ্ট রাজনীতির বলি হয়ে, শুধুমাত্র প্রিয়জনরা বা একান্ত আপনজনরাই সে হিসেব দিতে পারবেন। আমাদের অকরুন রাষ্ট্ররাজনীতিসরকারসমাজ সে হিসেব কি আদৌ রাখে?

সিদ্দিকের স্ত্রী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, স্বাভাবিকভাবেই এই অপহরণ তোলপাড় করে ফেলেছিল আন্তর্জাতিক মহলকেও। শহরবাসী সম্পন্ন মানুষ ও সুশীল সমাজ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, ফলে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল সরকারের ওপর। এ কারনে সিদ্দিককে সহসাই অপহরণকারী ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়, কূতর্কে না গিয়ে এটি ধরে নেয়া ভাল। এই দেশে প্রায়ই গুম, অপহরণ, গুপ্ত হত্যার ঘটনা অনেকদিন ধরেই ঘটে চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আত্মীয়স্বজনরা জেলা সদর বা রাজধানীর সাংবাদিকদের কাছে হাহাজারি করছেনএরকম খবর আমরা প্রায়শ: জানতে পারছি। কিন্তু এসব অজ্ঞাত কুলশীল মানুষদের গুম বা গুপ্তহত্যার ঘটনায় সুশীল সমাজ কি ভূমিকা পালন করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো কতোটা উচ্চকিত হয়েছে সেসব নিয়ে সাধারন মানুষের রয়েছে অনেক প্রশ্ন। আর রাষ্ট্রসরকার এসব অভিযোগের প্রতি কোন গুরুত্বই দেয়নি। দুএকটি গুমের ঘটনায় সরকারের কোন বাহিনী জড়িত রয়েছে এরকম অভিযোগ এবং আলামত থাকলেও তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয়নি। মানবাধিকার কমিশন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বা বিচার বিভাগ কোন কোন ঘটনায় নড়াচড়া দিলেও অচিরেই তা হারিয়ে গেছেএমনকি মানুষের স্মৃতি থেকেও।

গুম বা নিখোঁজের অনেক ঘটনায় সরকারের বিশেষ বাহিনীর সম্পৃক্ততার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলেও রিজওয়ানার স্বামী অপহরণের ব্যাপারে এরকম অভিযোগ এখনো ওঠেনি। কারন তাকে ফেরত পাওয়া গেছে। তবে অপহরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে অপহরণকারীদের যে চেহারার উল্লেখ করেছেন সেটি প্রণিধানযোগ্য। জানিয়েছেন তিনি, তারা ছিল সুঠাম দেহের অধিকারী, মাথায় ছোট ছোট চুল, বয়স ৩৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে, কথা বলছিল বিভিন্ন এলাকার আঞ্চলিক ভাষায়। কারা এরা? এ প্রশ্নের জবাব সরকারকেই ঝুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি অপহরণকারীদের গ্রেফতার এবং বিচারের মুখোমুখিও করতে হবে। কারন, বিজওয়ানার অভিযোগের আঙ্গুল যাদের দিকে উঠেছে, তারা সরকারের মতই ক্ষমতাশালী, এক অর্থে প্যারালাল সরকার। সুতরাং মিরাকল কিছু না ঘটলে এই মহলকে বিচারের আওতায় আনা যাবে কিনা সেটি সময়ই বলে দেবে।

গুম বা গুপ্ত হত্যাগুলোর ঘটনায় সরকার ও তার কতিপয় বাহিনী জড়িত ছিলবেশ কয়েকবার এরকম অভিযোগ থাকলেও এর বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত ও রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় এই নিয়ে নানাধরনের ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। জনগনের অবিশ্বাস করার কোন কারন থাকে না, যখন মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে গুমের কয়েকটি ঘটনা এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে সরকারী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল উত্তোলন করা হয়। একের পর এক ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার প্রবনতার কারনে অপরাধীরা বেপরোয়া ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। ফলে শিশু, নারী থেকে বৃদ্ধরা পর্যন্ত গুম বা অপহরনের তালিকা থেকে বাদ থাকছেন না। ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধে আওয়ামী লীগ যে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিল, সেটি তারা পালন তো করেইনি, উপরন্ত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের আগে সে রকম কোন প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত দেয়া হয়নি। সুতরাং এক্ষেত্রে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরে গুপ্ত হত্যা এবং গুমের ঘটনা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা নাও যেতে পারে।

সারা পৃথিবীতে অপরাধ হিসেবে গুম বা নিখোঁজ করে দেয়াকে খুবই গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করে ঘৃনীত মনে করা হয়। এর বিরুদ্ধে অনেককাল ধরে সংগঠিত প্রতিবাদ ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের সাধারন পরিষদ একটি আন্তর্জাতিক রেজুলেশন গ্রহনের মধ্য দিয়ে গুমের বিরুদ্ধে সুরক্ষাটি গৃহীত হয়। ২০০৭ সালে সম্পাদিত একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে গুমকে মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কনভেনশনে বলা হয়, যুদ্ধ, জরুরী অবস্থা বা চরম রাজনৈতিক বিপর্যয়েও কাউকে গুম করার বৈধতা নেই। ২০১০ সালে ২৩ ডিসেম্বর এটি কার্যকরী হওয়ার পরে এ যাবতকালে মাত্র ৪২ টি রাষ্ট্র এর পক্ষ হয়েছে, ৯৩ টি রাষ্ট্র স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু বাংলাদেশ এটি অনুসমর্থন তো দুরে থাক, স্বাক্ষরও করেনি এ পর্যন্ত। এশিয়ায় ভারত এবং মালদ্বীপ এটি স্বাক্ষর করেছে।

স্বাধীনতার পরে এরকম লক্ষাধিক মানুষ খুন, গুম, নিখোঁজ অথবা গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছে তিতাল্লিশ বছর বয়সী বাংলাদেশে। কতো মায়ের বুক খালি হয়েছে, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে, সন্তান হারিয়েছে পিতামাতাকে। আমাদের চেনাজানা জগতের কতো মানুষ যে আচমকাই এক সুন্দর প্রভাতে অথবা কালো নিশিথে নাই হয়ে গেছে, তার তো কোন হিসেব নেই। কতো সম্ভাবনা যে অকাতরে ঝরে গেছে নষ্টভ্রষ্ট রাজনীতির বলি হয়ে, শুধুমাত্র প্রিয়জনরা বা একান্ত আপনজনরাই সে হিসেব দিতে পারবেন। আমাদের অকরুন রাষ্ট্ররাজনীতিসরকারসমাজ সে হিসেব কি আদৌ রাখে? তারা জানেন, খুনী কারা, রাষ্ট্রসরকার সকলেই খুনীর পরিচয় জানে। তারা সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, মিডিয়ার সাথে কথা বলে, পত্রপত্রিকায় সাক্ষাতকার দেয়, রাষ্ট্র সমাজকে চ্যালেঞ্জ করে থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদি বা কখনো তারা বিচারের মুখোমুখি হয়, শাস্তি হয় তাদের, তাহলে রাজনৈতিক বিবেচনায় একসময় রাষ্ট্রপতি তার দন্ড মওকুফ করে দেন অথবা রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে র্কিংবা মহাজনদের কন্ঠে ধ্বনিত বানী ‘জাষ্টিস ডিলেইড, জাষ্টিস ডিনাইডআসমা কিবরিয়া বা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী কিংবা দুর মফস্বলের কোন লিমনের মা কি করে একথা বিশ্বাস করবেন জানিনা, তবে তারাও আরো হাজারো জনের মত আইনী জটিলতা আর রাজনীতির কূটিল মারপ্যাচে আটকে পড়া স্বামীসন্তান হত্যা বা নিখোঁজের ঘটনায় ন্যায় বিচারের আশায় বুক বেঁধে থাকবেন? অথবা প্রতীক্ষায় থাকবেন প্রিয়তম মানুষটি ফিরে আসবে বলে।।