Home » শিল্প-সংস্কৃতি » স্বৈরশাসকদের প্রামাণ্য চিত্র – মার্কোয়েজের “দ্য অটাম অফ দ্য প্যাট্রিয়াক”

স্বৈরশাসকদের প্রামাণ্য চিত্র – মার্কোয়েজের “দ্য অটাম অফ দ্য প্যাট্রিয়াক”

ফ্লোরা সরকার

last 5সাধারণত শিল্প ও সাহিত্য জগতের বরণীয় শিল্পী ও লেখকেরা মৃত্যুর পর কিংবদন্তীতে পরিণত হন। কিন্তু গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কোয়েজ ছিলেন একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। নোবেলজয়ী এই লেখকের উপন্যাসের বিষয়বস্তু, রচনাশৈলী (যা সাধারণভাবে যাদু বাস্তবতা বলে পরিচিত) শুধু লাতিন আমেরিকাতেই নয়, সারা বিশ্বে বিশাল প্রভাব ফেলেন তার সময়কালে। “ওয়ান হানড্রেড ইয়ার্স অফ সলিচ্যুড’’ (নিঃসঙ্গতার শতবর্ষ (১৯৬৭) উপন্যাসটি শুধু নয় তার প্রায় প্রতিটি উপন্যাস, গল্প, আত্মজীবনী, প্রবন্ধনিবন্ধ, রির্পোটধর্মী লেখা, চিত্রনাট্য, মঞ্চ নাটক ইত্যাদি সবগুলোই নিবিড় পাঠযোগ্য রচনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধত্তোর সময়ে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, আন্দোলন এবং জয়পরাজয়ের সংগ্রামী চিত্র তার যাদু বাস্তবতার লেখনির মধ্যে দিয়ে গদ্যকাব্যের আদলে এক মহাকাব্যিক রূপে আবির্ভূত হয়। তার ‘‘দ্য ইনক্রেডিবল অ্যান্ড স্যাড টেল অফ ইনোসেন্ট এরিন্দোরা (১৯৭৮)’’ (সরলা এরিন্দোর ও তার নিদয়া ঠাকুরমা’র কাহিনী)-এর এরিন্দোরাকে যেমন ভোলা যায় না, তেমনি ভোলা যায়না ‘‘নো ওয়ান রাইটস টু দ্য কর্নেল’’ (কেউ লেখেনা কর্নেলকে)-র কর্নেলকে। “নিঃসঙ্গতার শতবর্ষের” মাকোন্দো যেন আমাদেরই কোনো চেনা গ্রাম, যা পরবর্তীতে শহরে রূপান্তরিত হয়, তার নির্মিত আসাধারণ চরিত্র ‘উর্সুলা’ যেন আমাদেরই বাড়ির মা, খালা বা ফুপু।

তার মহাকাব্যিক উপন্যাসগুলোতে যে বিষয়টি প্রধানত আমাদের আকর্ষণ করে তা হলো “নিঃসঙ্গতা’। এই নিঃসঙ্গতা শুধু ব্যক্তিবিশেষের নিঃসঙ্গতা হিসেবে আসেনা, আসে গোটা একটা সমাজ, রাষ্ট্র এবং মহাদেশীয় নিঃসঙ্গতা আকারে। যে নিঃসঙ্গতার পেছনে থাকে হাজার বছরের ইতিহাসের কালো অধ্যায়। ১৯২৭ সালের ৬ মার্চ জন্ম নেয়া এই প্রবাদ পুরুষ প্রধানত সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তার প্রথম প্রকাশিত রচনা কবিতা দিয়ে শুরু হয়। ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বরে কলাম্বিয়ার দৈনিক এল তিয়েম্পোতে হাবিয়ের গার্সেস ছদ্মনামে “গান” শিরনামে তার কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর একে একে তার দীর্ঘ সাতাশি বছরের জীবনে অক্লান্ত পরিশ্রমে শুধু দুই হাতে মানুষকে তার বিস্ময়কর সব লেখা উপহার দিয়ে গেছেন। তার সর্বশেষ রচনা ‘‘মেমোয়ার্স অফ মাই মিলেঙ্কলি হোরস’’ (আমার বিষন্ন বেশ্যাদের স্মৃতি ২০০৪) উপন্যাসটিও তার অন্যান্য রচনার মতোই পাঠককে উন্মুখ রাখে। গার্সিয়া মার্কোয়েজ হলেন সেই লেখক যাকে আরেক কিংবদন্তী চিত্রনির্মাতা তারকোভস্কি থেকে ধার করে বলা যায় – “যিনি পূঁজনীয় নন প্রয়োজনীয়”। আর তাই তার প্রায় সব গল্পউপন্যাস অবশ্যপাঠ্য হলেও “দ্য অটাম অফ দ্য প্যাট্রিয়ার্ক (১৯৭৫)” (কূলপতি বা মোড়লের শরৎ) একটু ভিন্ন পাঠের দাবি রাখে। সদ্য প্রয়াত এই কিংবদন্তী লেখকের শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের জন্যে আমরা তার এই উপন্যাসের ওপর সামান্য অলোকপাত করবো। তার আগে লাতিন আমেরিকার স্বৈরাচার বিরোধী কিছু সাহিত্যের ওপর একটু চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক।

উত্তরঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলোতে “স্বৈরতন্ত্র” যেনো একটি অবশম্ভাবী ভবিতব্য। ঔপনিবেশিক শাসনভুক্ত দেশগুলির ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, যেসব রাষ্ট্র ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিলো সেসব রাষ্ট্রগুলো পরবর্তীতে সাম্রাজ্যবাদের কালো হাতের ছত্রছায়ার হুমকির অধীনে দিন যাপন করে। লাতিন আমেরিকাভুক্ত দেশগুলি তা থেকে মুক্ত নয়। যে কারণে লাতিন আমেরিকাভুক্ত রাষ্ট্রগুলির স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরেই দেখা গেছে সেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা অপেক্ষা কর্তৃপক্ষের বশ্যতাস্বীকারের পক্ষপাতদুষ্ট ডান এবং বাম বা রক্ষণশীল ও প্রগতিশীল দুই ধরণের শাসনতন্ত্র গড়ে উঠেছে। যেখানে ঔপনিবেশিক শাসনের মতোই এক দল অপর দল দ্বারা শোষিত, নির্যাতিত হয়। এভাবে সেখানে স্বৈরাচার বিশেষত সামরিক স্বৈরতন্ত্র ক্রমে ক্রমে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। যে কারণে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যিক আন্দোলনের বিষ্ফোরন্মুখ সময় বিশেষত ১৯৬০ এবং ১৯৭০ এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী প্রচুর উপন্যাস রচিত হতে থাকে। তবে এই প্রচেষ্টা “শীতল লড়াই” এর সময়ের আগে থেকেই শুরু হয়েছিলো। গুয়াতেমালার লেখক এবং নোবেলজয়ী মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল ওসট্রিয়াস এর “দ্য প্রেসিডেন্ট” ছিলো প্রথম স্বৈরাচার বিরোধী উপন্যাস। ১৯৩৩ সালে উপন্যাসটি লিখিত হলেও প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ এ। উপন্যাসটি মূলত একজন রাজনৈতিক স্বৈরশাসক এবং সেই স্বৈরশাসকের কারণে সমাজের ওপর কী ধরণের প্রভাব পরে তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয় কলাম্বিয়ার লেখক জর্জ জালামিয়ার “বৃহৎ বুরুন্ডান বুরুন্ডান মারা গেছেন”। এটার এক স্বৈরাচারের মৃত্যু রহস্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। কিউবার স্বৈরশাসক জেরাদো মাচাদোকে কেন্দ্র করে কিউবান লেখক অ্যালেজো কার্পেন্তিয়ের ১৯৭৪ সালে প্রকাশ করেন “রিজনস অফ স্টেট” নামে হাস্যরসাত্মক ও বিষাদময়তা মিশ্রিত উপন্যাস। একই বছর প্যারাগুয়ের লেখক আগুস্তো রোয়া বাসতোস সেখানকার স্বৈরশাসক জোসে গ্যাসপার রোদ্রিগুয়েজকে কেন্দ্র করে লেখেন “আই, দ্য সুপ্রিম”। উপন্যাসের নামটাই যথেষ্ট এর বিষয়বস্তু বোঝার জন্যে। পেরুর নোবেলজয়ী লেখক মারিও ভার্গাস লোসা ২০০০ সালে লেখেন তার বিখ্যাত উপন্যাস “দ্য ফিস্ট অফ দ্য গোট”। এছাড়াও আর্জেন্টিনার লুইসা ভালেনজুয়েলা, টমাস এলনয় মার্টিনজে, চিলির এনরিক লাফোরকাদে লেখকগণও একই বিষয়ের ওপর অনেক উপন্যাস লিখে গেছেন। লাতিন আমেরিকার এসব উপন্যাসের সব থেকে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তারা কোনো নির্দিষ্ট স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে লিখলেও কাহিনীর ভেতর এসব স্বৈরাচারীকে কখনোই প্রত্যক্ষ ভাবে উপস্থাপন করা হয়না। যাদুবাস্তবতা, অধিবাস্তবতা, প্রতীকী আর রূপকের আড়ালে চমৎকার করে পরিবেশন করা হয়।

মার্কোয়েজের “কূলপতির শরৎ” এ এমন এক সামরিক স্বৈর শাসকের ইতিহাস বর্ণিত হয় যে স্বৈরাচারীর সঙ্গে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের সামরিক বা বেসামরিক স্বৈর শাসকের চরিত্রের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এবং বলাই বাহুল্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তো বটেই। উপন্যাসে আমরা দেখি নির্দিষ্ট সেই স্বৈরাচারীর কোন নাম উল্লেখ থাকেনা। শুধুমাত্র একজন ডামি যার নাম হিসেবে দেখা যায় প্যাট্রিসিয়ো আরাগোনেসকে। ফলে এই স্বৈরশাসক এতোটাই সার্বজনীন হয়ে পড়েন, যে কোনো দেশের পাঠক পড়তে পড়তে নিজের দেশের সঙ্গে চমৎকার মিলিয়ে নিতে পারেন। তার এই উপন্যাসের প্রধান যে বিষগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে তা হলো ক্ষমতার রহস্য, একাকীত্ব এবং দুর্নীতি। আমরা উপন্যাসের সেই অংশগুলো ধরে ধরে এবার সামান্য পাঠ নিতে পারি।

নিঃসঙ্গতার শতবর্ষ” উপন্যাসে যেমন দেখা যায় চার বছর, এগারো মাস, দুই দিন ধরে একটানা বৃষ্টি পড়ে, “কূলপতির শরৎ” এ ঠিক তেমনি ভাবে দেখা যায় কাহিনীর মূল নায়ক এক কূলপতি, জেনারেল, যিনি রাষ্ট্রের একনায়ক তিনি দেশটি শাসন করছেন ২০০ বছর ধরে। দুইশ বছরের এই শাসন কোনো মামুলি শাসন নয়। দুঃশাসন। স্বৈরশাসন। যে দুঃশাসনের কবল থেকে দেশের মানুষ মুক্তি পেতে চায়। যতই মুক্তির আকাঙ্খা করে ততই যেন সময় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। কোনো ধরণের বিপ্লব বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণেই স্বৈরশাসকের মৃত্যু ঘটেনা। এই স্বৈরশাসক বা কূলপতি এতোটাই শক্তিধর যে তিনি একাধারে অসুখের নিরাময়কারী, ভূমিকম্প, বন্যা, আর মহামারীর সংশোধনকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। তার হাত থেকে রাষ্ট্রের যত অন্ধ, খোঁড়া আর কুষ্ঠরোগীরা সুস্থ হবার জন্যে লবণ নিয়ে যায়। তিনি একাধারে যেমন বিভিন্ন রোগের নির্দেশক ঠিক তেমনি সময় বা ঘড়ির কাঁটারও নির্দেশক। ঘড়িতে যদি পাঁচটা বাজে কিন্তু শাসকের যদি ইচ্ছে হয় তাহলে তখন অনায়াসে তিনটা বেজে যায়। তার ইচ্ছে মতো যেমন ঘড়ির কাঁটা ওঠানামা করে তেমনি ওঠানামা করে সরকারি ছুটির দিন নির্ধারণ বা বাতিলের বিষয়গুলো। তার মা, যিনি ছিলেন ক্যারিবীয় সাগরের উপকূলে এক দরিদ্র দেশের পাহাড়ি এলাকার এক যাযাবর পাখিওয়ালী বেনদিসিয়ো আলভারাদোর, যার গর্ভে বিবাহ বর্হিভূত অবৈধ সন্তান হিসেবে কাহিনীর নায়কের জন্ম, সেই স্বৈরশাসক বেদিসিয়োর মৃত্যু হলে, তার জন্মদিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় কোনো সিদ্ধান্তের জন্যে কোনো লিখিত আইনের প্রয়োজন পড়েনা, স্বৈর এই শাসকের মুখের আইনই দেশের আইন। তাছাড়া শিক্ষিতদের প্রতি তার চরম একটা ঘৃণাও কাজ করে। যেকারণে দেখা যায়, নির্বাসিত মানুষগুলোকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে শিক্ষিত নির্বাসিতরা বাদ পড়ে যায়। বাস্তবেও দেখা যায় শিক্ষিত বা অশিক্ষিত যেকোনো স্বৈরশাসকই “শিক্ষা” নামক বস্তুটিকে সব থেকে বেশি ভয় করেন। কারণ শিক্ষা মানেই সবকিছু জেনে যাওয়া, বুঝে যাওয়া আর সব বুঝে যাওয়া মানে ইচ্ছেমতো শাসন করতে না পারা। সামান্য শিশুরাও পর্যন্ত এসব বুঝে যাওয়া থেকে রেহাই পায়না। আর তাই লাটারির টিকেটের ফাঁকির বিষয়টি শিশুদের কাছে ধরা পড়ে গেলে দুই হাজার শিশুকে এক ডিনামাইটের আঘাতে উড়িয়ে দিতে এই জেনারেল কসুর করেন না। তার ইচ্ছেমতো পদন্নোতি ঘটে। আবার পদন্নোতিপ্রাপ্ত সামরিক অফিসাররা তার ইচ্ছেমতো খুন হয়ে যান। তার কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন পড়েনা শুধুমাত্র স্বাস্থমন্ত্রণালয় ছাড়া। কারণ সেখানে মানুষের চেয়ে টাকার প্রয়োজন বেশি। যে টাকা শুধু জেনারেল আর তার মোসাহেবরা জমিয়ে রাখতে পারেন। যেকারণে দেখা যায় বাণিজ্য হতে যা কিছু আসে সব জেনারেলের মা’এর নামে জমা হয়, রাস্তার সব গাড়ি, ডাক বিভাগ, টেলিগ্রাফ সেবা এমনকি পানিসম্পদ সবকিছুর মালিক ছিলেন জেনারেলের মা। আমাজন নদী বা সমুদ্রগামী প্রতিটি নৌকার ওপর যে কর আরোপিত হয় সেসবও জমা হয় তার মা’র ভান্ডারে। তার ‘আমিত্ব’ এতোই বিশাল আকার ধারণ করে যে নিজেকে তিনি ঈশ্বর মনে করতে থাকেন। এই শাসক পৃথিবীকে যেমন শাশ্বত মনে করেন ঠিক তেমনি মনে করেন নিজেকেও। তাই তার হাতের রেখায় কোনো দাগ দেখা যায়না। তিনি একাই এক গোটা জাতি।

নিঃসঙ্গতার শতবর্ষে’ মাকোন্দোতে বৃষ্টির জন্যে জরুরী আইন জারীর মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে সন্দেহজনক মানুষদের গুম করে ফেলা হয়। হাজার সন্ধান করেও যখন নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো হোদিস পাওয়া যায়না তখন নিখোঁজ ব্যক্তির আত্মীয়রা সামরিক বাহিনীর কাছে সন্ধান নিতে গেলে উত্তরে তারা বলেন – “তোমরা নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখছিলে। মাকোন্দোতে কিছুই ঘটেনি, কখনোই কিছু ঘটেনি —- এটা একটা সুখী শহর।” ঠিক তেমনি ভাবে কূলপতির শরৎ এ দেখা যায়, কূলপতি বলেন – “কখনো এই সত্যটি ভুলে যেওনা, যে আমি কিছু জানিনা, আমি কিছু দেখিনি, এসব বিষয়ে আমি কারো সাথে কোনো কথা বলিনি। তারপরেও এসব স্বৈরশাসক এক নিঃসঙ্গতার ভয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। মনের গহীন কোনে খুব ভালো করে জানেন, উনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো উনি নেই। এক মৃত্যুভয় সব সময় তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই প্রতিরাতে ঘুমাতে যাবার আগে ঘর পরিদর্শন করেন, তিনটি খিল আঁটেন, তিনটি তালা আটকান, তিনটি হুড়কো লাগান। তারপরেও তার সন্দেহ যেতে চায়না যে ঘরে কারোর উপস্থিতি আছে কিনা। এই তালা লাগানোর বিষয়টি মার্কোয়েজ তার উপন্যাসে বার বার ঘুরে ফিরে নিয়ে আসেন একনায়কের একাকীত্ব বোঝানোর জন্যে। খাওয়াদাওয়া, চলাফেরা, ওঠাবসা সর্বত্র এক মৃত্যুভয় তাড়া করে বেড়ায়। তাই ডাকটিকেট, মুদ্রায় জেনারেলের নাম আর ছবি মুদ্রিত থাকলেও, বাস্তবে তাকে কেউ দেখতে পায়না। তবে শেষ পর্যন্ত একজন স্বৈরাচারী শাসক দেশের ধ্বংস ছাড়া আর কিছু ডেকে নিয়ে আসতে পারেন না। তার এক হাজার উপপত্নীর মধ্যে জেনারেলের ঔরসে যেসব শিশু জন্মায় তারা সাত মাস বয়সী বামুনের মতো দেখায়। কিছুতেই তাদের বৃদ্ধি ঘটেনা। যেমন ঘটেনা দেশের সমৃদ্ধি। এমনকি তার একমাত্র বৈধ স্ত্রী লেতিসিয়া নাজারেনোর উদ্ধত ব্যয়জনিত আচরণ এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য লুটপাট এবং দুর্নীতির কারনে বিদেশী ঋণ পরিশোধ করা হয়না। ফলে রাষ্ট্রীয় ভান্ডার দেউলিয়া পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আর ঠিক তখনই শকুনের মতো বিদেশীরা আসে দেশ এবং দেশ সংলগ্ন সমুদ্র দখলের অধিকার নিয়ে। যেকোনো স্বৈরশাসিত দেশের শেষ পর্যন্ত পরিণাম এই দাঁড়ায়। আর তাই উপন্যাসটি আমাদের ভাবিয়ে তোলে।।

২ টি মন্তব্য

  1. BAH BAH….KOTO KICHU JANNA HOLLO AI ARTICAL TI PORRE…..ONAK SHOTTO LUKIYE ACHE AND ONAK MILL ACHE AJKER DINER SHATHA. THANK YOU ATO SHUNDOR LIKHATIR JONNO.

  2. মার্কেজ সম্পর্কে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ।