Home » আন্তর্জাতিক » ভারতের জাত-পাত প্রথা – গান্ধী আর আম্বেদকর (শেষ পর্ব)

ভারতের জাত-পাত প্রথা – গান্ধী আর আম্বেদকর (শেষ পর্ব)

পুঁজিবাদের কাঠামোগত সঙ্কটসহ এই ব্যবস্থার প্রচণ্ড সমালোচনা করার সাহস থাকা দরকার :: অরুন্ধতী রায়

অনুবাদ: মোহাম্মদ হাসান শরীফ

(গত সংখ্যার পর…)

last 4বুকার পুরস্কারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায়ের ‘দ্য ডক্টর অ্যান্ড দ্য সেইন্ট’ ইতোমধ্যে বেশ সাড়া জাড়িয়েছে। ড. আম্বেদকরের ‘অ্যানাইহিলেশন অব কাস্ট’ (জাতপাতের সম্পূর্ণ বিলোপ) বইটিকেই নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন অরুন্ধতী। আধুনিক বিশ্বেও জাতপাত প্রথা যে কত ভয়াবহভাবে টিকে আছে সেটাই প্রকটভাবে ওঠে এসেছে বইটিতে। এই নৃশংস ব্যবস্থাটি টিকিয়ে রাখতে করমচাঁদ গান্ধীর ভূমিকাও তুলে ধরেছেন তিনি। পুরনো একটি বিষয় দক্ষ হাতে নিখুঁতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই বইটি কেন্দ্র করেই অরুন্ধতী রায়ের সাক্ষাতকার নিয়েছেন সাবা নকভি। এখানে এর শেষ অংশ প্রকাশ করা হলো।

প্রশ্ন: আপনি জাতপাত প্রথা নির্মূলে কমিউনিস্টদের ভয়াবহ ব্যর্থতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখেছেন। আপনি লিখেছেন যে ‘তারা জাতপাতকে শ্রেণী বিশ্লেষণের ক্ল্যাসিক্যাল ভাষা থেকে উদ্ভূত লোকজ ভাষ্য হিসেবে বিবেচনা করে।’ আমি মনে করি সব কমিউনিস্টের উচিত মহান ট্রেড ইউনিয়ন নেতা এস এ দাঙ্গের ব্যাপারে আপনার সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণটি পড়া। এ প্রসঙ্গে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন: পার্টিকেন্দ্রিক সমাজতন্ত্র আপনাকে হতাশ করেছে। কিন্তু সমাজতন্ত্রের এমন কোনো সংস্করণ আছে কি যাতে আপনার সমর্থন ও অনুমোদন রয়েছে?

অরুন্ধতী: জাতপাত প্রথার ব্যাপারে মূলধারার কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে আমার কথা ‘দ্য গড অব স্মল থিংকস’এ বলা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে আমার উপন্যাসটি প্রকাশের পর কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মাকর্সবাদী) বইটির বিরুদ্ধে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। কমরেড কে এন এম পিল্লাই নামের একটি চরিত্র যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে তারা ক্রুদ্ধ হয়। বইতে পিল্লাইকে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য দেখানো হয়েছে। তিনি এই বইয়ের অন্যতম চরিত্র ভেলুথা নামের এক দলিতের বিরুদ্ধে বিরূপ ধারণা পোষণ করেন। কমিউনিস্ট ও দলিতরা সহজাত মিত্র হতে পারত, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা হয়নি। ১৯২০এর দশকের শেষ দিকে, কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের অল্প সময় পরই তাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। ব্রাহ্মণ এস এ দাঙ্গে এমনকি বর্তমান সময়েরও অনেক কমিউনিস্ট নেতার মতো ছিলেন। তিনি ছিলেন সংগঠনটির প্রধান আদর্শ প্রচারক। তিনি গিরনি কামগর ইউনিয়ন নামে ভারতের প্রথম কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন। এর সদস্য ছিল ৭০ হাজার। এর বিপুল অংশ ছিল মাহার গোষ্ঠীর অস্পৃশ্য। আম্বেদকরও এই গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। তাদেরকে কেবল সুতা তৈরি বিভাগে নিম্ন বেতনে নিয়োগ করা হতো। কারণ কাপড় বোনার সময়ে শ্রমিকদের সুতাটি তাদের মুখ দিতে ধরতে হতো। অস্পৃশ্যদের থুথু পণ্যটিকে দূষিত করছে বলে বিবেচনা করা হতো। ১৯২৮ সালে দাঙ্গের নেতৃত্বে গিরনি কামগর ইউনিয়ন প্রথম বড় ধরনের ধর্মঘটে যায়। আম্বেদকর সব শ্রমিকের জন্য সাম্য ও সমান অধিকার দাবি করলেন। দাঙ্গে এতে রাজি হননি। ফলে তিক্ত বিভাজন ঘটে। তখনই আম্বেদকর বলেছিলেন, ‘জাতপাত কেবল শ্রমকেই নয়, শ্রমিকদেরও বিভক্ত করে।’ আম্বেদকরের ‘অ্যানাইহিলেশন অব কাস্ট’ গ্রন্থে ‘কাস্ট অ্যান্ড সোসালিজম’ নামে খুবই জোরালো একটি অধ্যায় আছে। সমাজতন্ত্রের এমন কোনো সংস্করণ আছে কি না যা আমি সমর্থন ও অনুমোদন করি? আমি বুঝতে পারছি না, এটা দিয়ে কী বুঝানো হলো। আমি কমিউনিস্ট নই। তবে আমি মনে করি, আমাদের পুঁজিবাদের কাঠামোগত সঙ্কটসহ এই ব্যবস্থার প্রচণ্ড সমালোচনা করার সাহস থাকা দরকার এবং এটা খুবই প্রয়োজনীয়। তবে আমি কেবলই ক্রনি ক্যাপিটালিজম বা পুঁজিবাদের যে ব্যবস্থা ক্ষমতাসীন এবং ক্ষুদ্র একটি শ্রেণীর লুটপাটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তাদের সমালোচনা করার কথা বুঝাইনি।

প্রশ্ন: বর্তমানে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নতুন খেলোয়াড়ের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। আম আদমি পার্টি নামের এই খেলোয়াড়টি গান্ধীয় প্রতীকে উদ্দীপ্ত হয়ে পুঁজিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। দলটি মুকেশ আম্বানি ও আরআইএলকে (যাদের বিরুদ্ধে আপনি ‘ক্যাপিটালিজম : এ ঘোস্ট স্টোরি’ নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন) আক্রমণ করেছে। এএপির ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

অরুন্ধতী: এএপি সম্পর্কে দৃঢ় কোনো ধারণা দেওয়া কিছুটা কঠিন। কারণ দলটি এখন পর্যন্ত নিজেই দৃঢ় ধারণা গড়ে তুলতে পারেনি। আমি রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে দুর্নীতি বিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করি না। আমি মনে করি, দুর্নীতি একটি সমস্যার লক্ষণ, এটা নিজে কোনো সমস্যা নয়। নির্বাচনী বছরে অনেক রাজনৈতিক বাঁকের সৃষ্টি হয়। এমনকি দুর্নীতিবাজেরাও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। আর এর পরিণামে এটা আমাদেরকে অন্ধ গলিতে নিয়ে যায়। তবে এএপি যখন মুকেশ আম্বানির বিরুদ্ধে অবস্থান নিল, তখন যারা উল্লসিত হয়েছিল, আমিও ছিলাম তাদের একজন। হঠাৎ করেই প্রত্যেকেই, মূলধারার মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক মিডিয়া আম্বানি এবং গ্যাসের দাম নিয়ে আলোচনা করতে শুরু করল। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও লোকজন এসব বিষয় নিয়ে কানাকানি করতে পর্যন্ত ভয় পেত। আমাদের সবার মনে রাখা উচিত, মুম্বাইতে আম্বানির গাড়ি দুর্ঘটনার খবর কিভাবে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এই ঘটনায় আম আদমি পার্টি প্রত্যেকের মেরুদণ্ডে একটি করে ছোট্ট পেরেক ঠুকে দিয়েছিল। তারা গান্ধী টুপি পরে নিজেদের পরিচিত করছে, অথচ তারপরই তাদের শিল্পপরিবারগুলোর কাছে যাওয়াটা হয়ে পড়ছে অগান্ধীসুলভ কাজ। আমি এগুলোই বলছি। আমি কেবল এটুকু আশা করব, এটা এমন কোনো আন্তকরপোরেট যুদ্ধে শেষ হবে না, যেখানে পুরনো দানবের জায়গায় নতুন এক দানব আসবে। কাদা ছোঁড়াছুড়ি কিংবা কাকে কেনা হয়েছে, কে ঘুষ খাচ্ছেন তা চমৎকার বিনোদন হতে পারে, কিন্তু পচনটা দুর্নীতি ও ঘুষের চেয়ে অনেক গভীরে ধরেছে। আমার কাছে প্রকৃত সমস্যা মনে হয় বড় বড় করপোরেশনেরটাটা, রিলায়েন্স, জিনদাল, বেদান্ত ইত্যাদিএকই সঙ্গে অনেক ব্যবসা পরিচালনা করাটা। মুকেশ আম্বানি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় এক হাজার বিলিয়ন রুপির মালিক। তবে টাটা, বেদান্ত, জিনদাল, আদানিরা খুব বেশি ভিন্ন নয়। এমনকি সবকিছু যদি সৎভাবেও পরিচালিত হয়, তবুও সমস্যা হয়। এমনকি আপনি যদি কট্টর ক্লাসিক্যাল পুঁজিবাদী হন, তবুও আপনি এখানে সমস্যা দেখতে পাবেন। বহু ধরনের ব্যবসার মালিকানা লাভের এ ধরনের প্রবণতায়, স্বল্প থেকে আরো স্বল্প সংখ্যক লোকের হাতে মুনাফাসীমাহীন মুনাফাপঞ্জীভূত হওয়া, করপোরেট ও মিডিয়ার মধ্যে স্বার্থের সংঘাতে কোনো করপোরেশনের মালিকানাধীন ও পরিচালনায় থাকাবস্থায় আপনি কিভাবে মুক্ত সংবাদমাধ্যম পাবেন? আমি বুঝতে পারি যে, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এএপি মুকেশ আম্বানিকে বেছে নিয়েছে এবং তাকে প্রবল প্রদর্শনীতে ব্যবহার করছে। ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে ২৭ তলাবিশিষ্ট টাওয়ার বানানো, এটা অহংকার, এটা ভেঙে ফেলতে তাকে অনুরোধ করা হয়েছে, অনুনয় করা হয়েছে। তবে আমি আমি খুশি হব যদি সমস্যাটি সমাধানে আরো বেশি আন্তরিক ও কাঠামোগত পন্থা বেছে নেওয়া হয়। তবে আমরা আদিম ফ্যাসিবাদের সাথে করপোরেট পুঁজিবাদের সমন্বয়ে গঠিত ধারা তথা ‘মোদিৎভা’ উত্থান ঠেকাতে এএপি কিছু প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে, তা দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা।

প্রশ্ন:জাতপাত নিয়ে গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে কথিত ‘হিন্দু অধিকারের’ (হিন্দু রাইট) মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই, দলিতদের দৃষ্টিকোণ থেকে গান্ধীর হত্যাকাণ্ডটি মতাদর্শগত প্রতিপক্ষকে হত্যার চেয়ে ভ্রাতৃহত্যা হিসেবেই বেশি বিবেচিত হতে পারে” বলে আপনি যে মন্তব্য করেছেন, অনেকে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি এমনও বলতে পারেন যে, এ কারণে নরেন্দ্র মোদি বিন্দুমাত্র অস্বস্তি অনুভব ছাড়াই গান্ধীর প্রশংসা করতে পারেন। আপনি কি তাহলে ‘হিন্দু অধিকার’ নিয়ে গান্ধীর ভূমিকা খতিয়ে দেখবেন? তিনি এমন একজন যাকে তারা তাদের মতো করে দেখতে অত্যন্ত আগ্রহী। তবে কি আপনি তাদের হাতকে শক্তিশালী করছেন না?

অরুন্ধতী: গান্ধী কোনো তুলতুলে পুতুল নয়। আর তাকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার আমি কে? আমি কেবল এটুকু বলবমুসলমান এবং ভারতীয় জাতিসত্তায় তাদের অবস্থান প্রশ্নে গান্ধী এবং ‘হিন্দু অধিকার’এর মধ্যে তীব্র মতাদর্শগত পার্থক্য ছিল এবং এ জন্য গান্ধীকে তার জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু জাতপাত, ধর্মান্তর, গরু রক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে গান্ধী ছিলেন ‘হিন্দু অধিকারের’ সাথে সম্পূর্ণ একই অবস্থানে। শতাব্দীর পালাবদলের সময়১৯ ও ২০ শতকেযখন বিভিন্ন সংস্কারবাদী সংগঠন অস্পৃশ্য জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছিল, তখন ডানপন্থী সংগঠন, যদি কোনোটি থেকে থাকে, ছিল বেশ উদ্দীপ্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিলকের শিষ্য এবং ‘হিন্দু অধিকারের’ নায়ক এস ডি সভারকর ১৯২৭ সালে ‘মাহার সত্যগ্রহ’ সমর্থন করেছিলেন। আম্বেদকরের নেতৃত্বাধীন ওই সত্যাগ্রহে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পুকুর থেকে অস্পৃশ্যদের পানি ব্যবহারের অধিকার দাবি করা হয়েছিল। গান্ধীর সমর্থন ছিল অনেক কম। ‘পুনা চুক্তিতে’ স্বাক্ষরকারী কারা ছিলেন অনেকেই ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে রয়েছেন জি ডি বিড়লা, গান্ধীর শিল্পপতিপৃষ্ঠপোষক, যিনি তার জীবনের বেশির ভাগ ব্যয় মিটিয়েছেন; পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য, এই মানুষটি রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ ও হিন্দু মহাসভার প্রতিষ্ঠাতা; এবং সাভারকর, যিনি গান্ধীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে অভিযুক্ত। তারা সবাই জটিল পন্থায় পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

গান্ধীকে তহবিল দেওয়ার পাশাপাশি আর্য সমাজের শুদ্ধি আন্দোলনেও তহবিল দিতেন বিড়লা। গান্ধীকে হত্যার পর আরএসএসকে নিষিদ্ধ করার পর বিড়লা এই আদেশ প্রত্যাহার করার জন্য তদ্বির করেছিলেন। সম্প্রতি ‘ক্যারাভান’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্বামী অসীমানন্দ সম্পর্কে বলা হয়েছে, কিভাবে তার গুজরাটের আশ্রমে প্রতিদিন সকালে ‘একতা’ মন্ত্র আওড়ান হতো। জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাতে এই একই ভজন গান্ধী এবং একইসঙ্গে আরএসএস মতাদর্শের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এম এস গোলওয়ালকরকে উদ্দীপ্ত করত। উল্লেখ্য, আরএসএস নেতা অসীমানন্দের বাবা ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ গান্ধীবাদী। সমঝোতা এক্সপ্রেসে বোমা হামলার (এই ঘটনায় প্রায় ৮০ জন নিহত হয়) ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে অসীমানন্দকে আটক করা হয়।

নরেন্দ্র মোদি তার ভয়ঙ্কর ঘোষণাগুলোর কয়েকটি দিয়েছেন মহাত্মা মন্দির নামে পরিচিত গুজরাটের ঝকমকে নতুন কনভেনশন হল থেকে। ১৯৩৬ সালে গান্ধী একটি বিশেষ প্রবন্ধ লিখেছিলেন ‘দ্য আইডিয়াল ভাঙ্গি’ নাম দিয়ে। ওই রচনাটি শেষ করেছিলেন এই বলে যে, ‘ভাঙ্গির আদর্শ এমনই যে সে তার পেশা থেকে জীবিকা অর্জন করলেও সে ওই কাজকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করে। অন্য কথায় বলা যায়, সে এই পেশার মাধ্যমে সম্পদ জড়ো করার স্বপ্ন দেখে না।’ ৭০ বছর পর নরেন্দ্র মোদি তার ‘কর্মযোগী’ বইতে (বাল্মিকী সম্প্রদায়ের আন্দোলনের মুখে তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন) বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে, তারা কেবল জীবিকার প্রয়োজনেই কেবল এ কাজ করছে। সেটাই যদি হতো, তবে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই কাজ করে যেত না। সময়ের কোনো না কোনো পর্যায়ে কেউ অবশ্যই বুঝতে পারে যে তাদের (ভাঙ্গি) দায়িত্ব হলো পুরো সমাজ এবং ঈশ্বরের খুশির জন্য কাজ করা। আর এর মাধ্যমে ঈশ্বর তাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, সেটা তারা পালন করে চলেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা শ্বাশত আধ্যাত্মিক কর্ম হিসেবে তাদের উচিত এই কাজ অব্যাহত রাখা।’ আমাকে বলুন, পার্থক্য কোথায়?

প্রশ্ন: অরুন্ধতী রায়ের মতো কেউ যখন মহাত্মা গান্ধী হিসেবে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিটির তীব্র সমালোচনা করেন, তখন সারা বিশ্বে তা দৃষ্টিগোচর হয়। কেউ কেউ যুক্তি দেখাতে পারে যে, নির্দিষ্ট কিছু বাস্তবতার কারণে কোনো সুন্দর আদর্শকে ধ্বংস না করে বরং সেটাকে টিকিয়ে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

অরুন্ধতী: এটা সুন্দর একটি প্রশ্ন। আমিও বিষয়টি নিয়ে অনেক চিন্তা করেছি, যেমনটা সব লেখক করে বা তাদের করা উচিত। আমি সিদ্ধান্তে এসেছি যে, এটা পুরোপুরি ভুল, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। গোপন করারএবং এটা গোপন করার চেষ্টা ছাড়া অন্য কিছুই নয়এ ধরনের চেষ্টার জন্য মূল্য দিতে হয়। আর তার মূল্য হলো আম্বেদকর। আম্বেদকরের সব দোষগুণসহ তার জন্য জায়গা করার জন্য আমাদেরকে সব দোষগুণসহ গান্ধীকে মূল্যায়ন করতে হবে। ‘সন্ন্যাসী’কে অবশ্যই ‘ডক্টরকে যথাযথ স্থান দিতে হবে। আম্বেদকরের সময় এসেছে।।