Home » অর্থনীতি » বিদ্যুৎ নিয়ে ভেলকিবাজী :: আসলে উৎপাদন ক্ষমতা কতো

বিদ্যুৎ নিয়ে ভেলকিবাজী :: আসলে উৎপাদন ক্ষমতা কতো

বি.ডি.রহমতউল্লাহ

last 3জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের ঘটনাগুলোকে এক কথায় এক”অবিশ্বাস্য রূপকথার” সঙ্গে তুলনা করা যায়। এগুলো এমন সব রূপকথার মতো যেগুলো শুনিয়ে শিশুদের ঘুম পাড়ানো হয়। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষকেও একই কৌশলে চুপ করিয়ে রাখার একটি প্রবণতা সরকারের দিক থেকে দেখা যাচ্ছে। তবে আমরা যারা এ ঘটনাগুলো সামান্য বুঝি কিংবা বলা যায় একটু খোঁজ খবর রাখি তাদের কাছে এগুলো এক আজগুবি ভূতুড়ে গল্প ছাড়া অন্য কিছুই মনে হবে না।

বিদ্যুৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রীদের বিভিন্ন ঘোষনাগুলো বিশ্লেষণ করার আগে আমরা সরকার প্রকাশিত”এক নজরে বিদ্যুৎ” এর প্রতিবেদনটির পাতায় একটু নজর দেই।

এক নজরে বিদ্যুৎ খাতের বিগত ৫ বছরের অগ্রগতি

ক্রমিক

বিষয়

২০০৯ সালের শুরুতে

ফেব্রুয়ারী ২০১৪

অগ্রগতি

 

বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (বিদ্যুৎ আমদানি সহ) (মেঃওঃ)

, ৯৪২

 

 

১০, ৩৪১

, ৩৯৯

 

সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন (মেঃওঃ)

, ১৩০

, ৮৮৭

(২০ মার্চ, ২০১৪)

২৭৫৭ (৬৭%)

 

মোট সঞ্চালন লাইন

(সার্কিট কিঃ মিঃ)

, ৯৯১

, ৩২২

জুন, ২০১৩

১৩৩১ (১৭%)

 

মোট বিতরণ লাইন (কিঃমিঃ)

, ৬০, ৩৬৯

, ৮৮, ৭৮৭

জুন, ২০১৩

২৮, ৪১৮ (১১%)

 

বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা (অর্থ বছর)

১ কোটি ০৮ লক্ষ

১ কোটি ৪২ লক্ষ

৩৪ লক্ষ (৩১%)

 

সেচ সংযোগ সংখ্যা (অর্থ বছর)

, ৩৩, ৯০৬

, ৯৭, ৬৩৩

৬৩, ৭২৭ (২৭%)

 

মোট সিষ্টেম লস

(টি এন্ড ডি) (অর্থ বছর)

১৮.%

 

১৪.৩৬%

 

.৮৪ %

 

 

বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত (নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ) (অর্থ বছর)

৪৭%

 

৬২%

 

১৫%

 

 

মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন কিঃওঃঘন্টা (কেপটিভসহ) (অর্থ বছর)

২২০

 

৩২১

 

১০১ (৪৬%)

 

 

বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা :: (মার্চ ২০১৪ ইংরেজী)

ক্রমিক

খাত

স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা (মেগাওয়াট)

বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা (মেগাওয়াট)

সরকারি

, ৯৬২

, ৩৮১

বেসরকারি

, ৮৭৯

, ৮৪৬

বিদ্যুৎ আমদানি

৫০০

 

৫০০

 

মোট

১০, ৩৪১

, ৭২৭

 

২০১৮ পর্যন্ত বছরওয়ারী বিদ্যুতের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চাহিদা ও উৎপাদন চিত্র

অর্থ বছর

২০১৩১৪

২০১৪১৫

২০১৫১৬

২০১৬১৭

২০১৭১৮

সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চাহিদা (মেঃ ওঃ)

, ২৬৮

১০, ২৮৩

১১, ৪০৫

১২, ৬৪৪

১৪, ০১৪

সম্ভাব্য সরবরাহ (মেঃ ওঃ)

, ০৩১

, ৭০৩

১১, ৫৯৭

১৩, ৩৮২

১৪, ১৫০

 

এ ছকে উল্লিখিত প্রায় প্রতিটি সূচকই বাড়তি করে দেখানো হয়েছে। আর তা না দেখালে বিদ্যুতের”অনৈতিক” ও”অহেতুক” এক অকল্পনীয় দাম বাড়াবার যুক্তিটাই বা সরকার কি করে”সরল” জনগণকে বিশ্বাস করাবে! আর এছাড়াও এতে নিজেদের কমিশনের বিষয়টাতো আছেই। এ ছকে প্রকাশিত প্রতিটি সূচক আলোচনা না করে শুধু গুরুত্বপূর্ণ ১টি (এক) সূচক নিয়েই আলোচনা করবো। সেটি হলো সাবির্ক্ষক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা। আর সেটির আসল রহস্য ইতোমধ্যে প্রায় সবাইর জানা হয়ে গেছে।

সরকার যেটি বলে আসছে যে ইতোমধ্যেই তাঁরা বিদ্যুৎ চাহিদার যে সংকট তা দূর করেছে। অর্থ্যাৎ এখন আর লোডশেড হবে না। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের মুখ থেকে শোনা যায়, এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১০, ৩৪১ মেগাওয়াট, অথচ প্রকৃত চাহিদা মাত্র ৭, ৫০০মেগাওয়াট। ধরে নেয়া যাক, সরকার ঘোষিত যে সম্ভাব্য চাহিদার কথা বলা আছে অর্থ্যাৎ ৯, ২৬৮মেগাওয়াট, তাও যদি হয় তাহলেও তো লোডশেড হবার কথা নয়। কারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন ক্ষমতা ১০, ৩৪১ মেগাওয়াট হলেও, আবার বলা হচ্ছে বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ৯, ৭২৭ মেগাওয়াট। এই যদি পরিস্থিতি হয় তাহলে যে কোনো হিসাবে কোনোক্রমেই বিদ্যুতের ঘাটতি অর্থাৎ লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়। অথচ অহরহ লোডশেড হচ্ছে। জনগণের প্রশ্ন, আমাদের আসলে প্রকৃত চাহিদা কতো এবং বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতাই বা কতো? আর কেনইবা ১০, ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ খাতে মাত্র ৭, ৫০০ মেগাওয়াট চাহিদাতে লোডশেড হবে?

লোডশেডের আসল পরিমানটা কত? সেটা কিন্তু সরকার কখনো সঠিকভাবে বলছে না। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে,”লোড ডেসপাচ সেন্টারে”র (LDC)তথ্যকেন্দ্রে এমন সব উপাত্ত দেয়া থাকে যে, ঐ মুহূর্তের সারা দেশের প্রকৃত লোডশেডের সাথে লাড ডেসপাচ সেন্টারে দেয়া তথ্যের কোন মিলই খুঁজে পাওয়া যাবে না। যা পরোপুরি একটি গর্হিত, নীতিবিরোধী ও অনৈতিক কাজ।

তাহলে যে প্রশ্নটি বারবার উকিঝুকি মারছে সেটি হলো আমরা”সোনা”র দরে”তামা” কিনব কেন? বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রতি ইউনিট ২.৫০ টাকার স্থলে ৬.০০ টাকা দিচ্ছি এই আশ্বাসে যে লোডশেড আর হবেনা, মানসম্মত বিদ্যুৎ পাব, বিদ্যুৎ নির্ভরশীল হবে ইত্যাদি। কিন্তু এইযে বাড়তি এতো বিল দিচ্ছি, আবার রাজকোষ থেকে ভর্তূকিও দেয়া হচ্ছে, ফিবছর বাজেটেও বেশী বেশী টাকা দেয়া হলো, তাহলে এতো বিদ্যুৎ গেলো কোথায়? এ প্রশ্নতো অর্থমন্ত্রীও করেছেন।

এতো টাকা খরচের পরেও এতদিন ঢাকাকে আড়াল করে প্রায় সারা দেশেই অবিরাম লোডশেড নিয়ে বিদ্যুৎ খাত বলা যায় প্রায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রচন্ড দাবদাহে ঢাকাকেও লোডশেডের ছোবলে পড়তে হলো। আর তাতেই সম্ভবতঃ বিদ্যুৎ খাত নিয়ে এ সরকারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড়মাত্রার দূর্ণীতি সম্পৃক্ত প্রকল্প ‘রেন্টাল’ ও ‘কুইক রেন্টালে’র আসল রহস্য বেড়িয়ে পড়েছে।।