Home » আন্তর্জাতিক » কেমন হবে মোদী সরকারের বাংলাদেশ নীতি এবং নিরাপত্তা কৌশল?

কেমন হবে মোদী সরকারের বাংলাদেশ নীতি এবং নিরাপত্তা কৌশল?

মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান (অব.)

আমাদের বুধবারএর জন্য বিশেষ বিশ্লেষণ

general muniruzzamanভারতের এবারের সাধারণ নির্বাচনটি ছিল এক কথায় ঐতিহাসিক। এটা শুধু যে ভারতের অভ্যন্তরীণ দিক দিয়েই তা শুধু নয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ব্যাপারেও। কারণ এর মধ্যদিয়ে এসব ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের ক্ষেত্রে যা দেখা যাচ্ছে তাহলো সে দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতে যাচ্ছে। এই পটপরিবর্তনের ব্যাপারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত. ভারতে উত্তরাধিকারের ও পরিবারতান্ত্রিক যে রাজনীতি চলে আসছে বিশেষ করে গান্ধী পরিবারকে নিয়ে তা কিছুদিনের জন্য হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দ্বিতীয়ত. যে কেন্দ্রীয় সরকারটি এবারে গঠিত হতে যাচ্ছে তা হবে অতিমাত্রায় ক্ষমতাশালী, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণের। এতোদিন কেন্দ্র থেকে রাজ্যগুলোতে যে ক্ষমতা চলে যাচ্ছিল, এবারে হবে তার বিপরীতমুখী। অর্থাৎ কেন্দ্র আবার পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ এখানে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে এবং অপেক্ষাকৃত কম মাত্রায় কম শক্তি সম্পন্ন রাজ্য সরকারগুলো থাকবে। আর কেন্দ্রীয় সরকারটি শক্তিশালী এবং এর ক্ষমতা কেন্দ্রীভবনের কারণে অনেক দিন পরে একজন প্রকৃত ক্ষমতাশালী, ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় ক্ষমতায় আসছেন।

বিশেষ করে বিজেপি যেহেতু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, কাজেই কোনো জোট বা কোয়ালিশন পার্টনারের উপরে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্ভর করতে হচ্ছে না। তাছাড়া নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের যে স্টাইল অর্থাৎ নির্বাচনী মিত্র ও জোটের উপরে কোনো নির্ভরতা না থাকার কারণে ওই কেন্দ্রীয় সরকারটি হচ্ছে খুবই শক্তিধর। তৃতীয়ত. ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুই দিক থেকেই এটা হতে পারে অর্থাৎ হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকা বা এর প্রতি বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। যদিও নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনের জয়ী হওয়ার পরে বার বার বলার চেষ্টা করছেন যে, এ সরকার বিজেপি’র সরকার নয়, ভারতের সরকার। কিন্তু মোদীর অতীত ইতিহাস বিশেষ করে গুজরাট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার যে দুঃখজনক ঘটনা রয়েছে তাতে তার ওই বক্তব্য অনেকেই এখনো বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না। তিনি তার বাস্তব কার্যক্রমের মাধ্যমে এটা কতোটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন তার মাধ্যমেই সবাই দেখতে চায় তার ওই বক্তব্য কতোটা তিনি কার্যকর করতে সমর্থ হয়েছেন।

আঞ্চলিকভাবে ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করে একটি নীতিমালা গ্রহণের জন্য দিল্লির নতুন সরকার প্রয়াস নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তার যে সম্পর্কগুলো রয়েছে তা পুনঃমূল্যায়িত হতে পারে। বিশেষ করে নিউক্লিয়ার ডকট্রিন পুনঃবিবেচনা, নতুন আঙ্গিকে প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হতে পারে এবং এ ব্যাপারে নির্বাচনের সময় নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং উল্লেখও করেছেন। মোদী ওই সময় বলেছিলেন, ভারতের নিউক্লিয়ার ডকট্রিনকে পুনঃবিবেচনা করা উচিত। ভারতের নিউক্লিয়ার ডকট্রিনএ ‘নো ফার্স্ট স্ট্রাইক’ বা প্রথম হামলাকারী দেশ না হওয়ার যে বিষয়টি রয়েছে যা নিউক্লিয়ার ডকট্রিনএর মূল স্তম্ভ তা পরিবর্তনের জন্য চিন্তাভাবনা করবেন বলে ওই সময় উল্লেখ করেছেন। এটা যদি হয়, তবে নিউক্লিয়ার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে একটি আমূল পরিবর্তন হবে। এ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে যে, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। এছাড়া অন্যান্য যে সব ক্ষুদ্র দেশ রয়েছে তাদের ব্যাপারেও নতুন করে চিন্তাভাবনা করা হবে বলে তারা বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন। আর এমন নীতিমালা গ্রহণ ইতিবাচক হবে বলে মনে করছি।

বাংলাদেশভারত সম্পর্ক

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে কি প্রভাব ফেলবে তাই সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বিষয়। কারণ ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এবং এক অর্থে একমাত্র প্রতিবেশী মিয়ানমার ছাড়া। সেই ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সরকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো হয়, তার একটি বড় প্রভাব বাংলাদেশের উপরেও চলে আসে। এই প্রভাবটি শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব দেখা যায়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে ভারতের কংগ্রেস সরকার, বিশেষ করে কংগ্রেসের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব যেমন সে দেশের রাষ্ট্রপতি এবং গান্ধী পরিবারের সাথে আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেকদিন ধরেই গড়ে উঠেছে। যার কারণে তাদের মাধ্যমে যে কার্যসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তার ভেতর দিয়ে তারা বহু ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছিল অনেকদিন ধরে। ভারতের সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই বিশেষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্ছেদ চলে আসবে। আর এটি হবে এ কারণে যে, এতোদিন যে সম্পর্ক ছিল তা আর কার্যকর হবে না। ভারতের নতুন সরকার অর্থাৎ মোদী সরকারের সঙ্গে নতুন করে কার্যসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। যদিও ব্যক্তি সম্পর্ক আগের মতো গড়ে তোলা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভবপর হবে না। এখানে বড় ধরনের একটা ‘পাওয়ার ইকুয়েশন’ বা ক্ষমতা সম্পর্ক সমীকরণে একটা বড় ধরনের চ্ছেদ চলে আসবে, অর্থাৎ ব্যক্তিগত সমীকরণ যেখানে কাজ করে সেখানে বাধা পড়লে, তার বড় ধরনের প্রভাব দেখা দিতে পারে প্রধানত দুই সরকারের সম্পর্কের মধ্যে।

এছাড়া আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, তাহলো এবারের ভারতের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের নাম বারবার উচ্চারিত হয়েছে। আর এটি হয়েছে এই বলে যে, বাংলাদেশ থেকে কথিত বাংলাদেশীরা ভারতে গেছেন বলে বিজেপি নির্বাচনকালীন সময়ে নানা মন্তব্য করেছে। নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি’র শীর্ষ স্থানীয় নেতারা ওই সময়ে বলেছেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ভারতে বসবাস করছে এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের তথ্য মতে, এ ধরনের বাংলাদেশীদের সংখ্যা দুই কোটিরও বেশী। স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনকালীন বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে এ সব বাংলাদেশীকে আবার স্বদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তার বক্তব্যের তীব্রতার মাত্রা ক্রমশ বেড়েছে। প্রথমত. তিনি বলেছিলেন, তারা ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে, তারপরে বলা হলো তারা ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছে। আবার সবশেষে বলা হলো ভারতের বিরুদ্ধে একটি নিঃশব্দ আগ্রাসন শুরু করেছে বাংলাদেশ এবং এটা বন্ধ করতে হবে। আর এই আগ্রাসন বন্ধ করার পদক্ষেপ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, যেসব বাংলাদেশী ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হবে। তবে এই মন্তব্যের মধ্যে একটি গভীর সাম্প্রদায়িক মনোভাব ছিল। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, এই কথিত অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের মধ্যে যারা মুসলমান তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হবে। যারা হিন্দুধর্মাবলম্বী তাদেরকে ফেরত পাঠানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না। কারণ তার কথা মতে, ভারত হচ্ছে হিন্দুদের জন্য একটি ‘প্রমিজ ল্যান্ড’ অর্থাৎ ভারতে যদি তারা স্থান না পান তাহলে তারা কোথায় যাবেন? এখানে একটি গভীর সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া নরেন্দ্র মোদীর যে ইতিহাস রয়েছে বিশেষ করে গুজরাট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ব্যাপারে, সে কারণে তার ব্যাপারে শুধু বাংলাদেশে বা অন্যান্য দেশেই নয়, খোদ ভারতেই গভীর সংশয় রয়েছে। যদি তার অতীত মনোভাবের ও দৃষ্টিভঙ্গি কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে ভারতেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে। এবং এর সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে বাধ্য। কাজেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের কোনো ব্যবস্থা ওই দেশে যদি দেখা যায়, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও দেখা দেবে। আর এটা শুধু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্যই নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও একটি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশে ভারতের গভীর ও নিবিড় স্বার্থ এবং আগ্রহ জড়িত আছে। একপেশে ভারত নির্ভর পররাষ্ট্রনীতি বা বৈদেশিক নীতি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই গ্রহণ করে আসছে। এক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থের যে বিষয়গুলো রয়েছে তা তাদের দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। যেমন ট্রানজিট, চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর ব্যবহার করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুক্তি রয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত যে সব নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুযোগসুবিধা ও গ্যারান্টি চেয়েছে তা তাদেরকে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের যে বিচ্ছিন্নতাবাদী অভিযান চলছে এবং এক্ষেত্রে ওই সব স্থানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন সে সকল ব্যক্তিবর্গকে ভারত ফেরত নিতে চেয়েছে এবং এক্ষেত্রে নিঃস্বার্থভাবে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সে সব চাহিদা পূরণ করেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অনেক কিছু এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। যেমন ট্রানজিট চুক্তি এখনো কার্যকর হয়নি, বিদ্যুৎকরিডোরসহ অন্যান্য কিছু বিষয় এখনো সম্পন্ন হয়নি। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের কাছে ভারতের যে স্বার্থ জড়িয়ে আছে, বিশেষ করে ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থ ব্যাপক মাত্রায় জড়িত। আমার ধারণা, ভারতের নতুন সরকার অর্থাৎ মোদী সরকার এসব স্বার্থ বা আগ্রহকে অগ্রাধিকার দেবে এবং সে মতো এগিয়ে যাবে। কারণ ভারতে সরকার নতুন করে গঠিত হলেও জাতীয় স্বার্থের এজেন্ডাগুলোতে ভারতীয় মনোভাবের কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। বাংলাদেশের কাছে ভারতের যে নিরাপত্তার স্বার্থগুলো জড়িত রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে মোদী সরকার আগের সরকারের মতোই আবার নতুন করে প্রচেষ্টা চালাবেন এবং জোরালো উদ্যোগ নেবেন। আর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার যেভাবে একপেশে ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পথ অনুসরণ করে, তাতে ভারত অনায়াসে এসব সুযোগসুবিধা পেয়েও যাবে।

বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনসহ এদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতীয় কংগ্রেস সরকারের প্রভাব নতুন সরকারের সময়ে পরিবর্তন হবে কিনা, সে বিষয়ে কয়েকটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করা প্রয়োজন। এখানে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের নাগরিকরা গণতন্ত্র বঞ্চিত এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। এ নাগরিকরা সব সময়েই আশা করে যে, ভারতের নতুন সরকারটি যারা বলে এসেছেন যে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা তাদের নীতির উপরে বিশ্বাসী হয়ে, শুধু নিজ দেশেই নয়, তাদের যে সব বন্ধু রাষ্ট্র রয়েছে এ অঞ্চলে, তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতিমালা অনুসরণে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে বিশ্বাস করি। আমরা আশা করবো, মোদী সরকার সব দলের অংশগ্রহণে জনগণের মতামতের উপরে বিশ্বাস করে যাতে সরকার গঠিত হতে পারে সে দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে এবং সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

আরেকটি বিষয় আমরা লক্ষ্য করেছি যে, ভারতের প্রশাসন বা আমলারা সব সময়ই একটা শক্ত ভূমিকা রেখে থাকেন, বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে। নীতিমালা প্রণয়ন বা পরিবর্তনের ব্যাপারে বিশাল একটি ভূমিকা থাকে এবং সব সময়ই একটি শক্ত অবস্থান তারা নিতে চান। প্রায়শই দেখা যায়, তারা পরিবর্তনের বিপক্ষে কাজ করেন। কিন্তু ভারতে নতুন সরকারের ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দিকটি হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার কোনো দুর্বল সরকার হবে না বরং শক্তিশালী হবে। কারণ যে বিশাল ম্যান্ডেট তারা পেয়েছেন এবং গুজরাটের যে শক্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা নরেন্দ্র মোদী নিয়ে আসবেন, তাতে কেন্দ্রীয় আমলাদের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষমতা খুবই সীমিত হয়ে আসবে। এখানে রাজনৈতিক বিশেষ করে মোদী নেতৃত্ব বড় আকারে প্রভাব বিস্তারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে হয়। নতুন সরকার যে আদর্শ বা নীতিমালা গ্রহণ করতে চাইবেন তাতে বাধা প্রদান বা প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা আমলাতন্ত্রে থাকবে না বা তারা এ প্রচেষ্টাও তারা করবেন না।

সবশেষে একটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করা প্রয়োজন। আর তাহলো ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে বিদ্যমান ভারতের সম্পর্ক একটি ইতিবাচক মোড় নিতে পারে। এটা বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল যে, কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সম্পর্কে একটা টানাপোড়েন চলছিল। এটা তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেমন ছিল, একইভাবে ভারতের আঞ্চলিক বা অঞ্চলের বাইরেও যে বিভিন্ন নীতিমালা ছিল সেখানেও তাদের মধ্যকার মতের অমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এমনকি ৫ জানুয়ারির বাংলাদেশে নির্বাচনের ব্যাপারেও তাদের যে মতামত ছিল সেখানেও দুই দেশের মতভিন্নতা ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের যে ভাটির টান ছিল কংগ্রেস আমলে, তাতে একটা নতুন পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে নির্বাচনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে যে উক্তি বার বার করা হয়েছে অর্থাৎ বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য, জনগণের কাছে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রয়োজন তাদের মনোভাবের সঙ্গে ভারতের নতুন সরকারের মনোভাবের একটি ঐক্য আসতে পারে। বড় দুটো দেশের সরকারের মধ্যে যদি বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে কোনো যোগসূত্র স্থাপিত হয়, তাহলে আমরা সকলে আশা করতে পারি, বাংলাদেশে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হবে।।

(মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান (অব.), নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ)