Home » প্রচ্ছদ কথা » অমোঘ নিয়তির মতই সত্যের মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী

অমোঘ নিয়তির মতই সত্যের মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

coverঅবশেষে অমোঘ নিয়তির মতই সত্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে, তার সরকারকে, তার দল আওয়ামী লীগকে। মিথ্যার ফুলঝুড়ি ছড়িয়ে সাদাকে কালো, কালোকে সাদা বলার যে অন্ধকার জগৎ সৃষ্টি করে আসছে বর্তমান সরকার গত ছয় বছর ধরে সেই মিথ্যার দানব তাকে এখন গিলে ফেলতে উদ্যত। এতো মিথ্যা, এতো শঠতা, জনগনের সাথে এরকম অবহেলার নজির সাম্প্রতিক দুনিয়ার কোন গণতন্ত্রকামী দেশে দেখা যায়নি। গোটা দেশই এখন মিথ্যার আবরনে ঢাকা পড়ে রয়েছে। অপহরন, গুম আর খুন আতংকে কাঁপছে বাংলাদেশ। একাত্তরে পাক হানাদার অবরুদ্ধ দেশের মানুষগুলি যেমন আতংকে সিঁটিয়ে থাকতো সারাক্ষণ, কখন আসবে খাকি পোশাকধারী পাক সেনা অথবা কালো পোশাক আর মুখোশে ঢাকা যমদুত আলবদরমুখ বেঁধে নিয়ে যাবে প্রিয়জনদের চিরতরে। একাত্তরের অবরুদ্ধ সেই সময় আবার কি ফিরে এসেছে? গুম হচ্ছেলাশ মিলছে না। কখনও লাশ পাওয়া গেলে হত্যার কারন থাকছে রহস্যে ঘেরা। লাশ মিলছে নদীতে, ডোবায়খানায়, রাস্তার ধারে, যত্রতত্র। রাষ্ট্রসরকারে কোন সমাধান নেই। যদিও অভিযোগের আঙ্গুল উত্তোলিত রাষ্ট্রসরকারের দিকে, তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঘটছে এসব ঘটনা?

নুর হোসেনের সাথে ফোনালাপের অডিও টেপটি পাওয়ার পরে গডফাদার শামীম ওসমান সত্যের মুখোমুখি হয়ে আরেকটি অমোঘ সত্য উচ্চারন করে ফেলেছেন বোধকরি মনের অজান্তে। নিহত কিশোর ত্বকীর পিতা রাফিউর রাব্বী উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে তার জীবন এখন বিপন্ন বলে মনে করছেন শামীম ওসমান। বলেছেন, তিনি নিজেও মারা যেতে পারেন। এসব কথা বলে নিজেকে আড়াল রাখতে শামীম ওসমান কি তার আগামী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিলেন? চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন? ত্বকী হত্যার যে অভিযোগ তার পরিবারের বিরুদ্ধে রয়েছে, সেটিকে তিনি পাত্তাই দিচ্ছেন না? এসবই জনগনের কৌতুহলী মনের প্রশ্ন। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকে, সরকারের ভেতরে তার প্রশ্রয়দাতারা শামীম ওসমানকে এতোই ভালবাসেন, এতোই শ্রদ্ধাভক্তি করেন যে, তার মুখ নি:সৃত বানীকে মনে করেন নসিহত বা আদেশ। আর সাধারন মানুষ তাকে পায় ভয়। প্রচন্ড ভয়। যমদুতের মত এই ভয় জড়স্থবির করে ফেলেছে একটি জনপদের মানুষদের। সেজন্যই অমোঘ সত্যের মুখোমুখি হয়েও শামীম ওসমান মিথ্যে দিয়ে ঢেকে দিতে চান সব সত্যকে। কিন্তু কিভাবে সম্ভব? তিনি বা তারা দেশের মানুষগুলিকে বোকা মনে করলেও তাদের তো এখন জানা হয়ে গেছে সবকিছু।

ফেনীর ফুলগাজীতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে, পুড়িয়ে হত্যার পরে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জাতিকে জানিয়ে দিলেন, এটি স্বাধীনতা বিরোধীরা করেছে। অথচ ফেনীর জনগন জানে, প্রশাসন জানে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানে এবং তার দল আওয়ামী লীগও জানে যে, দলীয় এক এমপির নির্দেশে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। হাজারের মাঝে এই হাজারীর নাম দেশের মানুষের কাছে নতুন। তারা জানতো ভয়ংকর জয়নাল হাজারীর নাম। এই হাজারী ফ্রাঙ্কেনষ্টাইনের দানব হিসেবে নতুন সংযোজন! শামীম ওসমান, আব্দুর রহমান বদি, আবু তাহের, জয়নাল হাজারী, নিজাম হাজারীসহ অসংখ্য মাফিয়া পরিবার গড়ে উঠেছে জেলায়উপজেলায়মায় ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল, গুম, খুন থেকে শুরু করে এই সকল মাফিয়া দুর্বৃত্তরা বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। অপরিমেয় অর্থবিত্তের মালিক এসব ক্ষুদে মাফিয়া প্রধানরা নিজের এলাকায় সরকার। সরকারের ভেতরে সরকার। নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে প্রশাসন এদের অনুগত, অনেকটা পেটোয়া এবং লাঠিয়াল বাহিনীর মত। এসব মাফিয়া প্রধানদের বিরুদ্ধে ভুলক্রমে যদি কেউ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে বা শক্তি বৃদ্ধি ঘটলে অনিবার্য নিয়তির মত তার ওপরে মৃত্যুর খড়গ নেমে আসে।

দেশবাসীকে দেখতে হয়, এসব ক্ষুদে মাফিয়া প্রধানদের অনেকেই সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এমনকি কখনও কখনও মন্ত্রীও বনে যান। এদের সকলেরই একটি রাজনৈতিক পরিচয় থাকে। আর সেটি সাধারনত ক্ষমতাসীন দলের। এখন যেমন এর সবাই আওয়ামী লীগার। মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত হয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার বদান্যতায় এরা সহজেই সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পেয়ে যান এবং নির্বাচিত হয়ে দেশের ৩’শ জন আইন প্রণেতার একজন হয়ে যান। আবার দলীয় মনোনয়নের জোরে এরা হয়ে যান উপজেলা চেয়ারম্যান বা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অপরিমেয় অর্থএই দু’য়ের যোগফলে ক্ষুদে মাফিয়া প্রধানরা হয়ে ওঠেন একেকটি সাম্রাজ্যের মালিক, অপ্রতিরোধ্য ও দুর্দমনীয়। ফলে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী যেই হোক না কেন, নিজ দলের বা অন্য দলেরএদের হাত থেকে কারো রক্ষা নেই। এ কারনেই বাঁচতে দেয়া হচ্ছে না, এরা যাদেরকে মনে করছে পথের কাঁটা, তাদেরকে চিরতরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন লাশ পড়ছে অকাতরে। অসহায় স্বজনদের আর্তিতে এখন গোটা দেশের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে প্রতিদিন। অবরুদ্ধ জনপদের অসহায় জনগন আতঙ্কিত কখন কার ওপর নেমে আসে অদৃশ্য আততায়ীর খড়গনিঃশব্দ মৃত্যু!

সরকারী কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও লঞ্চ মালিকের লোভের বলি হয়ে মেঘনায় লঞ্চডুবির ঘটনায় লাশ উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৫৫ জনের। উদ্ধার কাজে দেখানো হয়েছে ভানুমতির খেল। ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা মানুষের অভিযোগ, ক্ষতিপূরনের টাকা না দেয়ার জন্য পেট ফেঁড়ে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে, গুম করে দেয়া হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে মেঘনার বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও সরকার নির্বিকার, সুশীলরা নির্মোহ, মিডিয়ায় সাধারন খবর। সঠিক তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার হবে না এই সত্য মেনে নিয়েছে সকলে। নিষ্ঠুরতায় লাশের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। কবে, কখন, কে, কিভাবে এই ধারাবাহিক লাশের মিছিল বন্ধ করবেএই বদ্বীপে আমরা কি কেউই কি তা জানি? অথচ এইতো মাত্র ক’দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার ফেরিডুবিতে মানুষের মৃত্যুর ঘটনার দায় মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন।

এই লাশের মিছিলে দাঁড়িয়ে প্রতিটি অপহরন, গুম, খুনের পরে বলা হয় এটি স্বাধীনতা বিরোধীদের কাজ, অনুপ্রবেশকারীদের কাজ, জঙ্গীদের কাজ অথবা বিরোধী দল এজন্য দায়ী। কোন তদন্ত, তথ্যপ্রমান ছাড়াই সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দায়িত্বশীলরা অবলীলায় এসব মন্তব্য করে সমস্ত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। যদিও তারা যাদের দায়ী করেন তাদের বিপক্ষেও কোন প্রমান হাজির করতে পারেন না। অন্যদিকে, বিরোধী দলের সাধারন প্রবণতাই হচ্ছে, তারাও সব ঘটনার জন্য ঢালাওভাবে সরকারকে দায়ী করে থাকেন। ফুলগাজীর মর্মান্তিক হত্যাকান্ড যে ক্ষমতাসীনদের দলের কোন্দলের কারনে ঘটেছে সেটি প্রাথমিক তদন্তের পরে র‌্যাবের মিডিয়া উইং থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। অকুস্থলে ঘটনার সাথে জড়িত ৮ জন ধরাও পড়েছে। তারা সবাই নিজাম হাজারীর লোক। কিন্তু ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা যদি নিজাম হাজারী হয়েই থাকে তাহলে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য অনেক নাটক তৈরী করা হতে পারেএ আশংকা থেকেই যাচ্ছে। এখন প্রধানমন্ত্রী কি বলবেন, সেটি গোটা জাতির কৌতুহলের বিষয়। কারন ঘটনার পরপরই তিনি এটিকে স্বাধীনতা বিরোধীদের কাজ বলে জানিয়েছিলেন। এখন কি বলবেন প্রধানমন্ত্রী? এই খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য পুলিশ পেয়েছে তাতে এ সন্দেহ করার কারন রয়েছে যে, এই খুনের নির্দেশদাতা আওয়ামী লীগের একজন এমপি। তাহলে প্রধানমন্ত্রী কি মনে করছেন তার দলের লোকজনই এখন স্বাধীনতা বিরোধীদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। নাকি আগের মতই বলবেন, এরা জামায়াতশিবির অথবা বিএনপির লোক এবং তাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তার দলে!

আমাদের বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখনও কতই না প্রাসঙ্গিক। শত বছর আগে আমাদের বর্তমান সমাজ বাস্তবতার কথাই তিনি যেন চোখ মেলে দেখতে পেয়েছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাঝে মাঝে রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্বৃতি দেন। তিনি নিশ্চয়ই পথ ও পাথেয় নামে রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলনটি পড়েছেন। সেই গ্রন্থটি থেকে কিছু বাক্য প্রসঙ্গত:ই এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। এটি এখন ক্ষমতাসীনদের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। “দুঃসময়ে সত্যকে চাপাচুপি দিতে যাওয়া প্রলয়ক্ষেত্রে বসিয়া ছেলেখেলা করা মাত্র (পথ ও পাথেয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) কিম্বা “ঝড়ের দিনে হালের মাঝি নিজের খেয়ালে চলিতেছে, আমরা দাঁড় দিয়া যেটুকু রক্ষা করিতে পারি অগত্যা তাহাই করিতে হইবে মাঝি সহায় যদি হয় তবে ভালই, যদি নাও হয় তবুও দু:সাধ্য সাধনে প্রবৃত্ত হইতে হইবে। কারন, যখন ডুবিতে বসিব তখন অন্যকে গালি পাড়িয়া কোন সাত্বনা পাইব না।” (পথ ও পাথেয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

মিথ্যের ফুলঝুড়ি ছোটাতে ছোটাতে আমাদের রাজনীতিবিদরা যখন চরম সত্যের মুখোমুখি হয়ে পড়েন তখনও কি তারা দেয়ালের লিখনগুলি পড়তে পারেন? তখনও তারা একের পর এক মিথ্যের অবতারনা করতে থাকেন। ১৯৯০ সালে নির্বাচনমুখী গণতন্ত্রের ধারায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরত আসার পরে বাংলাদেশে কোন দলই দ্বিতীয় মেয়াদে গণরায় নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হননি। ২০০৮ সালে বিপুল গণরায় নিয়ে ক্ষমতাসীন হবার পরে একটি নিয়ম রক্ষার একক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে। নির্বাচনের আগে কাদের মোল্যার ফাঁসি ছিল বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। সে সময়ে শেখ হাসিনা ও দলীয় তাত্ত্বিকরা বলেছিলেন, এই বিচার কাজ করার ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে তারা যে বিরোধিতার মুখে পড়েছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় না আসলে এ বিচার বন্ধ হয়ে যাবে।

ক্ষমতা হারালে যে প্রতিশোধের মুখে পড়ার আশংকা করছিল আওয়ামী লীগ এ কথা বলে মূলত: সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চেয়েছে। স্পষ্টত: তারা জেনে গিয়েছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ একটি দলকে জনগন পুনরায় নির্বাচিত করবেনা। সেজন্যই তারা একটি একক নির্বাচনের আয়োজন করে, যাতে করে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুটপাট এবং অনৈতিক সকল কর্মকান্ড ঢেকে দেয়া যায়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুটি আস্তে আস্তে নির্বাসিত হচ্ছে। বিচারের বিষয়টি প্রলম্বিত হচ্ছে, ঝুলে যাচ্ছে। প্রসিকিউশনের দ্বন্দ্বে ইতিমধ্যেই জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি বন্ধ রয়েছে। অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেলকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মামলা পরিচালনায় দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। একাধিক সূত্র এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জামায়াতের সাথে সরকারের এক ধরনের শর্তাধীন আঁতাত গড়ে উঠছে। যাতে তারা ১৯ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসে। গত উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের সাথে মাঠ পর্যায়ে সমঝোতা, জেলায় জেলায় জামায়াত নেতাকর্মীর আওয়ামী লীগে যোগদানআঁতাতের বিষয়টিই ইঙ্গিত করে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে এ কথা বারবার বলার চেষ্টা করা হয়েছিল, নির্বাচিত এই সরকারটি নৈতিকভাবে দুর্বল সরকার হলেও তার হিংস্রতা ও ক্ষিপ্রতা অনেক বেশি হবে। বিরোধীদের দমনপীড়নে এই সরকার আবার আরো আগ্রাসী হয়ে উঠবে। সরকারের বিপর্যয় যত বাড়বে নিপীড়নের ঘটনা ততই বাড়বে। এর প্রমান সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যেগুলি সকলেই জানেন। জন্মের সময় ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা করা হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত প্রায় ৪ দশক ধরে পরস্পরবিরোধী ও শক্তিমান তিনটি উপাদান কাজ করছে। ১. ধর্ম ২. একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৩. ন্যায্যতা ও সুশাসন। এই তিনটি উপাদানের ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তাদের যা কিছু অর্জন তা নিজেরাই কুশাসনের ফুৎকারে মিলিয়ে দিয়েছে প্রতারনা ও মিথ্যার ফুলঝুড়িতে। জনগন সবসময়ই যে কোন সরকারকে বিবেচনায় নিতে চায় তার সামগ্রিক চরিত্র কেমন সেটি বাস্তবে উপলব্দি করে। সেজন্যই আওয়ামী লীগ যদি দাবী করে, যেহেতু তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে সে কারনে তাদের সবকিছু করার অধিকার আছে, সেটি কখনই জনগন মানবে না তা যতই মিথ এর ওপর প্রতিষ্ঠিত হোক।।