Home » আন্তর্জাতিক » চে গুয়েভারা – এখনো কেন প্রাসঙ্গিক

চে গুয়েভারা – এখনো কেন প্রাসঙ্গিক

che[চে গুয়েভারা একজন মহান বিপ্লবীর নাম। গণমানুষের মুক্তির জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন মনেপ্রাণে, জীবন দিয়ে চেয়েছিলেন। তার চাওয়ার পথ ও পদ্ধতি নিয়ে নানা আলোচনা এবং বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু তার উপলব্ধি, আকাঙ্খা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল নিখাদ এবং অকৃত্রিম। কিন্তু বর্তমানে এসে যখন কর্পোরেট গোষ্ঠী এবং বাংলাদেশে তাদের পুঁজির সংরক্ষক, স্বার্থরক্ষাকারীরা এবং এর সংবাদমাধ্যম চে’কে নিয়ে কুম্ভীরাশ্রুবর্ষণ করে তখন এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তারা তাদের প্রভুদের মতোই চে’কে পণ্য হিসেবে দেখে, বিপ্লবী ও সমাজ পরিবর্তনকামী একজন যোদ্ধা হিসেবে দেখতে নারাজ। আন্তর্জাতিক কর্পোরেটদের দেশীয় এজেন্ট হিসেবে এর ঊর্ধ্বে উঠতে তারা পারবে না এটাই স্বাভাবিক। কাজেই ওই সংবাদমাধ্যমের চে’কে স্মরণকে সন্দেহের চোখে দেখাটাই বাঞ্ছনীয়। চে একজন ঔপনিবেশিকতা এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্তর্জাতিক যোদ্ধা। তাকে প্রকৃতার্থে স্মরণ করতে গেলে কর্পোরেট এবং এর এ দেশীয় প্রতিনিধিদের সম্পর্কে সাবধান থাকাটা জরুরি। ১৪ জুন চে’র জন্মদিনে তাকে আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই।সম্পাদক]

আবীর হাসান

চে গুয়েভারা। বর্তমান বিশ্বে নামটা অপরিচিত তো নয়ই বরং একটু বেশিই পরিচিত তাঁর ছবিটার জন্য। বিপ্লবী চে’র প্রতিকৃতি টি শার্টের বুকে কিংবা ব্যাগে পেছনে লাগিয়ে ঘুরে অনেক তরুণই বুঝিয়ে দিতে চায় তারা প্রতিবাদী এবং বিপ্লবকে সমর্থন করে। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, পশ্চিমা জবর দখল, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অর্থনৈতিক ও বর্ণবাদী বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর সবচেয়ে যুৎসই ও জবরদস্ত আইকন হচ্ছেন চে গুয়েভারা। অবশ্য লাল তারকা খচিত কালো বেরেটা মাথায় চে’র ছবিটা নিয়ে বুর্জোয়ারাও এখন ব্যবসা করছে অর্থাৎ জীবিত চে’র ভয়টাকে তাড়াতে মৃত চে’র ছবিটাকে পণ্য বানিয়ে দেদার মুনাফা লুটছে তারা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে চে’র জুজু ওদের পিছু ছাড়েনি। সাম্রাজ্যবাদীদের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভীতি ওই কমিউনিজমই। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে যে ভূত তারা দেখতে শুরু করেছিল এখনো সেই ভূত তারা দেখছে এবং ‘ভয় পাচ্ছে’ আর এই ভূতদের পালের গোদা তাদের কাছে চে ছাড়া আর কেউ নন!

এ জন্যই তারা চে গুয়েভারাকে নিয়ে অপপ্রচার চালায়, হালকা করতে চায় চে’র বিপ্লবী কর্মকাণ্ডকে। বলে – ‘চে হলেন শখের বিপ্লবী’, অস্থির, পারিবারিক মূল্যবোধহীন এবং মার্কসবাদ থেকে বিচ্যুত (সবচেয়ে হাস্যকর অভিযোগ)। আবেগ প্রবন তরুণদের চে বিপথগামী করেন বলেও অনুযোগ করে ওরা। এবং এও বলে যে, ‘বিশ্বব্যাপী বিপ্লব ছড়িয়ে দেয়ার’ প্রত্যয়টা ছিল ‘ভাববাদী’ এবং বিশ্বের বিপ্লবীদের মধ্যে সংহতি গড়ে তোলার কাজটা ছিল ‘হঠকারিতা।’

তাই যদি হবে তাহলে চে’র যুদ্ধের ফসলটাই (কিউবার বিপ্লব) টিকে গেল কেন? কেন এখনো লাতিন আমেরিকা চে’র আদর্শেই বিপ্লবী যুদ্ধ ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কেবল লাতিন আমেরিকা কেনপূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জনসাধারণ এবং খোদ ইউরোপও এই এককেন্দ্রিক বিশ্বে সমাজবাদী আন্দোলনের যে ধারাটিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে, তার রূপকার যে চে!

আপনি যখন এ মন্তব্যটি পড়ছেন তখন আপনি অবশ্যই বিস্ময় মানছেন এবং অতিকথন বলেও মনে করছেন। স্বীকার করছি এ রকম মনে হতেই পারে কারণ চেকে আপনারা চিনে এসেছেন বিপ্লবী যোদ্ধা হিসেবে। রণক্ষেত্রে গেরিলা নেতারা যেমন হন তেমন একটা ভ্যালিয়েন্ট ধরণের কথা মনে গেঁথে আছে।

আসলে যে কথাটা আমি বলতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে চে না ছিলেন ‘শখের বিপ্লবী’ না ‘ভাববাদী।’ চে নিজেকে কেবল বিপ্লবী যোদ্ধা হিসেবেই গড়ে তোলেননি শাস্ত্রীয় শিক্ষাটা ও নিয়েছিলেন আর বিপ্লব রক্ষা করার আটঘাট বাঁধার পথটাও দেখিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর জীবদ্দশায় এবং লেখনির মাধ্যমেই।

চে গুয়েভারা বিভিন্ন দেশে বিপ্লবী যুদ্ধ যেমন করেছেন তেমনি লিখেছেনও প্রচুর। সে লেখাগুলো কেবল ডায়েরি বা ঘটনার বর্ণনা নয় অনেক ক্ষেত্রেই তা হয়ে উঠেছে নতুন যুগের ইশতেহার। নতুন উদ্ভূত সমস্যাগুলো নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি অর্থাৎ মার্ক্সের একশ বছর পর মেহনতী মানুষের বিপ্লবী চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দুঃসাধ্য কাজটি করেছেন চে। চে গুয়েভারা জানতেন, সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদীদের অপপ্রচারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে ব্যক্তির স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তোলা যুক্তি। তার উত্তর তিনি ১৯৬০ সালেই দিয়েছিলেন। কিউবার মেডিকেল ছাত্র ও স্বাস্থ্য কর্মীদের বলেছিলেন, ‘বিপ্লব মানে এই নয় যে, একটা সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সবার ইচ্ছাকে আটকে রাখতে হবে, যৌথ উদ্যোগ নেয়ার জন্য। বরং এটা হচ্ছে মানুষের মুক্তি, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ক্ষমতার মুক্তি।’

এরপর ১৯৬৫ সালে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ব্যক্তিকে সংজ্ঞায়িত করতে চাই। বিস্ময়কর এই সমাজতন্ত্র বির্নিমানের নাটকে প্রত্যেকের দ্বৈত ভূমিকা থাকে। প্রথমত. ভালো মানুষ হিসেবে দ্বিতীয়ত. সমাজের সদস্য হিসেবে। আমার মনে হয় ব্যক্তির যোগ্যতা যেভাবে দেখা হয় তা পরিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নয়। কারণ বিষয়টা অনিঃশেষ। অতীতের ঘটনাবলী মানুষকে সচেতন করে আর নিরন্তর প্রচেষ্টা তাকে পরিশীলিত করে। প্রক্রিয়াটা দ্বিমুখী, একদিকে সমাজ থেকে পাওয়া যায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শিক্ষা এবং অন্যদিকে ব্যক্তি সচেতনতার মাধ্যমে নিজেকে স্বশিক্ষিত করে তোলে। নতুন সমাজ যখন গঠিত হতে থাকে তখন অতীতের সঙ্গে তার প্রতিযোগিতা চরমে ওঠে। এই অতীতের বিষয়টা যে কেবল ব্যক্তির অনুভবের মধ্যে থাকে তা নয়, পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়ার মধ্যেও পণ্যসম্পর্কটা বিদ্যমান থাকে, পণ্য হচ্ছে পুঁজিবাদী সমাজের অর্থনৈতিক কেন্দ্র, যতক্ষণ এটা থাকে ততক্ষণ এর অস্তিত্ব অনুভব করা যায় উৎপাদনে এবং জীবনযাত্রায়। পুঁজিবাদী সমাজে শিক্ষার মাধ্যমেই ব্যক্তিকে একাকী করে ফেলা হয় এবং তার চাপ খুব ভালোভাবেই বোঝা যায়। এই সন্ধিক্ষণে উপনীত হওয়াকে মার্ক্স বলেছিলেন, ‘নিজস্ব স্ববিরোধ থেকে পুঁজিবাদের বিস্ফোরিত হওয়ার লগ্ন। কিন্তু একশ বছর পর বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে চে গুয়েভারা লিখেছেন, ‘কোন কোন দেশে পুঁজিবাদ বেশ ভালোই উন্নত হয়েছিল যার প্রভাব জনসাধারণের ওপর পড়েছিল চরমভাবে। কিন্তু পুঁজিবাদের অভ্যন্তরীণ স্ববিরোধিতার জন্য এসব জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটেনি ঘটেছিল বিদেশী দখলদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ফলে। যুদ্ধের মতো বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়ে সুবিধাভোগী শ্রেণী পড়ে গিয়েছিল বঞ্চিতদের পেছনে, মুক্তি সংগ্রাম নয়া উপনিবেশবাদী শাসকদের উৎখাত করেছিল, বর্তমানে এটাই বিস্ফোরণের প্রথম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাকিটা করছে মানুষের সচেতন কর্মকাণ্ড। (সমাজতন্ত্র এবং কিউবার মানুষ ১৯৬৫)

বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য নতুন ব্যাখ্যা হিসেবে একে না মেনে উপায় নেই। মার্ক্সবাদকে উপেক্ষা না করেও নয়া উপনিবেশবাদের তৈরি করা বাস্তবতাকে চে ধরিয়ে দিয়েছেন। সমাজতন্ত্র নির্মাণের বিভ্রান্তিকর পথগুলোকেও তিনি চিহ্নিত করছেন বিশেষ করে পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের সংস্কারের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রে উত্তরণের বিষয়গুলোকে। তিনি লিখেছেন, ‘পুঁজিবাদের ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে সমাজতন্ত্র কায়েম সম্ভব নয়। পণ্যকে পুঁজিবাদী অর্থনীতির কাছে রেখে মুনাফা আর ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতাকে প্রশ্রয় দিলে তা শেষ পর্যন্ত কানা গলিতে নিয়েই ফেলবে। বিভ্রান্তি এড়িয়ে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে ভুল বাঁক নিলেই বিপদ’। (সমাজতন্ত্র ও কিউবার মানুষ ১৯৬৫)

পুঁজিবাদের নতুন অপকৌশলগুলো নিয়েও কথা বলেছেন চে গুয়েভারা। ওই একই নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘পুঁজিবাদ শক্তি খাটায় বটে সঙ্গে পদ্ধতিও শিক্ষা দেয়। শ্রেণী বিভিক্ত সমাজে এ ধরণের বিষয় খুবই গুরুত^পূর্ণ কোন কোন সময় তাকে বদান্যতা, স্বর্গীয় বা পবিত্র বলে প্রতিপন্ন করা হয়। এসব মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মানুষ আশা করতে থাকে আরো উন্নতির। কিন্তু পুঁজিবাদ অনঢ় গোষ্ঠীতান্ত্রিক বিভেদ বজায় রাখতে একটুও ছাড় দিতে রাজি নয়। মনে করতে বাধ্য করা হয় গোষ্ঠীতন্ত্র চিরন্তন, ভালো কাজ করলে পুরস্কার পাওয়া যাবে পরলোকে গিয়ে। সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মটা এই। আবার উন্নত গোষ্ঠীর লোক পুরস্কার পাবে এই জগতেই। প্রাচীন বা অতীতের বিশ্বাস বলুন আর শিক্ষাই বলুন এটাই বিশ্বাস করানো হয়। বলা হয় সবাই নিয়তির হাতের পুতুল। নীতিগত ভাবে স্বীকার করা হয় ব্যক্তি কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে সুযোগ করে নিতে পারে কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এটা কল্পনারই ব্যাপার, আরও পরিষ্কার করে বলা যায়, এই মিথ্যাটাই সত্য।

আমরা কি একে এ যুগের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষা বলতে পারি না? বিপ্লবী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অন্ধত্ব ও দোদুল্যমানতা বিসর্জন দেয়ার জন্য এর মতো নির্দেশনা আর কোথায় পাওয়া যাবে? আরও অনেক নতুন কথা চে গুয়েভারা বলেছেন যা আগের কোনো তাত্ত্বিক বা বিপ্লবী বলেননি, যেমন ‘অর্থনীতির পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয় না, এই রদবদলটা ধীর গতির এবং মোটেই ছন্দবদ্ধ নয়’।

এ যুগে এই একবিংশ শতাব্দীতেও চে’র (এবং ফিদেল ক্যাস্ট্রোর) বিপ্লব টিকে আছে সম্ভবত এই কারণে যে, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে পুঁজিবাদসাম্রাজ্যবাদের প্রতিটি অপকৌশল আর তার বিরুদ্ধে রক্ষাকবচগুলোকে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন তিনি। লিখেছিলেন, ‘বিপ্লবী যুদ্ধে জয়ের পরও ভয়াবহ শ্রেণী সংগ্রামের মধ্যে থেকে যায় পুঁজিবাদের অবশেষগুলো যা প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি করে। তাত্ত্বিকরা একে মাক্সীয় দর্শনের পেছনে পড়ে থাকা হিসেবে চিহিৃত করতে পারেন। কিন্তু এখন আমাদেরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে অবিকশিত অর্থনীতিকে এবং রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে। যে তত্ত্বটা পাওয়া যাবে তাতে সুনিশ্চিত দুটো বৈশিষ্ট্য থাকবেই যা সমাজতন্ত্রের প্রধান দুই বৈশিষ্ট্য। এটা হচ্ছে নতুন মানুষদের জন্য শিক্ষা এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন। এ বিষয়ে অনেক কিছু করার আছে। অন্ধভাবে সামনে এগুনোর সমস্যা দূর করতেও একটা প্রক্রিয়া দরকার যা প্রযুক্তির উন্নতির মূল্যায়ন করে চলবে ক্রমাগত। এখন আর কেবল ধারণা করার প্রয়োজন নেই। কেননা কয়েকটা অগ্রগামী দেশ কাজটা করে ফেলেছে। এ কারণেই ফিদেল আমাদের লোকজনকে প্রযুক্তিগত এবং বৈজ্ঞানিক শিক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর বিশেষ করে বিপ্লবের যারা রক্ষক তাদের’।

এই বিষয়টা চে গুয়েভারার বিজ্ঞানমস্কতার পরিচায়ক নিঃসন্দেহে। আর এটা তিনি কিউবা এবং অন্যান্য বিপ্লবী দেশের জন্য আবশ্যিক করে তুলতে চেয়েছিলেন। আজকের বিশ্বটার দিকে তাকিয়ে দেখুন যে দেশগুলোর বিপ্লবকে রক্ষা করে চলতে পারছে তারা নতুন মানুষদের শিক্ষা দিচ্ছে এবং প্রযুক্তি (তা সে পরমাণুই হোক অথবা ডিজিটালই হোক) – নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার এই পথনির্দেশ তো দিয়ে গেছেন চে গুয়েভারাই, যিনি সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বিপ্লবের সাফল্য অর্জনকে বলেছেন – ‘হালকা’ কাজ। তাঁর কাছে নতুন শতাব্দীর কঠিন কাজ হচ্ছে, নয়া উপনিবেশবাদকে চেনা, পুঁজিবাদের অবশেষগুলোকে নতুন যুগের নতুন প্রজন্মের মানুষদের নিয়ে দূর করা আর বুর্জোয়া জনদরদী রাজনীতির ফাঁদে পা না দেয়া। বেশি দূর যাওয়ার দরকার নেই। নেপালের কথাই ভাবুন পুশদহল প্রচণ্ড চেয়েছিলেন পুঁজিবাদী অর্থনীতি আর বুর্জোয়া গণতন্ত্রের কাঠামো বজায় রেখে ক্ষমতা ভোগ করতে। এ রকমটা যারা করতে চান, চেকে যদি একটু পড়ে বুঝে নেন তাহলে সেটাই হবে উত্তম কাজ।।

abir59@gmail.com

(লেখাটি পুনঃমুদ্রিত)