Home » আন্তর্জাতিক » ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তা কৌশলগত গুরুত্ব ॥ কেন হলো না চীনের সাথে বন্দর চুক্তি

ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তা কৌশলগত গুরুত্ব ॥ কেন হলো না চীনের সাথে বন্দর চুক্তি

আমীর খসরু

last 1বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিকবাণিজ্যিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ প্রশ্নে সরকারের ‘লুকোচুরি নীতিমালা’র কারণে এ নিয়ে দিনে দিনে জটিলতা বাড়ছে। বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ বিষয়টিকে সরকার যতোটা হালকাভাবে নিয়েছে বা গুরুত্বহীন ভাবছে বাস্তব পরিস্থিতি তা মোটেই নয়, বরং উল্টো। এমন একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক গুরুত্বের সাথে মিলিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর হলেও এটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা কৌশলের সাথে গভীরভাবে জড়িত এবং তাৎপর্যপূর্ণ। এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝতে হলে একদিকে মান্ধালেব প্রণালী (ইয়েমেন ও আরব সাগরীয় অঞ্চল), হরমুজ প্রণালী (পারাস্য উপসাগরীয় এবং আরব সাগরীয় অঞ্চল) থেকে শুরু করে মালাক্কা প্রণালী (ইন্দোনেশিয়ামালয়েশিয়া অঞ্চল) পর্যন্ত পুরো এলাকার ভূরাজনৈতিক কৌশলগত এবং বাণিজ্যিকঅর্থনৈতিক গুরুত্ব বুঝতে হবে। ২০১১ সালের হিসাবেই বিশ্ব জ্বালানির মোট ৩৫ শতাংশ এবং সামগ্রিক বাণিজ্যের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আসাযাওয়া করে। এছাড়া এশিয়ার দেশগুলোর ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে এসে থাকে। আর পুরো ভারত মহাসাগর এই অঞ্চলের বাণিজ্যের প্রধান উপায়। এর উপরে নিরাপত্তা কৌশলগত বিষয়গুলো তো রয়েছেই।

ভারত মহাসাগরের গুরুত্বটি আরও বেড়ে গেছে, চীনের সঙ্গে দক্ষিণপূর্ব এশীয় অনেক দেশের এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দুনিয়ার বৈরিতার কারণে। এখানে দক্ষিণ চীন সাগর এবং পূর্ব চীন সাগরের বৈরিতা ও বিবাদের বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে।

ভারত মহাসাগরের কর্তৃত্বের লড়াইয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বেশ তৎপর। তাদের এই তৎপরতা যুক্ত হয়েছে জাপানের সাথে চীনের বৈরিতা একাকার হয়ে। অন্যদিকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে চীনকে কেন্দ্র করে যে বিরোধ রয়েছে সেটিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই জাপান থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত পুরো এলাকা জুড়েই ভারত মহাসাগর কেন্দ্রীক তৎপরতা চলছে। হরমুজ প্রণালীকে আরও সচল রাখার জন্য কিছুদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় অংকের অর্থ ব্যয় করেছে। এখানে সোমালিয়াসহ ওই অঞ্চলের সমুদ্র এলাকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারত মহাসাগরের উপরে ভারত তার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায় অনেকদিন ধরে। প্রথম থেকেই এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বৈরিতার সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল দিল্লির। সাথে চীন তো ছিলই। এখন চীনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত একটি সম্পর্ক দিল্লির গড়ে উঠেছে। ভারত গত কিছুদিন থেকে তার নৌ শক্তি বৃদ্ধি করার সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া চীন বিরোধী দেশগুলোর সাথে ভারত কৌশলগত মিত্রতায় শামিল হয়েছে। ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় ভারত চীনের সাথেই বেশি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

চীনও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার বিশাল বিস্তার ঘটানোর প্রচেষ্টা অনেকদিন ধরেই করছে। এ কারণে চীন ইতোমধ্যে পাকিস্তানের গোয়াদারএ সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করেছে। আর এটি ভারত মহাসাগর তো বটেই, ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশলগত দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পশ্চিম চীনের সাথে সংযুক্তি সম্ভব হবে। চীন শ্রীলংকার হাম্মামতোতায় আরও একটি সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করেছে এটিও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বর্তমানে ভারত মহাসাগরে মালদ্বীপসহ অন্যান্য স্থানেও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক শক্তিসমূহের মধ্যে।

এরই প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যবহ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশল এবং বাণিজ্যঅর্থনীতির ক্ষেত্রে। এখানে বলে নেয়া ভালো, বার্মায় ৭টি সমুদ্র বন্দর থাকলেও বর্তমানে তারা আরও দুটি বন্দর নির্মাণ করছে। এর একটি পাচ্ছে থাইল্যান্ড, আর ওই বন্দরটি একেবারেই থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে। বার্মার সমুদ্র বন্দরগুলোর চেয়েও বাংলাদেশের বঙ্গোপাসাগরের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দরটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বার্মার সিটওয়েতে সমুদ্র বন্দরটি চীন দীর্ঘদিন ধরে পুনঃনির্মাণ এবং ব্যবহারের চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয়রা এর কর্তৃত্ব পেয়ে যায়। চীনের ইচ্ছা ছিল এই বন্দরটি মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশের সাথে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সংযোগ ঘটানো। আবার ভারতের ইচ্ছা হচ্ছে, এই বন্দরটি মাধ্যমে তারা ওই দেশেরই উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যেগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করবে। সিটওয়ে সমুদ্র বন্দরটি না পাওয়ায় চীনের জন্য বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দরটি অধিকমাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দরটি নিরাপত্তা কৌশল ও বাণিজ্যঅর্থনৈতিক সুবিধার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ তা অনুধাবন করা সহজ হয়। এই সমুদ্র বন্দরটি নিয়ে বিভিন্ন শক্তির তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। চীন যদি বন্দর পায় তাহলে তাদের কুনমিং (ইউনান প্রদেশসহ) ওই অঞ্চলের সাথে বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সহজ হয়। এছাড়া ভূবেষ্টিত চীনের এই অঞ্চলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলসহ সামগ্রিক বাণিজ্যিক সুবিধা প্রাপ্তি সহজতর হয়ে যায়। চীন এই বন্দরটির কর্তৃত্ব হাতে পেলে তিব্বত পর্যন্ত তাদের যোগাযোগ বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সাথে সংযুক্তি ঘটাতে পারে। এছাড়া সামরিক ও ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্র বিবেচনায় চীন এই গভীর সমুদ্র বন্দরটিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে। ভারতের ধারণা, চীন ইতোমধ্যে যে সব সমুদ্র বন্দর ভারত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করেছে এবং নির্মাণ করতে চায় তার মাধ্যমে তাদেরকে চীন ঘিরে ফেলতে চায় ‘স্ট্রিং অফ পার্ল’ (মুক্তার মালা) সৃষ্টির নীতির মাধ্যমে। স্ট্রিং অফ পার্ল কথাটি ভারতীয় বিশ্লেষকরাই মূলত ব্যবহার করে থাকেন।

ভারত চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দরের উপরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য। প্রধান কারণ, চীনের কর্তৃত্ব প্রতিহত করে ভারত মহাসাগরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ছাড়াও তাদের ভূবেষ্টিত উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের ৭ রাজ্যের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মালামাল সরবরাহ এবং বাণিজ্য সুযোগ নিশ্চিত করা। এছাড়াও ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা কৌশলগত দিক দিয়েও সমুদ্র বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতের অরুনাচল প্রদেশসহ চীনের সাথে দ্বন্দ্ববিবাদ রয়েছে এমন ভারতীয় এলাকাগুলোর উপরে তাদের কর্তৃত্ব অক্ষুন্ন রাখা। এছাড়াও বার্মার সিটওয়ে সমুদ্র বন্দর তারা হাতে পেয়ে গেছে। ওই বন্দরের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দরের উপরে যদি তারা কর্তৃত্ব পেয়ে যায় তাহলে চীনকে এই অঞ্চল থেকে পরিপূর্ণভাবে বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দিক দিয়ে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরটি পুরো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। এখানে এই অঞ্চলের উপরে চীনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি যেমন রয়েছে, তেমনি ভারতের কর্তৃত্ব কতোটা থাকবে তাও বিবেচনার একটি বিষয়। মনে রাখতে হবে যে, ভারত ইতোমধ্যে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের অনুমতি পেয়ে গেছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে তেলগ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রমে পশ্চিমী দুনিয়ার কোম্পানীগুলোর উপস্থিতির কারণে পশ্চিমী দেশগুলো এই অঞ্চলটিকে খুবই স্পর্শকাতর বলে মনে করে।

সামগ্রিক বিবেচনায় দেখতে গেলে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দরটি ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা কৌশলগত দিক দিয়ে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি বাণিজ্য ও ব্যবসায়ীক সুবিধার নিরিখেও তাৎপর্যপূর্ণ।

এই গভীর সমুদ্র বন্দরটি নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। আগ্রহ দেখালেও বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এই বন্দরের গুরুত্বের বিষয়টি বিবেচনায় না এনে নিছক রাজনৈতিক দরকষাকষির ইস্যুতে পরিণত করে। ভারতের সাথেও এ নিয়ে তাদের একটি বোঝাপড়া নিশ্চয়ই আছে। তারপরেও দরকষাকষির এক পর্যায়ে চীনকে বন্দর নির্মাণের দায়িত্ব দেয়ার যাবতীয় প্রাথমিক কথাবার্তা সম্পন্ন হয়। চীনও সহজ শর্তে ঋণ দিতে রাজি হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরের আগে ঢাকায় এমন কথা বেশ জোরেশোরে শোনা যেতে থাকে যে, চীনই পাচ্ছে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের চুক্তি। যেমন চীন পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়ে গেছে। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের ঠিক আগে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, বন্দর নির্মাণের ব্যাপারে সন্তোষজনক একটি ফলাফল পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাবই দেখানো হচ্ছিল।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাসিনা যখন চীন সফরে গেলেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উঠলো তখনই দেখা দিল মতভিন্নতা আর মতভেদ। কারণ বাংলাদেশ প্রস্তাব দেয় চীন বন্দর নির্মাণ করে দেবে কিন্তু ভারত বন্দর ব্যবহার করবে। চীন পাল্টা যুক্তি দেখায় চীন যেহেতু বিশাল অর্থ ব্যয় এবং কারিগরি সহায়তায় বন্দর তৈরি করবে, সে কারণে তারই এর উপরে কর্তৃত্ব থাকবে। ভারত যদি ব্যবহার করতে চায় তাহলে তাদের কোনো বাধা থাকবে না। ভারত এক্ষেত্রে যে কৌশলটি গ্রহণ করেছে তাহলো চীনের হাতে যাতে কোনো ধরনের কর্তৃত্ব না থাকে। চীন এক্ষেত্রে পাকিস্তানের গোয়াদার এবং শ্রীলংকার হাম্মামতোতার উদাহরণ দেয়। শেষ পর্যন্ত চীনবাংলাদেশ বন্দর বিষয়ক আলোচনাটি আর এগোয়নি।

বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত এমন একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কারও সাথে কোনো ধরনের আলাপআলোচনা তো হয়ইনি, বরং পুরো বিষয়টিকেই চেপে যাওয়া হয়েছে, খেলা হয়েছে লুকোচুরি। দেশবাসীকে না জানিয়েই, কারো সাথে কোনো আলাপআলোচনা না করেই, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা পুরো জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। কে পাবে বা কে পাবে না তা আসল বিষয় হওয়া উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ কতোটা লাভবান হবে সেই হিসাবনিকাশ। কিন্তু তারও কোনো স্পষ্ট হিসাবনিকাশ হয়েছে বলে কারো জানা নেই। সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লোটা এবং রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এ বিষয়টিকে গ্রহণ করেছে। আর এ কারণেই চীন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছিল। আর ভারত বরাবর কেন নিরাপত্তা স্বার্থটিকেই বাংলাদেশ নীতিতে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয় তাও বুঝতে কারো বাকি থাকে না।

তাহলে কেন বার বার এমন হচ্ছে? করিডোরের নামে ট্রানজিট দেয়া হয়েছে, চট্টগ্রাম, মংলা বন্দর ভারত ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, রূপপুরে রাশিয়ার ঋণে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেন স্থাপন করা হচ্ছে, পটুয়াখালীতে চীনকে কেন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে, ভারত রামপালে সুন্দরবন ধ্বংসকারী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র কেন স্থাপন করছে, এখন গভীর সমুদ্র বন্দরটি নিয়েও তোড়জোর চলছে। আর সবই হচ্ছে সংকীর্ণ ব্যক্তি, রাজনৈতিক এবং অন্যান্য নানা স্বার্থে কিন্তু দেশের স্বার্থ বিপন্ন করে।।