Home » আন্তর্জাতিক » কোথায় হারিয়ে গেল ৬০-এর দশক

কোথায় হারিয়ে গেল ৬০-এর দশক

আমীর খসরু

last 5ভালোমন্দ ঘটনায় ভরা ৬০এর দশক। আবার ওই যে মন্দ বিষয়আশয়, তার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী একযোগে প্রতিবাদবিক্ষোভ, ধিক্কার জানানো, সৃষ্টিশীলতা, চেতনাচৈতন্যের ব্যাপক উত্থানের সময়ও তো ওই ৬০এর দশক। সব মিলিয়ে ৬০এর দশক এক কথায় একটি স্বর্ণালী সময়। এই ৬০এর দশকে আধিপত্যবাদসাম্রাজ্যবাদ, নয়াঔপনিবেশিকতার ব্যাপক উত্থান, যুদ্ধের বিস্তার, দেশে দেশে সামরিক শাসন, জনপ্রিয় সরকারগুলোকে জোর করে বিদায় করে দেয়ার ঘটনা যেমন আছে, তেমনি এর বিরুদ্ধেবিপক্ষে বিশ্বজুড়ে এমন জোরালো প্রতিবাদবিক্ষোভও আর ইতোপূর্বে ঘটেনি। প্রথা ভাঙ্গা, নতুনের আকাঙ্খা বিশেষ করে তরুণদের এমন বাঁধভাঙ্গা প্রতিরোধের দ্বিগুন আগুন চোখেমুখে আর দেখা যাবে কিনা দুনিয়া জুড়ে তাও একটি বড় প্রশ্ন।

হঠাৎ করে ৬০এর দশকটি উড়ে এসে জুড়ে বসেনি, চট করেও জন্ম হয়নি এমন একটি স্বর্ণগর্ভা সময়ের। বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়কালের পুঞ্জিভূত স্বল্পসংখ্যক মনুষ্যসৃষ্ট ক্লেদ, নির্মমতার প্রতিবাদই ৬০এর দশকের অপর নাম। ছাত্র, নারী, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবীসহ একযোগে এতো মানুষের সম্মিলন এবং সম্মিলিত প্রতিবাদ ওই দশকটিতে ঘটেছিল যা এখনো বিস্ময়কর মনে হয়। মনে রাখতে হবে, ওই সময়ের বিশ্ব ব্যবস্থাটি ছিল দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ঘোরতর সমর্থক দেশ এবং সমর্থক আর অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং এর স্বপক্ষের মানুষ, প্রগতিবাদী, উদারপন্থী, ন্যায়ানুগসমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপক্ষের মানুষেরা। ৬০এর দশকের মূল লড়াইটা ওখানেই, ওই দুই পক্ষের। ৬০এর দশকের ইচ্ছাকৃত ভুল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ কেউ কেউ দাড় করানোর চেষ্টা করেন। তারা বলেন, ওই দশকটি নাকি হঠকারীতায় পূর্ণ, ভুল আর নষ্ট সময়। এ কথা তারাই বলেন, যারা প্রথম দলের অর্থাৎ বিশ্ব ব্যবস্থাকে তখনই দখল করতে চেয়েছিল। চেয়েছিল দুনিয়া জুড়ে মানুষগুলোকে তখনই তাদের তস্যদাসে পরিণত করতে যা এখন তারা নানা কৌশলে, পদ্ধতি প্রয়োগে এবং করপোরেট ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে করতে পেরেছে।

৬০এর দশকে শুধুমাত্র একটি যে ঘটনা ঘটেছিল তা নয়। নানা ঘটনা ঘটেছিল ওই সময়ে এবং যে কোন ভাবেই হোক তা ছিল একই সূত্রে গাথা। ওটা ছিল প্রতিবাদপ্রতিরোধের আর প্রথা ভাঙ্গার প্রচেষ্টা। ছোট এই লেখার মধ্যে তার সামান্য কিছু বর্ণনা দেয়া যাবে মাত্র।

হিপ্পিদের ব্যাপক উত্থান ঘটেছিল ওই ৬০এর দশকেই। এই জমানার অনেকেই মনে করে থাকেন, ঠিকঠাক মতো গোসল না করা, জামার বোতাম খুলে উসকোশুস্ককো চুল আর দাঁড়ি না কাটাই হচ্ছে হিপ্পি কালচার বাস্তবে তা কিন্তু নয়। হিপ্পি ঘরানার জন্ম ঠিক হবে তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক আছে। তবে ৫০এর দশকে এর বিস্তার এবং ব্যাপক বিস্তার ৬০এর দশকে। মূলত হিপ্পি ঘরানার জন্ম চলমান ব্যবস্থাকে নাবলে দেয়া। এটা আসলে Counter-cultureথেকেই উদ্ভূত অর্থাৎ যারা বিদ্যমান সংস্কৃতি, সামাজিক আচারআচরণের বিপক্ষে ছিলেন। এরাও ছিলেন ৬০এর দশকের একটি অন্যতম উপাদান।

সাংস্কৃতিক জগতের দিকে তাকালে দেখা যাবে সমাজ বদলের চিন্তা থেকে অনেকেই এগিয়ে এসেছিলেন আলাদা আলাদাভাবে কিংবা একযোগে, সম্মিলিতভাবে। যেমন বব ডিলান, জন লেননদের কথাই যদি ধরা যায় তাহলে দেখা যাবে, এরাও বিদ্যমান ব্যবস্থার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা সমাজতন্ত্রী না হয়েও একটি ন্যায়ানুগ সমাজ কামনা করতেন, যুদ্ধের বিরোধীতা করতেন। তারা মনে করতেন মনেপ্রাণে যুদ্ধ ধ্বংসই করে, ধ্বংস ডেকে নিয়ে আসে মানব সমাজের উন্নয়ন বা কল্যাণ করে না। পিট সিগারও তো জনমানুষের গান গাইতেন। তিনি গাইতেন উই শ্যাল ওভার কামসহ নানা গান, যা উদ্দীপ্ত করতো মানুষকে, প্রগতির স্বপক্ষের জনগোষ্ঠীকে। এ রকম অনেকেই ছিলেন।

বিকল্প সিনেমা, থিয়েটারসহ অনেক কিছুর জন্ম এবং অনেক প্রচেষ্টা গ্রহণ হয়েছিল ওই ৬০এর দশকেই। চলচ্চিত্রে যৌনতার ব্যাপক বিস্তারের ঘটনা যেমন ঘটেছে তেমনি বিকল্প ধারার ছবিও নির্মিত হয় ওই সময়ে। নানা পরীক্ষানিরীক্ষাও চলে চলচ্চিত্র, নাটক, সাহিত্যসহ সৃষ্টিশীল ধারায়। এসব ক্ষেত্রে প্রথা ভাঙ্গার লক্ষ্যে বিকল্প ধারা সৃষ্টির উন্মাদনা দেখা যায়। বিশেষত এসব ক্ষেত্রে প্রগতিশীলতার উত্থান হয়েছে ওই সময়েই।

৬০এর দশক নারীবাদী আন্দোলনের জন্যও খ্যাত। ওই সময়কে নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বও বলে থাকেন অনেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওই নারীবাদী আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলে থাকেন, সিমন দ্য ব্যুভেয়াঁএর লেখালেখির মধ্যদিয়েই এর বিস্তার। এই সময়কালে নারীদের প্রতিবাদমিছিল, আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন জোরদারভাবে গঠন করাসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটতে থাকে।

এই ৬০এর দশকে নানা ঘটনা ঘটেছে সামাজিক এবং সমাজ বদলের ক্ষেত্রে। সামাজিক অধিকার আন্দোলন ব্যাপকতা পেয়েছিল ওই সময়ে। উল্লেখযোগ্য আরেকটি ঘটনা ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কৃষ্ণাঙ্গদের আন্দোলন ব্যাপকতা পায় ওই দশকেই। কৃষ্ণাঙ্গ নেতা এবং মানবাধিকার সক্রিয়বাদী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে অহিংস আন্দোলন করেন যা অবশ্য সব সময় অহিংস ছিল তা নয়। আই হ্যাভ এ ড্রিমখ্যাত কালোর্ত্তীন ভাষণটি দেয়া হয় ৬০এর দশকের শুরুতে ১৯৬৩ সালের আগস্টের ২৮ তারিখে। ওই ভাষণটি শুধুমাত্র যে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্যই প্রেরণাদায়ক ছিল তাই নয়, পুরো দুনিয়া জুড়েই এর প্রভাব পড়েছিল। পরবর্তীকালে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখেন।

৬০এর দশকে ছাত্র আন্দোলন এবং সমাজ বদলের আকাঙ্খার সক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ফ্রান্স, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে তৎকালীন পাকিস্তান কোথায় না ঢেউ লেগেছিল ওই ছাত্র আন্দোলনের। ছাত্রতরুণেরা নানাভাবে, নানা পদ্ধতিতে আন্দোলনসংগ্রাম করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ছাত্র এবং তরুণদের মধ্যে সমাজতন্ত্রী ও প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার দিকে ঝুকে পড়ার প্রবনতা দেখা যায় একটি বড় উপাদান হিসেবে। ৬০এর দশক জুড়ে যে আন্দোলন তা বিশ্বজুড়ে অধিকতর ব্যাপকতা লাভ করে ১৯৬৮ সালে। ঔপনিবেশিকতা, আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদের ঢেউ বিশ্বব্যাপী একযোগে আর দেখা যায়নি। পশ্চিমী দুনিয়ায় প্রতিবাদের পাশাপাশি সমাজতান্ত্রিক শিবিরেও ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন আর চীনের বৈরিতায় ইতোমধ্যেই বিভক্ত করে ফেলেছিল সমাজতান্ত্রিক বিশ্বকে। রাশিয়াচীন প্রশ্নে বহু বাম দল এবং বামপন্থী নেতাকর্মীদের বিভক্তি পরবর্তীকালে বাম আন্দোলনকে দুর্বল করে ফেলে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে সংশোধনবাদী বলে চিহ্নিত করে চীনকেই সঠিক পথ বলে মনে করা হতে থাকে অনেকের পক্ষ থেকে।

ওদিকে ওই চীনেই ১৯৬৬ সালে শুরু হয় সাংস্কৃতিক বিপ্লবযার উদ্দেশ্য ছিল সামরিকবেসামরিক আধিপত্যকে নস্যাৎ করা। সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে কিছু হঠকারীতার ঘটনাও ঘটেছে এ সময়ে। ৬০এর দশকের সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি চে গুয়েভারা। আর্জেন্টাইন এই বিপ্লবী কিউবার বিপ্লব শেষে আরও দেশে দেশে বিপ্লবের আকাঙ্খায় চলে যান বলিভিয়ায় এবং সেখানেই তাকে বন্দী করে হত্যা করা হয় ১৯৬৭ সালে, মাত্র ৩৯ বছর বয়সে। রোমান্টিক এই বিপ্লবী এখন শুধু বিপ্লবীদের কাছেই নন, হয়ে পড়েছেন তরুণদের তারুণ্য আর ফ্যাশনের প্রতীকে।

৬০এর দশকে প্রতিবাদপ্রতিরোধ যেমন হয়েছে তেমনি গণতন্ত্রের বিপরীত তরঙ্গ বা কাউন্টারওয়েভএর জন্যও এই দশকটি নিন্দিত হয়ে আছে। ল্যাতিন ও দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকার বহু দেশই সামরিক শাসনের কবলে পড়ে যায়, গণতন্ত্র হয় নির্বাসিত। আবার ঔপনিবেশিকতার হাত থেকেও মুক্তি পায় কোনো কোনো দেশ যেমন আলজেরিয়া মুক্ত হয় ফ্রান্সের হাত থেকে ১৯৬২ সালে, এক রক্তাক্ত যুদ্ধের মধ্যদিয়ে।

ষাটের দশকের সবচেয়ে বেশি সারা জাগানো ঘটনা ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভের কারণে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ওই যুদ্ধের বিরুদ্ধে দুনিয়া জোরা প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে আসলে আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। ওই যুদ্ধের বিরোধীতা যে শুধু সমাজতন্ত্রীরাই করেছিলেন তা নয়, বিশ্বব্যাপী ওই ঝড়ের প্রভাব পড়েছিল। উদারবাদী দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল, ফরাসী বামপন্থী দার্শনিক, লেখক, সাহিত্যিক জ্যঁ পল সার্ত্রেসহ বিশ্বখ্যাত সব ব্যক্তিরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে একজোট হয়েছিলেন। জ্যঁ পল সার্ত্রে নোবেল পুরস্কারও নিতে অস্বীকার করেছিলেন এবং নেননি। তারা গড়ে তুলেছিলেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিরোধী গণআদালত। শুধু বুদ্ধিজীবীরাই এই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন তা নয়, ছাত্রযুবক প্রগতিবাদীসহ সব শ্রেণী পেশার মানুষ যুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলেন। প্রতিবাদের ঢেউ লেগেছিল এই ঢাকা শহরেও।

৬০এর দশক যে শুধুমাত্র অন্যান্য দেশেই প্রভাব ফেলেছিল তা নয়, অবিভক্ত পাকিস্তানেও এর প্রভাব পড়েছিল। পাকিস্তানে ৬০এর দশকের উত্তুঙ্গ ছাত্র আন্দোলন, কৃষক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনাও ঘটেছিল ওই ৬০এর দশকেই। আর বামপন্থী প্রগতিশীল আন্দোলনের ব্যাপক উত্থানও হয়েছিল ওই সময়টিতে। তবে পাকিস্তানে আধিপত্যবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতার ভিত্তিটি রচিত হয়েছিল ৫০এর দশকে। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ৫০এর দশকেই ঔপনিবেশিকতাবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ বিস্তারের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি এই অঞ্চল তো বটেই, পুরো বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকজন সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ বিরোধী নেতার মধ্যেও যে অন্যতম ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিউচুয়াল ডিফেন্স এ্যাসিসটেন্স এগ্রিমেন্টএ স্বাক্ষর করে যার ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান South East Asia Treaty Organisation (SENTO)তে যোগ দেয়। ১৯৫৫ সালে গঠিত Central Treaty Organisation (CENTO)র সদস্য ছিল পাকিস্তান। মওলানা ভাসানী তখন এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এর ফলাফল হিসেবে তিনি তারই সৃষ্ট দল আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে গড়ে তোলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপ। সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিব ওই চুক্তির সমর্থক ছিলেন। এই চুক্তির ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন জারি হয় পাকিস্তানে। ৬০এর দশকে এই সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদপ্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ওই ৬০এর দশকেই এবং এক্ষেত্রেও মওলানা ভাসানীই ছিলেন প্রধান পুরুষ। ছোট্ট এই লেখায় পাকিস্তানের ৬০এর দশকের বিস্তারিত বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তবে ৬০এর দশকে বিশ্বব্যাপী যে প্রতিবাদবিক্ষোভ, প্রথা ভাঙ্গার প্রচেষ্টা এবং প্রগতিশীলতার উত্থান ও উত্তাল জোয়ার তা থেকে পাকিস্তানও দূরে ছিল না। ওই সময়টি ছিল মূলত তরুণদের প্রাণবন্যা এবং সমাজ বদলের আকাঙ্খার ছিল শ্রেষ্ঠ সময়।

কিন্তু এত সবের পরেও ৬০এর দশকের দুর্ভাগ্য হচ্ছে, খুব বেশি দিন ওই প্রতিবাদবিক্ষোভকে ধরে রাখা যায়নি। পথ হারা, দিকনির্দেশনাহীন ভাবেই বলতে গেলে ৬০এর দশক শেষ হওয়ার সামান্য পরেই স্তিমিত হয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট ওই উত্তাল জোয়ার। এ জন্য কে দায়ী সে প্রশ্নটির মীমাংসা জরুরি। কারণ এমন স্বর্ণালী সময়ের জন্য এখনো অপেক্ষা আছে, রয়েছে অসীম আকাঙ্ক্ষা।।