Home » অর্থনীতি » ক্ষতিকর বিটি বেগুন নিয়ে এতো তাড়াহুড়া কেন

ক্ষতিকর বিটি বেগুন নিয়ে এতো তাড়াহুড়া কেন

কৃষক পর্যায়ে ব্যর্থ হয়েও চাষ সম্প্রসারণ ঘোষণা

ফরিদা আখতার

last 1বাংলাদেশে বিটিবেগুন (জেনেটিকালী মডিফাইড) কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্যে গত ২২ জানুয়ারি চারা দিয়ে এবং নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করে বিফল হয়েও সরকার আরো ১০০ জন কৃষকের মাধ্যমে চাষ করাবার ঘোষণা দিয়েছে ৭ সেপ্টেম্বর। এবং যারা কৃষকের অধিকার ক্ষুন্ন হওয়া ও পরিবেশ ঝুঁকি ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বলছেন তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নিজেদের বিফলতা ঢাকবার জন্যে অন্যের কথা বলার অধিকার ক্ষুন্ন করা গণতান্ত্রিক দেশের সরকারের আচরণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

গত ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বাংলাদশে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BARI) পাঁচটি জেলার ২০ জন বিটি বেগুন চাষীদের মধ্যে ১৬জনকে ঢাকায় এনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদে (BARC) একটি সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছে বিটি বেগুনের কোন ক্ষতি নেই। স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিবেশ ঝুঁকি আছে কিনা এই বিষয় নিয়ে কোন গবেষণা হয়নি, তবুও তারা আগামি শীত মৌসুমে আরও ১০০ জন কৃষককে বীজ দেবে। এই সংবাদ সম্মেলন মূলত করা হয়েছে গত ৩১ আগস্ট বিটি বেগুন বিরোধি মোর্চার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিটি বেগুন চাষীদের ক্ষতির অভিজ্ঞতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় তার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন। একত্রিশ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক সংগঠনগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), উবিনীগ, বিসেফ ফাউন্ডেশন, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড, শিসউক, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্ট, নিজেরা করি, কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বাংলাদেশ ফ্রুট, ভেজিটেবলস এন্ড এ্যালাইড প্রোডাকস এক্সপোর্ট এ্যাসোসিয়েশন (বিএফপিএপিইএ), বাংলাদেশ অর্গানিক প্রোডাকস মেনুফ্যাকচারস এ্যাসোসিয়েশন (বিওপিএমএ) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। এতে বোঝা যাচ্ছে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে বিটি বেগুনের ক্ষতির দিক নিয়ে উদ্বেগ আছে। এটা শুধু কৃষি মন্ত্রণালয়ের একার কোন বিষয় নয়। কাজেই তারা মরীয়া হয়ে কেন এই বিটি বেগুন চাষ করবেন এই প্রশ্ন এখন জনমনে উঠছে।

বিটি বেগুন বিরোধি মোর্চার সংবাদ সম্মেলনে কৃষকরা বিটি বেগুন চাষ করে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তার বিস্তারিত কথা তুলে ধরেন। অনেক ক্ষেত্রে গাছের পাতায় পোকা লেগেছে, তাই বিষ দিতে হয়েছে, গাছ হলেও ফল আসে নি, কিছু ক্ষেত্রে ফলেও পোকা লেগেছে। বারি যে দাবী করেছে, বিটি বেগুন করার প্রধান কারণ হচ্ছে বেগুনে কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করা সে কথা মিথ্যা বলে প্রমানিত হলো। সংবাদ সম্মেলনে কৃষকরা ক্ষতিপুরণ দাবী করেন। বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BARI) এতে দারুণ ক্ষুদ্ধ হয়েছেন।

পরিবেশবাদী এবং কৃষকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বিটি বেগুনের মাঠ পর্যায়ের চাষের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরার পর বারি এতোই দিশেহারা হয়ে গেছে যে, তারা কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে (৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪) তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিজ্ঞাপনের শিরোনাম “বিটি বেগুন সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে বিএআরআই এর বক্তব্য”।

আমরা জানি, বিটি বেগুনের ছাড়পত্রের জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বারি) ২০১৩ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে (১৪ জুলাই) কৃষক পর্যায়ে চাষ করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে এবং ৩০ অক্টোবর, ২০১৩ ন্যাশনাল কমিটি অন বায়ো সেফটি সাতটি শর্ত দিয়ে ছাড় দিয়েছে। এই ছাড়পত্রে চারটি বিটি বেগুন(উত্তরা),বিটি বেগুন(কাজলা),বিটি বেগুন(নয়নতারা) এবং বিটি বেগুন(ঈশ্বরদী০০৬) নামে ছাড়া হয়েছে। স্থানীয় জাতের বেগুনগুলোর সুন্দর নাম বাদ দিয়ে সংখ্যা বসে গেছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় দেয়া বিজ্ঞাপনে নিজেরাই ভুল তথ্য দিয়েছে। যেমন বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে চারটি বিটি বেগুনের অনুমোদন দিয়েছে বায়ো সেফটি কমিটি ৩০ নভেম্বর, ২০১৩ কিন্তু আসলে সেটা হবে, ন্যাশনাল কমিটি অন বায়ো সেফটি চারটি বিটি বেগুনের ছাড় দিয়েছে। এই চারটি স্থানীয় জাতের বেগুন উত্তরা, কাজলা, নয়নতারা এবং একটি ঈশ্বরদী স্থানীয় জাত কে বিটি বেগুন ১, , ৩ এবং ৪ নামে ছাড়া হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বিটি বেগুনের “শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন” প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারী করেছে ৩০ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে।

[http://bari.gov.bd/home/latest_news]

বিটি বেগুনে বা ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস (Bacillus Thuringiensis সংক্ষেপে বিটি) ব্যাকটেরিয়া থেকে ক্রিসটাল জিন বেগুনে সংযোজন করে বেগুনের ফল ও কান্ড ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা দাবী করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে গাছটিকেই বিষাক্ত করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদশে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BARI) এই গবেষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএইডের বিশেষ কর্মসুচী ABSP II এর অধীনে। বিটিবেগুনের বীজ বারি ভারতের মাহিকো কোম্পানি থেকে এনেছে। এর পেছনে প্রযুক্তির মালিকানা রয়েছে মনসান্তোর হাতে। তারা বাংলাদেশের কৃষক এবং ভোক্তাদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করে বেগুনের ওপর তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এই কারণে তিনটি দেশ, ভারত, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশে শুরু করে দুইটি দেশে নিষেধাজ্ঞার পর বাংলাদেশের জনবিচ্ছিন্ন সরকারের একরোখা নীতির সুযোগ নিয়ে জনগণ এবং কৃষকের স্বার্থ বিরোধী একটি প্রযুক্তি চাপিয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা নিজেদের ব্যবহার ও বিক্রির জন্যে রবি ও বর্ষা মৌসুমে বেগুনের চাষ করেন। তারা নিজ নিজ অঞ্চলে স্থানীয় জাতের বেগুন উৎপাদন করেন। এসব স্থানীয় জাতের বেগুনে কীটনাশকের ব্যবহার করতে হয় না, সেখানে পোকা লাগলেও সেটা কৃষক নিজেরাই ছাই,গরুর চনা ইত্যাদী প্রাকৃতিক পোকা দমন পদ্ধতিতেই করে থাকেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বারি) নিজস্ব গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় জাতের বেগুনে পোকার আক্রমণ খুব কম হয়। যেমন ঝুমকি বেগুনেস পোকা খুবই কম লাগে, মাত্র ১ ১০% (Highly Resistant), খটখটিয়াও মোটামুটি কম লাগে, ২০% (Fairly Resistant)। কিছু বেগুন যেমন ইসলামপুরি ২১ ৩০% পোকার সম্ভাবনা আছে (Tolerant) এবং ইরি বেগুন একটু বেশী লাগে (৪১% এর বেশী)

বিটি বেগুনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে যে, ডগা ও ফল ছিদ্রকারি পোকার কারণে ৫০ থেকে ৭০% বেগুনের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রচার করছে, যে কৃষকরা এক মৌসুমে ৮০ বার কীটনাশক প্রয়োগ করে যার কারণে বেগুন বিষাক্ত হয়ে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে কীটনাশক নির্ভর হাইব্রীড জাতের বেগুনে জেনেটিক ইঞ্জিনীয়ারিং না করে দেশীয় জাতের বেগুনকে মডিফাই করে বিটিবেগুন করা হোল কেন? এর কোন উত্তর আমরা আজও পাইনি।

বেগুনে শুধু একধরনের পোকার আক্রমণ হয় না,আরো অনেক ধরণের পোকা বা রোগ বালাই হয়। যদিও ডগা ও ফল ছিদ্রকারি পোকার আক্রমনকেই সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিটি করার কারণে শুধু ডগা ও ফল ছিদ্রকারি পোকার আক্রমণ বন্ধ করা যাবে,অন্য রোগ বালাইয়ের আক্রমণ ঠিকই থাকবে। অথচ এই সব পোকার ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা আইপিএম পদ্ধতিতে রোধ করা সম্ভব এবং এতে কোন প্রকার স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকি নেই। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান কীটতত্ত্ববিদ যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড এন্ডো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠিতে জানিয়েছেন যে, আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। আইপিএম ইতিমধ্যে কৃষক পর্যায়ে ব্যবহার করে ভাল ফল পাওয়া গেছে। তাহলে সরকারের কৃষকের প্রতি দরদ থাকলে উচিত সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া, বিকৃত বেগুন প্রবর্তন করা নয়। তাছাড়া বিটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কীট প্রতিরোধক হয়ে উঠতে পারে, যা বিপজ্জনক। তাহলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তার জন্যে নিশ্চয়ই আমাদের বিজ্ঞানীরা প্রস্তুত নন। মনে রাখতে হবে, জেনেটিক ইঞ্জিনীয়ারিং ফসলের জীবন্ত প্রাণে (বীজ) করা হচ্ছে। এই সক্রিয় বীজ নিজের মতো করে আরো কি পরিবর্তন ঘটাবে তা বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি। বীজ কারো চাকুরি করে না যে নির্দেশ মতো শুধু ডগা ও ফল ছিদ্রকারি পোকা মেরেই চুপ করে বসে থাকবে। প্রকৃতিতে যে অন্যান্য রোগবালাই রয়েছে তার থেকে রেহাই পাবার কোন উপায় এই প্রযুক্তিতে নেই। বেগুনে আরও অন্তত ৭টি পোকা ও রোগ বালাই রয়েছে। বিটি প্রযুক্তি সব ধরণের রোগ থেকে রক্ষা করবে না, বরং নানা ধরণের সংক্রমণ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকির সম্ভাবনা তৈরি করবে।

বিটি বেগুন বিরোধী মোর্চার পক্ষ থেকে বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন যে কীটনাশক ব্যবহারের পরিমান কমবে বলে যে যুক্তি দেয়া হয়েছে তাও টেকে না, কারণ বাংলাদেশে ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪৪,৪২৩.৮০ মেট্রিক টন কীটনাশক সবধরণের ফসলের বালাই দমনের জন্যে ১৪,৯৪৩,০০০ হেক্টর জমিতে ব্যবহার হয়। এরমধ্যে কীটদমনের হচ্ছে ২৪,৫৮৩ টন। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মোট কীটনাশকের মধ্যে ৭০% শুধু ধান উৎপাদনেই ব্যবহার হয়, বাকী ৩০% আঁখ, আলু, আম, কলা এবং সব্জিতে ব্যবহার হয়। সমস্যা হচ্ছে, শুধু সব্জিতে কি কি ধরণের কীটনাশক ব্যবহার হয় তার আলাদা করে পরিসংখ্যান দেয়া নেই। এর একটি প্রধান কারণ হচ্ছে প্রাইভেট হাইব্রীড বীজ বিক্রেতারাই সরাসরি কৃষকের কাছে বিষ বিক্রি করে এবং যখন যা লাগে তাই দিয়ে দেয়। একইভাবে শুধু বেগুনে কত কীটনাশক ব্যবহার হয় তারও কোন সরকারি হিসাব রাখা হয়নি। বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ড. রেজাউল করিম নিজে একটি হিসাব কষে দেখিয়েছেন সারা দেশে বেগুন উৎপাদিত হয় ৫০,০০০ হেক্টর জমিতে। সরকারি হিসাব মতে যদি ১৪,৯৪৩,০০০ হেক্টর জমিতে সকল ফসলের জন্যে ২৪,৫৮৩ টন হয়, তাহলে ৫০,০০০ হেক্টর জমিতে ৮২.৩ টন বেগুন চাষে ব্যবহার হচ্ছে বলে ধওে নেয়া যায়। তাহলে এই বিটি বেগুনের কাহিনী শুধু মাত্র ৮২ টন কীটনাশক ব্যবহার কমানোর কাজে লাগবে এর বেশী কিছু নয়। তাহলে পোকার জুজু ভয় দেখিয়ে এবং কীটনাশক ব্যবহার কমাবার ক্রেডিট নিয়ে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশী বাজানো হচ্ছে এবং জনগণকে ধোকা দেয়া হচ্ছে।

বহুজাতিক কম্পানিগুলো একটি মাত্র পোকা থেকে রক্ষার জন্যে পুরা গাছেরই প্রাণগাঠনিক সংকেতে বিকৃতি ঘটিয়ে দিতে সেখানে মাটিতে পাওয়া যায় এমন একটি অণুজীবের জিন ঢুকিয়ে দিয়েছে, ফলে পুরা গাছটির জৈবগঠন এই পোকাটির জন্য বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, গাছটি নিজেই এখন বিষাক্ত কীটনাশক; পোকাটি তার পাতা বা ডগা খেতে এলে মরণ অবশ্যম্ভাবী। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় সরেজমিন তদন্ত করে দেখা গেছে, এই দাবি এখন প্রমাণ করা কঠিন, অথচ ইতিমধ্যে একটি বিষাক্ত গাছ পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থায় প্রবর্তন করা হয়েছে যার স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকি মারাত্মক। বিকৃত গাছপালা প্রবর্তনের ঝুঁকি যে বিশাল ও মারাত্মক হতে পাওে সেটা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী ও নীতি নির্ধারক মহলে সুপ্রতিষ্ঠিত। এই ক্ষেত্রে সাবধানী হবার যে ন্যূনতম নীতি, আন্তর্জাতিক রীতি ও বিধিবিধান আছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা মানা হয় নি।

২২ জানুয়ারি, ২০১৪ সালের কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরি গাজীপুর, জামালপুর, পাবনা ও রংপুর এলাকার ২০ জন বাছাই করা কৃষকের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে বিটি বেগুনের চারা বিতরণ করেছেন। যদিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট শর্ত ছিল, এবং শর্ত ৩ অনুযায়ী যে সকল স্থানে সীমিত চাষাবাদ করা হবে তার বায়োসেফটি মেজার্স মনিটরিং এ সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তা, বিএআরআই গবেষণা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা সমন্বয়ে ফিল্ড বায়োসেফটি কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা বিএআরআই কর্তৃক এনসিবি বরাবরে প্রেরণ করতে হবে এই ধরণের কোন কমিটি গঠিত হয়েছে কিনা জানা যায়নি। শুধু কৃষি কর্মকর্তা সেখানে সব কিছু দেখভাল করেছেন। বিটি বেগুনের চাষের বিষয়টি কৃষি সম্প্রসরণ বিভাগের এবং বিভাগীয় কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা বলতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপ নির্দেশ দিয়ে করিয়েছেন। কৃষককে মিথ্যে আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে ক্ষতি হলে পুষিয়ে দেয়া হবে। কৃষক বিটি বেগুন যে একটি বিশেষ প্রযুক্তির বেগুন সে সম্পর্কে জানেন না। তারা শুধু জানেন এটা সরকারী বেগুন, খাজার বেগুন, ডিজির বেগুন বা কৃষি মন্ত্রির প্রোগ্রাম। কৃষকের কাজ শুধু তার জমিতে এই বেগুন করতে দেয়া এবং বেগুন হচ্ছে কিনা দেখা।

শর্ত ৪ অনুযায়ী সীমিত চাষাবাদের জন্য নির্ধারিত এলাকার কৃষকগণকে বিটি বেগুনের পরিবেশ সম্মত চাষাবাদ এবং বায়োসেফটি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। বায়োসেফটি এবং বিটি বেগুনের চাষাবাদ বিষয়ক নিয়মকানুন সম্বলিত একটি নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট কৃষকগণকে সরবরাহ করতে হবে কৃষকরা কোন প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করেননি, তবে ঈশ্বরদীর এক কৃষকের কাছে বেগুনি পুস্তিকাটি পাওয়া গেছে।

শর্ত ৫ অনুযায়ী বিটি বেগুন চাষাবাদের কারণে পরিবেশ এবং জনস্থাস্থ্যের উপর কোন ঝুঁকি তৈরী হলে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ জরুরী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে করে এ ধরনের হুমকির বিস্তার প্রতিরোধ করাসহ এর বিরূপ প্রভাব উপশম করা যায়।মাঠ পর্যায়ে অবমুক্তির কারণে উদ্ভূত পরিবেশগত যে কোনো বিরূপ প্রভাব বা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আবেদনকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে বায়োসেফটি রুলস এর আওতায় দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে এই ধরণের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। অনুমোদন নেয়ার আগে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আছে কিনা এমন গবেষণার প্রতিবেদনও দেয়া হয়নি। প্রাণী গবেষণার একটি মাত্র প্রতিবেদন যা ভারতে ২০০৫ সালে করা হয়েছিল, সেটার একটি সংকলিত প্রতিবেদন জুন ২০১৩ লিখে স্পাইরাল বাইন্ড করে রাখা হয়েছে।এই গবেষণার পৃষ্টপোষকটা করেছে মাহিকো কোম্পানি, যারা এই বিটি বেগুনের প্রবক্তা। মাত্র ১০টি পুরুষ ও ১০টি নারী ইঁদুর নিয়ে ১৪ দিনের ডোজ দিয়ে গবেষণা করে তাদের মেরে পরীক্ষা করা হয়। এই গবেষণায় তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কোন অস্বাভাবিক চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য ২০০৫ সালে বাংলাদেশে গবেষণা শুরু হয়নি, তখন প্রাথমিক কাজ হচ্ছিল। কাজেই এখানে বিটি বেগুন ছিল না। ভারতেও গবেষণা কেবল শুরু হয়েছে। মাহিকো নিজের পরীক্ষাগারে গবেষণা করে স্বাস্থ্য গবেষণা হয়েছে বলে চালিয়ে দিচ্ছে।

অথচ নিউজিল্যান্ডের epidemiologist Dr. Lou Gallagher দেখিয়েছেন বিটি বেগুন খেলে মানুষ অসুস্থ্য হয়ে যেতে পারে। যদি নিয়মিত খাওয়া হয় তাহলে লিভার নষ্ট হবে, প্রজনন ক্ষমতার ক্ষতি হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত ইন্ডিয়া টু’ডে প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে, যেসব ইঁদুরকে বিটি বেগুন খাওয়ানো হয়েছে তাদের শরীরের অংগ নষ্ট হয়েছে, নারী ইদুরের ওভারী স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে অর্ধেক, স্প্লীন বড়, রক্তের শ্বেতকণা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০৪০% বেশী, ফলে ইমিউন সিস্টেমের পরিবর্তন দেখা গেছে।

শর্ত ৬ অনুযায়ী বায়োসেফটি রুলস এর আওতায় বিটি বেগুন যাতে লেবেলিং বজায় রেখে বাজারজাত করা হয়, সে লক্ষ্য আবেদকারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; রংপুরে বিটি বেগুন বাজারে বিক্রি করতে দেখা গেছে। সেখানে ক্রেতাদের কৃষক মুখে বলেছেন ‘সরকারী বেগুন’। লেবেলিং করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বারি মহাপরিচালক রফিকুল ইসলাম মন্ডল বলেছেন, “It is totally impossible to label the brinjals before going to market here in Bangladesh. We wrote this observation to the government that it would be difficult to distinguish the varieties with labels in markets.” New Age (মার্চ ১৪, ২০১৪) অর্থাৎ তিনি ঘোষণা দিয়েই শর্ত লংঘন করছেন।

বিটি বেগুনের চাষের এলাকায় সরাসরি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধকারী বিটি বেগুনে শতভাগ পোকা মুক্ত থাকার কথা, কিন্তু সেখানে পাতায় শুধু নয়,ফলেও পোকা দেখা গেছে। বেশ কিছু গাছে ফুল পচে গেছে, ফলে পোকা লেগে বিদঘুটে লাগছে। এবং এই ধরণের পোকা ও কীট দমনের জন্য পাতায় লাগা পোকার জন্যে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এবং কৃষক নিজের উদ্যোগে ম্যালথিয়ন, ছত্রাকনাশক কুমপ্লেক্স, মাকড়নাশক ওমাইট ব্যাবহার করেছেন।

ফলনের দিক থেকেও কৃষকরা হতাশ হয়েছেন। বিটি বেগুনে এক বিঘায় ৩ মণ, ১৩ মণ এমন কি মাত্র ৭ কেজি বেগুন তুলতে পেরেছেন, অন্যদিকে আশেপাশের কৃষকরা স্থানীয় জাতের বেগুন চাষ করে সপ্তাহে তুলেছেন কয়েক মণ।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী জিএম ফসল বাজারজাত করতে হলে লেবেল দিয়ে ক্রেতাদের জানাতে হয়, যে এটা জেনেটিকালী মডিফাইড। সেটা করতে দেখা যায়নি। বাজারে বিটি বেগুন বিক্রির অভিজ্ঞতাও ভাল নয়। রংপুরের কৃষক লিখন পাঁচ বস্তা (প্রতিটিতে ৪৫ কেজি) বাজারে নিয়ে যান। প্রথম বস্তা খোলার পর বেগুন চকচকে দেখা যাচ্ছিল, সে সময় বস্তা বিক্রি হয় ৫০০ টাকায়। কিন্তু দুই ঘন্টার মধ্যেই বাকী বস্তার বেগুন ‘চিমাইয়া’ (চুপসে) যায়। তখন ক্রেতা আর কিনতে চান না। তাই তিনি বাধ্য হয়ে একজনের কাছে ৩০০ টাকা বস্তা বিক্রি করে দেন। কৃষক আফজাল বিটী বেগুন উত্তরা ৪৮০ টাকা মণ বিক্রি করেছেন। অথচ পাশেই স্থানীয় জাতের খটখটিয়া বিক্রি হয় ৬০০ টাকায় মণ। বিটি বেগুন হাতে নিলেই কেমন চুপসে যায়, তাই ক্রেতা পছন্দ করেন না। এইভাবে বিক্রির মাধ্যমে ক্রেতার কোন রকম শারীরিক সমস্যা হলেও জানার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি অজানা থেকে যাচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে চাষ যেভাবে করা হচ্ছে তাতে জিএম ফসলের পরিবেশগত দুষণ রোধের কোন ব্যবস্থা নেই,এমন কি এই বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের প্রতি কোন নির্দেষণা দেয়া হয়েছে কিনা জানা যায়নি।

বেগুনের স্বত্বঃ ২০০৫ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি),মার্কিন বহুজাতিক বীজ কোম্পানি মনস্যান্টোর পক্ষে ভারতীয় কোম্পানি মহারাষ্ট্র হাইব্রিড সিড কোম্পানি লিমিটেড (মাহিকো) ও ভারতীয় কোম্পানি সাতগুরু ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সাবলাইসেন্স চুক্তি অনুসারে জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে উৎপাদিত বিটি বেগুনের মেধাস্বত্ব মনস্যান্টো ও মাহিকো কোম্পানির হাতে চলে গেছে।

বারি ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে, বীজের মালিকানা বাংলাদেশের থাকছে। কিন্তু চুক্তিটির আর্টিকেল ১.১৯ ধারায় বলা হয়েছে, বিটি বেগুন বীজের মেধাস্বত্ব মনস্যান্টোমাহিকো কোম্পানির। আর্টিকেল ১.৬ ধারায় বলা হয়েছে, বিটি বেগুনের বীজ কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নিতে হবে। এই চুক্তির আর্টিকেল ৯.() অনুসারে বিটি বেগুন বীজের বাণিজ্যিক ও মেধাস্বত্ব অধিকার মনস্যান্টোমাহিকো কোম্পানির। বিটি বেগুন বীজের এবং প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ও মেধাস্বত্ব অধিকারের সংরক্ষণ লঙ্ঘিত হলে কোম্পানি এই চুক্তি বাতিলের অধিকার রাখে।

চুক্তির ১.১৯ ও ১.৬ ধারা অনুসারে, বাংলাদেশের নিজস্ব জাতের ৯টি বেগুন যেগুলোতে বিটি জিন সংযুক্ত করা হয়েছে সেগুলোর মালিকানা বহুজাতিক কোম্পানির হাতে চলে যাবে। আর্টিকেল ৯.()-এ বলা হয়েছে, বিটি বেগুন বীজের ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিক এবং মেধাস্বত্ব অধিকারের সংরক্ষণ লঙ্ঘিত হলে কোম্পানি এই চুক্তি বাতিলের অধিকার রাখে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিটি জিন প্রয়োগ করা ৯টি জাত হল : উত্তরা, কাজলা, নয়নতারা, সিংনাথ, চেগা, ইসলামপুরী, দোহাজারী ও আইএসডি ০০৬।

এতো ব্যর্থতা সত্ত্বেও বহুজাতিক বায়োটেক কোম্পানিগুলোর প্রতিষ্ঠান International Service for the Acquisition of Agri-biotech Applications (ISAAA) ISAAA Briefs http://www.isaaa.org/resources/publications/briefs/47/default.asp ব্যর্থতার কথা গোপন করে প্রচার করছে যে, প্রথম অবস্থায় চারটি জাত ২.৬ হেক্টর জমিতে করা হয়েছে এবং আগামি মৌসুমে আরো পাঁচটি বেগুনের জাত যেমন দোহাজারী, শিংনাথ, চাগা, ইসলামপুরি এবং খটখটিয়া,(যা ইতিমধ্যে তারা পেটেন্ট স্বত্ত্ব নিয়ে ফেলেছে) বিভিন্ন এলাকায় চাষ করা হবে। এবং এটাও জানানো হয়েছে যে, আগামি পাঁচ বছরে ২০টি জেলায় ২০,০০০ হেক্টর জমিতে বাংলাদেশ সরকারের বিটি বেগুন চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে বহুজাতিক কোম্পানি মনসান্তোমাহিকো তাদের নয়টি স্বত্তাধিকার নেয়া বেগুনের চাষ নিশ্চিত করে বেগুনের ওপর তাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার পরিকল্পনা করছে। দুঃখজনক হচ্ছে যে এর সাথে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করছে এবং এদেশের কৃষক এবং ভোক্তাদের বহুজাতিক কোম্পানির হাতে জিম্মি করে ফেলছে।

বায়োটেক কোম্পানির প্রতিষ্ঠান ওঝঅঅঅ বিটি বেগুন চাষের অর্থনৈতিক লাভের মিথ্যা দাবী করছে। যেখানে কৃষকরা সরকারের কাছ থেকে ৮,০০০ টাকা পেয়েও নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে বিটি বেগুন বিক্রি করে টাকা তুলতে পারেননি সেখানে তারা কাল্পনিক হিসাব করে দেখাচ্ছে যে হেক্টর প্রতি ১৮৬৮ ডলার বা প্রায় ১৪৭,০০০ টাকা আয় করবে। এর চেয়ে ভাওতাবাজী তথ্য আর কিছু হতে পারে না।

লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, বিটি বেগুন নিয়ে আগামি পরিকল্পনা বারি বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আসছে না, আসছে বহুজাতিক কোম্পানির পক্ষ থেকে। এর থেকে পরিস্কার বোঝা যায় এই বিটি বেগুনের নয়টি জাতের চাষের সাথে বাংলাদেশের অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে। অথচ সরকার সে বিষয়টি অনুধাবন না করে তাদের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। কৃষকের শত শত বছরের সংরক্ষিত বীজ এভাবে বহুজাতিক কোম্পানিকে দেয়ার অধিকার কোন সরকারের থাকতে পারে না।

বারির দেয়া বিজ্ঞাপনে ( স্মারক নং বারি/পিআর//২৪৯২ তারিখ ০২০৯২০১৪) যেমন ভুল তথ্য আছে তেমনি আছে মিথ্যা দাবী। সেগুলো নিয়ে আলাদাভাবে লিখব।

তবে ১০০ জন কৃষককে আরো বিপদে ফেলা এবং দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিবেশের ঝুঁকির বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে যেন আগামি মৌসুমে বিটি বেগুন চাষের জন্যে দেয়া না হয়, সেই দিকে সরকারের অবশ্যই নজর দিতে হবে। জনগণ এখন জেনেটিকালি মডিফাইড ফসলের ক্ষতির দিক বুঝতে পারছে। ফলে মিথ্যা দিয়ে বেশি দিন ঠেকানো যাবে না।।