Home » অর্থনীতি » শেয়ার বাজার লুন্ঠনের মূল হোতারা ধরা-ছোয়ার বাইরে কেন?

শেয়ার বাজার লুন্ঠনের মূল হোতারা ধরা-ছোয়ার বাইরে কেন?

এম. জাকির হোসেন খান

dis 5বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্ণর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্য বিশিষ্ট শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি বিষয়ক তদন্ত কমিটি ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিতের কাছে এ সংক্রান্ত ৩২০ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন। এ সময় সাংবাদিকদের কাছে শেয়ার বাজারের ধ্বস সম্পর্কে খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ মন্তব্য করেন ‘শেয়ার মার্কেটে জড়িত সব প্রতিষ্ঠানই এ পতনের জন্য দায়ী’। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ‘কিছু অসৎ ব্যবসায়ী শেয়ার মার্কেট নিয়ন্ত্রণকারীদের সাথে গভীর যোগসাজশে খুচরা বিনিযয়োগকারীদের কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়’। পরবর্তীতে একই দিনে অর্থমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন সম্মেলনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে স্টক মার্কেট পতনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি দেন। একই সংবাদ সম্মেলনে পুনঃ তদন্ত না করে প্রকৃত দোষীদের নাম প্রকাশ না করা বা কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা অর্থমন্ত্রী বললেও এখন পর্যন্ত কোন পুনঃতদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তথাপি পরবর্তীতে হাইকোর্ট পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে ১৯ এপ্রিল রায় দেয়। পরবর্তীতে তা জনগণের সামনে খন্ডিত আকারে প্রকাশ পায়। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সময় একইভাবে শেয়ার বাজারে দস্যুতার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও তার কোনো বিচার হয় নি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিত গতিতে বাড়াতে থাকে এবং ২০০৯ এর মাঝামাঝি সময়ে ঐ বছরের সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ে। ২০১০ সাল জুড়েই মার্কেট অস্থিতিশীল ছিল, ১৩ ডিসেম্বরে শেয়ার বাজারের সূচক ২৮৫ পয়েন্ট কমে ৮, ৫০০ তে দাড়ায়। আবার ১৯ ডিসেম্বরে ১৯৯৬ সালের পর সবচেয়ে বেশি ধ্বস নামে এবং একদিনেই আরো ৫৫১ পয়েন্ট কমে শেয়ার বাজারের ৫৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর পতনের ঘটনা ঘটে। বাজার বিশেষজ্ঞরা এ কেলেঙ্কারিকে কৃত্রিম বাজারের স্বাভাবিক পরিণতি বললেও শেয়ার বাজারের লুণ্ঠনের হোতারা যখন কৃত্রিমভাবে বাজারকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে সাধারণ মানুষের সামনে লোভনীয় করে তুলেছিল তখন অর্থমন্ত্রী সহ সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা একে চাঙ্গা অর্থনীতির সাথে তুলনা করেছিলেন। ইব্রাহীম খালেদের মতে, ‘খুচরা বিনিয়োাগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য তারা উচ্চ দামে শেয়ার কিনে। এক বা দুই ব্যক্তি নয় অনেক গ্রুপ এটা করে। তারা বাজারে উদ্বায়ী বা কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে ফাপিয়ে তোলার জন্য দায়ী’।

ইব্রাহীম খালেদ কমিটি ১৯৯৬ এর শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারীর, যা শুধুমাত্র সেকেন্ডারি (মধ্যবর্তী) বাজারে সীমাবদ্ধ ছিল, তুলনায় প্রাথমিক এবং সেকেন্ডারি উভয় বাজারে ব্যাপক ম্যানিপুলেশন বা কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি চিহ্নিত করে। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ার বাজার কেলেংকারির মূল হোতা হিসাবে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী সহ প্রায় ১০০ জন ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ যায়, যারা ব্যক্তিগত শেয়ার ভূয়া ব্যাংক হিসাবে বা বেনামে স্থানান্তরের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সময় স্বল্পতার জন্য কমিটি ভূয়া হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে সক্ষম না হওয়ায় তাদের খুঁজে বের করার জন্য একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বাস্তবতা হলো, আজো তা গঠিত হয়নি। উদীয়মান অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ সংগ্রহে যে শেয়ার বাজার হতে পারতো চালিকা শক্তি তা এখন মৃত প্রায়। ৩০ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর লাখো কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে শেয়ার বাজার এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে, অথচ এর খলনায়করা বহাল তবিয়তে। শেয়ার বাজার সংস্কারের নামে কিছু ব্যক্তি বা তথাকথিত পদ্ধতির কিছু পরিবর্তন আনা হলেও তাও লোক দেখানো। এ তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াও বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যেসব ক্ষমতাধরদের দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও উল্টো কেউ কেউ সরকারেরর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছে।

২০১১ সালের ৭ এপ্রিল সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে ইব্রাহিম খালেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শেয়ারবাজারে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জড়িত থাকলেও তাঁরা মূলত ব্যবসায়ী। বাজারকেন্দ্রিক বড় অঙ্ক হাতিয়ে নিতেই তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কারসাজি করেছেন’। তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন মতে, শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল কারিগর হলেন ছিয়ানব্বই সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, তাছাড়াও অন্যান্যরা হলের এসইসির সাবেক সদস্য সাহাবুব আলম, সরকারি দলের বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও সাবেক সাংসদ এইচ বি এম ইকবাল, ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালু, ইয়াকুব আলী খোন্দকার, গোলাম মোস্তফা, রকিবুর রহমানের নিকটাত্মীয় আরিফুর রহমানসহ বেশ কয়েকটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি। শুধু তাই নয়, প্রতিবেদনে বাজার ধ্বশের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসকেও চিহ্নিত করা হয় (এমটিবি সিকিউরিটি, ব্র্যাক ইপিএল, আইডিএলসি, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, এলায়েন্স সিকিউরিটিজ, এরিজ সিকিউরিটিজ, ফরিদা রকিব সিকিউরিটিজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, আল মুন্তাহা ট্রেডিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ)

তদন্ত কমিটি একাধিক সুপারিশের পাশাপাশি ব্যাপক বাজার ম্যানিপুলেশনের প্রমাণ হিসেবে ১৫ টি কেস স্টাডি প্রমাণ হিসাবে প্রতিবেদনে উপস্থাপন করেন। একাধিক কেস স্টাডির একটি অংশে বলা হয়, ‘বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের অস্বচ্ছ কেসটির তদবিরে সালমান এফ রহমান নিজেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ধরনা দিয়েছেন। জিএমজি ও ইউনিক হোটেল প্রভৃতি কেসেও তিনি সম্পৃক্ত এবং কেসগুলো অস্বচ্ছ’। আরেকটি কেস স্টাডিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আ হ ম মোস্তফা কামালের মালিকানাধীন সিএমসি কামাল টেক্সটাইল ২০০৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৪০ লাখ টাকা লোকসান দেয় অথচ ২০০৯ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়ার সুপারিশ করে। ২০১০ সালের প্রথম থেকেই কোম্পানির শেয়ারের বাজার মূল্য অভিহিত মূল্যকে অতিক্রম করে সে বছরের অক্টোবরে ১৬০০ টাকায় পৌঁছে যায়। কোম্পানির পরিচালক অতিমূল্যায়িত শেয়ার বেচাকেনা করে প্রচুর মুনাফা করার প্রমাণ তদন্ত কমিটি পায়।

তদন্ত প্রতিবেন মতে, ‘আমরা উল্লেখ করেছি যে, কিছু সরকারি কর্মকর্তা কমিশনকে প্রভাবিত করেছে এবং এসইসিকে অবহিত না করেই কিছু অপরাধী অন্য শেয়ার হোল্ডারদের কাছে মৌখিকভাবে শেয়ার ক্রয়বিক্রয়ে লিপ্ত ছিল’। ইব্রাহীম খালেদের মতে, ‘এসইসি, আইসিবি, বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হস্তান্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে শেয়ার প্লেসমেন্টের সাথে জড়িত ছিল’। তিনি বাজার ম্যানিপুলেশনের উদাহরণ দিতে যেয়ে উল্লেখ করেন যে, একই ১৯ জন ব্যক্তি দু’টি ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে ১৯ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করে’। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইসিবি’র ডিজিএম কফিলউদ্দিনকে কমিটিকে জানিয়েছেন, ‘ আইসিবির প্রায় সব কর্মকর্তাকর্মচারীই শেয়ার লেনদেন করেন। সার্ভিস রুলে কর্মকর্তাদেও শেয়ার ব্যবসার অনুমতি আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি তা জানেন না এবং সার্ভিস রুল পড়েননি। স্ত্রী ও শ্যালকের নামে ব্যবসা করাও বৈধ মনে করেন কফিলউদ্দিন’। কমিটি বলছে, ‘ একজন ডিজিএম (আইসিবি) কী করে দুই মাসে এত বড় অঙ্কের টাকা জমা করেন, তা পরীক্ষা করা যেতে পারে। আর যেহেতু তিনি তখন এইচবিএফসির মহাব্যবস্থাপক, তাই অর্থ মন্ত্রণালয় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রজু করার এবং দুর্নীতি দমন বিভাগে প্রেরণের সুপারিশ করে’। কিন্তু বাস্তবে যে কিছুই হয়নি তাতো সবাই জানে।

তদন্ত প্রতিবেদন মতে, ‘ক্ষমতার সাথে ঘনিষ্ঠ সংযোগ আছে এমন কিছু ব্যবসায়ী অনৈতিকভাবে এ সুুবিধাকে ব্যবহার করে। তাদেও কেউ কেউ আওয়ামী লীগ বা বিএনপি সমর্থন করে, কিন্তু অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে রাজনীতি তাদের কাছে মূখ্য নয়’। বাজার ম্যানিপুলেশনের এ দস্যুতায় এসইসি এবং আইসিবি উচ্চ কর্মকর্তাদের একটি সংখ্যা পরিবারের সদস্য বা আত্মীয় নামে শেয়ার ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। আইপিও ইস্যুর আগে প্রিমিয়াম, বুক বিল্ডিং, প্লেসমেন্টের অপপ্রয়োগে বিশাল মূল্যস্ফীতির (শেয়ার মূল্য বৃদ্ধি) চাপ সৃষ্টি হয়; আর সে চাপেই সেকেন্ডারি বাজারে বা উন্মুক্ত পুঁজিবাজারে অতি মাত্রায় অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে। সুপারিশে বলা হয়, ‘১৯৯৬ সালের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ইমতিয়াজ হোসেন, খোরশেদ আলম, সালমান এফ রহমান, এনায়েতুর রহিম, রকিবুর রহমান, শাকিল রিজভি প্রমুখ।’ ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘এসইসি যদি বিধিবিধানের আওতায় এই কারসাজি ঠেকাতে পারত, তাহলে এভাবে শেয়ারবাজারে বিপর্যয় হতো না’। এভাবেই রাজনীতি এখন দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের অবাধে কালো অর্থ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে এবং ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির কাজে ব্যবহার করা হয়।

শেয়ার বাজার পতনের আগে কি পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কমিটি তার মোট পরিমাণ নিরূপণ করতে পারেনি। শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে কিছু শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, যার পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকা সরাসরি তালিকার মাধ্যমে ব্যক্তিগত পকেট থেকে চলে গেছে বলে জানায়।

তবে, তদন্ত প্রতিবেদনে কিছুটা আঁচ করা যায়। কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বৃদ্ধির উদাহরণ দিতে যেয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, লিবরা ইনফিউশন, ওরিয়ন ইনফিউশন, শাইনপুকুর সিরামিকের শেয়ারের দাম যথাক্রমে প্রায় ৩, ৪৭২%, ৪১৩% এবং ১২০% শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা প্রতি শেয়ারের বিপরীতে বার্ষিক লাভের হিসাবে শুধু অস্বাভাবিকই নয়, চরম জালিয়াতির উদাহরণও বটে। এটা করতে অভিনব কৌশল, নতুন উদ্ভাবনী ও লোভের ফাঁদ তৈরি করা হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির সঙ্গে যোগসাজশে ডিএসই ও সিএসই সারা দেশে বাজারের বিস্তৃতি ঘটাতে রোড শো ও গণমাধ্যমে আহ্বান জানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ারের বাজারকে লোভনীয় করা হয়। আইপিওর আগে প্রাকআইপিও প্লেসমেন্ট বিক্রি, প্লেসমেন্টের কার্ব বাজার, প্রেফারেন্স শেয়ার, সরাসরি তালিকাভুক্তি, রিপিট আইপিও, কোম্পানির সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন, ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর, বুক বিল্ডিং ইত্যাদি অভিনব পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারের প্রাথমিক বাজারকে অতি মূল্যায়িত করে এক দফা অর্থ তুলে নিয়ে শেয়ার বাজারে লুণ্ঠন চালানো হয়।

সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং আর্থিক ঝুঁকি বহনের ক্ষমতা নিশ্চয়ই বিবেচনা না করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ক্ষুদ্র, অপরিপক্ব, অজ্ঞ বিনিয়োগকারীকে বিশেষকরে গ্রামের নিম্ন শিক্ষিত ব্যক্তিদের সরকারি প্ররোচনা ও উৎসাহে বিও হিসাব খুলে কৃত্রিম উল্লম্ফনের বাজারে টেনে আনা সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। স্টক মার্কেটে সংশ্লিষ্ট সবাই তখন একবাক্যে বলেছিল, বাজারে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা কম। অথচ তদন্ত কমিটির কাছে প্রকাশ পায় যে, এসব ব্যক্তি তাঁদের সাধ্যের অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করলেও ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এসইসি লক্ষণীয় কোন ভূমিকা পালন করেনি। একই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন দু’টি সরকারের সময়ে একই শেয়ার বাজার থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এভাবেই লক্ষ লক্ষ সাধারণ নাগরিকের রক্ত পানি করা সঞ্চয়ের অর্থ যারা আত্মসাৎ করলো, তাদের আদৌ বিচার যে হবেনা তা তদন্ত প্রতিবেদন পরবর্তী সরকারের অবস্থানেই স্পষ্ট হয়। এমনকি কেলেঙ্কারির পরও একাধিক বিতর্কিত ব্যবসায়ীকে আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়। শুধু তাই নয়, বরং ক্ষমতাধরদের অনেকেই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে ওঠেন। শুধু তাই নয় ইব্রাহিম খালেদের রিপোর্টে যাতে তাদের নাম না আসে সেই তৎপরতাও ছিল। তবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, কোনো অন্যায়ই বিচারের বাইরে থাকে না। ক্ষমতার দম্ভে সাময়িকভাবে পার পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু স্থায়ীভাবে তা সম্ভব হবেনা। তাই আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের সাথে একাত্ম হয়ে বলতে চাই, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এই দুষ্টচক্র ভেদ করে পুঁজিবাজারে সুস্থতা আনা সম্ভব হবে না’।।