Home » আন্তর্জাতিক » তিন হাজার ইউরোপীয় আইএস যোদ্ধা ॥ আরও দলে টানার চেষ্টা

তিন হাজার ইউরোপীয় আইএস যোদ্ধা ॥ আরও দলে টানার চেষ্টা

ব্রুকস টিগনার

অনুবাদ: আসিফ হাসান

last 1গত কয়েক মাসে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী কিংবা সিরিয়ায় যুদ্ধরত ইউরোপিয়ান পাসপোর্টধারী জিহাদিদের সংখ্যা ৫০ ভাগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সন্ত্রাস প্রতিরোধ সমন্বয়কারী গিলেস ডি কারচোভ।

ডি কারচোভ ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবকমিটির সভায় বলেন, “সিরিয়ায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ বা আইএসের শক্তি বাড়ানোর জন্য ইউরোপ ত্যাগকারী বিদেশি সৈন্যের সংখ্যা সম্প্রতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, আমরা এটা জানি।তিনি আরো বলেন, “সেখানে যাওয়া সহজ ও সস্তা। আমাদের ধারণা, সিরিয়ায় প্রায় তিন হাজার ইউরোপিয়ান রয়েছে। তারা সেখানে সামরিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছে, তাদের মগজও ধোলাই করা হচ্ছে। এর ফলে [জঙ্গিবাদের] বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক বাড়ছে, যার রেশ ধরে অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা কেবল ইউরোপের প্রতি হুমকি নয়, উত্তর আফ্রিকার প্রতিও”, তিনি বলেন।

ডি কারচোভ বলেন, ২০১৪ সালের শুরুতে সিরিয়া ও ইরাকে দুই হাজার ইইউপাসপোর্টধারী ছিল। তিনি আইএসের অর্থায়ন পদ্ধতি ও সম্পদকে নজিরবিহীনহিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরাকসিরিয়ার (তেল ও পানি সম্পদসহ) এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণকারী এই চরমপন্থীরা বেসরকারি দাতাদের সমর্থনও পাচ্ছে। তারা পাচার, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িত।

ডি কারচোভ বলেন, আইএস ও আলকায়েদার মধ্যে বিপজ্জনক প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও রয়েছে। সিরিয়ায় আলকায়েদার দুটি গ্রুপ রয়েছে : জাবহাত আলনুসরা ও স্বল্প পরিচিত খোরাসান গ্রুপ। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, শেষোক্ত গ্রুপটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের ষড়যন্ত্র করছে। “আলকায়েদা [আইএসও] তার অবস্থান প্রকাশ করতে আক্রমণ চালাতে পারে”, জানিয়েছেন কারচোভ। তিনি আরো বলেন, “আইএসের সহিংসতার একটি ইতিবাচক ফলাফল হলো, যারাই তাদের বিরোধিতা করেছে তাদেরই তারা তাদেরই শত্রু বানিয়েছে।

ইউরোপিয়ান পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক আরব উপদ্বীপ, ইরাক ও ইরান বিভাগের প্রধান জন ওরওর্ক বলেন, “ইউরোপের লক্ষ্য হলো যোদ্ধাদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা আরোপের পাশাপাশি তাদের অস্ত্র, অর্থ ও চোরাচালানি কার্যক্রম রোধ করা। বিশ্ব অর্থনীতিতে তারা প্রত্যাখ্যাত হবে।

রওর্ক এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরে চোরাচালনের ঐতিহ্য রয়েছে, এমন অত্যন্ত ছিদ্রযুক্ত সীমান্তগুলোর কথা বলছি। এসব স্থানে অবরোধ আরোপ করা খুবই কঠিন। তাই এসব চোরাই চলাচল রোধে আমাদের হাতিয়ারগুলোকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “পাশ্চাত্যকে অবশ্যই এই ধারণা এড়িয়ে যেতে হবেযে সে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমাদের অবশ্যই স্পষ্টভাবে জানা থাকতে হবে, কাদের কাছে অস্ত্র আছে, আর কারা তা প্রত্যাখ্যান করছে।”তিনি আরো বলেন, “ইরাকের নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার অবশ্যই হতে হবে তার মিলিশিয়াদের সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা।

(জেনস ডিফেন্স উইকলি থেকে)