Home » অর্থনীতি » অবৈধ বিদেশী পাকড়াও অভিযান সফল হবে কি?

অবৈধ বিদেশী পাকড়াও অভিযান সফল হবে কি?

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

dis 4সম্প্রতি রাজধানী থেকে ৩১ অবৈধ বিদেশী নাগরিককে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। বাংলাদেশে ঠিক কি পরিমাণ বিদেশী বৈধ ও অবৈধ হিসেবে রয়েছে, তার কোনো সঠিক তথ্যউপাত্ত সরকারবেসরকারি খাত কারো কাছে নেই। রাজধানীতেই কয়েক হাজার অবৈধ বিদেশী এদেশে অবস্থান করে বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এছাড়া কিছুসংখ্যক বিদেশী বৈধভাবে এখানে কাজ করছে। আর অধিকাংশ সংখ্যক অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশী বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি করছে। এতে সংকুচিত হচ্ছে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান। বর্তমানে এদেশে প্রায় ১৯ হাজার বিদেশী নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছে। বাংলাদেশ বিদেশী অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ১৬টি দেশের ৫শ নাগরিক তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু বিদেশী এসব অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। একদিকে যেমন তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে নেই, তেমনি তাদের ওপর যথাযথ নজরদারিও করা হচ্ছে না। এমন সুযোগে তারা নানামুখী অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে। মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ২/৪ জন ধরা পড়লেও বিদেশী অপরাধীদের সিন্ডিকেট এদেশে তাদের তৎপরতা শুধু অব্যাহতই রাখেনি, বরং দিন দিন তা বাড়ছে।

বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক নাইজেরিয়া, লিবিয়াসহ ১৬টি দেশের ৫ শতাধিক নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক নানা তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাইবাছাই করে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক নাগরিক অনবরত এদেশে প্রবেশ করছে। তাদের একটি বড় অংশই মাদক, অস্ত্র চোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। একই সাথে জঙ্গিবাদ ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ছড়াতেও তৎপর কয়েকটি দেশের নাগরিক। খুব শিগগিরই বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশী অবৈধ নাগরিকদের সাঁড়াশি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশ মোতাবেক সরকারের নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথেই এ অভিযান শুরু হবে। যেসব দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ঢাকায় তাদের দূতাবাসের মাধ্যমেও সমস্যা সমাধানের বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সব মিলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ বিদেশী নাগরিকদের বিষয়টি নতুন সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিদেশী নাগরিকদের অবস্থান, চলাফেরা ও আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। পৃথকভাবে রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকায় বিদেশীদের আবাসস্থল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খোঁজ করা হচ্ছে। অভিজাত এলাকাসহ ঢাকার উপকণ্ঠে বসবাসকারী বিদেশীদের আশ্রয়দাতাদের সম্পর্কেও খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

তবে এদেশে বসবাসরত অবৈধ বিদেশী নাগরিকরা কখন, কিভাবে এবং কি উদ্দেশে এদেশে অবস্থান করছে সরকারি কোনো সংস্থার কাছেই পর্যাপ্ত ও সঠিক তথ্য নেই। সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও গোয়েন্দা সংস্থার মতে, বাংলাদেশে প্রায় ১৯ হাজার বিদেশী নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছে। তাদের বেশিরভাগেরই ভিসার মেয়াদ শেষ। অনেকেরই পাসপোর্টসহ কোনো কাগজপত্রই বৈধ নয়। বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিকদের অবস্থানের ক্ষেত্রে কখনোই কড়া নজরদারির উদ্যোগ নেয়া হয়নি। শুধু ঘটনাক্রমে কোনো বিদেশী আটক হলেই তার বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখা হয়। অন্য দেশে অপরাধ অনেক বিদেশীই এদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে লুকিয়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এদেশে অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে তারা নিজ দেশে পাঠাচ্ছে। অবৈধ ওসব বিদেশীরা এদেশের সরকারকে কোনো রকম ভ্যাট বা কর দেয় না। অথচ তারা সাধারণ নাগরিকের চেয়েও অধিক সুবিধা ভোগ করছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। মূলত পর্যটন কিংবা ব্যবসার কথা বলেই বিদেশীরা এদেশে প্রবেশ করছে। তারপর তারা আর এদেশ ছেড়ে সহজে বের হচ্ছেন না। অনেক বিদেশীই নিজেদের পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে এদেশে থাকছেন। ফলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ সুযোগে তারা বার বার নানামুখী অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গুলশান, বনানী, উত্তরার মতো অভিজাত এলাকাগুলোতে বিদেশীরা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছে। তাছাড়া বিনিয়োগকারী পরিচয়ে অভিজাত হোটেলে উঠে বিদেশে লোক পাঠানো, বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার আশ্বাস ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে তারা প্রতারণা করছে। গত ২ বছরে অভিজাত এলাকায় বাড়িভাড়া নিয়ে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বেশ কিছু বিদেশীকে আটক করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। অনেক বিদেশী নাগরিকই এদেশে অস্ত্র, স্বর্ণ, মাদক চোরাচালান, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, বিভিন্ন দেশের জাল নোট তৈরি, ডলার জালিয়াতি এমনকি জঙ্গি তৎপরতায়ও নিজেদের জড়িত রাখছে। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ঘানা, কঙ্গো, তাইওয়ান, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, লিবিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া চীন, তানজানিয়া, উগান্ডা এবং শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই এধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

ইতিপূর্বে বাংলাদেশে অবস্থানরত অনেক বিদেশী নাগরিকদের আর্থিক লেনদেন ও জঙ্গি অর্থায়নের বিষয় সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ দল গঠন করেছিল। ওই দলের কাজ ছিল ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া অবস্থান করা বিদেশী নাগরিকদের কার্যক্রম, তাদের ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া নিয়ে কাজ করা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশে অবস্থানকারী প্রায় ১৩ হাজার বিদেশী নাগরিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাদের বেশিরভাগই এসেছিল টুরিস্ট ভিসায়। তবে ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দাদের মতে, এ সংখ্যা আরো কয়েক হাজার বেশি হবে।এদিকে গত ২ বছরে নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ২ শতাধিক বিদেশী নাগরিককে আটক করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর উত্তরা থেকে ডলার জাল করার সরঞ্জাম ও জাল ডলারসহ তিন আফ্রিকান নাগরিককে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরো ২০২৫ জনের নাম বলেছে। যারা ঢাকায় অবস্থান করে জাল নোটের ব্যবসা করছে। এর ২দিন আগে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তানের ৩ সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন বোমার কারিগর। আটক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এই ৩ সদস্যের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ তাদের কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে অবৈধ বিদেশী গ্রেফতারে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ১৪৭টি বাড়িতে একযোগে তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৩১ জন অবৈধ বিদেশী নাগরিককে। সম্প্রতি বাংলাদেশে বসবাসকারী অবৈধ বিদেশীরা নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়। যোগাযোগের প্রেক্ষিতেই পরিচালিত হয় অবৈধ বিদেশী গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান। বিদেশীদের বাড়ি দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়ি আইন অমান্যকারী বাড়ি মালিকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

কোন বিদেশী নাগরিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে নিয়মানুযায়ী ওই বিদেশীর পুলিশ স্টেশন বা ইমিগ্রেশনে দরখাস্ত বা রিপোর্ট করার কথা। সুষ্ঠু মনিটরিং না থাকায় বিদেশীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও আর রিপোর্ট করেন না। ফলে অবৈধ বিদেশীদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন তথ্য প্রায়ই পাওয়া যায় না। বিশেষ করে বিদেশীদের কাছে বাসা ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়ি মালিকরা কোন নিয়ম কানুন মানেন না। বাড়ি ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই বাড়ি মালিককে ওই বিদেশীর বাংলাদেশে বসবাসের বৈধ কাগজপত্র আছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। অন্যথায় ওই বাড়ির মালিককেও আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সূত্র বলছে, অবৈধ বিদেশী নাগরিকদের গ্রেফতারের পর তদন্তে দেখা গেছে বিমানবন্দর হয়ে বৈধভাবেই প্রবেশ করে। এরপর পাসপোর্টে উল্লেখিত সময় বৈধভাবেই বসবাস করেন। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করেই তারা অবৈধভাবে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাতে বসবাস করতে থাকেন। অনেক আফ্রিকান আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেই পাসপোর্ট বা বৈধ কাগজপত্র গায়েব করে ফেলে। যে কারণে তাদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। আবার আইনের ফাঁকফোকরসহ বিদেশী হওয়ার কারণে অধিকাংশই বিদেশী জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় আফ্রিকানদের দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয়।

বাংলাদেশে অবস্থানকারী অবৈধ বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে অধিকাংশই ক্যামেরুন, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স, নাইজিরিয়া, ঘানা, কঙ্গো, লিবিয়া, আফগানিস্তান, সুদান, তাঞ্জানিয়া, উগান্ডা ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও এসব বিদেশী অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছে। এরই মধ্যে এদের অনেককেই ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের জন্য ভিসা নিয়ে বিদেশী এসব নাগরিক এদেশে এলেও মেয়াদ শেষে তাঁরা ফিরে যাচ্ছে না। নতুন করে ভিসার জন্য আবেদনও করছে না। আবার ঠিকানা পরিবর্তন করায় এসব বিদেশীকে খুঁজেও পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। খবর বলছে, বাংলাদেশে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ৩০ হাজারের বেশি অবৈধ নাগরিক রয়েছেন। এসব নাগিরক দেশের বিভিন্ন পোশাক শিল্প কারখানায় কাজ করছেন।

আয়কর ফাঁকি: অবৈধ বিদেশীরা বাংলাদেশের সরকারকে কোন রকম ভ্যাট বা কর দেন না অথচ তাঁরা সাধারণ নাগরিকের চেয়েও অধিক সুবিধা ভোগ করছে। শুধু তাই নয়, এদেশে অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে তাঁরা নিজ নিজ দেশে পাঠাচ্ছে। জানা গেছে, সাধারণত হুন্ডির মাধ্যমেই তাঁরা নিজ নিজ দেশে অর্থ পাঠিয়ে থাকে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। গত বছর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বিদেশী নাগরিকদের কর ফাঁকি ঠেকানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ওই নির্দেশের বাস্তবায়ন বলতে গেলে হয়ইনি।

ওয়ার্ক পারমিট: বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিকদের কর্মসংস্থানের জন্য ওয়ার্ক পারমিট বাধ্যতামূলক। বেসরকারী খাতের কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান যদি কোন বিদেশী নাগরিককে নিয়োগ দিতে চায়, তাহলে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্ধারিত ফরমে আগেই আবেদন করতে হয়। এই আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কর্তৃক স্বীকৃত দেশের নাগরিক, অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ১৮ বছরের উর্ধ্বের বয়স হতে হবে। যেসব কাজের জন্য স্থানীয় বিশেষজ্ঞ পাওয়া যায় না, সেসব কাজেই বিদেশীদের নিয়োগ দেয়া যাবে। এছাড়া সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাসহ বিদেশী কর্মচারীর সংখ্যা শতকরা ৫ ভাগের বেশি হতে পারবে না। একজন বিদেশী নাগরিকের নিয়োগ প্রাথমিকভাবে দু’বছরের জন্য বিবেচিত হবে। তবে পরবর্তীতে সন্তোষজনক হওয়ার ভিত্তিতে বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে হবে। তবে ওয়ার্ক পারমিট নেয়ার ক্ষেত্রে এসব জটিলতায় যেতে পছন্দ করেন না বিদেশী নাগরিকরা। সে কারণে ভ্রমণ ভিসা নিয়েই বাংলাদেশে আসেন। তারপর এখানে চাকরি বা ব্যবসাবাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।

জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধে: বিভিন্ন দেশ থেকে ভ্রমণ, ছাত্র ও ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে বিদেশীরা এদেশে এসে প্রতারণাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন। ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসে থাইল্যান্ডের তরুণীদের অনেকেই রাজধানীর অভিজাত এলাকার নামীদামী হোটেল, ম্যাসাজ পার্লার ও স্পা সেন্টারে কাজ করছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও এখানে অবস্থান করায় ইতোমধ্যে কয়েক থাই তরুণীকে আটক করে থাইল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আবার সম্প্রতি ক্যামেরুনের কয়েক নাগরিককে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে জাল ডলার ও ডলার তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পাকিস্তানের অবৈধ নাগরিকরা মাদক, অস্ত্র চোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে। একই সঙ্গে জঙ্গীবাদ ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডেও তাদের তৎপরতা রয়েছে। এভাবে বিভিন্ন সময়ে নানা দেশের বিদেশী নাগরিকরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

গ্রেফতারেও সুফল নেই: বিদেশীদের গ্রেফতারের পর তাদের জন্য কোন অভিবাসন সেন্টার নেই। এছাড়া সরকারী আর্থিক কোন বরাদ্দ না থাকায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশী নাগরিকদের বিরুদ্ধে আটক অভিযান জোরদার করাও সম্ভব হচ্ছে না। অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারী যে কোন বিদেশী নাগরিক মাত্র ছয় হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেতে পারে। তারা ছাড়া পেয়ে নিজ নিজ দেশে গিয়ে আবারও এ দেশে আসার সুযোগ পায়। এসব কারণে এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েও তেমন কোন সুফল পাওয়া যায় না।

আগমনী ভিসার সুযোগ নিচ্ছেন বিদেশীরা: বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে আগমনী ভিসার সুযোগ নিচ্ছেন বিদেশীরা। যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই, সেসব দেশের নাগরিক বাংলাদেশে ত্রিশ দিনের আগমনী ভিসা (এ্যারাইভাল ভিসা) পেয়ে থাকে। ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই পরিপত্র অনুযায়ী যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই, সেসব দেশের নাগরিকদের আগমনী ভিসা দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই পরিপত্র অনুযায়ী শুধু চারটি দেশের জন্য ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি করা হয়েছে। এই চারটি দেশ হলো ইরাক, আফগানিস্তান, সুদান ও আলজিরিয়া। সে অনুযায়ী এসব দেশ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সহজেই বিদেশী নাগরিকরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছেন। আবার কারও আগমনী ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে তাঁরা বাড়াতেও পারেন। এসব কারণে অবৈধ বিদেশী বাড়ছে।

বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। আবার ইতোপূর্বে বেশ ঢাকঢোল করে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশীদের সনাক্ত ও দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা থমকে যায়। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ব্যাপারে এ সরকার বেশ নমনীয় বলে এবারেও অবৈধ বিদেশী হটাও অভিযান কতোটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।।