Home » শিল্প-সংস্কৃতি » বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধের ছবি – দ্য ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ার

বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধের ছবি – দ্য ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ার

ফ্লোরা সরকার

last 6১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি, ঠিক যেদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো মিলে নাফটা অর্থাৎ নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট করলো, ঠিক তার কয়েক ঘন্টা পরেই মেক্সিকোর চিয়াপাসে কিছু সেনা কৃষক জেগে উঠেছিলো। গড়ে তুলেছিলো, জাপাটিসটার আর্মি অফ ন্যাশনাল লিবারেশান, সংক্ষেপে জাপাটিসটাস বামপন্থী রাজনৈতিক ও মিলিটারি বৈপ্লবিক দল। ১৯৯৪ সাল থেকেই এই দল মেক্সিকোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আসছে, যে যুদ্ধ ছিলো মূলত আত্মরক্ষামূলক। মেক্সিকোর সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত চিয়াপাস অঞ্চলে মিলিটারি, সংসদীয় এবং কর্পোরেট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ছিলো মূলত আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ। যাদের অবিসংবাদী নেতা ছিলেন সাবকমান্ডেন্ট মারকস (১৯ জুন, ১৯৫৭)। যাকে নব্য চে গুয়েভারা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মিলিটারি, সংসদীয় বা কর্পোরেট ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্পিত যেকোনো জোরপূর্বক সমাধান চাপিয়ে দেয়ার নীতি বিরুদ্ধ ছিলো এই দল। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দাবী আদায়ের চেষ্টা করে আসছে দলটি। তাদের যুদ্ধ অতীতের গেরিলা যুদ্ধের মতো না। মারকসের মতে যুদ্ধ মূলত মিলিটারির মুখোমুখি হওয়া নয়, রাষ্ট্রীয় রাজনীতির মুখোমুখি হওয়া। তার একটি রচনায় তিনি অভিযোগ করেছেন এই বলে যে, নিওলিবারিজম এবং গ্লোবালাইজেশান নির্মাণ করেছে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ। শীতল লড়াইয়ের তিনি নাম দিয়েছেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তৃতীয় এবং চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধের একটি তুলনামূলক আলোচনা করে বলেছেন, বিশ্ব এখন নতুন এক ধরণের যুদ্ধের মুখোমুখি। মূলধন বিনিয়োগের নৈতিক উৎকর্ষের ধোঁয়া তুলে আর্থিক গোলকায়ন বা গ্লোবালাইজেশানের মাধ্যমে মানবজাতির ধ্বংস ডেকে নিয়ে আসছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যদি বিভিন্ন ভূখন্ডের মধ্যে পুঁজিবাদ এবং সাম্যবাদের প্রচন্ড লড়াইয়ের নিদর্শন হয়ে থাকে, চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ তাহলে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রচন্ড লড়াইয়ের নিদর্শন। তিনি লিখেছেন শীতল লড়াইয়ের অবসানের পর, পুঁজিবাদ নির্মাণ করেছে মিলিটারি আতঙ্ক, নিউট্রন বোমা, এমন অস্ত্র যা বিভিন্ন স্থাপনা অক্ষত রেখে শুধুমাত্র মানুষ ধ্বংস করে ফেলে। চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধের এই সময়ে এক নয়া বিস্ময় আমাদের সামনে হাজির হয়েছে ; যার নাম আর্থিক বোমা (ফিনান্সিয়াল বোম্ব)। এই বোমা হিরোশিমা ও নাগাসাকির বিস্ফোরিত বোমা নয়, এই বোমা শুধু নাগরিক (বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী) হত্যা, আতঙ্ক এবং দুর্দশা সৃষ্টি করেনা, সেই সাথে অর্থনৈতিক গ্লোবালাইজেশানের মোড়কে তা জায়েজ করে ফেলে। যেসব জাতি এই পর্যন্ত তাদের সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছে আমেরিকার যেমন সন্ত্রস্ত আদিবাসী, ইউরোপের দীপ্তোজ্জল সভ্যতা, এশিয়ার বিজ্ঞ ইতিহাস এবং আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার সম্পদ এসবই এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নিউলিবারিলিজম বা নয়া উদারাবাদ এসব সভ্যতা ধ্বংস করে একটা একক মডেলের অধীনে নিয়ে আনতে চেষ্টা করছে। যে মডেল একান্ত ভাবেই যুক্তরাষ্ট্রীয়। এই যুদ্ধ মূলত এক অস্থিরমতি যুদ্ধ। যে যুদ্ধ মানব ইতিহাসে, মানবতার বিরুদ্ধে সব থেকে নিকৃষ্ট এবং রূঢ়তম। —-আমরা যুদ্ধ করছি নিজেদের বা অন্যদের নিহত করার জন্যে না। জগতকে জানাবার জন্যে, সচেতন করার জন্যে এই যুদ্ধ। উদ্ধৃতি এবং ভূমিকাটি একটু দীর্ঘ হলেও, দ্য ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ার প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হবার পেছনে মেক্সিকোর চিয়াপাস অঞ্চলের এই ইতিহাস ছবিটি বুঝতে আমাদের সহায়তা করবে।

জ্যাকুলিন সুহেন এবং রিচার্ড রওলি পরিচালিত দ্য ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ার ছবির শুরুতে কয়েকটা লেখা পর্দায় ভেসে উঠতে দেখা যায়

যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া যে যুদ্ধ

শক্রুপক্ষ ছাড়া যে যুদ্ধ

যে যুদ্ধের বিস্তার সর্বত্র

হাজার হাজার গৃহযুদ্ধ

যে যুদ্ধের শেষ নেই, কে থামাবে এই যুদ্ধ ?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব নতুন এক সভ্যতার মুখোমুখি এখন। যে সভ্যতার সঙ্গে এর আগে তার পরিচিতি ঘটেনি। অথবা একই পরিচয়ে ভিন্ন নামে হয়তো আবির্ভূত হলো। পরিচয় যাই থাক না কেনো, নতুন এই পরিবেশ পরিস্থিতি মানুষকে আজ ক্রমেই দিশাহারা করে তুলছে, অস্থির করে তুলছে। কেননা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বড় আর কোনো ধরণের যুদ্ধ সংঘঠিত হয়নি। বৃহৎ যুদ্ধের বদলে শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র খন্ড খন্ড যুদ্ধ। যে যুদ্ধের আঘাত এখন আর ধনী এবং শক্তিশালী দেশগুলোকে বইতে হয়না, আঘাতপ্রাপ্তরা তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশ। এই যুদ্ধের নায়ক এবং খলনায়ক একই দেশের জনগণ। নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছে। যে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছে ভৌগলিক সীমারেখা দখলদারিত্বের মধ্যে দিয়ে নয়, বরং অর্থনৈতিক দখলদারিত্বের সীমারেখাকে কেন্দ্র করে। ভৌগলিক সীমারেখা দখলদারিত্বের যুগে অর্থাৎ ঔপনিবেশিক কালের যুদ্ধ, ভূখন্ড দখলের কারণে সাদা চোখে দেখা যেতো। কিন্তু অর্থনৈতিক দখলদারিত্বের যুগের যুদ্ধকে সাদা চোখে দেখা যায়না। এই যুদ্ধ চলে দৃষ্টির আড়ালে, নীরবে, নিভৃতে। অথচ প্রাণহানির সংখ্যা বড় কোনো যুদ্ধের থেকে কোনো অংশে কম না। এই বিষয়টিকেই মূল থিম করে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র দ্য ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ার। স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে আর্জেন্টিনা, দক্ষিন আফ্রিকা, মেস্কিকো, দক্ষিন কোরিয়া, প্যালেস্টাইন এবং ইরাক। সময়কাল হিসেবে ১৯৭৬ থেকে ২০০৩ সাল বেছে নেয়া হয়। শুরু হয় মার্চ, ২৪, ১৯৭৬, আর্জেন্টিনার সামরিক শাসনের ক্ষমতারোহন দিয়ে। যে ক্ষমতা আমেরিকার মদতে সংঘঠিত হয়। ধারাভাষ্যে আমরা শুনতে পাই প্রায় তিরিশ হাজার অল্পবয়সী আর্জেন্টাইন নিখোঁজ হবার খবর, দেশছাড়া হয় হাজার হাজার নাগরিক। একজন যুবকের সাক্ষাতকার দেখানো হয় ছবির অনেকটা অংশ জুড়ে। তিনি জানান গ্লোবালাইজেশান অর্থ জাতি রাষ্ট্রের ধ্বংস অবশম্ভাবী, মানুষকে বেঁচে থাকতে হবে বাজারের কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে, বাজার নির্ধারণ করে দেবে কে বাঁচবে, কে মারা যাবে—- আরেকজন বলেন আমরা যে রাষ্ট্রের ভেতর বেড়ে উঠি, পরবর্তীতে দেখা যায় সেই রাষ্ট্র আমাদের না। অর্থাৎ আমাদের এমন এক নিয়মের মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠতে বাধ্য করা হয়, যে নিয়মকানুন বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া, অথচ আমরা মানতে বাধ্য। এভাবেই নয়াসাম্রাজ্যবাদ কর্পোরেট গ্লোবালাইজেশানের নামে মানুষকে ভূমি থেকে পর্যন্ত উচ্ছেদ ঘটাচ্ছে।

মেক্সিকোর চিয়াপাস অঞ্চল থেকে প্রায় ছয় শর অধিক কৃষককে আর্থিক বিনিয়োগের নাম করে ভূমি থেকে উচ্ছেদ ঘটানো হয়, ৭০ ভাগ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে এবং ৪৭ ভাগ চরম দারিদ্র সীমার নিচে নামিয়ে দেয়া হয়। ১৯৯৪ সালে দক্ষিন আফ্রিকায় সাধারণ নির্বাচনে নেলসন ম্যান্ডেলার জয় হলেও পরাজিত থেকে যায় দেশটি। প্রাইভেটাইজেশানের নামে কর্পোরেট গ্লোবালাইজেশান চালিত হয় বহিরাগত শ্বেতাঙ্গদের দিয়ে। একটি ড্রামের ওপর লেখা দেখা যায় Fuck Privatization। একজনের গেঞ্জিতে লেখা যেখানে বিভক্তি সেখানে কখনো শান্তি স্থাপিত হতে পারেনা। নিউইওয়র্ক টাইমস এই কর্পোরেট গ্লোবালাইজেশানের চমৎকার একটা নাম দিয়েছে গ্লোবাল এম্পায়ার। যে এম্পায়ার দেশের অভ্যন্তরে বসবাসরত মানুষকে বিভক্তির মুখে ঠেলে দেয়। এক দেশের রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে আরেক দেশের রাষ্ট্র প্রধানের মধ্যে গ্লোবালাইজেশানের নামে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলিকে দরিদ্র থেকে নিঃস্ব করে চলে। এতে কোন দেশের জনগণের কি পরিমাণ ভূমি থেকে উচ্ছেদ ঘটলো, প্রতিবাদমিছিলে মারা পড়লো, তাতে শীর্ষ দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কিছু যায় আসেনা। প্যালেস্টাইনের ধ্বংসযজ্ঞের পাশে বিধ্বস্ত দেয়ালে লেখা দঞযরং রং ধ অসবৎরপধহ বিধঢ়ড়হ। মানুষ তার মাতৃভাষা ভুলে যেয়ে গণহত্যার ভাষা শিখছে। খাতাকলম রেখে ব্যানার, বন্দুক নিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে, বেঁচে থাকার জন্যে সংগ্রাম করে চলেছে। সারা ছবি জুড়ে শুধু দেখা যায় হয় মিলিটারি নয় পুলিশি নির্যাতনের চিত্র। হাজার হাজার মানুষ শুধু রাস্তায় মিছিল করছে পরক্ষনেই পুলিশ এসে সব ভন্ডুল করে দিচ্ছে, চলছে গ্রেফতার, জেল, গুলি, খুন, গুম, নিখোঁজ ইত্যাদি। ধারাভাষ্যে বলা হয়, পেশা বা বৃত্তি মানে আকাশ ছোঁয়া বা খোলা আকাশের নিচে ঘোরাঘুরি না করা। পেশা মানে ভবিষ্যতের কোনো স্বপ্ন না দেখা, পেশা মানে প্রতিদিন মৃত্যুর প্রহর গোনা। সাধারণ জনগণ এখন যেন সামান্য পাথরখন্ডের মতো, যে কেবল শুধু ভূমিতে লুটিয়ে পড়ার জন্যেই জন্ম নিচ্ছে। পানির স্রোতের মতো ভেসে যাবার জন্যে পৃথিবীতে আসছে। এই কারণেই জেগে উঠেছিলেন মেক্সিকোর সাবকমান্ডেন্ট মারকস, যার লক্ষ্য হত্যা করা বা নিজেরা নিহত হবার মধ্যে দিয়ে নয়, বরং পৃথিবীকে জাগিয়ে তোলার মধ্যে দিয়ে, জানানোর মধ্যে দিয়ে গোলকায়নের এই গোলক ধাঁধা থেকে মানুষের মুক্তি কীভাবে ঘটবে তার নির্দেশনা নির্মাণ করা। জেগে উঠতে দেখা যায় প্যালেস্টাইনের শিশুদের, যারা ছোট ছোট পাথরকেই অস্ত্র করে ছুঁড়ে দেয় ইসরাইল বাহিনীর গাড়ি বহরে। পুলিশি নির্যাতনের মাঝেও বার বার রাস্তায় ফিরে আসে আর্জেন্টিনার জনগণ, দক্ষিন কোরিয়ার জনগণ,২০০৩ সালে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নামে ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে, স্লোগান তোলে আমেরিকার ইতিহাসের সর্ব নিকৃষ্ট যুদ্ধের বিরুদ্ধে। ছবির শেষে তাই প্রশ্ন তোলা হয় যুদ্ধ এখন ঘরের ভেতর চলে এসেছে, কোত্থেকে, কীভাবে এলো এই যুদ্ধ? অথচ যুদ্ধের যারা খলনায়ক, তারা কখনো এই প্রশ্ন তোলেনা, উত্তরও দেয়না। কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নয় বরং এসব খন্ডযুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধ নিজেরাই একটা অনন্ত সন্ত্রাসে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এই যুদ্ধসন্ত্রাসকে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এসব খলনায়ক স্বাভাবিক করে দেখতে এবং দেখাতে চায়, ভাবটা এমন, এমনই তো হবার কথা ছিলো। কিন্তু যে মার দেয় সে ভুলে গেলেও, যে মার খায় তারা ভোলেনা। ছবির একেবারে শেষ দৃশ্যে তাই দেখা যায়, রাস্তায় বড় বড় টায়ার পোড়াতে। রাস্তাই যেন এখন শেষ গন্তব্য, রাস্তা নিজেই যেনো প্রতিবাদের এক রূপক হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। রাস্তার প্রতিবাদ, প্রতিরোধই হয়তো একদিন এর সমাধান নিয়ে আসবে। কারণ, দমন,পীড়ন, শোষণ বেশিদিন টিকে থাকেনা। সারা ছবি জুড়ে তাই আমরা রাস্তার প্রতিবাদ দেখি সব থেকে বেশি। রাস্তার সেসব দৃশ্যের সাথে আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, প্যালেস্টাইন বা বাংলাদেশের মাঝে কোনো পার্থক্য তৈরি করেনা। ভিন্ন ভিন্ন নির্যাতিত দেশের রাস্তার একটাই রঙ আর তা হলো প্রতিবাদ, প্রতিরোধের রঙ। দ্য ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ার তাই শুধু কয়েকটা দেশের যুদ্ধ এবং গৃহযুদ্ধের কাহিনী হয়ে থাকেনা তা হয়ে যায় পৃথিবীর সব দেশের নিপীড়িত জনগণের কাহিনী, যে কাহিনীর অংশ আমরাও।।