Home » অর্থনীতি » স্বাস্থ্যসেবা :: কিউবা পারলে বাংলাদেশ কেন নয়?

স্বাস্থ্যসেবা :: কিউবা পারলে বাংলাদেশ কেন নয়?

এম. জাকির হোসেন খান

last 3বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিশ্বের সকল দেশের জন্য একটি উদাহরণ। কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উৎকর্ষতা এবং দক্ষতার জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। খুবই সীমিত সম্পদ এবং প্রায় অর্ধ শতাব্দীর বেশি ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের প্রভাব সত্ত্বেও কিউবা তার সকল নাগরিকদের জন্য স্বাস্ব্য পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পেরেছে এবং উন্নত দেশের ন্যায় স্বাস্থ্য খাতে অর্জন নিশ্চিত করেতে পেরেছেউন্নয়নশীল দেশ কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এ অর্জনকে হাফিংটন পোষ্টের এক সাম্প্রতিক প্রবন্ধে এভাবেই তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১৪ এর জুলাই মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক মার্গারেট চান কিউবার স্বাস্থ্য খাতে অর্জনে উদ্বেলিত হয়ে মন্তব্য করেন, কিউবা একমাত্র দেশ যার স্বাস্থ্য পরিচর্যা গবেষণা এবং উন্নয়নের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। এটাই সঠিক পদ্ধতি, মানব স্বাস্থ্যের উন্নতি একমাত্র উদ্ভাবনের মাধ্যমেই সম্ভব। উন্নয়নের অন্যতম স্তম্ভ হিসাবে স্বাস্থ্য খাতকে তৈরি করায় রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের পদক্ষেপ উল্লেখযোগ্য

জনসংখ্যার অধিক ঘনবসিতিপূর্ণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অর্জন বিশেষকরে মাতৃমৃত্যু এবং জন্মকালে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস সহ প্রত্যাশিত গড় আয়ু বৃদ্ধি সহ অন্যান্য অর্জনের ক্ষেত্রে ভৌত কাঠামো এবং মানব সম্পদ, লজিস্টিক এবং সরবরাহ এবং দূর্বল পারফরমেন্সের জন্য প্রায়ই সমালোচিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পিত কর্মকৌশল না থাকলেও ব্যতিক্রমী এ অর্জনের পেছনে নারীকেন্দ্রিক, জেন্ডারসমতাভিত্তিক, প্রধানতম স্বাস্থ্য কর্মসূচীর প্রধান কার্যক্রম পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান কর্মসূচী, খাবার স্যালাইন, মাতৃ এবং শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচী, যক্ষা নির্মূল, ভিটামিন এ ক্যাপসূল এবং অন্যান্য বহুসংখ্যক স্টেকহোল্ডার ও এজেন্ট কর্তৃক স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবায়িত কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছেফিউচার হেলথ সিস্টেমঃ সমতার জন্য উদ্ভাবনের আওতায় পরিচালিত একটি গবেষণায় বেরিয়ে আসে। এ বহুত্ববাদী অংশগ্রহণের সাথে এবং ন্যায় সমস্যাও প্রকট। উক্ত গবেষণায় ব্যাপক আকারে এবং অতিরিক্ত ঔষধের ব্যবহার, দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বা সুশাসনের ঘাটতি সহ অংশগ্রহণমূলক শাসন, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন, তথ্য ব্যবস্থা এবং সক্ষমতার উন্নয়ন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

২০১৩ সালের বাংলাদেশ নগর স্বাস্থ্য জরিপ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, দুর্বল স্বাস্থ্য সক্ষমতা বিশেষকরে দ্রুত বর্ধনশীল নগরে ৫ বছরের নিচের বয়সের প্রায় ৫০ শতাংশ শিশুদের পুষ্টিহীনতায় ভোগছে, ২০০৬ সালে এ হার ছিল মাত্র ৩৭ শতাংশ। নগরে বসবাসরত বস্তির ৪৩ শতাংশ শিশু নিম্ন ওজনের শিকার। আশংকার কথা হলো, এ হার ক্রমেই বাড়ছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে শহরগুলোর বস্তিতে আগামী কয়েক বছরে বসবাসকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এক কোটি ৯০ লাখে দাড়াবে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং আশংকাজনক হারে পরিবেশ দূষণের শিকার নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবেলায় যুগোপযোগী ও গতিশীল স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন এবং আইনে পরিণত করা সময়ের দাবি হলেও এখন পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

একদিকে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিকদেও স্বাস্থ্য সক্ষমতা কমছে, অন্যদিকে সরকারি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবার ওপর নাগরিকদের আস্থা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে একজন রোগীর অভিভাবক মন্তব্য করেন, মিটফোর্ড হাসপাতালে একদিকে যেমন নোংরা পরিবেশ, অন্যদিকে মশার বেজায় উৎপাত। ওইখান থেকেই আমার স্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দুয়ারে চলে গিয়েছিল।

রোগ থেকে মুক্তির জন্য রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়। আর অনেক ক্ষেত্রেই উপযুক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালের রোগী থেকে শুরু করে চিকিৎসাকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছে নতুন নতুন রোগে। সম্প্রতি আইসিডিডিআরবি পরিচালিত একটি গবেষণায়ও এরকম তথ্যই পাওয়া গেছে। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম নির্দেশনাও মানা হয় না বেশির ভাগ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে। এ প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগী ও দর্শনার্থীর ভিড়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে রোগীদর্শনার্থীদেরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। কেবল সরকারি ব্যবস্থাপনা দিয়েই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত জনবল সংকটও বড় একটি সমস্যা। মন্ত্রী সভায় অনুমোদিত জাতীয় স্বাস্থ্য নীতির অনুচ্ছেদ২৩ অনুযায়ী সকল স্তরের হাসপাতাল বর্জ্যরে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও ব্যয়সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে অগ্রগতি খুবই সামান্য। সমস্যার এটি একটি খন্ড চিত্র এবং আরো একাধিক কারণেই স্বাস্থ্য খাতের অর্জন ঝুঁকিতে রয়েছে।

ওইসিডি ভুক্ত দেশগুলোতে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ৩.৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে জিডিপির ১৭.২ শতাংশ (প্রতি নাগরিকের জন্য গড়ে ৮,৬০৮ ডলার) ব্যয় করেও বিশ্বের ৪৮টি দেশের স্বাস্থ্য খাতে দক্ষতার সূচকে আমেরিকার অবস্থান ৪৬তম, এমনকি চীন, আলজেরিয়া এবং ইরানের পেছনে অবস্থান। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ যখন স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে, তখন বাংলাদেশ সরকার কোন অলৌকিক কারণে এ খাতে বরাদ্দ কমাচ্ছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় জনপ্রতি বরাদ্দ বছরে ৩৯০ টাকা, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ২,৬৫২ টাকা হওয়া উচিত এবং কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যখাতে কমপক্ষে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে কমে ২০১৩১৪ অর্থবছরে তা কমে দাড়ায় মাত্র শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশে। স্বাস্থ্য খাতে ২০০৮০৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬.৫৮ শতাংশ, ২০১৩২০১৪ অর্থবছরে তা কমে দাড়ায় ৪.৬০ শতাংশে (স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন বিষয়ক গবেষণা, টিআইবি, ২০১৪)। প্রশ্ন হলো, সরকারি খাতে বরাদ্দ কমিয়ে বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে নাগরিকদের বাধ্য করা হচ্ছে কার স্বার্থে?

শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যখাতে ২০০৮০৯ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন বরাদ্দ ৪১.৪ শতাংশ থেকে কমে ২০১৩১৪ অর্থবছরে দাড়ায় ৩৮.৩ শতাংশে। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা খাতের তিনটি কর্মসূচিতে (১৯৯৮২০০৩, ২০০৩২০১১, ২০১১২০১৬) বরাদ্দকৃত তহবিলের বিপরীতে সরকারের অবদান ৬২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬ শতাংশ এ উন্নীত হলেও উন্নয়ন সহযোগীদের অবদান ৩৮ শতাংশ থেকে কমে দাড়ায় ২৪ শতাংশে। এর প্রধান কারণ, সিএন্ডএজির ফাপাদ (ফরেন এইডেড প্রজেক্টস অডিট ডিরেক্টরেট) নিরীক্ষায় ২০১১১২ অর্থবছরে মোট ১৫১ কোটি টাকার অনিয়ম চিহ্নিত হয়। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রধান আপত্তি উত্থাপিত হয় পিপিআর অনুসরন না করে প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা কম মূল্যের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং কম কাজ করে বেশি কাজ দেখানো। এমনকি অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে ফটোকপির দুটি যন্ত্র সচল থাকলেও এক বছরে ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার ফটোকপি বিল করা হয়। অনিয়ন্ত্রিত এ দুর্নীতির মাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি এবং গুটিকয়েক কর্মকর্তাকর্মচারী লাভবান হলেও দেশের জনগণ এ কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

অপ্রতিরোধ্য এ দুর্নীতির প্রকৃত কারণ হলো জবাবদিহিতা না থাকা এবং দুর্নীতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া। সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ শ্লোগান দিয়ে প্রণীত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির খসড়ায় অনুচ্ছেদ ১৪ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার সাথে সম্পৃক্ত সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তা ক্রমেই দূরাশায় পরিণত হচ্ছে। উল্টো প্রাক্তন স্বাস্থ্য মন্ত্রীসহ দুর্নীতিবাজদের গণহারে দায়মুক্তি দিয়ে দুদক নাগরিকদের করের টাকা অপচয়ে সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। জানুয়ারি ২০১০ থেকে জুন ২০১৩ পর্যন্ত ৫৮৭ জন চিকিৎসকদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়। জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গণকর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ থাকলেও বিএমএ, স্বাচিপর ন্যায় রাজনৈতিক সংগঠনের হস্তক্ষেপের কারণে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা। উল্টো এসব সংগঠন অবৈধ অর্থের বিনিময়ে সরকারের কর্তা ব্যক্তিদেও সহায়তায় ডাক্তার এবং স্টাফ নিয়োগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

সরকারের স্বাস্থ্য খাতে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও টিআইবির গবেষণায় জানা যায়, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে কোনো রোগীর মৃত্যু বা ক্ষতি হলে তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আইনের যেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তেমনি কোড অব মেডিকেল এথিকসএর ধারা ৫ () অনুযায়ী অভিযুক্ত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিল সম্পর্কে নির্দেশনা থাকলেও এর বাস্তবায়ন খুবই সীমিত। শুধু তাই নয়, বেসরকারি পরীক্ষানিরীক্ষাসহ অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও যথেচ্ছাচার দেখা যায়। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, রোগি বা রোগির এটেন্ডেন্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য চাইলেও তা প্রদান করা হয়না, যা তথ্য অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লংঘন।

তবে,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি পদ শূন্য রয়েছে ননডাক্তার মর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের যা ৫৬ শতাংশ এবং ডাক্তার ২৮ শতাংশ (,১৯৮ জন)। আন্তর্জাতিকভাবে ডাক্তার ও নার্সের স্বীকৃত অনুপাত ১ জনের বিপরীতে ৩ জন অথচ বাংলাদেশে এ অনুপাত মাত্র ১ জনের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে আনাচে কানাচে বেআইনী ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করলেও দি মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) (অর্ডিন্যান্স) ১৯৮২আইনের ধারা ১১ () অনুসারে পরিচালিত হয়না বা বিধি অনুসরণ করে ক্লিনিক বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়না, বরং অবৈধ দালালদের সাহায্যে স্বাস্থ্য সেবার নামে যাচ্ছেতাই করছে। অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ অনুযায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগীর অপারেশন, চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধানের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং প্রতি ১০ শয্যার জন্য একজন সার্বক্ষণিক নিবন্ধিত চিকিৎসক, দুজন নার্স ও একজন সুইপারের কথা বলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হয় না, অনেকক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন টেকনিশিয়ান রাখা হয় না (টিআইবি, ২০১৪)। বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ মর্জিমাফিক ফি নির্ধারণ করে রোগীর কাছ হতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে। উক্ত আইনের ধারা ১৩ ()-এ ধারা লঙ্ঘনজনিত শাস্তি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাবাস বা সামান্য পাঁচ হাজার টাকা অথবা উভয়ই হওয়ায় এ আইন লংঘনে কেউ পিছপা হচ্ছেনা।

হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী জরুরি প্রয়োজনে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো সংস্কার, হাসপাতালের লাইট, ফ্যান, সুইচ ইত্যাদি মেরামত ও পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা কাযর্ক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অর্থ খরচ করার ক্ষমতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই। এ প্রেক্ষিতে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন, বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং ডাক্তারদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অকার্যকর। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত হলেও বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ঠুটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। মানব সম্পদে উন্নত দেশগুলোতে নাগরিকরা নিশ্চিতে যেকোন বিনামূল্যে হাসপাতাল পছন্দ করলেও আমাদের সে সুযোগ বা আস্থা রয়েছে কী? স্বাস্থ্য খাতকে পরিকল্পিত উপায়ে, যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিতে পেশাজীবি সংগঠনগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করে ও সবক্ষেত্রে সততার চর্চার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যে নিশ্চিতে ভূমিকা রাখতে সমস্যা কোথায়। জিডিপির মাত্র ৩.৮ শতাংশ বরাদ্দ করে হংকং সকল নাগরিকদের জন্য দক্ষ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষম হলো, অথচ হংকং বা কিউবাকে অনুসরণ করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে এশিয়ার অন্যতম দক্ষ ব্যবস্থায় পরিণত করতে বাঁধা কোথায়?