Home » অর্থনীতি » সুন্দরবনের মহাবিপর্যয় :: সরকারের নিস্ক্রিয়তা

সুন্দরবনের মহাবিপর্যয় :: সরকারের নিস্ক্রিয়তা

কল্লোল মোস্তফা, জয়মণি, সুন্দরবন।

1111111111

ছবি: রাবারের বুম দিয়ে ঘিরে রাখা উদ্ধারকৃত তেলের ট্যাংকার

তেল বিপর্যয় শুরুর পর থেকে অনেকগুলো জোয়ার ভাটা পার করেছে সুন্দরবন। জোয়ারের সময় পানি সুন্দরবনের যতদূর ভেতরে প্রবেশ করে, শেলা নদী থেকে পশুর, বলেশ্বর নদী ও অসংখ্য খালের মাধ্যমে ভারী বিষাক্ত ফার্নেস তেল ততদূর প্রবেশ করেছে। দুর্ঘটনা কবলিত তেলের ট্যাংকার সাউদার্ন স্টার৭ কে উদ্ধার করার পর চাদপাই রেঞ্জের ঘাটে এখন যেভাবে রাবারের ভাসমান বুম দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, ৯ ডিসেম্বর ট্যাংকার দুর্ঘটনার সাথে সাথে যদি তা করা হতো তাহলে এই তেল সুন্দরবনের এত বিস্তৃত এলাকায় ছড়ানোর সুযোগ পেত না, ভারী ফার্নেস তেলকে দুর্ঘটনাস্থলেই আটকে রেখে সহজে নি:সরণ করা যেত। এখন বিষাক্ত পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন সমৃদ্ধ হেভি ফুয়েল ওয়েল(এইচএফও)বা ফার্নেস অয়েল নদী পথে গোটা সুন্দরবন ছড়িয়ে পড়েছে, শত শত খাল হয়ে সুন্দরবনের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। এভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ থেকে ১০০ বর্গ কিমি এলাকার নদীখাল ও তীরবর্তী ভূমির বৃক্ষলতাগুল্ম তেল দূষণে আক্রান্ত হলেও তেল দূষণ বনভূমির স্থলভাগের ভেতরে ঠিক কতটা প্রবেশ করেছে তার কোন হিসেব এখনও পাওয়া যায় নি।

নদীতে স্রোত থাকায় নদী পথে ভাসতে থাকা তেলের স্তর অপেক্ষাকৃত হালকা, যদিও এই অপক্ষোকৃত হালকা তেলের স্তর ভেদ করে সূর্যের আলো ও অক্সিজেন নদীর পানিতে প্রবেশ করতে পারছে না, যা নদীর জলজ উদ্ভিদ ও মাছ সহ জলজ প্রাণীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর স্রোতহীন খালের ভেতরে প্রবেশ করে সেই তেল ভারী থিকথিকে আলকাতার মতো অভেদ্য স্তর হয়ে জমে আছে, জোয়ারের পানির সাথে ভাসতে ভাসতে আসা তেল ভাটার সময় নেমে যাচ্ছে না। ভাটির পানি নেমে গেলেও তেল লেপ্টে থাকে বনের ঢালে কাদামাটিতে, ময়লা আবর্জনা ঝোপঝাড়ে, গাছের গোড়ায়, শ্বাসমূলে কিংবা গাছের পাতায় ও কান্ডে। দেখলে মনে হয় যেন ঘন কালো ব্রাশ দিয়ে গাছগুলোকে রং করে দিয়ে গেছে কেউ, বনজীবি রাজ্জাকের ভাষায়ভয়াল কালো সাপ যেন বুক পর্যন্ত পেচিয়ে ধরেছে সুন্দরবনের গাছগুলোকে। তেলদূষণ কোথাও কোথাও জোয়ারের সময় তেল মিশ্রিত পানি বনভূমির ভেতরে বাঘ হরিণ বানর সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর পানি খাওয়ার স্থানগুলোকেও দূষিত করেছে বলে জানিয়েছেন বনজীবি বাওয়ালীরা। মরাকাটাল থাকায় দূষিত পানি বনের যেসব অপেক্ষাকৃত উচু অঞ্চলে এখনও প্রবেশ করেনি, নদী ও খাল থেকে তেলের স্তর দ্রুত না সরানো হলে সামনের ভরা কাটালের সময় ৩৪ ফুট বেশি উচু জোয়ারের পানির সাথে সেসব স্থানেও তেল প্রবেশ করবে।

ছবি: নদী পথে ছড়িয়ে পড়ছে ভাসমান তেলের স্তর

ছবি: নদী পথে ছড়িয়ে পড়ছে ভাসমান তেলের স্তর

3333333333333333

ছবি: খালের মধ্যে তেলের ঘন কালো থিকথিকে স্তর

ফার্নেস তেলের মধ্যে থাকা বিভিণ্ন পলি অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন কারসিনোজেনিক (ক্যানসার সৃষ্টি কারী), লিভারের ও চামড়ার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাছাড়া তেলের আস্তরণ যেখানে থাকে সুর্যের আলো ও অক্সিজেন সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। খালে জমে থাকা থিকথিকে তেলের মধ্যে জীবনের কোন চিহ্ন থাকার কথা না। যেসব শ্বাসমূল তেলে ঢেকে গেছে, সেগুলো দিয়ে গাছ শ্বাস প্রশ্বাসের কাজ চালাতে পারবে না।

44444444444444444

ছবি: তেলের ঘন কালো স্তরে ডুবে থাকা গাছের ঝোপ

যে কাদমাটিতে তেলের আস্তরণ পড়েছে কিংবা তেল ভেতরে ঢুকে গেছে সেখানে কাকড়া, মাডস্কিপার সহ যেসব অমেরুদন্ডী প্রাণীর বসবাস সেগুলো এখন বিপদাপন্ন। ভাটার সময় গিয়ে তেল চুপচুপে কাদামাটিতে প্রাণের কোন চিহ্ন দেখা যায়নি, একটা দুটো করে কাকড়া মরে থাকতে দেখা গেছে।

 

ছবি: তেলে ঢাকা কাদামাটিতে মরে থাকা কাকড়া

ছবি: তেলে ঢাকা কাদামাটিতে মরে থাকা কাকড়া

এখন সুন্দরবনের বহু মাছের ডিম পাড়ার সময়, চিংড়ী সহ অনেক মাছের ডিম ও রেণু পোনা ছাড়ার জায়গা হলো সুন্দরবনের জোয়ার ভাটা প্লাবিত খাল ও কাদামাটির ঢালগুলোতে। কেওরা বাইন সহ বিভিন্ন গাছের অঙ্কুরোদগম ও চারাগাছের বেড়ে উঠারও সময় এখন। কিন্তু তেলে বিষাক্ত কাদামাটিতে এ সবের বেচে থাকা বা টিকে থাকা সম্ভব হবে না। যেসব ছোট গাছের গোড়া তেলে ডুবে আছে সেসব গাছও বাচবে না, দুই সপ্তাহ বা মাসখানেকের মধ্যেই সেগুলো মারা পড়বে। আর বড় গাছগুলোর উপর তেলের ক্ষতিকর প্রভাব দৃশ্যমান হতে সময় লাগবে। তেল দূষণের কারণে সাধারণত বড় গাছ গুলো পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া কিংবা পাতা পতন রোগে আক্রান্ত হতে পারে, এমনকি কয়েক বছরের মধ্যে গাছগুলো মারাও যেতে পারে। তেল দূষণের শিকার ম্যানগ্রোভ বৃক্ষের প্রতিরোধ ক্ষমতাও স্বাভাবিকের তুলনায় হ্রাস পায় যে কারণে লবণাক্ততায় আক্রান্ত সুন্দরী গাছের আগামরা রোগও হয়তো বাড়বে।

 

ছবি: তেলে ঢাকা কাদামাটিতে তেলে রাঙানো গাছ

ছবি: তেলে ঢাকা কাদামাটিতে তেলে রাঙানো গাছ

ছবি: জোয়ারের সময় তেলে ডোবা গাছে তেল লেগে তৈরী হওয়া ‘তেল রেখা’

ছবি: জোয়ারের সময় তেলে ডোবা গাছে তেল লেগে তৈরী হওয়া ‘তেল রেখা’

 

তেল নি:সরণের কেন্দ্রস্থলটি ছিলো বিশ্বের মধ্যে বিলুপ্ত প্রায় ইরাবতি ডলফিনের অভয়রাণ্য। এখন সে অঞ্চলটি স্রেফ ভয়ারণ্যশুধু ডলফিনের জন্যই না, ঐ স্থানে থাকা সমস্থ জলজ ও স্থলজ প্রাণীর জন্য। তেল নি:সরণের পর থেকে আক্রান্ত অঞ্চলের কোথাও কোন ডলফিন, কুমির, মাছ শিকারি পাখি বা অন্য কোন বণ্যপ্রাণীর দেখা পাওয়া যায় নি। এগুলো হয় মরেছে অথবা অন্যত্র সরে গেছে। এ স্থানটি তাদের বেচে থাকার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান ছিল বলেই তারা এ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলো, এখন বাধ্য হয়ে অন্যত্র গেলেও সর্বব্যাপি দুষণের মধ্যে কতদিন টিকতে পারবে সেটা একটা প্রশ্ন। আর বনজীবি জলজীবি মানুষের অবস্থা অনেকটা ম্যানগ্রোভ গাছগুলোর মতো, চাইলেই তো মাটি থেকে শেকড় উঠিয়ে এ অঞ্চল তাদের পক্ষে ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। বিশেষ করে মৎসজীবি জেলে ও কাকড়া শিকারিদের দুর্দশার শেষ নেই। ঘটনার পর থেকে মাছের জাল আর কাকড়া শিকারের দড়ি ফেলা যাচ্ছে না। তেলে মাছের জাল নষ্ট হয়ে যায়, কাকড়ার আধার বা টোপ নষ্ট হয়ে যায়। এমনিতেই ২০১১ সাল থেকে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরুর পর থেকে মাছের পরিমাণ কমে গেছে আর এখন তো তেল দূষণের কারণে পানিতে একটা মাছও নেই। কবে পানি থেকে ভাসমান তেল অপসারিত হবে এবং আগের মতো মাছ আদৌ পাওয়া যাবে কিনা তার কোন ঠিক নেই। এ পরিস্থিতিতে জেলেদের জীবিকার কি হবে? তাদের পেট চলবে কি করে? এদের জন্য কোন ক্ষতিপূরণ বা ত্রাণ তৎপরতার কোন কথা শোনা যায় নি। কে জানে, সরকার হয়তো ভাবছে বনজীবিদের এভাবে না খাইয়ে রাখলে হয়তো নদীখাল থেকে দূষিত তেল খালি হাত ও থালাবাটিচট ব্যবহার করে তুলে পদ্মা অয়েল কোম্পানির কাছে ৩০ লিটার ধরে বিক্রি করার লোক বেশি পাওয়া যাবে!

ছবি: খালি হাতেই তেল তুলছে শিশু কিশোররা

ছবি: খালি হাতেই তেল তুলছে শিশু কিশোররা

ছবি: খালি হাতেই তেল তুলছে শিশু কিশোররা

ছবি: খালি হাতেই তেল তুলছে শিশু কিশোররা

 

অথচ সুন্দরবনের খাল ও নদীর কিনারে জমে থাকা ভারী থকথকে তেল এভাবে তোলার আইডিয়াটা সরকার তাদেরকে দেয় নি, সরকারের নিস্ক্রিয়তা দেখে প্রিয় সুন্দরবন ও নদীকে দ্রুত দূষণমুক্ত করতে তারা নিজেরাই এই উপায়ে তেল তুলতে শুরু করেন এবং উত্তোলিত তেল মাটিতে গর্ত করে পলিথিনের মধ্যে সংরক্ষণ করতে থাকেন। তাদের এই উদ্যোগ দেখেই সরকারি লোকজনের মাথায় টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে তেল কেনার আইডিয়াটা আসে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো এভাবে হাত দিয়ে তেল তুলে কি গোটা সুন্দরবন দূষণ মুক্ত করা যাবে? এটাই কি তেল তোলার একমাত্র পদ্ধতি? যারা হাত দিয়ে তেল তুলছে তাদের স্বাস্থ্য ঝুকির কথাটি কেউ বিবেচনা করছেন? বনবিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, কোষ্টগার্ড নৌবাহিনীর কর্মীরা কি এভাবে খালি হাতে, গ্লাভস না পড়ে, শরীর না ঢেকে এভাবে তেল তুলতে রাজী হবেন? পরিবেশ ঝুকিমুক্ত করতে গিয়ে জনস্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে ফেলার কি অর্থ? জমে থাকা তেল যদি এভাবে তুলতেই হয়ে তাহলে কেবল সাধারণ জনগণ কেন, সরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও বাহিনীর লোকজনকে কেন এ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে না?

মানুষের স্বত:স্ফুর্ততার উপর নির্ভর করে এভাবে খালি হাতে খোলা শরীরে বিভিন্ন খাল ও নদীর কিনারে জমে থাকা ঘন থকথকে তেল তোলা যদি সম্ভবও হয়, তাহলেও প্রশ্ন থাকে৮০ থেকে ১০০ কিমি এলাকা জুড়ে নদী ও খালের পানিতে ভাসতে থাকা অপেক্ষাকৃত পাতলা তেলের স্তরের কি হবে? কিংবা বনের জোয়ারভাটা প্লাবিত কাদামাটিতে জমে থাকা তেলই বা কিভাবে অপসারণ করা হবে? নদীতে ভাসমান তেল অপসারণের জন্য লয়েড২ নামের চীনের তৈরী স্পিল অয়েল ডিসপারসেন্ট কেমিক্যাল স্প্রে করা বিষয়ে আলোচনা চলছে। এইসব ডিসপারসেন্ট কেমিক্যাল সাধারণত খোলা সাগরের তেল দূষণ দূর করার কাজে ব্যবহার করা হয়। ম্যানগ্রোভ বনভূমি অঞ্চলে এই ধরণের রাসায়নিক স্প্রে কতটা উপকার করবে আর কতটা নতুন বিপদে পরিণত হবে সে বিষয়টা বিবেচনা না করে হুট করে ম্যানগ্রোভ জলাভূমিতে ব্যবহার করাটা ঠিক হবে না।

তেল দুষণ মুক্ত করার জন্য কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া নেয়া উচিত এ বিষয়টি জানতে আমরা সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ হারুণের সাথে কথা বলেছি। তার মত অনুসারে

প্রথমত, খালে জমে থাকা ভারী তেল দ্রুত অপসারণ করতে হবে। এর জন্য স্রেফ জনগণের স্বত:স্ফর্তুতার উপর নির্ভর না করে, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও বাহিনীর কর্মীদেরকে পরিকল্পিত ভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং তেল তোলার কাজে খালি হাত নয় ফোম, স্পঞ্জ সহ বিভিন্ন তেল শোষণকারী সরবেন্ট ম্যাটেরিয়াল ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, নদীতে ভাসমান তেলের স্তর অপসারণের জন্য রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করা সিদ্ধান্তটি নেয়ার আগে যথেষ্ট বিচার বিবেচনার প্রয়োজন আছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌছতে দেরী হলে তার জন্য সময় নষ্ট করা যাবে না, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও বাহিনীর কর্মীদেরকে ফোম, স্পঞ্জ সহ বিভিন্ন তেল শোষণকারী সরবেন্ট ম্যাটেরিয়াল ও ভ্যাকুয়ামিং যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নদী থেকে তেল তোলার কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।

তৃতীয়ত, জোয়ার ভাটা প্লাবিত কাদামাটির স্তর থেকেও তেল শোষণের উদ্যোগ নিতে হবে, প্রয়োজনে উপরের ৪/৫ সেমি পুরু কাদামাটির স্তর অপসারণ করে হলেও এ কাজটি করতে হবে।

চতুর্থত, বনের গাছের গোড়ায় তেল জমে থাকলে সেটা অপসারণ করতে হবে। গাছের গোড়ায় বা শ্বাসমূলে লেগে থাকা তেল হাত দিয়ে সরাতে গেলে ক্ষতি বেশি হবে।

সুন্দরবন যে কত বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে তার পুরো চেহারাটা এখনই বোঝা যাবে না, কারণ ইতিপূর্বে বিভিন্ন দেশের ম্যানগ্রোভ বনে তেল দূষণের ঘটনা থেকে দেখা গেছে দূষণের ফলাফল চোখে পড়তে কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। দুষণ কাটিয়ে উঠতে ম্যানগ্রোভ বনের কয়েক দশক থেকে শুরু করে এমনকি অর্ধ শতাব্দি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ঠিক কি পরিমাণ গাছ ও প্রাণী সরাসরি তেল দূষণের শিকার হয়েছে, কি পরিমাণ আংশিক ও পরোক্ষ দূষণের শিকার হয়েছে ও হবে এবং কি ধরণের প্রতিকার ও প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তার উপর নির্ভর করছে কিছু দিন পর সুন্দরবনের চেহারা কি দাড়াবে। তবে ইতিমধ্যে সরকারের তৎপরতার (কিংবা তৎপরতাহীনতা) বহর দেখে আশাবাদী হওয়ার কোন সুযোগ থাকছে না। যে শাসকরা বার বার বলার পরও সুন্দরবনের মধ্যে বিপদজনক কার্গো জাহাজ চলাচল বন্ধ করেনি, উল্টো দেশব্যাপি প্রতিবাদ স্বত্ত্বেও সুন্দরবনের পাশে দুটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরী ও কয়লার জন্য সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে আরো বড় বড় জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, সেই শাসকদের হাতে সুন্দরবনের বর্তমান ও ভবিষ্যত কোনভাবেই নিরাপদ নয়। এ ক্ষেত্রে সুন্দরবনকে দ্রুত তেল দূষণ মুক্ত করা এবং ভবিষ্যতে সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ ও সুন্দরবনের পাশে এনটিপিসি ও অরিয়নের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ সকল ধরণের দূষণকারী তথাকথিত উন্নয়ণ কর্মকান্ড বন্ধ করার জন্য জনগণের পক্ষ থেকে সরকারের উপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ ছাড়া সুন্দরবনকে রক্ষা করা যাবে না।।