Home » অর্থনীতি » সার্কের আড়ালে ভারতীয় বিদ্যুৎ আধিপত্য :: প্রথম টার্গেট নেপাল-ভুটান (প্রথম পর্ব)

সার্কের আড়ালে ভারতীয় বিদ্যুৎ আধিপত্য :: প্রথম টার্গেট নেপাল-ভুটান (প্রথম পর্ব)

বি.ডি.রহমতউল্লাহ্

last 2দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভূক্ত ৮টি দেশের মধ্যে উন্নয়নের যে ধারনা নিয়ে সার্ক গঠন করা হয়েছিলো তা প্রায় ভেস্তে গেছে বলা যায়। অনেকটা একই উদ্দেশ্যে গঠিত দক্ষিণপূর্ব্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তির বা আসিয়ানের দিকে যদি একটু নজর দেই তাহলে এ দুটি চুক্তির ঘোষনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে আমরা বড় রকমের একটি পার্থক্য দেখতে পারবো যা আমাদের নিদারুন হতাশ করবে বলেই মনে হয়। সার্ক গঠনকালীন সময়ে ছোট রাষ্ট্রগুলো এ অঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের উপর জোর দিয়েছিলো এই বলে যে, প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৈামত্বের মর্যাদা সমান বিবেচনায় যাবতীয় চুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হবে। তা শুধু ঐ ঘোষণা পর্যন্তই। এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ঘোষিত ঐ বিষয়কে সামনে রেখে চুক্তিও করা হয়েছে। কিন্তু প্রায়োগিক ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন অনুপস্থিত। আজ এই অঞ্চলের জনগণের অনুভূতিতে সার্ক কার্যত অকার্যকর একটি সংস্থা ছাড়া আর অন্য কিছুই নয়। এ সব দেশের নাগরিকরা এ জন্য ভারতের আধিপত্যবাদী আচরণকেই দায়ী করছে। আন্ত:রাষ্ট্রীয় পানি প্রবাহ, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, ভিসা অনুমোদনসহ নাগরিকদের আন্ত: রাষ্ট্রীয ভ্রমন, শিক্ষা ও কারিগরী খাতে সহযোগিতা ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, অবারিত ব্যবসাবাণিজ্যসহ প্রায় সব খাতেই সম্পাদিত চুক্তিসমূহেকে প্রায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ বললেও কম বলা হবে।

একটি বিষয় এক্ষেত্রে উল্লেখ করতেই হবে এই কারণে যে, আঞ্চলিক তো অবশ্যই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও ভারত একটি ‘জ্বালানি ক্ষুধার্ত’ দেশ। আর এ কারণে ভারত সব সময়ই পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে বিদ্যুৎ নিতে যেকোনো চেষ্টা করতে প্রস্তুত। ভারত পানিবিদ্যুতের দুটো বড় ক্ষেত্র অর্থাৎ নেপাল ও ভুটান থেকে দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানা চেষ্টা করে আসছে। এতে খুব একটা সফল না হয়ে এই দেশটি ভিন্ন পথ গ্রহণ করেছে। আর এ ভিন্ন পথটি হচ্ছে, বহুপাক্ষিকতার আড়ালে দ্বিপাক্ষিক সুবিধা গ্রহণ করা। সার্ককে এই বহুপাক্ষিক ছাতা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎ আগ্রাসনের জন্য। ভারত পার্শ্ববর্তী দেশের ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিকতার নামে বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক সুবিধাকে বন্ধুত্বের দামে কিনতে চায় প্রকৃত আর্থিক মূল্যে নয়। অথচ নিজ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাটি ঠিক তার উল্টো।

এখন আমরা ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নেই। নীচের ছকে ভারতের বিদ্যুৎ সম্পর্কিত সাম্প্রতিক তথ্যাদি তুলে ধরা হলো।

 chart-1

এ ছক থেকে আমরা স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি ভারতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিদ্যুতের মোট স্থাপিত ক্ষমতা হচ্ছে ২,৫১,৫০০ মেগাওয়াট। প্রশ্নটা এসে দাঁড়ায় স্থাপিত ক্ষমতা আর উৎপাদন ক্ষমতা বা উৎপাদন সামর্থ্য কি এক? এটা বিশ্লেষণ করে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে বলার সম্ভবতঃ বোধ হয় কোন প্রয়োজনই নেই যে, স্থাপিত ক্ষমতা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে না। বরং উৎপাদন সামর্থ্য বা ক্ষমতা দিয়ে চাহিদার সাথে মুখোমূখি লড়াই করা যায়। যেমন ২৫ বছর আগে বসানো একটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আজ অবচয়িত ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে গিয়ে নিশ্চিত সর্বাধিক ৫০ মেগাওয়াট হয়ে গেছে। কিন্তু দেশের রাজনীতিবিদরা নিজেরা বাহাদুরীর জন্য সর্বদাই স্থাপিত ক্ষমতাকেই দেখান। কারণ এতে পরিমান একটু বেশী শোনায়। কিন্ত এখানে ২৫ বছর আগে স্থাপিত ক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট হলেও ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে যদি এটা বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা বা সামর্থ্য ৫০ মেগাওয়াট হয়ে যায়, তাহলে বর্তমানে এটা দিয়ে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা মিটানো যাবে সর্বাধিক ৫০ মেগাওয়াট। সে ক্ষেত্রে ১০০ মেগাওয়াট না বলে সঠিকভাবে অবচয়িত ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট বললে জনগনও যেমন সঠিক তথ্য পায় এবং মন্ত্রীরাও জনগনের কাছে ”খেলো” হবেন না। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র যতো পুরোনো হবে, তার উৎপাদন ক্ষমতা বা সামর্থ্য ততই হ্রাস পেতে থাকবে। এবার ভেবে দেখুন আমাদের রথীমহারথীরা বিদ্যুতের ক্ষমতা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে আমাদের সঙ্গে কি প্রতারণাই না করে যাচ্ছেন। আমাদের বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা হচ্ছে প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন সামর্থ্য বা ক্ষমতা হচ্ছে সর্বার্ধিক ৭ হাজার মেগাওয়াট। অথচ ১১ হাজার মেগাওয়াট বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেলাম আর সে খুশীতে ৬ টাকার বিদ্যুতের দামকে ১৬ টাকায় নিয়ে যাওয়া হলো।

এখন ভারতের বিদ্যুতের সঠিক অবস্থাটা জেনে নেই। উপরের ছকে জীবাস্ম ফুয়েলের যে ১,৭৯,২০০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার কথা বলা হলো তার সামর্থ্য বা ক্ষমতা কিন্ত মাত্র ১,২৫,০০০ মেগাওয়াট, যা ছকের ৩ নং ক্রমিকে উল্লেখিত আছে। এবং এটাই স্বাভাবিক। আর সেখানে জীবাস্ম ফুয়েলের বিদ্যুতের চাহিদা হলো ১,৫০,০০০ মেগাওয়াট, যা ছকের ৪ নং ক্রমিকে উল্লেখিত আছে। উপরের ছকের ২ নং ক্রমিকে দেখা যায় যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানী রয়েছে সে বিদ্যুৎ কিন্তু এলাকা ভিত্তিক এবং এর অধিকাংশই গ্রীডে এখনো নেয়া হয় নি। আর যদি গ্রীডে নেওয়াও হয় তাহলেও একটা সুনির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতেই এই নবায়নযোগ্য জ্বালানী দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

অথবা আরো সোজা করে বললে দাঁড়ায়, জীবাস্ম ফুয়েল (,২৫,০০০) ও নবায়নযোগ্য জ্বালানী দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের (৭২,৩০০) মোট উৎপাদন সামর্থ্য হচ্ছে সর্ব্বমোট ১,৯৭,৩০০ মেগাওয়াট আর সেখানে সর্বমোট চাহিদা হচ্ছে ২,২২,৩০০ মেগাওয়াট। তাহলে ঘাটতি কত? ২৫,০০০ মেগাওয়াট। আর অবাক করা কান্ড হচ্ছে ভারতে দীর্ঘদিন থেকে প্রতি বছর চাহিদা ২৫% হারে অর্থাৎ ২৫,০০০ মেগাওয়াট করে বৃদ্ধি পেলেও ঘাটতিও ২৫,০০০ মেগাওয়াটই থেকে যাচ্ছে। এবং এ ঘাটতি মিটাবার জন্য ভারত নেপাল ও ভূটানের উপর দীর্ঘদিন এক আগ্রাসন চলছে। তাহলে চলুন ভূটানের বিদ্যুতের হালচালটা একটু দেখে নেই।

ভূটানের জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাত

ভুটান প্রায় ৮ লাখ জনঅধ্যুষিত মাত্র ৩৮ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ছ্ােট্ট একটি দেশ, চীন ও ভারত এ দুটি দেশ পরিবেষ্টিত। ভুটানের পররাষ্ট্রনীতিসহ বলতে গেলে সবকিছুরই দেখভাল করে থাকে ভারত এবং এর কারণ হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি। একমাত্র জলবিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে এমন কোন সম্পদ ভূটানে এখনো দৃশ্যমান নয়। তবে যথাযথ পরিকল্পনা নেয়া হলে পর্যটন একটি লাভজনক খাতে পরিনত হতে পারে। ভূটানের ড্রুক গ্রীন নামক রিসার্চ সংস্থার পর্যবেক্ষন অনুযায়ী, ভূটানের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য কারিগরী পরিমান হচ্ছে ৩০ হাজার মেগাওয়াট, যার মধ্যে কারিগরী ও আর্থিকভাবে সম্ভাব্য পরিমান হচ্ছে ২৪ হাজার মেগাওয়াট।

এ পর্যন্ত বিদ্যুতায়নে নীচের ছকে প্রদত্ত জ্বালানী ব্যবহার দেখলেই ভূটানের জলবিদ্যুতের প্রাপ্যতা সহজেই অনুমেয়।

chart-2 

এতো সহজপ্রাপ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানী থাকা স্বত্ত্বেও ভূটানের ৬০ ভাগ মানুষ অর্থ্যাৎ ৮ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র সাড়ে চার লাখ এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ পেয়েছে। কারন পাশেই ভারতের অবস্থান হচ্ছে তাদের বিদ্যুৎ ঘাটতি আগে পূরণ করতে হবে। তারপরে ভূটানের মানুষজন বিদ্যুৎ পাবে। নীচে বিদ্যুতের বিষয়টি তুলে ধরলেই অন্য সব বিষয়ে একটু আঁচ করতে পারবেন বলে অনুমিত হচ্ছে। ভুটান জল বিদ্যুতের উপর তার অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ পর্যবেক্ষনের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র বিদ্যুতের একটি সংজ্ঞা নিজস্ব রীতিতে তৈরী করে নিয়েছে যা নীচে দেয়া হলো।

 chart-3

এর উপর ভিত্তি করে ইতোমধ্যে ভূটান ভারতের সাহায্যে অতি ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মান করেছে যা একটি তালিকা নীচে দেয়া হলো।

chart-4 

ভুটানে মোট জলবিদ্যুতের প্রকল্পের তালিকা

chart-5 

(দ্রষ্টব্যঃ বর্তমানে চালু আছে সেগুলির নাম তালিকাতে দেয়া হলো)

উপরের যে তালিকায় বর্ণিত এ ১৪০০ মেগাওয়াট প্রায় ৯৫% বিদ্যুতই ভারতে সরবরাহের জন্য ভারত থেকে প্রাপ্ত ঋণ ও গ্রান্টের মাধ্যমে নির্মান করা হয়েছে। এ বিদ্যুৎ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড, বিহার, উড়িষ্যা, সিকিম, নাগপুর, এলাহাবাদ অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এজন্য ভারত ভুটানকে ৬০% অনুদান ও ৫% হারে সুদে কিছু কঠিন শর্তে ৪০ ভাগ ঋণ দিয়েছে। শর্তের অধীনে আছে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শুধু মালামালই নয়, এর যাবতীয় প্ল্যান, ডিজাইন, পরামর্শক, প্রকৈাশলী ও লোকবলও ভারত থেকে আনতে হবে এবং ভারতের অনুমতি ছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মান, নকশা বা ডিজাইনের কোন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না।

ভারতে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের মূল্য ভুটান নয় অবশ্যই ভারত কর্তৃক নির্ধারিত হবে। উপরে বর্ণিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ ইতোমধ্যেই ভারত কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছে। ভারতে সরবরাহকৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৩.২ ইউএস সেন্টস ধরা হয়েছে। যেখানে ভুটান একই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তার নিজস্ব বিদ্যুৎ ভুটানীজদের জন্য নির্ধারন করেছে ৫.২ ইউএস সেন্টস। নির্মম সত্য হলো ভারতের প্রয়োজন না মিটিয়ে ভুটান তার এ জলবিদ্যুতের অমিত সম্ভাবনাকে কিছুতেই ব্যবহার করতে পারবে না।

নেপালের জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাত

নেপাল প্রায় ৩ কোটি মানুষ অধ্যুষিত ১,৪৭,৩৮০ বর্গ কিলোমিটারের চীন ও ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত একটি দেশ। একমাত্র জলবিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে এমন কোন সম্পদ এখনো দৃশ্যমান নয়। তবে পর্যটন একটি লাভজনক অর্থ আয়কারী খাত। নেপালের সরকারী বিদ্যুৎ সংস্থা এন, , এর পর্যবেক্ষন অনুযায়ী নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য কারিগরী পরিমান হচ্ছে প্রায় ৮৩ হাজার মেগাওয়াট, যার মধ্যে কারিগরী ও আর্থিকভাবে সম্ভাব্য পরিমান হচ্ছে ৪৩ হাজার মেগাওয়াট। নেপাল ৪ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। সঙ্গত কারণেই কাঠমুন্ডু সহ সারা নেপালে দৈনিক প্রায় ২০ ঘন্টা লোড শেড থাকে। এতো সহজপ্রাপ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানী থাকা স্বত্ত্বেও নেপালের ৫৪ ভাগ মানুষ অর্থ্যাৎ ১ কেটি ৬০ লাখ মানুষ এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ পেয়েছে। কারন পাশেই ভারতের অবস্থান। এবং যথারীতি ভারত চায় তাদের বিদ্যুৎ ঘাটতি আগে পূরণ করতে হবে। নেপাল বর্তমানে এ নির্দেশের বাইরে যেতে পারবে না। সোজা হিসেবে নেপালের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থ্যাৎ নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথোরিটি (এনইএ)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রক্ষেপিত আধুনিক একটি নেপালের জন্য সর্ব্বোচ্চ চাহিদা ১০,০০০ মেগাওয়াট রেখে বাকী সম্ভাব্য ৭০ হাজার মেগাওয়াট ভারতকেই দিতে হবে, অন্য কোন দেশ নয় এটা ভারতের সাথে নেপালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি। এসব নানা কারনে এবং সিভিল সোসাইটি সহ বামপন্থীসহ প্রগতিশীল ধারার প্রচন্ড বিরোধিতার মুখে ভারতের সাথে এসব দেশীয় স্বার্থহানিকর চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তাছাড়া নেপালের জনগণেরও একই অভিমত। কাজেই নেপালকে আরো কতদিন অন্ধকারে থাকতে হবে, তা ভবিষ্যতই বলতে পারে।

নেপাল তার বিদ্যুৎ খাতকে উন্নত করতে এশিয়ান ডেভেলেপমেন্ট ব্যাঙ্ক, বিশ^ ব্যাঙ্ক সহ বিভিন্ন দ্বিজাতীয় আর্থিক সংস্থা ও দেশের সাথে বহু দেন দরবার করলেও বোধগম্য কারণেই দেশটি নিজস্ব ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না এবং দিনের অধিকাংশ সময়েই থাকতে হচ্ছে অন্ধকারের মধ্যে।

একটি কথা স্বরণ রাখতে হবে যে ভারতের প্রক্ষেপন অনুযায়ী আগামী ২০৩০ সালে ভারতের বিদ্যুৎ চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মেগাওয়াট। ভারত এ বিদ্যুৎ প্রাপ্তির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই নেপাল ও ভুটান তার নিজস্ব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থির করতে পারবে বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এ দুটি দেশের জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের আগামী দিনের ভোগান্তি দেখতে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে।।

(চলবে…)