Home » অর্থনীতি » উত্তাল ষাটের দশক (অষ্টাদশ পর্ব)

উত্তাল ষাটের দশক (অষ্টাদশ পর্ব)

তীব্র কৃষক আন্দোলন

হায়দার আকবর খান রনো

last-4ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষক আন্দোলনও তীব্র হয়ে উঠেছিল। ফিরে আসি ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে শ্রমিক অভ্যুত্থান। আর মার্চের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে সারা দেশব্যাপী কৃষক বিদ্রোহ। এই কৃষক বিদ্রোহ ১৯৪৬এর তেভাগা আন্দোলন অথবা নানকার বিদ্রোহ, নাচোলের কৃষক বিদ্রোহ থেকে ভিন্ন ধর্মী ছিল। মওলানা ভাসানীর উত্তেজনাময় বক্তৃতা কৃষককে জাগিয়ে তুলেছিল। প্রধানত তহসিলদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রায় সকল জেলাতেই কৃষকরা বিদ্রোহ করেছিল। গ্রামের পর গ্রামে তহসিল অফিস অগ্নিদগ্ধ হতে থাকে। তখন দেশে একটাই কৃষক সংগঠন ছিল ভাসানীর নেতৃত্বাধীন কৃষক সমিতি। এখন যেমনর হরেক রকমের কৃষক সংগঠন আছে (যদিও অধিকাংশেরই কোন সাংগঠনিক ভিত্তি নেই), তখন তেমনটি ছিল না। এখন যেমন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি প্রভৃতি বুর্জোয়া দলও কৃষক সংগঠনের নামে একটি অঙ্গসংগঠন রাখে, এখন যেমন ছোট বড় সকল বাম সংগঠন একটি করে কৃষক শাখা রাখে অথবা এখন যেমন এনজিওরাও কৃষক সংগঠন করে, তখন এমনটি ছিল না। সেই সময়ের একমাত্র কৃষক সংগঠন ভাসানীর কৃষক সমিতিতে প্রধানত কমিউনিস্টরা কাজ করতেন। তবে ১৯৬৯এর মার্চ মাসে যে কৃষক বিদ্রোহ সারা গ্রামাঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল তা কোন দলের অথবা কৃষক সমিতির পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত অনুসারে হয়নি। কৃষক জনতার চরম ক্ষোভ ছিল তহসিল অফিসের অত্যাচারের ব্যাপারে। তাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে, কিন্তু দলবদ্ধভাবে কৃষকরা তহসিল অফিসে গিয়ে আগুন লাগিয়েছিল। এক জায়গার দেখাদেখি অন্য জায়গার কৃষকরাও তহসিল অফিস আক্রমণ করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। এই ভাবে সারা বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলে আগুন জ্বলছিল।

এটা গেল মার্চের কৃষক বিদ্রোহের প্রথম পর্যায়। পরবর্তী পর্যায়ে মার্চের মাঝামাঝির দিকে কৃষক বিদ্রোহ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। এবার টার্গেট হয়েছিল গরু চোর এবং চিহ্নিত গণদুশমনরা। তাদেরকে ধরে এনে প্রকাশ্যে গণআদালতে বিচার করে শাস্তি দেয়া হতো। অনেকটা যেন ফরাসী বিপ্লবের মতোই। জামালপুর ও চাঁদপুরের কয়েকটি জায়গায় গরু চোর ও স্থানীয় দুশমনদের গণবিচারের রায় অনুসারে সবার সামনে জবাই করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল। বিচার এবং মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল হাজার হাজার মানুষের সম্মুখে যারা হাত তুলে সোচ্চারে সম্মতি জানিয়েছিল। তবে এখানে বলে রাখা দরকার যে, এই সকল ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে একজনকেও মৃত্যুদন্ড বা অন্য কোন শাস্তি প্রদান করা হয়নি।

বলাই বাহুল্য, এই ধরনের কাজ কৃষক সমিতি করেনি। গণআদালত বা মৃত্যুদন্ড প্রদানের ব্যাপারটির সাথে কোন রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিল না। এমনকি নকশালরাও নয়, যারা পরবর্তীতে শ্রেণী শত্রু খতমের রাজনীতি গ্রহণ করেছিলেন। এই ধরনের ঘটনা অবশ্য খুব বেশি জায়গায় হয়নি।

প্রশ্ন জাগতে পারে গরু চোররা কেন টার্গেট হলো? সেই সময় সংঘবদ্ধ গরু চোর ছিল, যাদের সাথে স্থানীয় চেয়ারম্যান বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত ছিল। গরু চোরদের পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও জনতা একই ধরনের শাস্তি দিয়েছিল। এখন অনেক জায়গায় গরু দিয়ে চাষাবাদ কমে গেছে। কিন্তু তখন গরু ছিল কৃষকের উৎপাদনের এবং জীবন ধারনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। গরু চুরি হলে কৃষকের যে কী পরিমাণ ক্ষতি হয় তা হয়তো শহরে বসবাসকারী অথবা এখনকার প্রজন্ম বুঝতে পারবে না।

ধনী ও মধ্য কৃষকের গরু থাকে। সংখ্যায় কম হলেও গরিব ও ভূমিহীন বর্গাচাষীরও গরু ছিল। তখন ভূমিহীনের সংখ্যা ছিল গ্রামীণ জনতার একতৃতীয়াংশ। আর কৃষি জমির একচতুর্থাংশ জমিতে বর্গাচাষ হতো। কয়েকটি এলাকায় জোতদারদের জমি ও প্রভাব খুব বেশি ছিল। এখন আগের তুলনায় জোতদারের সংখ্যা কমেছে। কিন্তু ভূমিহীনদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে যারা নানা ধরনের অকৃষি কাজে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। সেই সময় (অথবা এখনো) একেবারে নিঃস্ব ভূমিহীনদের লাঙ্গল গরু কিছুই ছিল না। কিন্তু কৃষক বিদ্রোহে, তা সে তহসিল অফিসে আগুন দেয়াই হোক অথবা গরু চোরের শাস্তি বিধানের জন্য গণআদালতই হোক, সেই নিঃস্ব গরিব মানুষদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। ১৯৬৯এর গণঅভ্যূত্থানে অথবা কৃষক অভ্যুত্থানে (এমনকি ১১ দফায় অথবা ভাসানীর কর্মসূচিতে) নিঃস্ব কৃষকের জন্য সরাসরি কোন দাবি ছিল না। তাহলে এই শ্রেণীটির এত উৎসাহের কারণ কি ছিল? তারা এই অভ্যুত্থানের মধ্যে গরিব ও অত্যাচারীত্বের মুক্তি স্বপ্ন দেখেছিলেন। ‘‘কেউ খাবে আর কেউ খাবে না তা হবে না তা হবে না’’ এই স্লোগানটি গ্রাম ও শহরের গরিব মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। সরাসরি নিজেদের দাবি না থাকলেও যে কোনো ধরনের অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণী সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। সম্ভবত এর মধ্যদিয়ে তারা অদূর ভবিষ্যতে নিজেদের শোষণ ও অত্যাচার থেকে মুক্তির আকাঙ্খা পূরণের স্বপ্ন দেখে।

১৯৬৯এর মার্চ মাসে যে ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত কৃষক বিদ্রোহ দেখা গিয়েছিল, তা খুবই জঙ্গী রূপ লাভ করলেও তা ছিল নেতৃত্বহীন এবং অসংগঠিত। প্রধানত স্বতঃস্ফূর্ত। এমন আন্দোলন বেশী দূর অগ্রসর হতে পারে না। তবে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত ও পরিপক্ক রূপ নিয়েছিল আরও কয়েকমাস পরে। এই ক্ষেত্রেও কৃষক জাগরণের উদ্বোধন ঘটালেন মওলানা ভাসানী।

ইয়াহিয়ার সামরিক শাসনে প্রকাশ্য সভা, সমাবেশ, মিছিল, ধর্মঘট নিষিদ্ধ ও দন্ডনীয় ছিল। আইয়ুবের সামরিক শাসনের মতো দ্বিতীয় সামরিক শাসনের দন্ডসমূহের মধ্যেও বেত্রাঘাতের মতো দন্ডের বিধানটি ছিল। তাছাড়া মৃত্যুদন্ড, দীর্ঘমেয়াদী কারাদন্ড ইত্যাদি তো ছিলই। তবে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানের বাংলাদেশ) সাহসী জনগণ সামরিক আইনকে খুব একটা পাত্তা দেয়নি। (ইতোপূর্বে বর্ণিত টঙ্গীর শ্রমিকদের ধর্মঘট, ঢাকার সামরিক প্রশাসককে আটক করার ঘটনা এর প্রমাণ বহন করে)

ইয়াহিয়ার সামরিক শাসন অবশ্য কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী ছিল। এই সামরিক সরকার প্রকাশ্য জনসভা নিষিদ্ধ করলেও ঘরোয়া সভা অনুমোদিত ছিল। রাজনৈতিক দলও নিষিদ্ধ ছিল না। একে বলা হয়, ঘরোয়া রাজনীতি। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে এই ধরনের ঘরোয়া রাজনীতির দৃষ্টান্ত দেখতে পেয়েছি। যাই হোক, যে সময়ের কথা বলছি সেই ১৯৬৯ সালের ইয়াহিয়ার সামরিক শাসনে প্রকাশ্যে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ছিল। মওলানা ভাসানী ঘোষণা দিলেন পাবনা জেলার শাহপুরে কৃষক সমাবেশ হবে। ভাসানীর এই ঘোষণায় সারাদেশের কৃষক, কৃষক কর্মীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। ভাসানী সমাবেশ ডেকেছেন। তাকে সফল করতেই হবে। এদিকে যে সামরিক শাসনে সমাবেশ নিষিদ্ধ, এটা যেন কারোর মাথার মধ্যেই আসেনি। মধ্যবিত্ত কৌতূহলী হয়ে উঠলো, দেখা যাক কী হয়। উচ্চবিত্তরা ভীত হল। আওয়ামী লীগও উদ্বিগ্ন। তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন কিছু করতে চান না, যাতে নির্বাচন ভেস্তে যায়। ভাসানীর ‘বাড়াবাড়ি’ নির্বাচনকে বানচাল করে দিতে পারে, এমনটিও ভেবেছিলাম তারা। সবচেয়ে বেশি বিব্রত সামরিক শাসকরা। তারা না পারছে গিলতে, না পারছে ফেলতে। তারা বলপ্রয়োগ করে ভাসানীর সমাবেশ বন্ধ করতে পারে। তাতে পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও খারাপ হবে। অন্যদিকে বাধা না দিলে মার্শাল ল’ বলে কিছুই থাকে না। নেহায়েত ঢোড়া সাপে পরিণত হয়।

এদিকে মওলানা ভাসানী একটি কৌশলী পদক্ষেপ নিলেন। শাহপুরের যে বিশাল মাঠে সমাবেশ হবে। সেই মাঠটির কয়েক পাশে কয়েকটি বাশের বেড়া দেয়া হল। কিন্তু বিশাল মাঠটি পুরো ঘেরাও করা সম্ভব নয়। এমনকি চার ভাগের এক ভাগও ঘেরাও হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বেড়ার উপর লাল কাপড় লাগিয়ে দেয়া হল। মওলানা ভাসানী বললেন, এই তো ঘরোয়া সমাবেশ। বস্তুত তা মোটেও ঘরোয়া সমাবেশ ছিল না। উপরে কোন ছাউনি ছিল না। লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটেছিল। মঞ্চ থেকে মাইকে বক্তৃতাও হচ্ছিল। একে কি ঘরোয়া সমাবেশ বলা চলে?

সামরিক শাসকরা নানাভাবে সেনা কর্মকর্তা পাঠিয়ে বা অন্যভাবে ভাসানীকে সরাসরি সামরিক শাসন ভঙ্গ না করতে, এই রকম প্রকাশ্য সমাবেশ না করতে অনুরোধ করেছিলেন। ভাসানী শোনেননি। ১৯৬৯ সালের অক্টোবর মাসে শাহপুর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সমাবেশ থেকে মওলানা ভাসানী শ্রমিককৃষক রাজ তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন।

তখনকার পিকিংপন্থী যতোগুলো দল ও গ্রুপ ছিল, সকলেই এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিল। কৃষকের বিভিন্ন দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক স্লোগান উঠেছিল। প্রধান স্লোগান ছিল ‘শ্রমিক কৃষক অস্ত্র ধরো পূর্ব বাংলা স্বাধীন করো।’ ‘জয় সর্বহারা’ স্লোগানটি তখনই উঠেছিল। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগরা বলতেন, ‘জয় বাংলা।’ তার বিপরীতে বাম ও কমিউনিস্টরা স্লোগান দিতেন ‘জয় সর্বহারা।’ দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগানের প্রতিযোগিতা তখনকার রাজনীতিতে প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার ছিল।

এই সম্মেলনের গুরুত্ব ছিল এই যে, এখান থেকে কৃষক ভলেনটিয়ার টিম গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। কমরেড আবদুল মতিন (ভাষা মতিন) মওলানা ভাসানীকে শাহপুরে কৃষক সমাবেশ করার জন্য এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। ভাসানী সেই পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন। আবদুল মতিন পরবর্তীতে বলেছিলেন যে, কৃষক ভলেনটিয়াররাই হবেন বিপ্লবী গেরিলা সৈনিক, এমন একটা চিন্তা তিনি করেছিলেন এবং মওলানা ভাসানীকে তা অবহিত করেছিলেন। সিদ্ধান্ত হয়েছিল ভলেনটিয়ারদের একটা চিহ্ন থাকবে লাল টুপি।

লাল টুপি শুধু কৃষক কর্মীরাই নয়, ভাসানী অনুসারী, বাম ও বিপ্লবীদের সকলেরই প্রতীকী চিহ্নে পরিণত হয়েছিল। যেমন হয়েছিল মুজিব ভক্তদের জন্য কালো রংয়ের মুজিব কোট। কৃষক শ্রমিকের সংগ্রামী আন্দোলন, বিশেষ করে কৃষকের আন্দোলন লালটুপি আন্দোলন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। শাহপুর সম্মেলনের পর কৃষক সংগঠন দ্রুত বিস্তার লাভ করতে থাকে।

শাহপুরের পরে মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের সন্তোষে আবার আরেকটি মহাসমাবেশের ডাক দিলেন। ১৯ জানুয়ারি ১৯৭০ সাল। সেই বছর পহেলা জানুয়ারি থেকে সভাসমাবেশের উপর আর নিষেধাজ্ঞা ছিল না। অতএব সন্তোষ সম্মেলন আইনগত বাধা ছিল না। বাংলাদেশের সকল জেলা থেকে কৃষক ও ন্যাপ কর্মীরা লাল টুপি পরে যোগ দিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গের দূর অঞ্চল থেকে চিড়ামুড়ি সাথে নিয়ে লাল টুপি পরে হাজার হাজার কৃষক টঙ্গী থেকে দেড়শ বাস ভাড়া করে শ্রমিকরা গিয়েছিলেন। বাস ভাড়া তারা নিজেদের পকেট থেকেই দিয়েছিলেন। সন্তোষ সমাবেশে দুই তিন লাখ লোক হয়েছিল। সঠিক হিসাব করা কঠিন। কারণ সারাদিন ধরে লোক আসছে, যাচ্ছে। এ যেন অনেকটা মেলার মতো। বড় বড় নৌকায় রান্না হচ্ছে। ভাত, ডাল, মাছ, মাংস সব এক সাথে। এর জন্য এক পয়সাও খরচ করতে হয়নি। কোন ধনী লোকের কাছে হাত পাততেও হয়নি। ভাসানীর মুরিদ এবং কৃষক কর্মীরা যে যা পেরেছে নিয়ে এসেছে। গণ রান্না হচ্ছে, খাওয়াও হচ্ছে। এছাড়াও ছোট ছোট খাবারের দোকানও বসে গেছে। এক দল কর্মী স্লোগান দিতে দিতে মঞ্চের কাছে আসছে। একদল বেরিয়ে যাচ্ছে। মঞ্চে বক্তৃতা চলছে। সংগ্রামী বক্তৃতা। বিপ্লবী গানও চলছে। সে এমন এক দৃশ্য যে তার পুরোটা বর্ণনা করা সম্ভব নয়।

এর মাঝে মওলানা ভাসানী দুই একবার বক্তৃতা করেছেন। সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যখন বক্তৃতা করতে ওঠেন, তখন উপস্থিত জনতা চারদিক থেকে জড়ো হয়। কেউ হয়তো গাছ তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিল। কেউ হয়তো খাচ্ছিল। কেউ হয়তো গানের আসর বসিয়েছিল। খাওয়া, বিশ্রাম, গান সব কিছু ফেলে চলে আসে মওলানার কথা শোনার জন্য। ভাসানী আবার এক ঘন্টার কম বক্তৃতা করেন না। তিনি অসাধারণ বক্তা। বক্তৃতায় মানুষকে হাসাতে পারতেন, কাঁদাতে পারতেন, উত্তেজিত করতে পারতেন। সন্তোষের বক্তৃতায় তিনি প্রধানত কৃষক শ্রমিকের মুক্তির কথা এবং সমাজতন্ত্রের কথা বলেছিলেন।

শাহপুর ও সন্তোষের সম্মেলনের পর কৃষক সংগঠন বিস্তৃতি লাভ করেছিল। খুবই সংগ্রামী কৃষক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সম্ভাবনা ছিল আরও বেশি। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গেল নকশাল আন্দোলনের প্রভাবের কারণে।।

(চলবে…)