Home » অর্থনীতি » সার্কের আড়ালে ভারতের বিদ্যুৎ আধিপত্য – দ্বিতীয় লক্ষ্য বাংলাদেশ (দ্বিতীয় পর্ব)

সার্কের আড়ালে ভারতের বিদ্যুৎ আধিপত্য – দ্বিতীয় লক্ষ্য বাংলাদেশ (দ্বিতীয় পর্ব)

বি. ডি. রহমতউল্লাহ্

last 2গত পর্বে নেপাল ও ভুটানের উপর ভারতের বিদ্যুৎ আধিপত্যের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ পর্বে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের উপর এক বাধাহীন আধিপত্যের চিত্র তুলে ধরা হবে। এসবই করা হচ্ছে বিভিন্ন চুক্তির নামে, বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিয়ে সাহায্য করার নামে এবং বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার কথা বলে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার আগে বাংলাদেশের বর্তমান কয়লা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে যদি একটি বর্ণনা দেয়া যায় তাহলে বোঝা যাবে, ভারতের ৫০০ মেঃ ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ, রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) সাথে পুরোনো চালু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সংরক্ষণ চুক্তির চালবাজির ধরণটা। এটা ঠিক বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত দীর্ঘদিন থেকে এক নিরাময়যোগ্য সংকটের মধ্যেই চলছে। দিন দিন এ খাতের সংকট ইচ্ছা করে আরো বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের উন্নয়নে লাগসই নীতি প্রনয়নসহ তা বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন অভিজ্ঞজনদের হিসেব ও পরামর্শ, সেমিনার কিংবা কর্মশালায় সার্বজনীন মতামতের মাধ্যমে গৃহীত উপায় সমূহ গত ১৫/২০ বছর ক্ষমতাসী সরকারগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে তুলে ধরা হয়।

যা করা যেতো

নিষ্ঠাবান অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের হিসেব ও পরামর্শ অনুযায়ী যেভাবে খুব অল্প সময় ও ব্যয়ে হিসাবকৃত বর্তমানের আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি নিবারণ, বর্তমানের দৈনিক ২০০ কোটি ঘনফুটের চাহিদার অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন করেও আরও কিছু বাড়তি গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী দেয়া হলো: পুরোনো অদক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনগুলোকে নবায়ন করে ৯০০ মেঃওঃ (যা বর্তমানে ভারতকে বিনা বাধায় দিয়ে দেয়া হচ্ছে), কোজেনারেশনের মাধ্যমে ৪শ, নবায়নযোগ্য জ্বালানীর মাধ্যমে ২শ অর্থাৎ ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে মোট উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় ১৫শ মেঃ ওয়াট, সঠিক ও বৈজ্ঞনিক লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৫শ ও দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে অনায়াসে আরও ৬শ মেগাওয়াট সাশ্রয় (যা ইউএনডিপিএর একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নরসিংদীতে প্রমানিত) অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার মেঃ ওয়াট সাশ্রয় ও উৎপাদন বৃদ্ধি করে আগামী ১২ মাসের মধ্যে সিষ্টেম নির্ভরশীলতা নিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি করা যায়। নিষ্ঠা, শ্রম ও প্রজ্ঞার সাথে পরিশ্রম করলে ন্যুনতম ২ হাজার মেগাওয়াট সাশ্রয় (উৎপাদন বৃদ্ধিসহ) করা তো অবশ্যই সম্ভব।

ইচ্ছা করে সৃষ্ট সংকট

বর্তমান সরকার ইচ্ছা করে সমস্যাগুলোকে জিইয়ে রেখে শুধু ভারতকেই বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ করে দেয়নি, এই সুযোগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভারতবাংলাদেশ বিদ্যুৎ চুক্তির ধারাসমূহ সংবাদপত্রের মাধ্যমে যেটুকু পড়েছি, তাতে আমি একটুও বিস্মিত হইনি। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকট মিটানোর নামে একটির পর একটি যে ধরনের রহস্যময় পদক্ষেপ নিচ্ছিল তাতে এটা বলতেই হবে যে, সরকারের মাঝে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা দেশ ও গনবিরোধী দূর্নীতিবাজ একদল কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেট সদস্যদের মিলিত অপচেষ্টায় এদেশের জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংকট কোনদিনই অপসৃত হবে না, বরং সম্ভাব্য সমাধানের সমস্ত পথে বাধা সৃষ্টি করে জ্বালানী ও বিদ্যুৎখাতে বিদেশী আগ্রাসনের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলবে।” সরকারের একটির পর একটি পদক্ষেপ স্পষ্ট করলেই একথা একশতভাগ সত্য বলে প্রমাণিত হবে। আর সেই একই ধারাবাহিকতার ২০১০ সালের ১৮১৯ ফেব্রুয়ারী ভারত ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয় ষ্টিয়ারিং কমিটির সভা।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী বিষয়ক এ চুক্তি বা সমঝোতা সভার বিষয়টিকে এ সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সার্বিক পদক্ষেপ থেকে আলাদা করে দেখলে তা এক মারাতœক ভুল চিন্তাধারা হবে। আসলে বিদ্যুৎ খাতের ঘটনাগুলো এ সভা থেকে কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য যেভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়লো তাতে অনেকের মনে প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনার ২০০১ এর নির্বাচনে পরাজয়ের পর পরই তাঁর মন্তব্যটি স্মরন করিয়ে দেয়। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যদি জ্বালানী সম্পদ বিদেশে রফতানী করার শর্তে রাজী হতাম, তাহলে ২০০১ সালের নির্বাচনে আমাদের এ পরাজয় হতো না’। এ একটি সহজ উক্তি এবং এর মর্মার্থ সহজবোধ্য। কিন্তু জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে গৃহীত সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং উদ্ভূত সংকট ও তা সমাধানের পদক্ষেপে সরকারের ‘ইচ্ছা করে’ ব্যর্থতা এ সরল উক্তিকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে। কাজেই এটা বলা বোধ হয় প্রয়োজন যে, ভারতের সাথে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ নিয়ে ধারাবাহিক আলাপ আলোচনা বুঝতে হলে এ খাত নিয়ে সরকারের গেল ৬ বছরের বিভিন্ন পদক্ষেপগুলোকেও বুঝতে হবে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিয়ে সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে এর কারিগরী, আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষনগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষন করা প্রয়োজন বিষয়টিকে অনুধাবন করার জন্য এবং চুক্তিগুলো কিভাবে হওয়া উচিত ছিল, কিংবা এধরনের চুক্তির আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল কিনা। এ চুক্তি গত ৬ বছরের এ খাতের উপর সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে কিছুতেই, কোন ভাবেই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং তা ঘটে যাওয়া সব ঘটনাগুলোর পরিপূরক।

সংকটের বিশ্লেষণ

. এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়লো। এ অবশ্য অতীতের সরকারগুলোর দূর্নীতির ক্রমপুঞ্জিত বহিঃপ্রকাশ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অত্যন্ত স্বল্প ব্যয়ে ও অল্প সময়ে এ সংকট সমাধান যোগ্য। কিন্তু অতীতে সরকারের মতো এ সরকারও এ ধরনের তথাকথিত জটিল কারিগরী ও অর্থনির্ভর প্রকল্প নিংড়ে লুটপাট ও দুর্নীতির লোভ সম্বরন করতে না পারার কারণে ওই পথে যায়নি। একই সিন্ডিকেটের অধীনে এরাও অবৈধ রেন্টালমার্চেন্ট প্ল্যান্টসহ বিদেশ নির্ভর সব ধরণের গর্হিত প্রকল্প নির্মানে গেল এবং সমস্যাকে জিইয়ে রাখলো। ২. পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সমস্যাকে জিইয়ে রেখে এক ঢিলে বহু পাখী মারার কৌশল অবলম্বন করলো। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের জন্য প্রাথমিক ফুয়েলের (গ্যাস, কয়লা, পানি) জরুরী প্রয়োজনীয়তার অহেতুক উছিলা তুলে তাঁরা এশিয়া এনার্জির কাছে ফুলবাড়ী কয়লাখনি হস্তান্তরে দিশেহারা হয়ে উঠলো। উদ্দেশ্য জনগণকে বোকা বানানো, যেন জনগণ তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ রক্ষা করার আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করে। ৩. জনগণকে ফুলবাড়ীর ব্যাপারে যখন বিভ্রান্ত করা গেল না, তখোন বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের জন্য সরকার হৈ চৈ শুরু করলো যে আমাদের গ্যাস তুলতে হবে। সাগরবক্ষে অনেক গ্যাস, এতো আমরা তুলতে পারবো না। বিদেশীদের দিয়ে দেই। ওরা কিছু নিবে, বাইরে বিক্রি করবে আর আমাদের কিছু দিবে এবং ঐ গ্যাস দিয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবো। কি চমৎকার সমাধান। কিন্তু তাতেও জনগণ সারা দিচ্ছে না। ৪.তার পরপরই সৃষ্টি করা হলো এক মহা গ্যাস সংকট। বলা যায় একেবারে কাঁচাহাতে সরকার অকৃত্রিম উপায়ে গ্যাস সংকট সৃষ্টি করলো। বিশেষজ্ঞরা হিসেব কষে দেখিয়ে দিলেন আসলে গ্যাসের কোন সংকটই নেই।

সুতরাং এটা প্রতিফলিত যে, এগুলি একই সূত্রে গাঁথা। উদ্দেশ্য একটিইবিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া। কাজেই নির্দ্বিধায় বলা যায় বিভিন্ন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হিসেবেই আজ ভারতের সাথে বাংলাদেশের জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের এ চুক্তি বা সমঝোতা।

চুক্তির কিছু প্রতিক্রিয়া

প্রথমেই একটি বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করছি যে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালীন সময়ের ৫০ ধারা সমঝোতা ও ৩টি চুক্তির কপি কেউ সম্ভবতঃ আজও দেখেনি, এ বিষয়ে পার্লামেন্টে আলাপ হয়নি বিধায় দেশবাসীও এ বিষয়ে খুব স্পষ্ট করে কিছু জানে না।

ষ্টিয়ারিং কমিটির সভার পরে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের বিদ্যুৎ সচিব বলেছিলেন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পথে আমরা বেশ কিছু দূর এগিয়েছি। আরও অনেক দূর যেতে হবে। বাংলাদেশকে এগিতে যেতে হবে বেশ কিছুটা দ্রতলয়ে। এ ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগীতা করতে ভারত প্রস্তুত। কারণ, বাংলাদেশ ভারতে নিকটতম প্রতিবেশী। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভারতের সাথে বিদ্যুৎ খাতে এসব কার্যক্রম কোনোটাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হচ্ছে না। সব কাজের ভিত্তি হচ্ছে সহযোগিতা। কিন্ত আজ দেখছি ভারত সহযোগিতার নামে ইচ্ছা মতো বাণিজ্য করে যাচ্ছে।

ভারতবাংলাদেশ সচিব পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় যে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে উল্লেখ করা আছে তা সহ এ সম্পর্কিত কিছু বিশ্লেষন নীচে দেয়া হলোঃ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ভারতের এনটিপিসির যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের সুন্দরবনের চারদিকে ১০ কিঃ মিঃ বিস্তৃত এলাকায় দু’টি ৬৬০ মেঃ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রামপালে নির্মিত হবে। ভারতের প্রাক্কলন অনুযায়ী এর সম্ভাব্য নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩,২০০ কোটি টাকা যা প্রচলিত ব্যয় থেকে প্রায় ১.৫ গুন বেশী। বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যয়ের ৩০% দুই দেশ সমান ভাগে দিলেও বাকী ৭০% ভাগ আসবে ভারত প্রদত্ত ঋণ থেকে, শেষ বিশ্লেষণে ৮৫% অর্থই বিনিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ। ১৫% পুজি বিনিয়োগ করা স্বত্বেও বাংলাদেশ ভারতকে এ প্রকল্পের সমান অংশীদার করতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে বলা হচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা প্রস্তাবিত কোম্পানী নয়, ভারতের এনটিপিসি এ কাজটি পরিচালন করবে। এ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ভারত থেকে আমদানী করা নিম্নমানের কয়লা যা অতিরিক্ত কার্বন উদগীরন করে,যাতে সালফেট,এ্যাশ ও ময়েশ্চার কনটেন্ট বেশী থাকার ফলে বায়ূ দূষন সহ অনেক বেশী কয়লা জ্বালিয়ে কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম বেশী পড়বে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক চিহ্নিত পুরনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো এনটিপিসি সংস্কার করবে। প্রথমে ১টি কেন্দ্র দিয়ে কাজ শুরু করা হবে। উদ্দেশ্য সম্ভবতঃ এটির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যা এদেশের প্রকৈাশলীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিল এবং সম্ভাব্য ব্যয়সহ সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনাও দিয়েছিল। এটির ফলাফল দেখে ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কারের আরও কার্যক্রম এনটিপিসি কর্তৃক গ্রহণ করা হবে। ভারত থেকে ৫০০ মেঃ ওয়াট বিদ্যুৎ আমদানীর জন্য ভারতবাংলাদেশের মধ্যে মোট ১৩০ কিঃ মিঃ গ্রীড লাইন নির্মাণ,যার মধ্যে ৮৫ কিঃমিঃ লাইন পড়বে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। এ লাইন টাটা, আদানি, ল্যাংকো, বিড়লা, রিলায়েন্স ইত্যাদি যে কোন প্রাইভেট সংস্থা ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে একটি গ্রীড উপকেন্দ্রও স্থাপন করতে হবে। গ্রীড উপকেন্দ্র বাদেই গ্রিড লাইনের জন্য ব্যয় হবে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। সরকার ও পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) যৌথভাবে এই ব্যয় বহন করবে। গ্রীড লাইন ব্যবহারের জন্য হুইলিং চার্জ দিতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যুৎসচিব পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রীড স্থাপন প্রকল্পের সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, ২০১২ সালের জুলাই মাসে এই সঞ্চালন লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ আনানেওয়া শুরু করা যাবে। ভারত থেকে আনা প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘন্টা) বিদ্যুতের দাম গ্রাহক প্রান্তে পাঁচ টাকা হতে পারে। আমাদের ভূমিতে ভারত জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি মারাতœক পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য উৎপাদনকারী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বানাবে যার বিনিময়ে সে লাভ তো নিবেই উৎপাদিত বিদ্যুতের ন্যুনতম অর্ধেক মালিকানা পাবে। অনেকটা জোর করে চাপিয়ে দেয়া এ চুক্তির মাধ্যমে ভারত তার জমে থাকা অচল অর্থ পুজিকে অনেকটা জোর করে এদেশে ঋণ দিয়ে সচল করবে। বিদ্যুৎ সচিব জানান, ভারত থেকে আনা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করবে ভারতের এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। হুইলিং চার্জসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সম্ভাব্য দাম সাড়ে তিন টাকার মতো হতে পারে, গ্রাহক প্রান্তে যা পাঁচ টাকা হতে পারে। ভারতের বিদ্যুৎ সচিব জানান, সে দেশে এখন গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ পায় প্রতি ইউনিট সাড়ে তিন টাকা দামে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিদ্যুতের গড় দাম প্রতি ইউনিট চার টাকার মতো। ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনছে গড়ে ১৬ টাকার ও বেশী দামে। এ প্রকল্পে ভারত তুলনামূলকভাবে বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে নিজস্ব নির্মিত নিম্নমানের পাওয়ার ষ্টেশন ও সম্পৃক্ত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে বাণিজ্য করার সুযোগ তৈরী করবে। এ প্রকল্পে ভারত তার দেশীয় লোকবল, ঠিকাদার,প্রকৈাশলী সহ প্রায় সবধরনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দিয়ে প্রকল্প ঋণ তো বটেই, প্রকল্পের সমুদয় অর্থ উপার্জ্জনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ প্রকল্পে ভারত তার অত্যন্ত নিম্নমানের কয়লা যা মারাত্মক পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য উৎপাদনকারী এবং ‘সবুজ বিনাশী গ্যাস’ ও রাসায়নিক বৃষ্টির (এসিড) সৃষ্টি করে তা সরবরাহ করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। কোপেনহেগেন শীর্ষ সম্মেলণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত কর্তৃক পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য উৎপাদনকারী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সৃষ্ট পরিবেশ দূষনের হুমকি সৃষ্টির যাবতীয় কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অত্যন্ত উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদের যে ন্যায্য সংগ্রাম শুরু করেছিলেন তা এখোন মুখ থুবড়ে পড়বে।।