Home » বিশেষ নিবন্ধ » ২০১৪ :: দুর্নীতির দায়মুক্তির মিছিল

২০১৪ :: দুর্নীতির দায়মুক্তির মিছিল

এম. জাকির হোসেন খান

dis 4আমরা লোক দেখানোর জন্য কোনো কাজ করছি না। কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই। দুর্নীতিবাজরা যত শক্তিশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে দুদকের কার্যক্রম চলবে’। ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৭০জন মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী এবং এমপির প্রকাশিত হলফনামায় অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর কয়েক জনের সম্পদের অনুসন্ধান করলেও বাঁকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকে দুদক সচিবের মন্তব্য এরকমই ছিল। কিন্তু বছর শেষের বাস্তবতা হলো শুধুমাত্র ২০১৪ সালেই দুদক ১৬শ’র বেশি রাজনৈতিক ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয়া হয় দুদকের ‘দায়মুক্তির মিছিলে’। উল্লেখ্য, দুদক কর্তৃক গত ৫ বছরে নিবন্ধিত ৯০৪টি দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে প্রায় ৯০০ জনের বিরুদ্ধে কোনো মামলাও দায়ের করেনি এবং গত ৪ বছরে দুদক বিলুপ্ত দুর্নীতি ব্যুরোর দায়েরকৃত মামলা সহ সর্বমোট প্রায় ৫,৪০০টি দুর্নীতির অনুসন্ধান নথিভুক্ত করে আসামিদের দায়মুক্তি দিয়েছে। এ হলো ২০১৪ সালে দুর্নীতি রোধে সরকারের সার্বিক পারফরমেন্সের খন্ড চিত্র। উল্লেখ্য, দুর্নীতির সংজ্ঞায় বলা হয় – ‘ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সরকারি বা বেসরকারি অফিসের ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঘুষ, আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি বা রাষ্ট্র দখল (state capture), রাষ্ট্র কর্তৃক আইন প্রণয়ন, নীতিমালা এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়, যাতে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী লাভবান হয় যা বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম যেমন, টেন্ডারবাজি, প্রতারণা বা অর্থ পাঁচারের ন্যায় কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং ক্ষেত্রবিশেষে এগুলোর মাধ্যমে জোরদার হয় (কওফম্যান, ২০১০)। বাংলাদেশের বাস্তবতা এটাই।

২০১৪ সালের ধারাবাহিকভাবে পদ্মা সেতু দুর্নীতি, হলমার্ক কেলেংকারি, শেয়ার বাজারে কারসাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্র ও গ্যাস ব্লক ইজারায় সহ শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি সহ সরকারিবেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট, ডেসটিনির ১৪০০ কোটি টাকা লোপাট, টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে সরকারি উদ্যোগে চাঁদা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে নির্মিত রানা প্লাজার দুর্ঘনায় শত শত শ্রমিক হত্যার নায়ক রানা ও তার গডফাদার এমপি, মন্ত্রীর বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ ২০১৪ সালেও অনিস্পন্ন রেখেছে দুদক। অবৈধ অর্থের মাধ্যমে অবৈধভাবে নির্মিত অভিশপ্ত রানা প্লাজার ঘটনায় সম্পৃক্ত এমন অভিযোগ রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে তাদের ব্যাপারে দুদক নিষ্ক্রিয়। এমনকি বিনা ভোটের সংসদ সদস্য প্রকাশ্য দিবালোকে ক্রেস্টের মাধ্যমে সম্মাননার পরিবর্তে ক্যাশ চাইলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে। আইন লংঘন করে ২০১৪ সালে সরকারের একাধিক মন্ত্রীএমপি সরকারের সাথে প্রকাশ্য ব্যবসা থাকার অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কানাডা, দুবাই, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে হাজার কোটি টাকা পাচারের সাথে রাজনৈতিক এবং প্রভাবশালী ক্ষমতাধরদের জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ সত্ত্বেও দুদক নির্বিকার। সাম্প্রতিক তথ্য মতে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ১০ নাগরিক প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা (জাতীয় বাজেটের প্রায় ৪ ভাগের এক ভাগ) অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন যার মধ্যে ৫ জন জাতীয় রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং এর মধ্যে ২ জন ক্ষমতাসীন সরকারের ২টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। ২০১২ সালেও প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার হয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থই দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত।

২০১৪ এর বিতর্কিত নির্বাচনের আগে হলফনামায় প্রকাশিত সরকারি দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার এবং দুদকের তর্জনগর্জন যে জাতির সাথে প্রতারণামূলক তা ২০১৪ সাল জুড়ে দুদকের অবারিত দায়মুক্তিতেই স্পষ্ট। ২০১৪১৫ সালেও জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রয়েছে।

২০১৪ এ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন সরকারের সাবেক বনমন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, সাবেক এমপি এইচ বি এম ইকবালসহ অনেকে। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর পরামর্শকের কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের দায়েরকৃত অভিযোগনামায় নাম রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে অর্থাৎ সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ নয়জনকে বিচার থেকে অব্যাহতি দেয় দুদক। সংসদ সদস্য এনামুল হকের ২১৪ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকলেও দুদক তাকে অব্যাহতি দিয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে বৈধতার সংকটে পড়া বর্তমান সরকারের ইমেজ উদ্ধারের জন্যই যে দুদক বিভিন্ন সময়ে নানা কথা বলেছে তা এখন পরিস্কার। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর ১৫টি দুর্নীতির মামলা সহ সরকারি দলের নেতাদের মামলাগুলো ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ প্রত্যাহার করা হয়। মন্ত্রীএমপিদের পাহাড়সম সম্পদ অর্জনকে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় আয়ের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি’র সাথে তুলনা করেন। ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রিসভার সংসদীয় দলের সভায় দুর্নীতিকে কোনো অবস্থাতেই প্রশ্রয় না দেয়ার প্রতিশ্রুতিও জাতিকে শুনতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালে সরকারের মন্ত্রী, এমপিরা সম্পদ উপার্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন বলেও অর্থমন্ত্রীর জাতির সাথে পরিহাস করেন। বিতর্কিত ১০ম সংসদের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছিল, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে, আইনি, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদার করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা আরও বাড়ানো হবে। ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, কালো টাকা, চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি, টেন্ডারবাজি ও পেশি শক্তি প্রতিরোধ এবং দুর্র্নীতিদুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের বৈধতা প্রদানে আওয়ামী সুশীল সমাজকে সুযোগ করে দিতেই দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকজনকে আপাতত মন্ত্রী পরিষদ থেকে বাদ দেয়া হয়। কিন্তু শেয়ার বাজার কেলেংকারির সাথে জড়িত রয়েছে এমন অভিযোগ উঠলেও তাদেরই আবার গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালের মে মাসে মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা ক্রেস্টে স্বর্ণ জালিয়াতির ঘটনার অনুসন্ধানে জালিয়াতির সব ধরনের নথি পাওয়া গেলেও অভিযোগের অনুসন্ধান এখন হিমাগারে। এমনকি রেলের নিয়োগ দুর্নীতির প্রধান ব্যক্তি রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধাকে দুদকের করা পাঁচটি মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পেট্রোবাংলায় দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করলেও অনুসন্ধান প্রতিবেদন পেশ করার পরও দুদক অভিযোগটি পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘ এ ফিরিস্তি এখানেই শেষ নয়। হলমার্ক সহ হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা সত্ত্বেও আড়াই বছর আগে শুরু হওয়া তদন্ত ২০১৪ সালের ডিসেম্বরেও শেষ হয়নি সোনালী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও আওয়ামী লীগ নেত্রী জান্নাত আরা হেনরীর বিশাল সম্পদের অনুসন্ধান। এমনকি সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও প্রদীপ কুমার দত্তের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি নথিভুক্ত করেও দুর্নীতির দায় থেকে রেহাই দিয়েছে দুদক।

দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪ অনুযায়ী ০ ১০০ পয়েন্ট স্কেলে ২৫ পয়েন্ট (গত বছরে যা ছিল ২৭) পেয়ে বাংলাদেশ ১৭৫টি দেশের মধ্যে ১৪৫তম অবস্থানে নেমে আসে। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে তালিকার উচ্চক্রম অনুযাযী বাংলাদেশের ৯ ধাপ অবনতি এবং নিম্নক্রম অনুযায়ী ২ ধাপ নিচে (১৬তম স্থান থেকে নেমে ১৪তম স্থানে) অবস্থানে এসে পৌছেছে। এমনকি পাকিস্তানও বাংলাদেশের ওপরে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় দুদকের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুদক চেয়ারম্যানের দাবি, ‘দুদক আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী’।

২০১৩ এ দুদক আইন ২০০৪ এর সংশোধনী পাসের মাধ্যমে দুদককে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মতো অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নিলেও দুদক কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। অথচ কয়েকদিন আগেই দুদক সচিব মন্তব্য করেছিলেন, ‘সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সচিবদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান আইওয়াশ নয়’। ১০ বছর পুর্তিতে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদককে দায়মুক্তি কমিশন বলা হলে সেটা হবে অবিচার’। প্রশ্ন হলো, শেয়ার বাজার ও ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট, রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুন্ঠনের অভিযোগসহ নদী, নালা. খালবিল, খাস জমি দখলের মহোৎসবের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা না নেয়ায় দুদক অবিচারের সুযোগ করে দিচ্ছে তা তারা অস্বীকার করবে কিভাবে?

বাংলাদেশ সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা বলে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন রয়েছে, সেই একই সংবিধানের ২০() অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ‘রাষ্ট্র এমন অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুর্পাজিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবে না’। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সকল অবৈধ উপার্জন বা দুর্নীতি প্রতিরোধে অবস্থান গ্রহণ করা সরকারের রাজনৈতিক শুধুমাত্র অঙ্গীকার বা ইশতেহারে বর্ণিত কথামালাই নয় বরং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। দুদক আইন ২০০৪ এর ৩() অনুসারে, দুদকের স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার কথা।

দুর্নীতির ফলে রাষ্ট্রের অর্থনীতি অধোগতির দিকে, বিনিয়োগ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে এবং বেকারত্ব আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘বিনিয়োগের আকালের কারণ বা মূলধনের উৎপাদনশীলতার ওপর দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে প্রমাণিত’ (ল্যাম্বসডরফ, ২০০৩)। তাছাড়া ‘দুর্নীতির অবাধ বিস্তারের মাধ্যমে আয়বৈষম্য প্রকট হয় বিশেষকরে সমাজের ২০% দরিদ্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে’ (গুপ্ত, ২০০২)। এর অন্যতম উদাহরণ কুইক রেন্টালের বিদ্যুৎ ক্রয়ে দুর্নীতির ফলে গ্রাহককেই উচ্চ মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করায় নাগরিকদের আয়ের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। ‘দুর্নীতি সেখানেই বিস্তার লাভ করে যেখানে নাগরিক স্বাধীনতা, মুক্ত গণমাধ্যম, স্বচ্ছতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতি অনুপস্থিত থাকে, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং কার্যকর আইনশৃংখলা বাহিনী রাজনৈতিক দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রধান নিয়ামক’ (কওফম্যান, ২০১০)। তাছাড়াও দুর্নীতি নাগরিকদের বিশ্বাসের ঘাটতি ঘটায় এবং অর্থ পাঁচারের ফলে সরকারি ব্যায় নিয়ন্ত্রণ চাপের মধ্যে পড়ে, বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা প্রদানের প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে রাষ্ট্র তার নৈতিকআইনী ভিত্তি হারিয়ে ফেলে। এ প্রেক্ষিতে হতাশ নাগরিকরা রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, দেশ ত্যাগ করে বা দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক এবং অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণকারী এলিট শ্রেণীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।।