Home » অর্থনীতি » উত্তাল ষাটের দশক (ঊনবিংশ পর্ব)

উত্তাল ষাটের দশক (ঊনবিংশ পর্ব)

নকশালবাড়ী আন্দোলনের প্রভাব এবং বামপন্থীদের সঙ্কট

হায়দার আকবর খান রনো

last 2ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হাজার হাজার বাম কমিউনিস্ট কর্মী সৃষ্টি করেছিল, যারা বিপ্লবী প্রত্যয় নিয়ে শ্রমিককৃষক আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আওয়ামী লীগের তরুণ অংশ অর্থাৎ ছাত্রলীগের বড় অংশের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা দৃঢ়তর হয়েছিল। বহুধাবিভক্ত কমিউনিস্টদের সকল অংশই তখন বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন। বামপন্থী ছাত্রদের মধ্যেও বিপ্লব টকবগ করছিল। বাম রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উচ্চতর সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ ঘটেছিল।

এই বাম কর্মীরা নকশালবাড়ীর ঘটনার দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিলেন। বিশেষ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি যখন চারু মজুমদার ও নকশালবাড়ী আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছিল, তখন তার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। তবে ’৬৯এর গণঅভ্যুত্থানের আগে নকশাল আন্দোলন সম্পর্কে কৌতূহল থাকলেও তা আমাদের দেশে প্রয়োগের জায়গায় যায়নি। ’৬৯এর শেষ ও ’৭০ সালেই নকশাল আন্দোলন চীনপন্থী দলগুলোকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করলো। নকশাল আন্দোলনের বৈশিষ্টসমূহ ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তবু এখানে প্রাসঙ্গিকক্রমে সামান্য পুনরাবৃত্তি করতে হচ্ছে।

নকশাল আন্দোলনের দুটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা দরকার। ১. কোন প্রকাশ্য আন্দোলন, গণসংগঠন ও নির্বাচন করা যাবে না। ২. গোপনে শ্রেণী শত্রু খতমের মাধ্যমে সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে উঠবে বিপ্লবের সেটাই নাকি একমাত্র পথ।

সুখেন্দু দস্তিদারমহম্মদ তোয়াহাআবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদীলেনিনবাদী) ও ন্যাপ, কৃষক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন এবং ছাত্র ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসলেন। মহম্মদ তোয়াহা ছিলেন ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক। তিনি পদত্যাগ করলেন। আবদুল হক ছিলেন কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনিও কৃষক সমিতি থেকে পদত্যাগ করলেন। মহম্মদ তোয়াহা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। তোয়াহা এবং তাদের দলের সদস্যরা সকলেই ন্যাপ, কৃষক সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন ও ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) থেকে দলবদ্ধভাবে পদত্যাগ করেছিলেন। ভাসানীর ডাকা সন্তোষ সম্মেলনেও তারা যোগদান করেনি। গণসংগঠন ও গণআন্দোলন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়া যে কতো বড় ক্ষতিসাধন করেছিল, তা উপলব্ধি করা মোটেও কঠিন নয়। এক পর্যায় ভাসানী ন্যাপ থেকে কমিউনিস্ট গ্রুপগুলো সরে এলো। সেটাও নকশাল প্রভাবের কারণে। এই অবস্থায় ভাসানী বড় একাকী অনুভব করেছিলেন।

গণঅভ্যূত্থানের পর পরই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় জোতদারের গোলা দখল এবং গরিব মানুষের মধ্যে বন্টনের মতো ঘটনাও ঘটেছিল। খাজনা দেয়া বন্ধ হয়ে গেল। হাট বাজারে তোলা সংগ্রহও বন্ধ হয়েছিল অনেক জায়গায়। জোতদারের জমি কৃষকের মধ্যে বন্টন করার দাবি উঠলেও জমি দখলের কর্মসূচি নেয়া হয়নি। মহাজনী ঋণের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠলেও কোন সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ছিল না। ধাপে ধাপে গণআন্দোলনের পথে কৃষক সংগ্রাম হয়তো আরও উন্নত স্তরে উঠতে পারতো। কিন্তু সেক্ষেত্রেও নকশাল প্রভাব সর্বনাশ করে দিয়েছিল।

একটা উদাহরণ দেয়া যাক। বাগেরহাট জেলায় (তখন মহাকুমা) বাহিরদিয়া নামে এক গ্রামে মোমতাজ নামে এক জোতদার ছিল। স্থানীয় কৃষকরা লাল টুপি মাথায় দিয়ে তার একটি বাশ ঝাড় দখল করে সেখানে লাল পতাকা উড়িয়ে দিয়েছিল। বাশ কেটে স্থানীয় গরিব কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হলো। সামান্য ঘটনা, তবু অসামান্য। প্রথমত জোতদারের অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়ে বড় যেটা হয়েছিল তাহলো তার ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি ধসে গিয়েছিল। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন কমরেড মানস ঘোষ (’৭১ সালে শহীদ হয়েছিলেন)। অন্যদিকে কৃষকের মধ্যে যে মনোবল তৈরি হয়েছিল তাকে কাজে লাগিয়ে আরও সংগঠিত ও পরিপক্ক কৃষক আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব ছিল।

কিন্তু পরবর্তী যে এ্যকশনটি করা হলো তা ছিল নকশাল রাজনীতির ‘খতমের রাজনীতি’। শ্রেণী শত্রু খতমের নামে একটি স্কোয়াড (প্রধানত ছাত্র ও অল্পবয়সী কৃষক দ্বারা গঠিত) জোতদার মোমতাজকে হত্যা করেছিল। এরপর যে পুলিশী আক্রমণ এসেছিল তার ফলে বামকর্মীরা এলাকায় থাকতে পারেননি। তারা তখন আশ্রয় নিয়েছিলেন টঙ্গীর শ্রমিক কলোনীতে। এটা অবশ্য শ্রমিককৃষকের মৈত্রীর একটা ভালো উদাহরণ ছিল।

ছাত্ররাও শ্রমিক কৃষক আন্দোলনের পাশে এসে দাড়িয়েছিল। পরিস্থিতি খুবই চমৎকার ছিল। কিন্তু আবারও বলছি, নকশাল রাজনীতি তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও বাম কমিউনিস্ট আন্দোলনের চরম ক্ষতি করেছিল। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হবার আগ পর্যন্ত অবশ্য শ্রেণী শত্রু খতমের ঘটনা খুব বেশি ছিল না। কিন্তু দুই একটা যাইই হয়েছিল, সেটাই মধ্যবিত্ত থেকে বিপ্লবীদের কিছুটা বিচ্ছিন্ন করেছিল।

নকশাল আন্দোলন একটা প্রবল ¯্রােতের মতো এসে অনেক কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এটা ছিল চরম বামপন্থী হটকারী লাইন। কিন্তু বিপ্লবী উত্তেজনায় ভরপুর। এর যত দোষই থাকুক তা কিন্তু দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ ও সংশোধনবাদকে সজোরে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছিল। এই জন্য দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে এক বিশাল সংখ্যক বুদ্ধিজীবী, কবি ও শিল্পীদেরকেও আকৃষ্ট করতে পেরেছিল, যদিও স্বল্পকালের জন্য।

সন্দেহ নেই যে সেদিন হাজার হাজার বিপ্লবী কর্মীরা যে নকশাল আন্দোলনের মতো বড় রকম ভুলের শিকার হয়েছিলেন, সেটা ছিল নেহায়েত ভুল। কিন্তু বুর্জোয়ার কাছে আত্মসমর্পণ অথবা পলায়নবৃত্তি অথবা নিকৃষ্ট ধরনের সুবিধাবাদ নয়, যেটা এখন বামপন্থী শিবিরে প্রবলভাবে বিরাজমান রয়েছে। সেদিন যে শত শত কর্মী বিপ্লবের স্বপ্ন নিয়ে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, এমনকি দৃঢ়চিত্তে হাসি মুখে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, সেই দিকটাও ভুললে চলবে না। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামেও যারা সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের লাইন নিয়েছিলেন, তারাও ভুল করেছিলেন। কিন্তু তাদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও জীবনদানকে আমরা মহান বলেই শ্রদ্ধা জানাই। লেনিনও সন্ত্রাসের পথ অনুসারী নারোদনিকদের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে কার্পণ্য করেননি। কার্ল মার্কসও ব্লাঙ্কীবাদীদের অবৈজ্ঞানিক ও হটকারী কাজকে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তাদের ত্যাগ ও আকাঙ্খাকে সম্মান জানিয়েছিলেন। লেনিন একবার বলেছিলেন, ‘বামপন্থী ভুলটা হল নিতান্তই ভুল, খুব বড় ভুল নয় ও সহজেই তা সংশোধন করা যায়। কিন্তু অভিযানে নামার দৃঢ়সংকল্পের ক্ষেত্রেই যদি ভুলটা হয় তবে সেটা আর ছোট ভুল নয়, বেইমানি’। (কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের তৃতীয় কংগ্রেসে বক্তৃতা ১১ জুলাই ১৯২১)

ফিরে আসি সেদিনের কথায়। ষাটের দশকের শেষ ও সত্তরের দশকের প্রথমে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে একদিকে ছিল দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ, আর তার বিপরীত প্রান্তে ছিল নকশাল রাজনীতি, হটকারীতার ভুলে ভরা। হ্যা, স্বীকার করি যে, এটা ছিল নিতান্তই ভুল এবং তা দীর্ঘকাল স্থায়ীও হয়নি। কিন্তু জাতির এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই রাজনীতি প্রবল হয়ে ওঠায় সেই ভুলটা যে কী বিশাল ক্ষতি করেছিল, তার খেসারত বামপন্থীদের বহুদিন পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

উপরে বাহিরদিয়ার যে নকশাল ধরনের এ্যকশনের বিবরণ দেয়া হল, সেটি করেছিল ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি’। তারা অবশ্য এর পর আর কোন খতমের এ্যকশনে যায়নি। গণসংগঠনও ত্যাগ করেননি। যুদ্ধ শুরু হলে তারা চীনের ভূমিকাকে অগ্রাহ্য করে সঠিক লাইন গ্রহণ করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসী যুদ্ধ করেছিলেন এবং ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছোট বড় সব মিলিয়ে ১৪টি আধামুক্ত গেরিলা ঘাটি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

নকশাল লাইন প্র্যাকটিস করেছিলেন সুখেন্দু দস্তিদারমহম্মদ তোয়াহাআবদুল হকএর নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদীলেনিনবাদী) এবং মতিনআলাউদ্দিনের নেতৃত্বধীন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি। অবশ্য এই প্রশ্নেই আবার দুই পার্টিতেই পরবর্তীতে ভাঙ্গন ধরেছিল।

এখানে এই দুই পার্টির দুইজন প্রথম সারির নেতার পরবর্তীতে লিখিত গ্রন্থ থেকে কিছুটা উদ্ধৃত করা যাক। কমরেড রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (মালে)-এর সক্রিয় কর্মী ও পরবর্তীতে নেতা। তিনি তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে ‘একাত্তরের রণাঙ্গনআমার দেখা আমার করা’তে লিখেছেন যে, পার্টিতে সার্বক্ষণিক কাজ করার জন্য নকশাল রাজনীতির লাইন অনুসারে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘… দলে দলে মেধাবী ও নিষ্ঠাবান কর্মীরা লেখাপড়া, চাকরিবাকরি, ঘরসংসার ত্যাগ করে দলে দলে সার্বক্ষণিক হয়ে আত্মগোপন করলাম।’ সেই সময় বিপ্লবী কর্মীরা যে মাও সেতুংএর তত্ত্ব অনুসরণ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন, তা রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বইয়ে যেমন উল্লেখ আছে, তেমন আমিও আমার নিজ অভিজ্ঞতা দিয়ে জেনেছি। বলাই বাহুল্য যে, তারা মাও সেতুংএর রাজনীতি, রণনীতি, রণকৌশলের কিছুই বোঝেননি অথবা ভুলভাবে বুঝেছিলেন। রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় সেই সময়ের খুলনার অভিজ্ঞতা দিয়ে বলছেন যে, কর্মীদের চাপেই পার্টি খতমের মতো বিপজ্জনক লাইন গ্রহণ করেছিল। খুলনার পার্টিতেও চারু মজুমদারের খতমের লাইনের বিরোধী ছিলেন কিশোরী মজুমদার। কিন্তু পার্টির ব্যাপক কর্মীরা তার কথা শোনেননি। যুদ্ধ শুরুর আগেই খুলনায় গ্রাম ও শহর মিলিয়ে পাচটি এ্যকশন হয়েছিল। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পার্টি যখন একটি সঠিক রণকৌশলের জন্য পথ হাতড়াচ্ছিল তখন নকশালবাড়ী ঘটলো। পার্টির নিচুস্তরের নেতাকর্মীরা ওই আন্দোলন সমর্থন করলো। খুলনা পার্টি কলকাতা থেকে প্রকাশিত দেশব্রতীসহ অন্যান্য বই পুস্তক সংগ্রহ করতো এবং তা পড়ে নেতাকর্মীরা নকশালবাড়ী আন্দোলনের আরো দৃঢ় সমর্থক হতে থাকেন।কেন্দ্রীয় কমিটি তার এক প্লেনামে শ্রেণী শত্রু খতমের লাইন গ্রহণ করে এবং আমরা এ্যকশন প্রোগ্রাম কার্যকরি করার চেষ্টা নিতে থাকি।’

এবার মতিনআলাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম নেতা ওহিদুর রহমানের অভিজ্ঞতার কথা শোনা যাক। তিনি বৃহত্তর রাজশাহীর নওগা জেলার আত্রাই অঞ্চলে শক্তিশালী কৃষক ঘাটি এবং পরবর্তীতে বিশাল মুক্তিবাহিনী গড়ে তুলে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। এক পর্যায়ে তিনিও নকশাল ও শ্রেণী শত্রু খতমের রাজনীতির শিকার হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগ করছেন। তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘মুক্তি সংগ্রাম আত্রাই’ থেকে কিছুটা উদ্ধৃত করবো।

তিনি লিখেছেন, ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে পার্টির কংগ্রেস ও সেই বছর ডিসেম্বর মাসে পার্টির বিশেষ কংগ্রেসে চারু মজুমদারের রাজনৈতিক লাইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খতমের লাইন গৃহীত হয়নি। তবে ‘পার্টিতে চারু মজুমদার ও নকশাল আন্দোলনের প্রভাব উত্তোরত্তর বাড়তে থাকে। কিন্তু যশোর জেলা কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করে চারু মজুমদারের রাজনৈতিকসামরিক লাইন গ্রহণ করে এবং শ্রেণী শত্রু খতমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।’ তিনি আরও বলেছেন, আরও আগে পার্টির সিদ্ধান্ত ছাড়াই পার্টির একাংশ খতমের লাইন শুরু করেছিল। ১৯৭০ সালের ২৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য পাবনার আহমদ রফিককে শ্রেণী শত্রু চিহ্নিত করে হত্যা করেছিল। ওহিদুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী ১৯৭১ সালের জুন মাসে অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পার্টি চারু মজুমদারের খতমের লাইন গ্রহণ করেছিল।

খতমের লাইন তো বটেই, গণসংগঠন পরিত্যাগ করা এবং নীতিগতভাবে সকল নির্বাচন বর্জনের লাইন কিছু লেনিনীয় কৌশলের পরিপন্থী। মাওবাদ বা মাও সেতুংএর চিন্তাধারা যাই বলা হোক, সেটাও মাকর্সবাদলেনিনবাদের বাইরের কিছু নয়। এমনকি নির্বাচন বর্জনকে বিশ্বব্যাপী পার্টির সার্বজনীন লাইন হিসাবে গ্রহণের কথা মাও সেতুং বা চীনের পার্টি কখনো বলেননি।।

(চলবে…)