Home » রাজনীতি » শক্তি দিয়ে নিশ্চিহ্ন করা যায় না ॥ জামায়াত নয় সরকারের মূল টার্গেট বিএনপি

শক্তি দিয়ে নিশ্চিহ্ন করা যায় না ॥ জামায়াত নয় সরকারের মূল টার্গেট বিএনপি

হায়দার আকবর খান রনো

dis 1সরকার এবং মাঠের প্রধান বিরোধী দল উভয়ে মিলেই দেশের গণতন্ত্রের যতোটুকু অবশিষ্ট ছিল, তাও চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে। পরস্পর পরস্পরকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করতে বদ্ধপরিকর বলেই মনে হয়। বিএনপি চাচ্ছে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে যাতে বর্তমান সরকারের পতন ঘটে। সে জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার অবরোধের ডাক দিয়েছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে বর্বর সহিংসতা। মানুষ মরছে, মানুষ পুড়ছে। এই ধরনের নাশকতা হয়তো এমন পরিস্থিতি করতে পারে যা বাধ্য করবে বাইরের কোন শক্তির হস্তক্ষেপ। তাতে আর যাই হোক, গণতন্ত্র আসবে না।

অন্যদিকে সরকার চাচ্ছে বিরোধী পক্ষ বিএনপিকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে। এখানে উল্লেখ্য যে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সরকার ও আওয়ামী লীগের টার্গেট বিএনপি জামায়াত নয়। বরং প্রয়োজনে জামায়াতের সাথে গোপন সমঝোতার পথ খোলা রাখছেন তারা। তেমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের কৌশল হচ্ছে বিএনপিকে চরমভাবে দমন করে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা। সে জন্য উপরতলা থেকে তৃণমূল পর্যন্ত গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং মামলার পর মামলা দেয়া হচ্ছে। সর্বোপরি ক্রসফায়ারের মতো পুরাতন অস্ত্র তো আছেই। এমনকি খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দাবিও তোলা হচ্ছে সরকারি দলের তরফ থেকে। তালা মেরে, বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ রাখার পর পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করাও যথেষ্ট বলে তারা মনে করছেন না। বলাই বাহুল্য এই সবই গণতন্ত্র ও সংবিধান পরিপন্থী। ধরা যাক, এই ভাবে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা গেল। কিন্তু একটি দল এই ভাবে হারিয়ে গেলেই কি বিরোধী শক্তি নিশ্চিহ্ন হবে? যতোক্ষণ সরকার জনগণের মন জয় করতে না পারবে (এবং সেই লক্ষণ কখনোই দেখা যায়নি), ততোক্ষণ পর্যন্ত জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা বিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হবে না। সেই বিরোধী শক্তি হয়তো অন্য কোনো নামে, অন্য কোনো রূপে আত্মপ্রকাশ করবে। সবচেয়ে খারাপ হবে, যদি এই রকম শ্বাসরুদ্ধকর অগণতান্ত্রিক পরিবেশে, মূলগতভাবে গণতন্ত্র বিরোধী কোন মৌলবাদী চরমপন্থী শক্তির উত্থান ঘটে। বাম ও উদার গণতান্ত্রিক শক্তির শক্তিশালী অবস্থান তৈরি না হলে তেমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

একটি দল এই ভাবে হারিয়ে গেলেই কি বিরোধী শক্তি নিশ্চিহ্ন হবে? যতোক্ষণ সরকার জনগণের মন জয় করতে না পারবে (এবং সেই লক্ষণ কখনোই দেখা যায়নি), ততোক্ষণ পর্যন্ত জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা বিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হবে না। সেই বিরোধী শক্তি হয়তো অন্য কোনো নামে, অন্য কোনো রূপে আত্মপ্রকাশ করবে। সবচেয়ে খারাপ হবে, যদি এই রকম শ্বাসরুদ্ধকর অগণতান্ত্রিক পরিবেশে, মূলগতভাবে গণতন্ত্র বিরোধী কোন মৌলবাদী চরমপন্থী শক্তির উত্থান ঘটে।

বিএনপিকে যেভাবে সভাসমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না, যেভাবে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে, তাতে জনমনে খালেদা ও বিএনপির প্রতি বেশ সহানুভূতি তৈরি হয়েছিল। একমাত্র দলকানা বুদ্ধিজীবী ও দলীয় সুবিধাভোগী লোকজন ছাড়া সকলেই সরকারের ভূমিকার নিন্দা করেছেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে রাস্তায় নেমে পড়বে। না, তেমনটা হয়নি। হবেও না। বিএনপির মতো আদর্শহীন দলের ও নেতার জন্য মৃত্যুকে তুচ্ছ করে মানুষ রাস্তায় নামবে না। অন্যদিকে সরকার ক্ষমতায় থেকেও তার পক্ষে রাস্তায় মানুষ নামাতে পারেনি। হয়তো প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে, অঢেল টাকা ঢেলে কিছু লোক দেখানো সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশ বা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে হৈ চৈ করতে পারবেন। কিন্তু সরকারের পক্ষে মানুষ নামবে না। সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। সরকারি দলর লোকজনের নৈতিক মনোবলও ভেঙ্গে পড়েছে।

এখন যে লড়াইটা হচ্ছে তাহলো দুই গণবিচ্ছিন্ন অপশক্তির লড়াই। এর হার জিতের মধ্যদিয়ে গণমানুষের কোন উপকার হবে না। বিরোধী পক্ষ পেট্রোল বোমার আগুনে গণতন্ত্রকেই পুড়িয়ে মারছে। অন্যদিকে সরকার সম্পূর্ণরূপে পুলিশর‌্যাববিজিবি দ্বারা সমস্যা মোকাবেল করার নামে সেই আগুনকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সে জন্য সরকারের কর্মকৌশল প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না।’

বিএনপি বলছে, আমরা পেট্রোল বোমা ছুড়ছি না। ও কাজ করছে সরকার, সরকারি দল। অথবা কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে এ কাজ করানো হচ্ছে। এমন অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে চাই না। বিশেষ করে রিয়াজ রহমানের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। দুই একটা ক্ষেত্রে সরকার দলীয় লোক বা এজেন্ট প্রোভোকেটিয়ার্স (উস্কানিদাতা) থাকলেও সাধারণভাবে বিএনপি এবং জামায়াত ক্যাডাররা এই নাশকতা করছে বলে ধরে নিতে হবে। অন্তত পাবলিক পারসেপশন তাই। সেই অবস্থায় খালেদা জিয়ার উচিত ছিল দ্বিধাহীন ভাষায় বোমাবাজি ও সন্ত্রাসকে নিন্দা জানানো এবং এই ধরনের জঘন্য কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান রাখা। খালেদা জিয়া এখনো পর্যন্ত তেমন বিবৃতি দিতে পারেননি।

অন্যদিকে বিনাভোটে নির্বাচিত সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। কারণ জনগণের উপর তারা ভরসা করতে পারছেন না। জনগণও সরকারের সাথে নেই। আর তাদের কর্মীবাহিনী তো লুটপাট, টেন্ডারবাজি ও লুটের বখড়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে খুনোখুনিতেই ব্যস্ত। গত ছয় বছরে লীগ সরকারের রাজত্বকালে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই মারা গেছে ১৭২ জন। আহতের সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি। এমন দল নিয়ে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা যায় না। তাই তারা জনগণের উপর নির্ভর না করে, রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে নির্ভর করছেন র‌্যাবপুলিশবিজিবি’র উপর। সে রাজনৈতিক জোরও তারা হারিয়ে ফেলেছেন। এর ফল হয়েছে ভয়াবহ।

প্রথমত. পুলিশ এই সুযোগে গ্রেফতার বাণিজ্য আরম্ভ করেছে। তাতে নিরীহ মানুষ গ্রেফতার হচ্ছে। আমাদের কাছে খবর এসেছে যে, গ্রামাঞ্চলের কোন কোন জায়গায় পুরুষ মানুষ মাত্রই গ্রেফতারের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। এতে পুলিশের কিন্তু অর্থ উপার্জন হলেও প্রকৃত দুষ্কৃতকারীরা ধরাছোয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয়ত. র‌্যাবপুলিশবিজিবি এক ধরনের আপেক্ষিক স্বাধীনতা লাভ করবে। আমরা অতীতেও দেখেছি, ক্লিনহার্ট অপারেশন অথবা ক্রসফায়ারের নামে মানুষকে নিরাপত্তা দেবে যে বাহিনী তারা যে কি ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে মানুষ হত্যার স্বাধীনতা। নারায়ণগঞ্জের ঘটনাই তো তার বড় প্রমাণ। সম্প্রতি বোমাবাজদের দমন করার নামে সেই একই (), বিচার বহির্ভূত হত্যা (), গণগ্রেফতার ও গ্রেফতার বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রথম আলোর পর পর দুই দিনের সম্পাদকীয় থেকে কয়েকটি বাক্য উদ্ধৃত করা যাক।

২২ জানুয়ারি প্রথম আলো’র সম্পাদকীয়তে বলা হয় – ‘২৪ ঘন্টার ব্যবধানে রাজধানীতে ডিবিসংশ্লিষ্ট দুটি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজনের নিহত হওয়ার ঘটনা আর যাই হোক জনমনে স্বস্তি দেবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বুঝতে হবে, কেউ নাশকতামূলক কর্মকান্ডের মতো গুরুতর অপরাধ করলে বিচারের মাধ্যমেই তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। বন্দুকযুদ্ধ কিংবা বিচার বহির্ভূত হত্যা এর প্রতিকার নয়।’

২৩ জানুয়ারি প্রথম আলো’র সম্পাদকীয়তেও বলা হয় – ‘কোথাও সহিংস ঘটনা ঘটার পর গণহারে লোকজন গ্রেফতার শুরু করলে সাধারণ লোকজন অনেক ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হয়। এগুলো সাধারণভাবে রাজনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত কাজ হিসেবেই বিবেচিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বাসযোগ্য হারিয়ে ফেলে। এ ধরনের অভিযানের সুযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসৎ সদস্য আটক বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।’

সরকারের এই ধরনের কাজ ও মনোভাবের দরুন কতো নিরীহ মানুষ যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তার খুব সামান্য অংশই খবরের কাগজের এসেছে। মাত্র সেদিন বাস পোড়ানোর অভিযোগে সন্দেহভাজনক এক ব্যক্তি ক্ষুব্ধ জনতার হাতে প্রহৃত হন, তারপর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে পাচ মাসের কারাদন্ড দিয়েছিল। পরে জানা গেল তিনি সন্ত্রাসী নন। নাম তার মিজানুর রহমান। বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার বাসিন্দা। বহু কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঢাকায় এসেছিলেন প্লেনে করে ওমানে যাবেন বলে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বদৌলতে তার ওমান যাওয়া হলো না, স্থান হলো জেলে। তার সঞ্চিত অর্থের পুরোটা লোকসান হলো। বাংলাদেশ বঞ্চিত হল বৈদেশিক মুদ্রা থেকে। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অনেকে সংবিধান বিরোধী বলে মনে করেন। কারণ সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনে আইনজীবী দিতে পারে না। সরকার কি মিজানুর রহমানকে ক্ষতিপূরণ দেবে? না, আমাদের সরকারের অনেক কিছু থাকলেও মানবিক বোধটুকু আর নেই। স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকে এখনো আমরা মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি।

তৃতীয়ত. বিরোধী দলকে দমন করার জন্য বোমাবাজির অজুহাতে সরকার এখন ‘দেখামাত্র গুলি করার’ নীতি গ্রহণ করেছে অথবা করতে চলেছে। যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিশ্রি ভাষায় গালি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে যথেষ্ট প্রচার লাভ করেছিলেন। সেই স্বনামধন্য মন্ত্রী এবার বলেছেন, ‘দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে পাড়ায় পাড়ায় শাস্তির ব্যবস্থা করে দেবো। কোর্টে বিচার করার আর দরকার নেই।’ তার মানে আমাদের সরকার বিচার বহিভূর্ত হত্যাকেই প্রকাশ্য অনুমোদন করছে। এটা অনেক দিন থেকেই হয়ে আসছে। আইন সালিশ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী কেবলমাত্র গত বছরেই গুম ও গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছেন ৮৮ জন। আর সরকারি বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের কারণে মারা গেছেন ১৩ জন। মন্ত্রীর এই বক্তব্য এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

এমনকি দেখা মাত্র গুলি করার যে নির্দেশ দিয়েছেন বিজিবি প্রধান, তার তীব্র নিন্দা করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক উল হক। তিনি বলেছেন, বজিবির এই ধরনের বক্তব্য ‘আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় আইনের পরিপন্থি।’

চতুর্থত. বোমাবাজি বন্ধ করার নামে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহকে বেআইনি কাজ করতে উৎসাহিত করছে। তারাও সুযোগ পেয়ে দলবাজি করছেন। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা রাজনৈতিক বিবৃতি দিচ্ছেন এবং সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের নামে নিজস্ব সীমানা অতিক্রম করে যাচ্ছেন। আমি গত সংখ্যায় আমাদের বুধবারএ বলেছিলাম, রাষ্ট্র, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার সবটা একাকার হয়ে যাচ্ছে। এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষণ নয়, ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্য।

দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিচ্ছেন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। এটা যে কতো বড় বিপজ্জনক তা পাশ্চাত্যের উন্নত দেশের অভিজ্ঞতা থেকেও দেখা যায়। ২০০৫ সালে লন্ডনে পাতাল রেলে বোমাবাজির পর পুলিশ সন্দেহ বাতিক হয়ে পড়েছিল। দেখামাত্র গুলির মনোভাব কাজ করছিল। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পুলিশ এক নির্দোষ ব্রাজিলিও যুবক মেনেজেসকে গুলি করে হত্যা করেছিল। পরে ঘটনাটি তদন্ত হলে পুলিশের ভুল প্রমাণিত হলে, সরকার ক্ষমা চেয়েছিল, মেনেজেসের পরিবারকে এক লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি পুলিশ সন্দেহবসে এক কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করলে সারাদেশে তুমুল প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। পাশ্চাত্যের ওই সকল দেশে পুলিশ অনেক সতর্ক হওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা ঘটে।

আর বাংলাদেশে যেখানে পুলিশ, প্রশাসন দলীয়করণের আওতায় এসে পড়েছে, সেখানে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ যে কী ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, লিমনের মতো কতো যে হতভাগ্যকে পঙ্গুত্ববরণ করতে হবে অথবা জীবন হারাতে হবে তা ভাবতেও ভয় লাগে।

সন্ত্রাস বন্ধ করতেই হবে। অবশ্য বিরোধী পক্ষ, বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হবে। একই সাথে সরকারের দায়দায়িত্বও কম নয়। সরকার যেন এই সুযোগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা না করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে। নাগরিকদের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে যদিও এ পর্যন্ত তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু নিরীহ মানুষ যেন গুলিবিদ্ধ অথবা নির্যাতিত না হন সেটাও দেখতে হবে।

সর্বোপরি রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। একই সাথে প্রশাসন, পুলিশবিজিবির‌্যাবকে রাজনীতি করা থেকে দূরে থাকতে হবে।

আমরা শান্তি চাই, নির্ভয়ে চলাচলের নিশ্চয়তা চাই এবং একই সাথে গণতন্ত্রও চাই। দুটোর কোনোটাই দুই বড় দলের কাছ থেকে আশা করা যায় না। কিন্তু শান্তিকামী গণতান্ত্রিক মানুষকে সোচ্চার হতে হবে। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে গণশক্তিই বড় শক্তি।।