Home » অর্থনীতি » সঙ্কটে জীবন-জীবিকা অর্থনীতি :: এভাবে আর কতোদিন

সঙ্কটে জীবন-জীবিকা অর্থনীতি :: এভাবে আর কতোদিন

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

dis 4দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। এদের জীবনে নেমে এসেছে অশনিসংকেত। সমাজে যাদের অভাব অনটন জীবনসঙ্গী, তাদের কর্মহীন জীবন যাপনে একবেলাও খাবার জোগাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এ ধরনের পরিবারের সংখ্যাই বেশি। ফলে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের ডাকা হরতালঅবরোধ অব্যাহত থাকায় শহরশহরতলীতে ভাসমান হকার ছাড়াও লক্ষ লক্ষ ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ ফসল উৎপাদনকারীদের জীবন যাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। হাজার হাজার বেকার কর্মজীবী মানুষের অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়ছে। দিনমজুর মানুষ কর্মের অভাবে ভিক্ষা করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। ফুটপাতে কাঁধে বা হাতল গাড়ীতে বহন করে যেসব হকার কোন প্রকারে জীবিকা নির্বাহ করে, তাদের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্গতি।

আমাদের দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষি কাজ সহ বিভিন্ন হাটবাজারে এমনকি শহর বন্দরে নিত্য দিনমজুর এবং মাসিকভাবে কম করে দিনাতিপাত করে। অবরোধ থাকায় মালিকরা দোকানপাট যেমন খুলতে পারছে না, তেমনি সকল স্তরের ব্যবসায়ীরা তাদের সঞ্চয় ভেঙ্গে কোন প্রকারে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। দিনমজুরের অবস্থা অবর্ণনীয় হয়ে পড়েছে। অবরোধ আর হরতালের কারণে বাজারে কোন স্থিতিশীলতা নেই। ধান চালের সংগ্রহের মুহূর্তেও চালের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে শস্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নয়। প্রতিনিয়ত মূল্যের ঊর্ধ্বগতি লেগেই রয়েছে। শস্যপণ্য উত্তোলনের সময়ে যদি এ রূপ হয়, তাহলে এ দুর্ভোগের জন্য দায়ী কে? অস্থিতিশীল অবস্থার জন্য সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের দুর্দশা কম হচ্ছে না। যানবাহন চলাচল না করায় যারা দৈনিক রোজগার করে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের অবস্থা ও দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেই বললে চলে। অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্বৃত্তপনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া। পেটের তাগিদে কর্ম খুঁজতে গিয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগে অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণহানির সংখ্যাও কম নয়।

মার্কেট, বিপণিবিতান, দোকানপাট ও শপিংমলগুলো খোলা থাকলেও অবরোধের কারণে ক্রেতারা আসতে পারছে না। বাসে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমা মেরে নিরীহ যাত্রী মারার ঘটনায় আতঙ্কে নগরবাসী। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ আর ঘর হতে বের হচ্ছে না। এ অবস্থায় ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শিল্প মালিকরা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে রফতানিকৃত তৈরি পোশাক পৌঁছানো যাচ্ছে না অবরোধের কারণে। এতে পোশাক শিল্পে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে ২৫০ কোটি টাকা। শিল্প মালিকরা কাভার্ড ভ্যান ও পোশাকবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বেকার হয়ে যাওয়া ও অন্যদিকে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। সহিংস ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতির শিকার হচ্ছেন এসব সাধারণ মানুষ। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, হরতাল ও অবরোধের কারণে দেশীবিদেশী বিনিয়োগ মুখথুবড়ে পড়বে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি এবং কমে আসবে কর্মসংস্থান। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী রফতানিমুখী পোশাক শিল্প ইমেজ সঙ্কটে পড়বে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের কবলে পড়তে যাচ্ছে। জানা গেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। এর মধ্যে আবার ২০ শতাংশ একেবারে হতদরিদ্র। এ অবস্থায় টানা অবরোধের কারণে সাধারণ ও নিম্নবিত্তের মানুষ সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে। খাদ্যপণ্য, যাতায়াত ভাড়া, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় সবকিছুই উর্ধমুখী।

টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে ভেঙে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা। বন্ধ হয়ে আছে পণ্যবাহী ট্রাক বা গাড়ি চলাচল। রাস্তায় এবং ক্ষেতে পচে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার শাকসবজি, তরিতরকারি, ফলমূল। ট্যাংক, লরি, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনারবাহী গাড়িনির্বিঘেœ চলছে না কোনোটিই।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এক প্রতিবেদনে বলেছে, অবরোধের প্রথম ১৬ দিনেই আর্থিক খাতে ক্ষতি হয়েছে ৩৬ হাজার ৫শ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম ও মংলার মতো প্রধান প্রধান বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে রপ্তানি পণ্য আটকে থাকছে পথে পথে। নিরাপত্তাহীন ব্যবসায়ীরা সময়মতো ব্যাংকে পৌঁছাতে না পারায় আমদানিরপ্তানির এলসি খুলতে পারছেন না। নৌ ও স্থল উভয় প্রকার বন্দরে বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকছে আমদানিরফতানি কার্যক্রম। এ অবস্থা চলতে থাকলে রপ্তানি খাতে ধস নেমে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশি#ষ্টরা। শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন বসে থাকছে আন্তঃজেলা ও দূরপাল#ার বাসগুলো। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। একদিকে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে দিনের পর দিন বাসগুলো বসে থাকায় আয়ের পথ বন্ধ হয়ে রয়েছে মালিকশ্রমিক সবার। আর ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। পরিবহন মালিক সমিতির তথ্যমতে, সারা দেশে চলাচলকারী ৬০ হাজার বাসমিনিবাস একদিন বন্ধ থাকলেই ৪৮ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। আর অলস বসে থাকতে হয় হাজার হাজার পরিবহন শ্রমিককে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলসি খুলতে না পারায় আমদানিরফতানি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, গত দুই সপ্তাহে ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার হার প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ঋণাত্মক পর্যায়ে চলে যাবে। তাছাড়া ব্যাংকের গ্রামের শাখাগুলোয় তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা মতো অর্থ জোগান দিতে পারছে না তারা। জেলা শহর থেকে তাদেরকে কোনো অর্থ সরবরাহ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। ফলে গ্রামে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্দরে আটকে আছে হাজার হাজার পণ্যবাহী জাহাজ। স্থলবন্দরগুলোতে কনটেইনারের জট বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ফলে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে পণ্যমূল্য। যার প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। সাধারণ মানুষ পড়েছে বিপাকে। এক মাসের ব্যবধানেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

সূত্রমতে, জল ও স্থল উভয় বন্দরেই পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। এতে জাহাজ ও কনটেইনারের জট সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক সময়ে পণ্য খালাস না হওয়ায় অতিরিক্ত চার্জ গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। এদিকে সড়কপথেও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে দূরপাল্লার অধিকাংশ বাস চলাচল করতে না পারায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। একদিকে রাস্তায় নামালেই মালামালসহ পুড়ে ছাই হচ্ছে গাড়ি ও চালক। নিরাপত্তাহীনতার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পণ্য পরিবহনে আগ্রহ হারাচ্ছেন চালকরা।

এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশি#ষ্টরা। এদিকে অবরোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ দিতে না পারলে এবং গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বন্ধ না হলে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে পণ্য পরিবহন এজেন্সি মালিক সমিতি। অবরোধের নামে পণ্যবাহী গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের কারণে গত এক সপ্তাহে শুধু তিনটি পণ্য পরিবহন এজেন্সির ক্ষতি হয়েছে তিন কোটি টাকারও বেশি। অরক্ষিত সড়কে পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হলেও নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়নি বলে তাদের অভিযোগ। গত ৫ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে লাগাতার অবরোধ ও হরতালে বিভিন্ন স্থানে পণ্যবাহী গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। তাদের এজেন্সিভুক্ত প্রায় এক হাজার ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক উন্নতিতে ভূমিকা রাখছে। অথচ এই পরিবহনের কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। ক্ষতিপূরণও পাওয়া যায় না। এমনকি ২০১৩ সালে সহিংস ঘটনায়ও এজেন্সি মালিকরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। তাই এভাবে চলতে থাকলে পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না বলে জানান তিনি। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ব্যবসাবাণিজ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারায় ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়ে যাচ্ছে। যা সামগ্রিক রফতানি খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি মো. শহিদুল#াহ আজিম এ প্রসঙ্গে বলেন, গত কয়েক দিনের হরতালঅবরোধে আমাদের ৫৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন কমে গেছে। প্রতিদিন ২০ ভাগ শ্রমিক কর্মস্থলে যোগ দিতে পারছেন না। ক্রেতারা দেশে আসতে চান না। ক্রেতারা তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে ব্যাংকক, হংকং ও দিল্লিতে যেতে বলেন। গেলেও আগের মতো কাজ দেন না। অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, দেশে এখন হরতালঅবরোধের নামে অর্থনীতি ধ্বংসের রাজনীতি চলছে। অর্থনীতি ধ্বংসের এই কর্মকাব্যবসায়ীরা মানতে পারছেন না। তিনি বলেন, পরিবহন খাত ঠিক না থাকলে আমদানিরফতানি খাত ধ্বংস হবে। শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ঠিক না থাকলে শিল্পের উৎপাদন কমে যাবে। এতে উদ্যোক্তারা পথে বসবেন। তাই সরকারের উচিত হবে পরিবহন খাতে কঠোর নজরদারি রাখা।

পরিবহন ঠিকাদাররা জানান, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে একটি কাভার্ডভ্যানের ভাড়া ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। কিন্তু গত ১৪ দিন ধরে এ ভাড়া গুনতে হচ্ছে ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসতে একটি কাভার্ডভ্যানের ভাড়া অন্য সময় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। এখন দিতে হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা। তেজগাঁওয়ের পরিবহন ঠিকাদার আবুল কালাম জানান, বাড়তি ভাড়া দিয়ে গাড়ি পাওয়া যাবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। মালিকদের অনেকে নাশকতার ভয়ে তাদের গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছেন না, বাজারে গাড়ি কম। তাই ভাড়াও বেড়েছে। চট্টগ্রাম কদমতলীর পরিবহন ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন জানান, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। দেশের কোথাও না কোথাও গাড়ি ভাংচুর হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতিতে গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য অনেকে গাড়ি ছাড়তে চান না।

তবে ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্য পরিবহনের জন্য গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে; কিন্তু পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুর, ময়মনসিংহ কিংবা ঢাকার আশপাশের রুটে ট্রিপ দিতে নারাজ পরিবহন মালিকরা। এর ফলে প্রতিনিয়িত যুদ্ধ করে কারখানা চালাতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পরিবহন মালিকদের বক্তব্য হচ্ছে, ঢাকাচট্টগ্রাম হাইওয়েতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাহারা দিলেও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে পণ্য পরিবহনে পাহারার ব্যবস্থা নেই। ঢাকাচট্টগ্রাম হাইওয়েতে তেমন নাশকতা না হলেও ওইসব এলাকায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে ঢাকার বাইরে পণ্য পরিবহনে অনেকে অনীহা প্রকাশ করছে।

অবরোধের প্রভাব রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যয়ের ওপরও। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীতে কাঁচামালের দাম অনেক বেড়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাঁধাকপি পরিবহন করতে না পারার কারণে কৃষকরা তা গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছে এমন ছবিও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, মাছসহ সকল ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। অবরোধ শুরুর আগে শীতকালীন সবজির দাম বেশ কম থাকলেও এখন তা বেড়েই চলেছে। কাওরান বাজারের বেপারীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সাভার থেকে এক ট্রাক সবজি পরিবহনে আগে খরচ হতো (শ্রমিকদের মজুরিসহ) ছয় হাজার টাকা। এখন সেখানে লাগছে ১৫ হাজার টাকার বেশি। উত্তরবঙ্গ থেকে পরিবহন ব্যয় তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে তারা জানান। শুধু সবজিই নয়, রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছমাংসসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বেড়েছে। হাতিরপুলের মাছ ব্যবসায়ী বারেক মিয়া জানান, মাছের চালান কম আসছে। আগে দুই কেজির একটা রুই মাছ বিক্রি হয়েছে সাড়ে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকায়। এখন তা ছয়শ’ টাকার ওপরে বিক্রি করতে হচ্ছে।।