Home » অর্থনীতি » ওবামার ভারত সফর :: কি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলে

ওবামার ভারত সফর :: কি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলে

আমীর খসরু

last 2পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতের বৈদেশিক নীতি ছিল কমবেশি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরে রাশিয়া কেন্দ্রীক। জওহরলাল নেহেরু ১৯৫০এর মাঝামাঝি ওই ধারার সূচনা করেছিলেন। তিনি জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের একজন হলেও বাস্তবে তৎকালীন সোভিয়েত ধারারই সমর্থক ছিলেন। তবে পরবর্তীকালে ১৯৮০’র দশকের শেষ দিকে রাজীব গান্ধীর সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের একটি চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তা খুব একটা কাজে আসেনি। এরপরে ২০০৫ থেকেও মনমোহন সিং পারমাণবিক ক্ষেত্র এবং অস্ত্র চুক্তির চেষ্টা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এবং বছর তিনেক বাদে একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে গেলেও এতে ওই দেশটির সাথে সম্পর্কোন্নয়ন শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। বরং কংগ্রেস সরকারের শেষ দিকে এসে ওয়াশিংটনদিল্লি সম্পর্ক খুবই তিক্ত হয়ে পরে। যদিও চীনের সাথে বৈরিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের উভয়েরই উভয়কে প্রয়োজন এমন একটা সম্পর্কের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এটা যতোটা না সুসম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়, তার চেয়েও বেশি ছিল কার্য সম্পর্ক বা ওয়ার্কিং রিলেসনশিপ। ভারত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তার নিয়েও ওই চীনের কারণেই দিল্লিওয়াশিংটনের মধ্যে একটি কার্য সম্পর্ক তৈরি হয়। এতোসবের পরেও ভারতের বৈদেশিক নীতিটি ছিল বরাবরই সোভিয়েত তথা রাশিয়া নির্ভর। পারমাণবিক ক্ষেত্র থেকে শুরু করে অস্ত্র আমদানি পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই রাশিয়াই ভারতের অন্যতম প্রধান যোগানদাতা।

ভারতের বিশেষ সুবিধাটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের বৈরী সম্পর্ক। চীন কয়েকদফায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা চালায় এবং এই প্রচেষ্টাটি শুরু হয় মাও সেতুং বেচে থাকার সময়েই। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক সব সময়ই অবিশ্বাস এবং বৈরীতায় পূর্ণ ছিল এবং আছে। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হবে যে, ভারত সব সময়ই তার বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে নিজেকে গুটিয়ে রেখে এক দেশ নির্ভর একটি নীতি অবস্থান গ্রহণ করে এবং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সব সময়ই পার্শ্ববর্তী ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর উপরে কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টা চালায়।

চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরীতার প্রথম প্রকাশ্য রূপ হচ্ছে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ। দুই দেশের ওই যুদ্ধে মাও সেতুংএর ছেলেও নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু এর দশক দুই যেতে না যেতেই ওয়াশিংটনবেইজিং সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং মাও সেতুং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এমনটি অনুমোদন করেছিলেন। পরে দেং জিয়াও পিং ক্ষমতা গ্রহণের পরে সম্পর্ক আরো উন্নত হয় এবং চীন ‘সমাজতান্ত্রিক পুজিবাদী’ নীতি গ্রহণ করে। যদিও দক্ষিণ চীন সাগরসহ ওই এলাকা এবং পুরো ভারত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে যা এখনো বজায় আছে এবং বৈরীতা চরম রূপ নিয়েছে। ভারত সব সময়ই ওয়াশিংটনবেইজিংয়ের মধ্যে বৈরী সম্পর্কের সুযোগটি নিয়েছে, রাশিয়ার সাথে উচ্চমাত্রার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেও। আর চীনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রেরও এই অঞ্চলে ভারতের মতো একটি বড় শক্তির প্রয়োজনীয়তা সব সময় রয়েছে।

পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ১৯৫০এর মাঝামাঝি থেকেই উচ্চমাত্রায় পৌছে। সেন্টো, সিয়াটো চুক্তিতে পাকিস্তানের স্বাক্ষর করা এরই প্রমাণ। তবে এক পর্যায়ে ওয়াশিংটন দিল্লির সাথেও একটি কার্য সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। বর্তমানে এই সম্পর্কটি বিশেষ মাত্রা পেয়েছে চলমান আফগান যুদ্ধ এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে গত কিছুদিন ধরে পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের শীতলতার কারণে। আফগানিস্তান প্রশ্নে দিল্লিওয়াশিংটন সম্পর্ক এখন খুবই উষ্ণ, যেমনটি কিনা রয়েছে পূর্ব এবং পশ্চিম আফ্রিকায়। আফ্রিকায় সম্পর্কোন্নয়নের প্রধান কারণ বাজার দখল এবং ওই বাজার থেকে বর্তমানে এর প্রভাবশালী পক্ষ চীনকে হটিয়ে দেয়া। অন্যান্য পশ্চিমা শক্তিও এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযাত্রী।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দিল্লি সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক পর্যায়ে এই সফরের প্রভাব এবং প্রতিক্রিয়া কতোটা পড়বে সে আলোচনায় যাওয়ার আগে চীন সম্পর্কে দুই দেশের মনোভাব নিয়ে আলোচনা খুবই জরুরি। ওবামার দিল্লি সফরের সময়ে দুই নেতার অর্থাৎ ওবামামোদী দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের এজেন্ডা ছিল বিশাল। এতে নানা বিষয় আলোচনা হয়েছে অস্ত্র চুক্তি, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে এই অঞ্চলে দুই দেশের ভূমিকা কি হবে তার কোনোটিই বাদ পড়েনি। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অন্তত ৪৫ মিনিট আলোচনা হয় চীনকে নিয়েই। এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজাপাক্ষের পরাজয়ে উভয় দেশ যেমন সক্রিয় ছিল, তেমনি ওই পরাজয় দুই দেশই আনন্দিতও হয়েছে। বিশেষ করে আনন্দটি ভারতের দিক থেকে বেশি।

প্রেসিডেন্ট ওবামার ভারত সফরের ফলে আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশেষ করে এশীয় অঞ্চলে দিল্লি যে আরও প্রভাবশালী খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে। এই সফরে যে চুক্তিগুলো হয়েছে এবং যৌথ ঘোষণা এসেছে তার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে উভয় দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি। সফরে বেশ কয়েকটি উপদফাসহ ৫৯ দফার যৌথ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দফা বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের জন্য প্রভাব বিস্তারী হবে বলে ধারণা করা যায়। যৌথ ঘোষণার ৪৬ দফায় বলা হয়েছে দুই নেতা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন যে, আফগানিস্তান এবং পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকায় দিল্লিওয়াশিংটন যেভাবে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, অতিরিক্ত তৃতীয় দেশগুলোতেও ওই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া হবে। এই তৃতীয় দেশগুলো কারা তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। দফা ৪৭এ বলা হয়েছে আফগানিস্তানে তাদের মধ্যকার নিরাপত্তা কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথা। ৪০ নম্বর দফায় সন্ত্রাসবাদউগ্রবাদ মোকাবেলায় দুই দেশ একযোগে কাজ করবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। দফা ৪এ এশীয়প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উভয় দেশ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২ নম্বর দফায় উভয় নেতা দিল্লিওয়াশিংটন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার সফরটি ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের উপরে কি প্রভাব বিস্তার করবে তা এ সব ঘোষণা এবং প্রত্যয়ের মধ্যদিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতের কংগ্রেস সরকারের মনোভাব কি ছিল সে বিষয়টি উল্লেখ করা প্রয়োজন। ২০১৪’এর ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে ২০১৩’র অক্টোবরে দিল্লিতে একটি বৈঠক হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের কূটনৈতিক পর্যায়ে। ওই সময় কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছিল ভারতের তৎকালীন কংগ্রেস সরকার আগ্রহী না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকটির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। ওই বৈঠকে এবং আগেপরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল যে, বাংলাদেশের সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। ভারতের তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের পক্ষে সদ্য বরখাস্তকৃত পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংএর জবাবে ঠিক বিপরীত কথাগুলোই বলেছিলেন। তিনি এও জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, নিরাপত্তা কৌশলগত প্রশ্ন এবং জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার স্বার্থে বাংলাদেশের বিষয়টি দিল্লির একান্ত নিজস্ব বিষয়। তবে প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় থাকুক এমনটাই জানিয়ে দেয়া হয়। সুজাতা সিং ওই নির্বাচনের আগে এক সফরে ঢাকায় এসেছিলেন এবং এরশাদসহ অনেকের সাথে সাক্ষাত করে ওই নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। ভারতের কংগ্রেস সরকার বলতে গেলে প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

এই নিয়ে দিল্লিওয়াশিংটন সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে যার প্রতিক্রিয়া পরবর্তীকালে দেখা গেছে। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকারের ভূমিকা এবং বাংলাদেশনীতির সম্পর্কে মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এবং একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকুক। তবে বিজেপি সরকার এমন নিশ্চয়তা চায় যে, ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থে যাতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। এ কারণে বিজেপি’র পক্ষ থেকে বিএনপির সাথে বেশ কিছুটা সময় ধরে আলাপআলোচনা চলছে এই কারণে যে, যাতে ভারত ইতোপূর্বে যে সব সুযোগসুবিধা বাংলাদেশ থেকে পেয়েছে তা যেন ভবিষ্যতে অক্ষুণ্ন থাকে এবং যে সব অঙ্গীকার রয়েছে পরবর্তীকালে তা যেন বাস্তবায়িত হয়। যতোদূর জানা যায়, বিএনপি এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমী দুনিয়া মনে করে, বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংঘাতসহিংসতা চলছে তাতে জঙ্গীবাদসন্ত্রাসবাদের আরও উত্থান ঘটতে পারে। ভারতের ক্ষমতাসীন দলের মনোভাবও তাই। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দীন বলেছেন ভারত শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং নিরাপদ বাংলাদেশকে দেখতে চায়।

ভারতের বর্তমান বিজেপি সরকার আগের কংগ্রেস সরকারের বৈদেশিক নীতিতে যে আমূল পরিবর্তন করেছে এবং আরও করতে যাচ্ছে তার সব ইঙ্গিত ও আলামত দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ নীতিতেও তারা পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজেপি মনে করে, বাংলাদেশের অধিকাংশ দল এবং জনগণ যদি ওই দেশটির ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে তাহলে ট্রানজিটের নামে করিডোর, বন্দর ব্যবহারসহ যে সব সুযোগসুবিধা তারা পেয়েছে এবং পরবর্তীকালে পাবে বলে আশা করছে তা কোনো কিছুই বাস্তবায়িত হবে না। যেমনটি হয়েছিল ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত মুজিবইন্দিরা ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তিসহ বাণিজ্য এবং অন্যান্য চুক্তির ক্ষেত্রে।

বিজেপির বৈদেশিক নীতি পরিবর্তনে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্র দফতর এবং নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু কর্মকর্তা ও ব্যক্তি। সুজাতা সিংকে বরখাস্ত করার মধ্যদিয়ে নরেন্দ্র মোদী এমন কঠিনকঠোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিদেশ নীতিতে তারা যেন বিঘ্ন সৃষ্টিকারী না হয়।

ভারতের নিরাপত্তা কৌশলগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপরে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও তারা জরুরি বলে মনে করছে। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরটি এ কারণে নিরাপত্তা কৌশলগত দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও এই বন্দরটির সাথে সাথে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ ভারত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তার এবং তেলগ্যাস অনুসন্ধানে তাদেরসহ পশ্চিমী যে কোম্পানীগুলো রয়েছে তাদের জন্য। এ ক্ষেত্রে চীনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের কাছে মুখ্য একটি অভিন্ন বিষয়। শ্রীলংকার সাম্প্রতিক নির্বাচনে ওই দেশের হাম্মানতোতা গভীর সমুদ্র বন্দরের উপরে চীনের প্রভাব হ্রাস পাবে বলে তাদের স্থির ধারণা। এছাড়া ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শ্রীলংকার অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মালদ্বীপও এখন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হয়ে উঠেছে।

সামগ্রিক বিবেচনায় বলা যায়, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দিল্লি সফর যেমন ভারতের বৈদেশিক নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন এবং বাকসৃষ্টিকারী ঘটনা, তেমনি এই অঞ্চলের ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব বিস্তারী ঘটনা হিসেবেই গণ্য করতে হবে।

তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, দীর্ঘ ৫ যুগের তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বর্তমানের রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক কিভাবে স্বল্প সময়ে পরিবর্তন করবেন নরেন্দ্র মোদী তা একটি বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যাকে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে রাশিয়ার ট্যাংক, অস্ত্র ও বিমান প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে তিনিই বা কোন পন্থায় হঠাৎ করে দিল্লির বৈদেশিক নীতির অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাবেন? এক্ষেত্রে অনেক ভারতীয় বিশ্লেষক বলছেন, এই সফরের দুটো দিক আছে একটি হচ্ছে, সূচনা, আশাবাদ এবং দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে কার্যকর বাস্তবায়ন। সফরটিকে ওই বিবেচনায় দেখলেই বাস্তবসম্মত হবে। এ প্রশ্নটিও আবার এসে যায়, পুরো বিশ্ব ব্যবস্থা কি আবার ফিরে যাচ্ছে ¯œায়ু যুদ্ধের সময়কালের দিকে? একদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমী দুনিয়া এবং অন্যদিকে চীনরাশিয়ার অবস্থানের বিভাজনটি কি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে না?

কিন্তু একটি বিষয় বিবেচনায় নিতেই হবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দিল্লি সফর যে এই অঞ্চলের উপরে ব্যাপক প্রভাববিস্তারী একটি ঘটনা তা স্পষ্ট। অচীরেই এর প্রভাব এবং প্রতিক্রিয়া দু’ই দেখা যাবে তা নিশ্চিত।।