Home » অর্থনীতি » এডিপি বাস্তবায়নও বাধার মুখে

এডিপি বাস্তবায়নও বাধার মুখে

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

dis 4দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করা সম্ভব হচ্ছে না, তা ফেরত যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের এডিপি’র আকারে বড় ধরনের কাটছাঁটের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এডিপির বৈদেশিক অংশে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রার অংশেও বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হচ্ছে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। ফলে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আকার আরো ছোট হয়ে যাবে। চলতি অর্থবছরের এডিপি’র আকার প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রায় বরাদ্দ আছে ২৭ হাজার ৭শ কোটি টাকা, আর স্থানীয় মুদ্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও পরিকল্পনা কমিশনের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভুত বিভিন্ন সরকারি ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে আরো ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে খুবই কম। কমে গেছে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে মাত্র ২৮ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। তার মধ্যে পদ্মা সেতু ছাড়া বড় অন্য কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়লে এডিপি বাস্তবায়ন কার্যক্রম আরো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই বছর শেষে এডিপি বাস্তবায়ন কম হওয়ার আশঙ্কায় বড় ধরনের কাটছাঁটের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এডিপি কাটছাঁট একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বছরের শুরুতে এডিপিতে অনেক বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো নানা কারণেই প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করতে পারে না। এ কারণে মাঝপথে তা কাটছাঁট করতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাস্তবতা ও সামর্থ্যরে সাথে সমন্বয় না করেই বছরের প্রথমদিকে বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে দেখা যায়, বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করতে পারে না সংস্থাগুলো। এজন্য প্রতি বছরই বরাদ্দের বড় একটা অংশ ছেঁটে ফেলা হয়। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাস রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ তেমন প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তারপরও এডিপি বাস্তবায়নের গতি খুব একটা ভালো নয়। এর ওপর চলমান অবরোধহরতাল অব্যাহত থাকলে তা অবশ্যই উন্নয়ন প্রকল্পের গতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। সংস্থাগুলোর এডিপি বাস্তবায়নে সক্ষমতা ও তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এদিকে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অর্থ ফেরত দেয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। ইআরডির তথ্য অনুসারে বৈদেশিক অংশের বিনিয়োগ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি অর্থ কাটছাঁট হচ্ছে পরিবহন খাত থেকে। এ খাত থেকে কাটছাঁটের পরিমাণ ১ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এছাড়া খাত অনুযায়ী বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দের মধ্যে কৃষি থেকে ১১৪ কোটি ৪৮ লাখ, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৯ কোটি, পানিসম্পদ থেকে ৩৫৬ কোটি, বিদ্যুৎ থেকে ৪৫৭ কোটি ৯৮ লাখ, তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে ২৯০ কোটি, শিক্ষা থেকে ৯৯ কোটি ৫৯ লাখ এবং ভৌত অবকাঠামো খাত থেকে ৮৫৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা কাটছাঁট হচ্ছে। এছাড়া কারিগরি সহায়তা প্রকল্পে মোট ১৭ খাত থেকে বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট করা হচ্ছে ১ হাজার ৬২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে কয়েকটি খাতে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতে ৫৭ কোটি ও শিল্প খাতে ২০৩ কোটি টাকা।

সাধারণত বছরের এই সময়টাতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগোলেও এ বছর বড় নির্মাণ প্রকল্পগুলোর কাজ খুব ধীরে ধীরে চলছে। আর এর প্রধান কারণ হচ্ছে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আসন্ন বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় (এডিপি) বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, প্রধানত যোগাযোগ খাতে প্রস্তাবিত ব্যয় কাটছাঁট হতে পারে। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতের ব্যয়ের দিক থেকে দেশের বৃহৎ দুই সংস্থা রেলওয়ে ও সেতু বিভাগও রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে মন্থর গতির কারণে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বৈদেশিক সহায়তা ও ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রায়ও কাটছাঁট হতে পারে। এখন পর্যন্ত দেশের বৃহত্তম উন্নয়ন প্রকল্প পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন করছে সেতু বিভাগ। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ থাকা ২৩৫ কোটি টাকা খরচ করতে পারবেন না। কারণ চলমান অস্থিরতার মধ্যে পরিবহন ও নিরাপত্তা সমস্যা নিয়ে উদ্বেগে আছেন তারা।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেটে আট হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া ছিল। চলমান অর্থবছরে উন্নয়ন খাতের সর্বোচ্চ বরাদ্দ এটি। তবে এখন এখন সংশোধিত এডিপিতে টাকার অঙ্ক কমিয়ে সাত হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা চাইবেন কর্মকর্তারা। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে খুব কম ব্যয় হয়েছে। এ কারণে চলতি অর্থবছরে আমাদের পুরো অর্থের প্রয়োজন নেই। সূত্রগুলো বলছে, গত ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ তাদের তিন হাজার ২২৫ কোটি টাকার মধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত চীনভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি লিখিতভাবে চলমান অস্থিরতায় নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো বর্তমানে ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে। বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির কিছু মালবাহী ট্রাক ও যানবাহনে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের পর তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে একই ধরনের সমস্যায় পড়েছে ঢাকময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ। অবরোধে নাশকতার কারণে সমস্যায় পড়েছে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন। এই তালিকায় আরো রয়েছে সারাদেশের পুরাতন রাস্তাঘাট ও ভবন সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের মতো কাজগুলো।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নয়ন বাজেটের অর্থের পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আসন্ন সংশোধিত এডিপিতে মূল বাজেট থেকে ৯২৫ কোটি টাকা কমিয়ে আনা হবে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে প্রতিষ্ঠানটির ৪১টি প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল চার হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। রেল মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পগুলো শেষ করতে রেল মন্ত্রণালয়ের প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু হরতাল ও অবরোধে প্রয়োজনীয় মালবাহী পরিবহনের স্বল্পতার কারণে খরচ না হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মতো।

উলে#খ্য, গত পাঁচছয় বছরে রেলওয়ে খাতের উন্নয়নে উলে#খযোগ্য অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে সরকার। ২৫ দিনের অবরোধে মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল ও পেট্রোলবোমা হামলা হচ্ছে। একারণে দেশের সাধারণ পরিবহন খাত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যাতায়াতের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। পরিবহন মালিকরাই এখন দীর্ঘ রুটে নিজেদের গাড়ি পাঠাতে প্রস্তুত নয়। গত বছরের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে চলমান অবরোধ পর্যন্ত এমনিতেই গাড়িভাড়া বেড়েছে পাঁচ থেকে ১০ বার। এবছরও সেটা বাড়ার পথে রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সরকারের অধীনে সিটি করপোরেশনগুলোর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর খরচের হিসাব ঠিক ও সময়মতো দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য তাদের অর্থছাড়ও করা হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের চলতি বছরে বরাদ্দ ছিল ৯০০১.৫৮ কোটি টাকা। যা মোট এডিপি বরাদ্দের ১০ ভাগ। এ বিভাগে প্রকল্প রয়েছে ৫২টি। ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত এ বিভাগের আর্থিক অগ্রগতি ২৪৭৬.৬৭ কোটি টাকা বা ২৮ ভাগ। চলতি বছরে এ বিভাগে শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করছেন সংশি#ষ্টরা। সেতু বিভাগে চলতি বছরে বরাদ্দ রয়েছে ৮৮৫৭.৬৫ কোটি টাকা, যা মোট এডিপি বরাদ্দের ১০ ভাগ। ১৩টি প্রকল্প চলছে এ বিভাগে। ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত এ বিভাগের আর্থিক অগ্রগতি ২৪৭৬.৬৭ কোটি টাকা বা ২৮ ভাগ। জানা গেছে, এ বিভাগের অগ্রগতি পদ্মা সেতুর অগ্রগতির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গত অর্থবছরে এ বিভাগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ছিল মাত্র ৩ ভাগ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চলতি বছরে বরাদ্দ রয়েছে ৫৬০৫.১৭ কোটি টাকা। যা মোট এডিপি বরাদ্দের ৭ ভাগ। ১২টি প্রকল্প চলছে এ মন্ত্রণালয়ে। ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি ১৭৪৩.৩৪ কোটি টাকা বা ৩১ ভাগ। গত বছর এ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ছিল ৯৫ ভাগ। চলতি বছরের শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছেন সংশি#ষ্টরা।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চলতি বছরের বরাদ্দ রয়েছে ৪৩১৫.৮৬ কোটি টাকা। যা মোট এডিপি বরাদ্দের ৫ ভাগ। ৪৮টি প্রকল্প চলছে এ মন্ত্রণালয়ে। ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি ৬০৯.৫৭ কোটি টাকা বা ১৪ ভাগ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চলতি বছরের বরাদ্দ রয়েছে ৪২৯৪.২১ কোটি টাকা। যা মোট এডিপি বরাদ্দের ৫ ভাগ। ৫৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এ মন্ত্রণালয়ে। ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি ৯৩৪.৫৩ কোটি টাকা বা ২২ ভাগ। সড়কমহাসড়ক বিভাগে চলতি বছর বরাদ্দ রয়েছে ৪২৯৪.৮৪ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৫ ভাগ। ১২০টি প্রকল্প এ বিভাগে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি তথা ব্যয় হয়েছে ১২৫৪.১১ কোটি টাকা বা ২৯ ভাগ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চলতি বছরের বরাদ্দ রয়েছে ৩৬৭০.৭৭ কোটি টাকা। যা মোট এডিপি বরাদ্দের ৪ ভাগ। ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এ মন্ত্রণালয়ে। ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি বা ব্যয় হয়েছে ১১৮২.৮১ কোটি টাকা বা ৩২ ভাগ। এদিকে এডিপিভুক্ত প্রকল্পের মধ্যে কম গুরুত্বপূর্ণ ও সমস্যাগ্রস্ত প্রকল্প চিহ্নিত করে ৪০০টি প্রকল্প খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, অর্থমন্ত্রী চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। হরতালঅবরোধ সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা বাজেট দিয়েছিলাম, তা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ৭ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে আশা করেছিলাম। হয়তো ৭ দশমিক ২ শতাংশ হতো। এখন দেখছি তারও কম হবে।’ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে সরকার পরিচালনায় বাজেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলেও জানান আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তাদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তবে কত দেয়া হচ্ছে, তা এখন বলব না।’ চলমান রাজনৈতিক অবস্থা কত দিন চলবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না। গত জানুয়ারিতে আশা করেছিলাম, এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।’