Home » আন্তর্জাতিক » উগ্রবাদের উত্থান সম্ভাবনায় বিদেশীদের উদ্বেগ চরমে

উগ্রবাদের উত্থান সম্ভাবনায় বিদেশীদের উদ্বেগ চরমে

এম. জাকির হোসেন খান

dis 3জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ, অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এবং নাগরিকবৃন্দ বাংলাদেশে আইনশৃংখলা বাহিনী কর্তৃক অব্যাহতভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ এবং তা বন্ধের আহবান জানালেও তা ক্রমেই বাড়ছে, নাগরিকরা এখন প্রকৃতই অসহায়। সর্বশেষ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সম্প্রতি সহিংসতায় শিকার হওয়া সাধারণ যথাযথ বিচারের প্রাপ্য। অপরাধী যারাই হোক, তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আইনের শাসন, বিচার বহির্ভুত হত্যার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সমাবেশ করতে দেয়া ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা, শ্রম অধিকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘুর অধিকার সহ অভিন্ন স্বার্থ জড়িত বিষয়গুলোতে বরাবরের মত উদ্বেগ জানিয়ে এছাড়া মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।’ উল্লেখ্য, ঢাকা সফরের সময় ইইউ প্রতিনিধি দলের সথে ক্ষমতাসীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও শাহরিয়ার আলম তা অস্বীকার করায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা গণমাধ্যমে এ ধরনের অসত্য তথ্য প্রকাশে প্রকাশ্যে চরম ক্ষুব্ধ এবং হতাশা প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মানবাধিকার লংঘন নিয়ে এভাবেই ব্যাপক মিথ্যাচারের মাধ্যমে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের ২০১৪ সালের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলেছে, ‘বাংলাদেশে পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ব্যাপকভাবে নির্যাতন ও অত্যাচার চলছে। কিন্তু এসব নির্যাতনের ঘটনার বিচার হচ্ছে না’।

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেন, ‘সহিংস জঙ্গিবাদ প্রতিহত করার বিষয়ে গত সপ্তাহে একটি বৈশ্বিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ওই কনফারেন্সে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় জবাবদিহিমূলক শাসন, রাজনৈতিক সুযোগ, নাগরিক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেছেন। মি. কেরি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা সহিংস কৌশলের কোন স্থান নেই। একই সাথে এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে, সরকার শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেবে। প্রয়োজন একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। আর গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো হচ্ছে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ একইদিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্য কর্তৃক ‘কান্ট্রি ইনফরমেশন অ্যান্ড গাইডেন্স, বাংলাদেশ: অপজিশন টু দ্য গভর্নমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সরকার ভিন্নমত এবং সমালোচনাকে সহ্য করে না, সরকারের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে এমন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীন। বরং এ বিষয়ে সরকার মারাত্মকভাবে আক্রমণাত্মক। ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিরোধী রাজনীতিক ও নারীদের রক্ষা এবং সহিংসতা দমনে ব্যর্থ বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো দায়ভার ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে, নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করে। তারা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।’ ক্ষমতাসীনদের দ্বিমুখী অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দলের লোকেরা পেট্রোল বোমাসহ ধরা পড়লেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। গত পাঁচ বছরে সরকার নিজ দলের লোকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মোট সাত হাজার ১৭৭টি মামলা প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি হত্যা মামলাও রয়েছে। কিন্তু অন্য কোনো দলের কোনো মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।’

ঢাকায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ ‘নাশকতাকারী’ সন্দেহে ৩ তরুণের গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার দাবি করলেও পুলিশেরই করা লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত তিন তরুণের দেহে মোট ৫৪টি গুলির চিহ্ন রয়েছে, পিটুনির কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয় জনগণও দাবি করেছে, ওই রাতে ঐ এলাকায় গণপিটুনির কোনো ঘটনা ঘটেনি। শুধু তাই নয়, পুলিশ নাশকতাকার সপক্ষে কোনো প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়নি। এমননিভাবে আইনশৃংখলা বাহিনীর সামনেই ব্লগার অভিজিত রায় নিহত হওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে পরিস্থিতি কতোটা ভয়াবহ। সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বা দায়মুক্তির সংস্কৃতির আড়ালে বিরোধী নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেফতার এবং ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম অবস্থান গ্রহণ করলে, তার ফলাফল যে কারো জন্য সুখকর হবেনা তা নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অভিজিত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো। ফ্রাংকেস্টাইন কাউকে রক্ষা করেনা, আর এর ফলেই পাওয়া যাচ্ছে বেওয়ারিশ লাশ, ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যের সহিংস অপরাধ কর্মকান্ড সরকার পক্ষের হত্যাকান্ড, জখম ও অনৈতিক গ্রেপ্তারের ঘটনাসমূহকে ন্যায্যতা প্রদান করে না। বাংলাদেশে নির্যাতনের ঘটনা বিশ্ব আর উপেক্ষা করতে পারে না।’

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে পত্রিকার প্রতিবেদনে জানা যায়, পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও সংঘর্ষে গত প্রায় এক মাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৫ জনের মধ্যে নয়জনই কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী নন। তাঁরা কেউ দিনমজুর, কেউ দোকানি, কেউ ভ্রাম্যমাণ খেলনা বিক্রেতা, একজন প্রবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। নাশকতাকারী দমনের নামে আইনশৃংখলা বাহিনী কর্তৃক এ ধরনের বিচারবহির্ভূত কথিত বন্দুকযুদ্ধ, হত্যাকান্ড চালানো হলেও কতজন প্রকৃত অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে তা জানা যায়নি। আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকায় মানবাধিকার লংঘনের প্রকৃত ঘটনাগুলো চাপা পড়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্রের সংবিধান রক্ষার নামে এভাবে মানবাধিকার হরণের বৈধতা কোথায়? অথচ এ ধরনের হত্যাকান্ড ২০০৯ এ প্রতিশ্রুত বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধে প্রদত্ত অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট লংঘন যার ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সদস্যপদ লাভ করে। তাই চলমান বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং নির্যাতন বন্ধের মাধ্যমে অসহায় জনগণকে রক্ষায় জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায় এড়াতে পারেনা। জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় ৯অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করা বলা হয়েছে, ‘কাউকে খেয়ালখুশিমত গ্রেফতার, ডিটেনশন বা অন্তরীণ রাখা যাবেনা’; ১০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের তার বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের স্বচ্ছ এবং গণশুনানির পূর্ণ সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে যার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার এবং দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করা হয়’। নির্দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে ২০১৫ এর ৫ জানুয়ারি থেকে বিরোধী জোটের চলমান অবরোধের পর থেকে কথিত‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও ‘গাড়িচাপা’র মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন বিরোধী নেতাকর্মী বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংস্থা দাবি করেছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাহটস ওয়াচ মন্তব্য করে, ‘গত মাসে দেশজুড়ে প্রায় ৬০ জন নিহত হয়েছেন, শ’ শ’ মানুষ আহত হয়েছেন ও হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা ও অন্যান্য নির্যাতনের ঘটনা অবসানের কোন লক্ষণ নেই। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের উচিত সকলের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং বিচারবহির্ভূতভাবে শক্তি প্রয়োগ, গুম এবং গ্রেপ্তার বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করা।’

গত ২৯ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীসমূহ কর্তৃক হত্যাযজ্ঞ, গুম এবং খেয়ালখুশিমত গ্রেফতারের ন্যায় মারাত্মক আইন লঙ্ঘনের বিচারে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষকরে তা করা হচ্ছে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে। সরকারি আইন শৃংখলা বাহিনী ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ও পরে মানবাধিকার লংঘন করেছে। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন সম্পর্কিত সহিংসতা অথবা আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাসমূহের দায়ে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বাংলাদেশ সরকার’।

চলমান বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনকে সরকার জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আখ্যায়িত করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে তা নস্যাতের চেষ্টা করলেও সর্বশেষ ঢাকা সফররত ইপির মানবাধিকার বিষয়ক উপকমিটির প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গত ২০০১ সালের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলে মনে করে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট’। সফর শেষে জানায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট পৃথক এক বিবৃতিতে ‘বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার নামে নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা চলবে না।”

উল্লেখ্য, সরকার যেকোনো মূল্যে শান্তিস্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার নামে জটিল ও সহিংস রাজনৈতিক সংকটকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সাথে তুলনা করে, তা দমনের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে। বিরোধী রাজনৈতিক মতাবলম্বী সহ সাধারণ নাগরিকদের গণহারে গ্রেপ্তার, মামলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে নির্মূলের ‘শূণ্য ফলাফল অর্জনের খেলায়’ মেতেছে। দেশ কার্যত নিরাপত্তাহীন হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে সর্বশেষ আবারো গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিচ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তাঁরা পর্যবেক্ষণ করছেন। এবং আবারও তিনি (জাতিসংঘের মহাসচিব) দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য চলমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের পথ বের করতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।’ এর আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক উপকমিটির সদস্যরা বলেন, ‘দুই দলই অনড়। ফলে আমাদের কাছে সমঝোতার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতির উন্নতি হবেনা, সেটি বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জেনেছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিরোধী দল কোণঠাসা হয়ে পড়বে। একে কাজে লাগিয়ে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটতে পারে। একইসাথে এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেবে।’ আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম? রাষ্ট্রটির প্রকৃত মালিক এর নাগরিকরাই, তাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী একটি গহীন খাদের মধ্যে হারিয়ে যাবে নাকি গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করবে?