Home » বিশেষ নিবন্ধ » রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড

রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড

তিন দশকে রাজনীতিবিদ নয় তৈরি হয়েছে গডফাদার

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

last 2তেতাল্লিশ বছর আগে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ৩০ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে। গণহত্যা করেছিল পাকিস্তানী হানাদার, আলবদর ও রাজাকাররা। সেটি ছিল একটি সর্বগ্রাসী যুদ্ধ। যা বাঙালী জাতির ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠি। সেটি ছিল জাতীয় মুক্তি, অস্তিত্ব আর বেঁচে থাকার লড়াই। বাঙালী জয়ী হয়েছিল হাজার বছরের ইতিহাসে কয়েকবার মাত্র। কিন্তু ঐ জয় সবচেয়ে স্মরণীয় এবং এর মধ্য দিয়ে জন্ম হয়েছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও জাতির। বিনিময়ে জীবন দিতে হয়েছিল অকাতরে। স্বাধীনতার পরেও হত্যাকান্ডের এই ধারাটি অব্যাহত থেকে যায়। গত তেতাল্লিশ বছরে খুন হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। সংখ্যাটি কেউ বলেন এক লাখ, কেউ বলেন দেড় লাখ, কেউ বা বলেন দুই লাখেরও বেশি। রক্ষণশীল হিসেবে সংখ্যাটি লেখা হয়েছে লক্ষাধিক। খুনের অব্যাহত ধারায় এখনও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩’শ মানুষ প্রাণ দেয়। এর মধ্যে রাজধানীতে গড়পড়তা খুনের হার ৩০ জন। অথচ গত তেতাল্লিশ বছর ধরে দেশে কোন যুদ্ধ বা যুদ্ধাবস্থা চলছে না। যুদ্ধাক্রান্ত একটি দেশ বা শহরের জন্য খুনের এই পরিসংখ্যানটি খুব অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে এই পরিসংখ্যান কি প্রমান করে যে, বাংলাদেশ জন্মের পর থেকেই একটি যুদ্ধক্ষেত্র। পাকিস্তানী বাহিনী ও তার দোসররা যে রক্তাক্ত প্রান্তর সৃষ্টি করেছিল, তা থেকে আর বেরিয়ে আসা গেল না।

রাজনীতিতে অস্ত্র, খুনোখুনি নতুন কোন ঘটনা নয়। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে অস্ত্রের ব্যবহার ও প্রতিপক্ষকে খুনের ঘটনা লাখ ছাড়িয়ে যাওয়া প্রমান করে যে, শুরু থেকে এখানে রাজনীতি ছিল উনিশ শতকের চর দখলের মত। শুধু সময়, মানুষ, অস্ত্রের ধরণ, আক্রমনের মাত্রা আর প্রেক্ষাপট বদলেছে। বলা যায়, হত্যার রাজনীতিবহু পুরানো ইতিহাস। দেশটির জন্মলগ্ন থেকে চালু এই ধারার পেছনে কিছুটা রাজনৈতিক আদর্শ কাজ করেছিল। সে সময়ে অসংখ্য রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, অনেক অঞ্চলে সরকারী বাহিনীর সাথে, গোপন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সশস্ত্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মী ও সরকারী বাহিনীর সদস্যরাও এসব যুদ্ধে নিহত হয়েছে অকাতরে। দেশের পার্বত্য অঞ্চলে অধিকার আদায়ে লিপ্ত আদিবাসীদের সাথে সামরিকবেসামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। সত্তরের মাঝামাঝি ও আশির দশকের শুরুতে দুটি রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যূত্থানে দুইদুইজন রাষ্ট্রপতি নিহত হয়েছেন। অন্তত:পক্ষে ২০টি ব্যর্থ সামরিক অভ্যূত্থান ও এর প্রহসনমূলক বিচারে শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাসহ ডজন ডজন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সৈনিকদের হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পরে আধা সামরিক বাহিনী, জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দমনে। ধারণা করা হয়, এই বাহিনীর হাতে বিভিন্ন প্রকাশ্য ও গোপন রাজনৈতিক দলের ৩০ হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছিলেন।

রাজনীতি আদর্শবিহীন হয়ে ওঠার কারণে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতাই হয়ে উঠেছে এক এবং অদ্বিতীয়। কর্মী নয়, ক্যাডারই নেতার শক্তি। আন্ডারওয়ার্ল্ড নির্ভর এই রাজনীতির প্রধান ভাষা হচ্ছে অস্ত্র। যার কাছে যত অন্ত্র, যত ক্যাডার, এখন সেই সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। বিলুপ্তপ্রায় নেতা শব্দটির জায়গা নিয়েছে গডফাদার পরিচিতি। একজন রাজনৈতিক নেতার চেয়ে এদের কদর সরকার বা দলীয় হাইকমান্ডে অনেক বেশি।

আশির দশকে সামরিক ডিক্টেটর এরশাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত হয়েছেন ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও রাজনৈতিক কর্মীরা। অন্যদিকে, স্বাধীনতার প্রথম দশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আছরে রাজনীতি করার সুযোগ পাওয়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সশস্ত্র ক্যাডারদের হাতে শত শত রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়ে গেছেন আজীবনের জন্য। দেশে রগ কাটার রাজনীতি চালু করে এই দলটি। একাত্তরে পাক হানাদারদের সহযোগী জামায়াত সে সময়ে যেমন আলবদর নামে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছিল, সেই আদলে গড়ে তোলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সশস্ত্র উইং। সুতরাং জন্মের পরেই বাংলাদেশে দুই দশকের রাজনীতিতে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড, সামরিক অভূ্যূত্থান ও পাল্টা অভ্যূত্থান, গোপন রাজনৈতিক দলগুলোর সশস্ত্র সংগ্রাম ও জামায়াতের হত্যার রাজনীতি সৃষ্টি করেছে রক্তপাতময় রাজনীতির ভিত্তি।

মাও সে তুং যেমনটি বলেছিলেন, “যুদ্ধ হচ্ছে রক্তপাতময় রাজনীতি, আর রাজনীতি হচ্ছে রক্তপাতহীন যুদ্ধ। শুরু থেকে বাংলাদেশে কখনই রাজনীতিতে রক্তপাতহীন যুদ্ধ চলেনি, চলেছে রক্তপাতময় রাজনীতি। এই রাজনীতির কোন আদর্শ নেই। আছে একটিই বিষয় ক্ষমতায় টিকে থাকা অথবা যে কোন উপায়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া। সেখানে দেশজাতি, জনগন, সংবিধান, গণতন্ত্র কোন কিছুই বিবেচনায় নেয়া হয়নি। এক্ষেত্রে সত্তরআশির দশকের সাথে পার্থক্য এইটুকুই যে, সে সময়ে রাজনৈতিক কর্মীদের টার্গেট করা হতো এবং খুনের শিকার হতেন তারা। নব্বইয়ের দশক থেকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের টার্গেট বদলে জনগনকে বেছে নিয়েছে, আক্রমনের প্রধান শিকার হিসেবে। বিশেষ করে গত এক দশকের তথাকথিত আন্দোলনের নামে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আক্রমনের শিকার সাধারণ জনগন এবং নিহত হচ্ছে তারাই, যাদের সাথে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। এই দশকেই খুনের সাথে যুক্ত হয়েছে মানুষকে পুড়িয়ে মারার কালচার। আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকারদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও মূলত: তারা মার্সেনারি বা পেশাদার সন্ত্রাসী। যারা ব্যবহৃত হয়ে থাকে ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে।

রাজনীতি আদর্শবিহীন হয়ে ওঠার কারণে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতাই হয়ে উঠেছে এক এবং অদ্বিতীয়। কর্মী নয়, ক্যাডারই নেতার শক্তি। আন্ডারওয়ার্ল্ড নির্ভর এই রাজনীতির প্রধান ভাষা হচ্ছে অস্ত্র। যার কাছে যত অন্ত্র, যত ক্যাডার, এখন সেই সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। বিলুপ্তপ্রায় নেতা শব্দটির জায়গা নিয়েছে গডফাদার পরিচিতি। একজন রাজনৈতিক নেতার চেয়ে এদের কদর সরকার বা দলীয় হাইকমান্ডে অনেক বেশি। গত তিন দশকের রাজনীতির দিকে চোখ ফেরালে দেখা ও বোঝা যাবে, আদর্শহীন এই রাজনীতি কিভাবে তৈরী করেছে গড ফাদার এবং অস্ত্রধারী ক্যাডারদের। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শেল্টারে তৈরী হয়েছে অজস্ত্র গড ফাদার ও খুনী। আর জামায়াত ক্যাডার তৈরী করছে আদর্শের মিশেলে, প্রশিক্ষণ ও বেতন দিয়ে।

রাজনীতিতে অস্ত্রের আগমন ঘটে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ষাট দশকে, সেনাশাসক আইয়ুব খানের মাধ্যমে। ১৯৬৫ সালে ন্যাশনাল ষ্টুডেন্ট ফ্রন্ট (এনএসএফ) নামে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন গড়ে তোলে সামরিক জান্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তারাই প্রথম প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেয়। এই দশকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, ভারতের পশ্চিম বাংলায় চারু মজুমদারের নেতৃত্বে নকশালবাড়ি আন্দোলনের সূচনা। এ ঘটনা আলোড়িত করেছিল সে সময়ের তরুনদের। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এম এল), পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টি চারু মজুমদারের আদর্শে উদ্ভুদ্ধ হয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে শ্রেনী শত্রু খতমের গেরিলা সংগ্রাম বিকশিত করার লাইন গ্রহন করে। অসংখ্য মেধাবী তরুন এই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে গেরিলা স্কোয়াড গঠন করে শ্রেনী শত্রু খতমে আত্মনিয়োগ করে। এর অনিবার্য পরিনতিতে শত শত মানুষ নিহত হয়। মুক্তিযুদ্ধকালে জন্ম নেয়া পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি ও মুক্তিযুদ্ধের পরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সশস্ত্র সংগঠন ‘গণবাহিনী’র অস্ত্রের রাজনীতির শিকার হয়ে ঝরে গেছে অজস্র প্রাণ। এ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হাজার হাজার তরুন শ্রেনী শত্রু খতমের নামে হয়ে উঠেছিল খুনী। অস্ত্রধারী এসব বিপ্লবী দল একটা সময় পর্যন্ত মতাদর্শগত লড়াইয়ে লিপ্ত থাকলেও, বর্তমানে দলউপদলে বিভক্ত হয়ে খুনডাকাতিধর্ষণচাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অপকর্মে লিপ্ত। ক্ষমতাসীন দলের গডফাদাররা প্রভাব বলয় সৃষ্টির জন্য এদের ব্যবহার করে, শেল্টার দেয়, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে খুন করে বা পুলিশে ধরিয়ে দেয় এবং শিকার হয় ক্রসফায়ার নাটকের।

ষাট দশকের শেষ পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনগুলোর রাজনীতি ছিল আদর্শভিত্তিক। এ সময়ে তারা অস্ত্র বা খুনের রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত হয়ে পড়েনি। তখনও পর্যন্ত সরকারী মদতপুষ্ট এনএসএফই ছিল সন্ত্রাসী সংগঠন। মূলধারার সংগঠনগুলি ছিল গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অঙ্গিকারাবদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তরুযুবদের অস্ত্রের সাথে পরিচয় ঘটে ও এর ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। অস্ত্র মানুষকে প্রায় সর্বশক্তিমানের পর্যায়ে নিয়ে যায় এ বিশ্বাস জন্মায় অনেকের মধ্যে। যুদ্ধ শেষে অস্ত্র জমা নেয়া হলেও পাকিস্তানীদের রেখে যাওয়া অস্ত্র থেকে যায় বিভিন্ন গ্রুপের কাছে। এ সময়কালে স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছে থাকা অস্ত্রের ব্যবহার ও গোপন রাজনৈতিক দলগুলোর সশস্ত্র সংগ্রাম এবং সরকারের তরফে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর অপারেশন দেশজুড়ে চরম নৈরাজ্যিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ১৯৭৪ সালে মহসিন হলে সেভেন মার্ডার এর মধ্য দিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সাথে হত্যার রাজনীতির সম্পৃক্ততার বহি:প্রকাশ ঘটে। তৎকালীন মুজিববাদী ছাত্রলীগ নেতা শফিউল আলম প্রধান (বর্তমানে জাগপা সভাপতি ও ২০ দলীয় জোট নেতা) দলীয় কোন্দলের জের হিসেবে ৭ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেন। প্রধানের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছিল কিন্তু অল্পকাল পরেই সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের ক্ষমায় সে ছাড়া পেয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসে।

১৯৭২১৯৭৫ পর্যন্ত দেশজুড়ে হত্যার রাজনীতি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও আন্ডাওয়ার্ল্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছিল মুজিববাদী ও জাসদ ছাত্রলীগ। ’৭৫ পর্যন্ত মুজিববাদী ছাত্রলীগ ও এর পরে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত জাসদ ছাত্রলীগ খুবই শক্তিশালী ছিল। পরবর্তীকালে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ৯০’এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের একাধিপত্য বজায় ছিল। ৭০ দশকের প্রথমার্থে গোপন রাজনৈতিক দল পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারের কাছে ভীতিকর হয়ে উঠেছিল। ’৭৫এর শুরুতে সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এবং তাকে হত্যা করা হয়। সে সময়ে সরকারী সংবাদপত্র দৈনিক বাংলার খবরে বলা হয়, “পালাতে গিয়ে পূর্ববাংলার সর্বহারা পাটি প্রধান সিরাজ শিকদার নিহত”। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান বলেছিলেন, “কোথায় আজ সিরাজ শিকদার”। এ হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়া ছিল সূদুরপ্রসারী। কারন এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার সূচনা ঘটেছিল এবং আনুষ্ঠানিকতা পেয়েছিল বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড। ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম দিবসে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী মতিউল ও কাদের নিহত হন। সেটি ছিল স্বাধীন দেশে পুলিশের প্রথম প্রকাশ্য রক্তাক্ত এ্যাকশন।

সত্তর ও আশির দশকে সরকার ও তার বাহিনী, সরকারী দল, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলগুলো রক্তপাতময় রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ায় যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান কোথাও পাওয়া যাবে না। কোন একটি সরকারও এসব হত্যাকান্ডের তদন্ত, অনুসন্ধান বা বিচারের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বিচারহীনতার একটি স্থায়ী সংস্কৃতি গড়ে ওঠে বাংলাদেশে, যা থেকে কখনও বেরিয়ে আসা হয়নি। বরং বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বা গুমঅপহরনের ঘটনা রক্তপাতময় রাজনীতির স্থান দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে, গত দুই দশকে ধর্মীয় মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের উত্থান সবচাইতে আলোচিত ঘটনা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এই জঙ্গীবাদ নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান দুই দলের মধ্যে কখনও কখনও প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনীতির সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হচ্ছে এখানে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে যে কোন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকে বড় দলগুলি। এ বিষয়ে নৈতিকতার কোন বালাই নেই। সুতরাং স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর পরেও রক্তপাতময় রাজনীতির বলয় থেকে এই রাষ্ট্র বেরিয়ে আসতে পারেনি। বেরিয়ে আসার আপাতত: কোন সম্ভাবনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

অন্যকে দিয়ে হত্যাগুমের রাজনৈতিক সংস্কৃতি

স্বাধীনতার পরে লক্ষাধিক মানুষ খুন, গুম, নিখোঁজ অথবা গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছে বাংলাদেশে। কতো মায়ের বুক খালি হয়েছে, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে, সন্তান হারিয়েছে পিতামাতাকে। আমাদের চেনাজানা জগতের কতো মানুষ যে আচমকাই এক সুন্দর প্রভাতে অথবা কালো নিশীথে নাই হয়ে গেছে, তার তো কোন হিসেব নেই। কতো সম্ভাবনা যে অকাতরে ঝরে গেছে নষ্টভ্রষ্ট রাজনীতির বলি হয়ে, শুধুমাত্র প্রিয়জনরা বা একান্ত আপনজনরাই সে হিসেব দিতে পারবেন। আমাদের অকরুন রাষ্ট্ররাজনীতিসরকারসমাজ সে হিসেব কি আদৌ রাখে? তারা জানেন, খুনী কারা, রাষ্ট্রসরকার সকলেই খুনীর পরিচয় জানে। তারা সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, মিডিয়ার সাথে কথা বলে, পত্রপত্রিকায় সাক্ষাতকার দেয়, রাষ্ট্র সমাজকে চ্যালেঞ্জ করে – থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদি বা কখনো তারা বিচারের মুখোমুখি হয়, শাস্তি হয় তাদের, তাহলে রাজনৈতিক বিবেচনায় একসময় রাষ্ট্রপতি তার দন্ড মওকুফ করে দেন অথবা রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

বাংলাদেশের হত্যা ও অস্ত্রের রাজনীতিতে জাসদ ছাত্রলীগের একাধিপত্য শেষ হয় ১৯৮৩ সালে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই জায়গা নিয়ে নেয়। এদের সন্ত্রাসীদের দাপটে ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা ক্যাম্পাস ছেড়ে দেয়। সংঘর্ষে অনেক ক্যাডার নিহত হয়। এই সময় থেকেই ছাত্রদল পরিনত হয় অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের অস্ত্রধারীরা খুন ও রগ কাটার মধ্য দিয়ে পরিনত হয় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আতঙ্কে। ১৯৮৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল বিজয়ী হয়। তাদের শক্তির ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তাদের দাপট ছিল অব্যাহত। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ছাত্রদল দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। দলীয় অস্ত্রধারী ক্যাডাররা তদবির, দখল ও ঠিকাদারী বানিজ্যে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে পরিমান অস্ত্রের সমাহার দেখা গেছে তা ছিল অভূতপূর্ব। তখন চলছে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আন্দোলন। এর মধ্যে ছাত্রদলের বেশ কিছু ক্যাডার এরশাদ সরকারের সাথে সমঝোতায় জেল থেকে বেরিয়ে আসে। শুরু হয় উভয় গ্রুপের অস্ত্রের ভয়াবহ মহড়া। বিপুল এই অস্ত্রভান্ডার আর কখনও উদ্ধার করা হয়নি এবং এগুলিই পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অন্যান্য হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।

১৯৯০ সালের শীত মওসুমে গণঅভ্যূত্থানে (যা অচিরেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়) এরশাদের পতন, তিনজোটের মধ্যে স্বাক্ষরিত চার্টার ও ৯১’র বসন্তে তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল। সংসদীয় ব্যবস্থায় পুন:প্রত্যাবর্তন সূচনা করেছিল রক্তপাতহীন রাজনীতির সম্ভাবনা। কিন্তু ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় এবং ‘সুক্ষ্ম কারচুপি’র অভিযোগ শুরুতেই সে সম্ভাবনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। এ সময় দলীয় নেতৃত্বে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে শেখ হাসিনাকে দেয়া ঐতিহাসিক পত্রের পরে দল থেকে ড: কামাল হোসেনের বিদায় এটি প্রমান করে দেয় যে, রাজনৈতিক দলগুলো কতোটা স্বৈরতান্ত্রিক। বিপরীতে অসাধারণ সম্ভাবনা নিয়ে শুরু করা সংসদীয় ব্যবস্থার বিএনপি সরকার অচিরেই হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার, যেখানে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রীর একনায়কতন্ত্র ও স্বেচ্ছাচার। দল, সরকার, রাষ্ট্রসব জায়গায়ই প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠেন এক এবং অদ্বিতীয়। সে সময়ে বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার ঘোষণা, ‘এই সরকারকে একদিনও শান্তিতে দেশ চালাতে দেবেন না’ এবং লাগাতার সংসদ বর্জনের কালচার গড়ে তোলা হয়, যা পরবর্তীতে বিএনপিও অব্যাহত রাখে।

এর অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে রাজনীতি প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে ওঠে এবং রক্তপাত ঘটানো শুরু হয়। বিপরীতে বিরোধী দলকে আস্থায় এনে দেশ পরিচালনা ও দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের নিরপেক্ষতার বিষয়টি নষ্ট হয়ে যায় মাগুরা উপনির্বাচনের পরে। বিরোধী দল প্রত্যাশিত ইস্যু পেয়ে যায় এবং আন্দোলন শুরু করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে। তত্বাবধায়ক সরকারের ঐতিহাসিক দাবি সামনে নিয়ে আসা হয়। এই ইস্যুতে জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের সখ্যতা গড়ে ওঠে, যা পরিনামে যুগপৎ আন্দোলনে রূপ নেয় এবং দেশের পরবর্তী রাজনীতিতে সূদুরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া রাখে। দেশে পুনরায় রক্তপাতময় রাজনীতি শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে এই যুগপৎ আন্দোলন বড় ভূমিকা পালন করেছিল, সেটি ইতিহাসের পাঠক মাত্রই অনুধাবন করবেন। ১৯৯৫ সাল জুড়ে এ আন্দোলন, ৯৬’র ফেব্রুয়ারীর একক নির্বাচন এবং জুন মাসে অনুষ্ঠিত পরবর্তী নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সহিংস আন্দোলনের বিস্তৃতি এতটাই ঘটেছিল যে, এ সময়ে ১৩৬ জন মানুষ প্রাণ হারায়। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে তাদের সাথে জাতীয় পার্টির ঐতিহাসিক মিত্রতার সূত্রপাত ঘটে এবং এ সময়ে পুরোনো বিবাদ ভুলে গিয়ে বিএনপিজামায়াতও জোটবদ্ধ হয়।

রাজনীতিবিদরূপী মানুষেরা সমাজের ওপর তলায় বসে তৈরী করে কিলার নামে নিয়ন্ত্রনহীন দানব। এদের ভিন্ন ভিন্ন দলীয় পরিচয় আছে। তবে আচারআচরণ, বক্তব্যবিবৃতি, স্বার্থউদ্দেশ্যে কোন পার্থক্য নেই। ক্ষমতাবলয় একক এবং চিরস্থায়ী করতে এরা রক্তপাতময় রাজনীতির সৃষ্টি করে। এজন্য প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করতে খুনগুমের আশ্রয় নেয়। খুন তারা নিজেরা করে না, করায়।

রাজনৈতিক ইস্যু এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট জটিলতা ও সহিংসতাকে প্রচলিত ফৌজদারী আইনী কায়দায় এবং বন্দুকের মুখে নিয়ন্ত্রনের প্রচেষ্টা ৯০’এর পরে বিএনপিই শুরু করেছিল। সুতরাং এটি নতুন নয়, বরং বলা যেতে পারে শাসক শ্রেনী দিনে দিনে এই প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে প্রশ্নাতীত দক্ষতা অর্জন করেছে। এজন্য সংঘটিত রাজনৈতিক ও সংশ্লিষ্ট অসংখ্য হত্যাকান্ড বিচারহীন থেকে গেছে। ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার ও গুলি করে হত্যার ঘটনা বাড়ছে। বিপরীতে গত দশকে শুরু হওয়া পুুড়িয়ে মেরে গণহত্যার কালচারও ক্রমশ: ছারখার করে দিচ্ছে জনজীবন। মানুষ মারার এই ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় সরকারের পক্ষে কখনোই নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি বলে এরকম হত্যাকান্ডকে ক্ষেত্রবিশেষ তারা প্রণোদনা যুগিয়েছে।

রাজনীতিতে এই সশস্ত্র মোকাবেলা কখনই, কোন দেশে সুফল বলে আনেনি। তার প্রমান হচ্ছে, ১৯৯১২০১৫ পর্যন্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিক আন্দোলনে সৃষ্ট সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৮১২ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, যার মধ্যে ২৯ জনই জনপ্রতিনিধি। এর মধ্যে ৯১৯৬ মেয়াদে ১৩৬ জন, ৯৬২০০১ মেয়াদে ৫৪২ জন, ২০০১০৬ মেয়াদে ১২১৯ জন, ২০০৭০৮ মেয়াদে ১১ জন, ২০০৯১৩ এবং ২০১৪১৫ মেয়াদে ৯০৪ জন খুনের শিকার হয়েছেন। ১৯৯৬০১ এবং ২০০৯১৫ মেয়াদে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলে খুন হয়েছে ১৭২ জন, আহত হয়েছে ১৩ হাজার ৬’শ জন। এ সময়কালে বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দলে খুন হয়েছে ৩৪ জন। ২০০১০৬ মেয়াদে আওয়ামী লীগের ২’শ নেতাকর্মী খুন হয় সরকারী বাহিনী ও প্রতিপক্ষের হাতে।

অযোগ্য, অদক্ষ, অকর্মণ্য, অসৎ, মিথ্যাচারী এদেরই অপর নাম কি রাজনীতিবিদ? ক্ষমা করবেন পাঠক, রাজনীতিবিদ বলতে এক নি:শ্বাসের নামগুলিই হচ্ছে, মাওলানা ভাসানী, শেখ মুজিব, তাজউদ্দিন আহমেদ এরকম মহৎ মানুষেরা। আমাদের একালসেকাল রসাতলে দিয়ে এখন যাদের দ্বারা জনগন শাসিত হচ্ছে, তাদের জন্য শুরুর বিশেষণগুলিও যথেষ্ট নয়। এই মানুষগুলো নিজেদের অযোগ্যতা আড়াল করে ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার কৌশল নেয়। খুনঅপহরণগুম হয়ে ওঠে আমাদের জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ।

রাজনীতিবিদরূপী মানুষেরা সমাজের ওপর তলায় বসে তৈরী করে কিলার নামে নিয়ন্ত্রনহীন দানব। এদের ভিন্ন ভিন্ন দলীয় পরিচয় আছে। তবে আচারআচরণ, বক্তব্যবিবৃতি, স্বার্থউদ্দেশ্যে কোন পার্থক্য নেই। ক্ষমতাবলয় একক এবং চিরস্থায়ী করতে এরা রক্তপাতময় রাজনীতির সৃষ্টি করে। এজন্য প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করতে খুনগুমের আশ্রয় নেয়। খুন তারা নিজেরা করে না, করায়। ক্ষমতায় থাকতে দলীয় ক্যাডার ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অকাতরে ব্যবহার করে নিষ্ঠুর বর্বরতায়। ক্ষমতার বাইরে দলীয় ক্যাডার, জঙ্গী, সন্ত্রাসী ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার প্রাণীদের ব্যবহার করে নিপুন দক্ষতায়। উদ্দেশ্য অভিন্নমানুষ খুন। জন্মের পরের বাংলাদেশে এভাবেই ঘটেছে রক্তপাতময় রাজনীতি। রাষ্ট্রের ভেতর গড়ে উঠেছে রাষ্ট্র, যার নাম আন্ডারওয়ার্ল্ড, আর এর মদতদাতারা হচ্ছেন রাজনীতিবিদরা। সামরিকসিভিল আমলা, ব্যবসায়ী, সংবাদ মাধ্যমের কতিপয় মালিক ও সম্পৃক্তদের ছত্রছায়ায়ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রাণীরা বেড়ে ওঠে। সবক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ক্ষমতা সংহত করা মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কোন মানুষই কি নিরাপদ? ভাবছেন আপনি কোন দল করেন না। দল নিরপেক্ষ আপনি? সুতরাং আপনার কোন ভয় নেই। না, এমনটি ভাবার কোন কারন নেই। আপনি, আমি, আমরা কেউই নিরাপদ নই। আপনার ছেলেমেয়ে’র স্কুলে ভর্তি, যাতায়াত, বিয়ে, চাঁদা দেননি মাস্তানদের, ভোট দেননি ক্ষমতাশালীকে, রয়েছে সামান্য জমিজমা যার দিকে চোখ পড়েছে এলাকার প্রভাবশালী নেতার আপনি হতে পারেন তার টার্গেট অথবা বায়না মেটাতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আপনার দিকে তাক করে আছে তাদের অস্ত্র। এমনকিছু না হলেও মিসটার্গেট হয়েও নিহত হতে পারেন আপনি। আওয়ামী লীগবিএনপিজামায়াত ও অদৃশ্য ভয়ের কারিগরদের তৈরী এইসব মৃত্যুদুতদের কাছ থেকে কেউই নিরাপদ নই সেটা কোন অপরাধ না করলেও। হতে পারে সে অপরাধ বাংলাদেশে জম্ম নেয়া, বসবাসের, জীবনযাপনের।।