Home » অর্থনীতি » ঘোর দুর্দিনে গার্মেন্টস ॥ অর্ডার আসছে না, বন্ধ হচ্ছে কারখানা, লাভবান ভারতসহ অন্যরা

ঘোর দুর্দিনে গার্মেন্টস ॥ অর্ডার আসছে না, বন্ধ হচ্ছে কারখানা, লাভবান ভারতসহ অন্যরা

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

dis 3সংঘাতসহিংসতাময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম প্রধান খাত গার্মেন্টেসের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন এবং এ খাতে ইতোমধ্যেই দুর্দিন শুরু হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ লাভবান হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে আরও হবে বলে ধারণা করছেন এই খাত সংশ্লিষ্টরা।

চলমান পরিস্থিতির কারণে গত জানুয়ারি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিদেশী ক্রেতারা বা তাদের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশে আসতে রাজি হচ্ছেন না। অর্ডার কমে গেছে গত কয়েকমাসে এবং আগামী জুন নাগাদ এই কমতে থাকা অর্ডার আশঙ্কাজনকহারে কমবে বলেও জানিয়েছেন গার্মেন্টস মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, এতোদিন তারা যে কাজ করছিলেন তা আগের অর্ডার মোতাবেক। আর সে কাজ এখন অনেক কারখানায় শেষ হয়েছে, আবার অনেক কারখানায় শেষ হওয়ার পথে। বিজিএমইএ ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম জানিয়েছেন, ‘অনেক গার্মেন্টস ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আর বাকি যেগুলো আছে তার মধ্যেও বহু গার্মেন্টস আছে শঙ্কার মধ্যে’।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিদেশী ক্রেতাদের পক্ষ থেকে গ্রীষ্ম ও শরৎকালীন সময়ের তৈরি পোশাকের অর্ডারের আসল সময় হচ্ছে ডিসেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে অধিকাংশ ক্রেতা বা তাদের প্রতিনিধি সাধারণত জানুয়ারিফেব্রুয়ারিতেই এ দেশে এসে তাদের অর্ডার চূড়ান্ত করেন। কিন্তু এ বছরে তারা আসতেই রাজি না থাকায় হংকং, ব্যাংকক, দিল্লি, দুবাইসহ তৃতীয় দেশে বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকরা সেখানে গিয়েও ছিলেন। দু’চারজন অন্য সময়ের তুলনায় খুবই সামান্য অর্ডার পেলেও, অনেকেই বিফল হয়েছেন। গত ২ মার্চ কিছু ক্রেতাদের সাথে গার্মেন্টস মালিকদের যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাতে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা পুরো অর্ডার দিচ্ছেন না রাজনৈতিক অস্থিরতার ভবিষ্যত চিন্তা করে।

এছাড়া রফতানি করায়ও এবার নানা ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়েছে। হরতালঅবরোধের কারণে সমুদ্র পথে তৈরি পোশাক পাঠানোয় সমস্যা হওয়ায় আকাশ পথে অনেক বেশি খরচে কিছু মালামাল পাঠানো গেছে এবং এতে দ্বিমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। একদিকে অর্থ বেশি গেছে, অন্যদিকে সব মালামাল পাঠানো যায়নি। বিজিএমইএ’র শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, এ বছরে তাদের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল দুইশ সাত কোটি ডলার। যেহেতু দুটো গুরুত্বপূর্ণ মাস চলে গেছে সে কারণে রফতানি লক্ষ্যমাত্রার কম করে হলেও চার ভাগের এক ভাগ উৎপাদন কমেছে এবং রফতানি ঠিক মতো সময় ও সঠিকভাবে করা যায়নি। গার্মেন্টস মালিকরা জানান, এ অবস্থায় স্থানীয় গার্মেন্টেসের উপরে আস্থার সাথে সাথে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপরে নির্ভরশীল শান্তিপূর্ণ উৎপাদনরফতানিবান্ধব পরিস্থিতির উপরও আস্থার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এটি একটি বড় ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি করবে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে অনেক গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হওয়ার তালিকা দিনকে দিন বাড়ছে। এছাড়া বহু গার্মেন্টস এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বা মালিকানায় ভাগ বসিয়েছে বাইরের দেশ। এর প্রধান লাভবান দেশ হচ্ছে ভারত। অনেক আগে থেকেই গার্মেন্টস খাত হাত করার যে চেষ্টাটি ছিল ওই দেশটির তার মোক্ষম সুযোগটি তাদের হাতে এসেছে এবারের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় গার্মেন্টেস সামগ্রীর বিদেশী ক্রেতারা তাদের ক্রয় কেন্দ্র বা দেশ বদলে লাভবান হয়েছে ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া এবং সামান্য হলেও ইন্দোনেশিয়া।

গার্মেন্টস মালিকদের বক্তব্য এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশের ওই সব প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোই গার্মেন্টস খাতের বাজার দখলসহ প্রধান জায়গাটি দখল করে নেবে, সক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ যাবে পিছিয়ে। এর ভয়াল প্রভাব ইতোমধ্যেই টের পাওয়া যাচ্ছে, আর কয়েক মাসের মধ্যে আরও দৃশ্যমান হবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ, অসংখ্য নারী শ্রমিক এবং তাদের উপরে নির্ভরশীল কোটি মানুষ।।