Home » অর্থনীতি » ফারাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ যেন এক ফোটা পানিও না পায় সে চেষ্টা মমতার

ফারাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ যেন এক ফোটা পানিও না পায় সে চেষ্টা মমতার

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

dis 3ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দলবলসহ ঢাকা সফর করে গেলেন ১৯ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সফর নিয়ে সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল মাত্রাতিরিক্ত উচ্ছ্বাসও দেখিয়েছিল। সাথে সাথে দলদাস কিছু সংখ্যক বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট নামধারী এতোই গদগদ হয়ে পড়েছিল যে, মনে হচ্ছিল মমতাই তিস্তা চুক্তি এবং সীমানা চিহ্নিতকরণ সমস্যা মিটিয়ে দেয়ার সর্বময় কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকেও মমতা ব্যানার্জির সহায়তা চাওয়া হয়েছিল তিস্তা চুক্তি ও সীমানা চিহ্নিতকরণ সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে। মমতা সম্ভাব্য সব কিছু করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি দলদাস বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট নামধারীদের এমত বলেছিলেন যে, ‘আমার উপরে ভরসা রাখুন’।

ভারতের ফারাক্কা বাধের একটি গেইট ভেঙ্গে বাংলাদেশে পানি চলে আসায় এই মমতা ব্যানার্জি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে সব পুরনো গেইট শুধু মেরামতই নয়, মজবুত করার লক্ষ্য পুরনো সব গেইটগুলো যতো দ্রুত সম্ভব পরিবর্তনের জন্য দিল্লী সরকারের কাছে এক জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। গত ১৮ মার্চ দিল্লীতে মোদী সরকারের কাছে ওই চিঠিতে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফারাক্কা বাধ দিয়ে যেন কোনোক্রমেই পানি প্রবেশ করতে না পারে তার জোরদার ও অতি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে লক্ষ্যে ত্বড়িৎ পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

ফারাক্কা বাধের ১১২টি গেইট রয়েছে। প্রবল পানির চাপে ৪৯ নম্বর গেইটটি গত ১৫ মার্চ ভেঙ্গে যায় যার কারণে পানি প্রবেশ করতে থাকে বাংলাদেশে। পদ্মায় হঠাৎ করে দেখা যায় পানি প্রবাহ। ভারতের পানি সম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী ওই বাধ সম্পর্কে বলেছেন, ২০১৭ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক ভাবে সব গেইটগুলো আরও মজবুত ও শক্ত সামর্থ্য করা হবে এবং পুরনো সব গেইটের বদলে নতুন গেইট স্থাপন করা হবে। কিন্তু মমতা এতো দীর্ঘ সময় দিতে রাজি নন, বাংলাদেশে পানি চলে আসার কারণে।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে ভারত সরকারের মধ্যে ‘গঙ্গার পানি চুক্তি’ সম্পাদিত হয়। তখন আওয়ামী লীগ একে ফলাও করে ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ বলে প্রচার করেছিল বটে, কিন্তু পরবর্তীকালে পানি প্রবাহ চুক্তির আগের থেকেও কমে গিয়ে এখন তলানিতে এসে পৌছেছে। এ নিয়ে ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে এখন আর কোনো সাড়াশব্দ মিলছে না।

তবে তিস্তার ক্ষেত্রে যে মমতার উপরে নির্ভর করা হচ্ছিল, সে মমতাই এখন ফারাক্কার পানি যেন বাংলাদেশে আসতে না পারে সে ব্যাপারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।।

১টি মন্তব্য

  1. যত দিন পর্যন্ত আমরা আমাদের অধিকার এর জন্য অদের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী আন্দলন শুরু না করব ততো দিন পর্যন্ত ভারত আমাদের অধিকার আমাদের বুঝিয়ে দিবে না। সরকার এর উচিত অন্তত কিছুটা হলেও জনগনের চিন্তা করা !!