Home » প্রচ্ছদ কথা » সিটি নির্বাচন ॥ দু’পক্ষই কি চাপা দিতে চায় সবকিছু

সিটি নির্বাচন ॥ দু’পক্ষই কি চাপা দিতে চায় সবকিছু

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

এক.

coverহত্যাকাণ্ডের থেকে অনেক বেশি ভয়াবহ অপরাধ গুমের বিষয়টি অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ডামাডোলে। তিনশ’র ওপর পরিবার এখন আর গুমের ঘটনায় বিচার পর্যন্ত চাইছেন না। পরিবারের সদস্যরা শুধু জানতে চাচ্ছেন, বেঁচে আছে বা লাশটি কোথায় আছে। ২০১৪ সালের ৩০ আগষ্ট মৌলিক অধিকার রক্ষা কমিটির ব্যানারে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বজনরা আর্তি জানিয়েছিলেন, বাবাস্বামী অথবা সন্তানকে মেরে ফেলা হলে যেন এইটুকু জানতে পারেন। তারা শুধু মৃত আত্মার জন্য দোয়া করতে চান, শান্তি কামনা করতে চান। শুধু এইটুকুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছিল তাদের নিবেদন।

সেদিক থেকে আবুবকর সিদ্দিক কিংবা মাহমুদুর রহমান মান্না অনেক বেশি ভাগ্যবান। গুম হওয়ার ৪৮ ঘন্টা বাদেই আবুবকর ফিরে আসেন। বাসা থেকে তুলে নেয়ার ২১ ঘন্টা পরে মান্নাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন যে, তাকে অন্তত: গুম করা হয়নি। কিন্তু সালাহউদ্দিনের স্ত্রী কি নিয়ে সান্তনা পাবেন? নিখোঁজের প্রায় একমাস অতিক্রান্ত। তিনি বেঁচে আছেন তো? বেঁচে থাকলে কোথায় আছেন? জনমনে এই প্রশ্নটি গুঞ্জরিত হচ্ছিল, অতীতের ধারাবাহিকতায়। নেতিবাচক একটি পারসেপশন তৈরি হচ্ছে, তিনি হয়তো আর ফিরবেন না।

একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের অন্যতম মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব, সাবেক সংসদ সদস্য এবং প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সরকারী মহলকে মোটেই বিচলিত মনে হয়নি। তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, নিখোঁজ হওয়ার পেছনে সরকারের কোন বাহিনী জড়িত এবং সরাসরি বলেছেন, পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) নামে তাঁর স্বামীকে তুলে নেয়া হয়। তিনি হাইকোর্টের শরাণাপন্ন হন এবং আদালত তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়। পুলিশ নির্ধারিত তারিখে আদালতকে জানায় তারাও সালাহউদ্দিনকে খুঁজছে। এই নিখোঁজ বা গুমের ঘটনায় সরকারী মহলের রসিকতা ও হাস্যকর কথাবার্তায় জনমনে আরো নেতিবাচক ধারনার সৃষ্টি করে। জনগন মনে করে, সরকার এসব বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।

সরকারের দাবির সাথে একমত হয়ে যদি ধরে নেয়া হয়, সালাহউদ্দিন নিজে নিজে লুকিয়ে আেেছন বা বিএনপি তাকে গুম করে দিয়েছে, তাহলেও তাকে খুঁজে বের করা বা উদ্ধার করা সকল দায়িত্ব তো সরকারের। তারা চাইলে সেটি ২৪ ঘন্টার ভেতর পারেন, যদি ঘটনার মধ্যে ঘটনা না থাকে। আর এর প্রমান তো তারা দিয়েছেন, আবুবকর ও মান্নার বেলায়। সালাহউদ্দিনকে গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করলে কোন প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু তাঁকে গুম করার কোন অধিকার কারো নেই। যাই বলা হোক, অতীতের ঘটনাগুলো রক্ত হিম করে দেয়। নিখোঁজ হয়ে যাবার পর যারা ফেরার তারা দু’একদিনের মধ্যেই ফিরে এসেছেন। যত সময় গড়াবে অন্যরা আর ফিরবেন না স্বজনরা গুমড়ে কাঁদবেন, পাথর চাপা দেবেন, অবোধ সন্তান জানবেও না তার আদরের বাবা এখন কোথায়?

একজন ইলিয়াস আলী’র স্ত্রীর চোখের জল শুকিয়ে যাবে। হাসিনা আহমেদেরও তাই হবে। চৌধুরী আলমের পরিবার কিংবা নাম না জানা তিনশ’র ওপর পরিবার এই বাংলাদেশে শুধুই কি আর্তি জানাবেন, নাকি অভিসম্পাত দেবেন? যে নষ্টভ্রষ্ট রাজনীতি তাদের স্বজনদের চিরতরে কেড়ে নিল, তাদের বিচার কি হবে না? আহসান উল্লাহ মাষ্টারের পরিবার, আসমা কিবরিয়া অপেক্ষা করে থাকবেন বিচারের আশায় যুগ যুগ। তিন্নিকে খুন করে ক্ষমতাবানদের সহায়তায় অভি চলে যাবে বিদেশে, ময়েজউদ্দিনের খুনী অথবা লক্ষীপুরের তাহের পুত্র কিংবা আরও অনেকে ফাঁসীর দন্ড পেয়েও রাষ্ট্রপতিদের অনুকম্পায় মুক্তি পেয়ে যায়। সমাজেরাষ্ট্রে দর্পভরে সকলকে জানান দেয় কেমন, খুন করেও পার পেয়ে গেলাম! আর খুন হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর স্বজনরা তখন আরো শোকাকূল হয়ে নিজেদেরকেই অভিসম্পাত দেবে।

খুনডাকাতিধর্ষনরাহাজানিদুর্নীতির মত অপরাধ অবলীলায় মেনে নেয় আমাদের রাষ্ট্রসমাজ। মিথ্যাচার গ্রহণ করে প্রাত্যহিক জীবনের অনুষঙ্গ হিসেবে। কিন্তু সত্যের পক্ষে অবস্থান, প্রতিবাদী কন্ঠ এবং ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। গত কয়েক দশকে অন্ধকারে বেড়ে ওঠা প্রানীরা এ বিষয়ে সবচেয়ে সোচ্চার এবং প্রাণ সংহারক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এজন্যই ড. হুমায়ুন আজাদ, ব্লগার রাজীব, অভিজিৎ ও ওয়াসিক খুন হয়ে গেছেন অকালে। স্বাধীনতার পরেই এর শিকার হয়ে দেশ ছেড়েছিলেন কয়েকজন। আশির দশকে দেশের জ্ঞানবৃক্ষ ড: আহমদ শরীফকে মুরতাদ ঘোষণা করেছিল তারাই। সুতরাং স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যেমন নানা কালাকানুনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন আরোপ করছে, অন্যদিকে অন্ধকারের প্রানীরা নেমেছে ঘাতকের ভূমিকায়।

দেশের প্রধান নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ সালে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও দলের ২১ জন নেতাকর্মী নিহত হন। বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতায় ‘দ্রুত বিচার আদালতে’ সে মামলার বয়স প্রায় একযুগ। গুমখুনের শিকার পরিবারগুলি বিশ্বাস করে তাদের আর্তি হয়তো শেখ হাসিনা হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করবেন, পাশে দাঁড়াবেন। কারন, বিরোধী দলের নেত্রী থাকাকালীন স্বয়ং তিনিই বিচারহীনতার শিকার হয়েছিলেন। দেশের স্থপতি, তাঁর পিতা ও পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচার পেতে তাঁকে অপেক্ষা করতে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ। সেজন্যই এসব পরিবারগুলি মনে করে, শেখ হাসিনা অন্তত: তাঁর জায়গা থেকে উপলব্দি করবেন বিচারহীনতার সংস্কৃতি কিভাকে মানুষকে অকূল পাথারে নিক্ষিপ্ত করে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয় স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে ওঠার নজির পৃথিবীতে কম নেই। বিশেষ করে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে। কিন্তু ত্রিশ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্খায় যে রাষ্ট্রের জন্ম, তার ক্ষেত্রে জন্মের তিন বছরের মাথায় একদলীয় হয়ে ওঠা ছিল অস্বাভাবিক। তার পরেও সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলে গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠার পথে বারবার স্বৈরতান্ত্রিকতার মধ্যে বসবাস করতে করতে অবশেষে দেশটিকে জঙ্গীবাদ আঁকড়ে ধরতে যাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের কি এটি জানা ছিল? নাকি ক্ষমতায় টিকে থাকায় খেলায় সাপ নিয়ে খেলতে খেলতে এখন তারাই বিষাক্ত ছোবলের শিকার হতে যাচ্ছেন? নাকি তারা শুধু দাবার বোর্ডে বড়ে হিসেবে ব্যবহৃত হতে যাচ্ছেন? সিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে এসব প্রশ্ন উঠে এসেছে সঙ্গত কারণেই।

দুই.

৯২ দিন অফিসে পার করে খালেদা জিয়া অবশেষে ঘরে ফিরলেন। গত ৩ জানুয়ারি তিনি অফিসে এসেছিলেন। সেই থেকে প্রায় পুরোটা সময়ই ছিলেন অবরুদ্ধ। আবার নিজেও ছাড়তে চাননি অফিস। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চের মত জাতীয় দিবসগুলি, আদালতে নির্ধারিত হাজিরাকোন কিছুই তাঁকে অফিসছাড়া করতে পারেনি। তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ৪০ দিনেও গুলশান থানায় পৌছোয়নি। ৫ জানুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল। অফিসে বসেই তিনি ঘোষণা করেছেন লাগাতার অবরোধ, সপ্তাহে ৫ দিন হরতাল। তাঁর দাবি ছিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচন। এজন্য তিনি সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। এই আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা তো দুরে থাক, ছিল না দলীয় কর্মীদেরও প্রস্তুতি ও সম্পৃক্ততা। ছিল শুধু জামায়াতবিএনপি’র ক্যাডার ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততা।

দাবি আদায়ের এই আন্দোলন করতে গিয়ে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে থাকলেন নজিরবিহীন নাশকতা, সহিংসতা ও বিপুল সম্পদহানির। দেখতে হয়েছে ১৩৩ টি পোড়া ও গুলিবিদ্ধ লাশ। মা হিসেবে সইতে হয়েছে প্রবাসী পুত্র আরাফাত রহমানের মৃত্যুর শোক। এসব কোনকিছুই তাঁকে টলাতে পারেনি। অফিসে বসে প্রায় নিঃসঙ্গ খালেদা জিয়াকে দেখতে হয়েছে, আন্দোলনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার অবরোধহরতালের মত কর্মসূচি কিভাবে অকার্যকর হতে হতে নাশকতাসহিংসতার চোরাগলিতে হারিয়ে যাচ্ছে। তারপরেও তিনি চালিয়ে গেছেন। অবশেষে ৯২ দিন পর গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সরকারের রাজকীয় ব্যবস্থাপনানিরাপত্তায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন এবং জামিন নিয়ে তবেই বাড়ি ফিরেছেন।

কি নিয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি! একটি দাবিও আদায় হয়নি বা সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রশ্নে কোন ধরণের নমনীয়তা প্রদর্শন করা হয়নি। তাঁর ভাষ্যমতে, যাদের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন মাঝখান থেকে সেই সাধারনের ৯০ দিনের দিনলিপি ছিল দুঃসহ কষ্ট, সীমাহীন শোক আর অসহনীয় ভোগান্তির। এখন আন্দোলনে অনানুষ্ঠানিক যতি চিহ্ন দিয়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ডামাডোলে দল এবং নিজেকে আটকে ফেলতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু তাঁর তো এখন সময় এসেছে হিসাব মেলানোর। দলের প্রধান হিসেবে তাকে এখন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করতে এরকম একটি রক্তাক্তসহিংস নিস্ফল আন্দোলনে যতি টেনেছিলেন ১৩ জানুয়ারি, যা তিনি শুরু করেছিলেন ২০১৩ সালের নভেম্বরডিসেম্বর ও জানুয়ারির অর্ধেকটা জুড়ে।

অজস্র লাশ এবং বিপুল সম্পদহানির মাঝে দাঁড়িয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন, আগে দল গোছাবেন তারপরে আন্দোলন। তিনি সম্ভবত: সরল বিশ্বাসে ধরে নিয়েছিলেন, সংবিধান রক্ষার নির্বাচন সেরেই ক্ষমতাসীনরা আলাপআলোচনার মাধ্যমে আরেকটি আগাম নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। রাজনীতির ছেলেমানুষী আর কাকে বলে! সে সময়ে এসব বক্তব্য দিয়ে এবারের আন্দোলনে বিপর্যস্তহতোদ্যম দলকে, নেতাকর্মীদের কিভাবে সামাল দেবেন খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া? স্বভাবত:ই দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠবে আর কতকাল আন্দোলনের নামে বিএনপিকে ব্যর্থতার ঘানি টানতে হবে। তিন মাসের আন্দোলনে দেড়শ মানুষের প্রাণহানি, দলের নেতাকর্মীদের গুম হয়ে যাওয়া, ক্রসফায়ারে নিহত হওয়া, শীর্ষ নেতাদের কারাবরণ, শত শত মামলা, কর্মীরা এলাকা ছাড়াকি পাওয়া গেল অথবা এরপরে কি করবে বিএনপি?

সন্দেহ দানা বাঁধবে কোন গোপন সমঝোতায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া হলো? উদ্ভুত পরিস্থিতি এক নেতা আরেকজনকে বলবেন সরকারের এজেন্ট, বলবেন বেঈমান। কেউ বলবেন বিএনপির কূটনৈতিক পলিসি ফেল করেছে। সব মিলিয়ে দলটির বিশাল কর্মী বাহিনী মুষড়ে পড়বেন এবং পড়তে শুরু করেছেন। নেতাকর্মীরা বলতে শুরু করেছেন তিন মাস অফিসে অবস্থান করে প্রধান নেতার এভাবে ঘরে ফেরা প্রমান করে যে, আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, একটি নির্বাচনমুখী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে জনসমর্থন নিয়ে রাজপথে দাঁড়াতেই পারল না। এখন যে কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা সমাজতত্ত্ববিদের কৌতুহল বা আকর্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে বিএনপি কি দলীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে আগামীতে ঘুতে দাঁড়াতে সক্ষম হবে? কিন্তু এর মধ্য দিয়ে রাজনীতির যে মস্ত ক্ষতিটি হয়ে গেল তা আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে। ক্ষমতাসীনরা হয়ে উঠবে অনেকটাই ‘আনপ্যারালাল’। রাজপথ বা সংসদে বিরোধিতার মুখোমুখি হওয়ার আশংকা আপাতত: তাদের থাকছে না। কিন্তু এর ফলে অন্য যে বড় আশংকাটি তৈরি হচ্ছে, তাহলো তথাকথিত ইসলামী মিলিট্যান্টদের প্রভাব বিস্তারের। ধরেই নেয়া যায়, বাংলাদেশের রক্তাক্ত পথ পরিক্রমা খুব সহসাই শেষ হচ্ছে না এবং শান্তিস্বস্তির দেখা মিলছে না।