Home » আন্তর্জাতিক » আইএস-এর উত্থান যেভাবে (শেষ পর্ব)

আইএস-এর উত্থান যেভাবে (শেষ পর্ব)

স্ট্যানলি জনি

অনুবাদ: আসিফ হাসান

গৃহযুদ্ধ

last-5কুকবার্ন দেখিয়েছেন, দুটি মারাত্মক সমস্যা ইরাককে আবার সঙ্কটের মধ্যে ফেলেছে। আর তা হলো, ইরাকি নেতৃত্বের সম্প্রদায়বাদ এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ। তিউনিসিয়া, মিশর ও লিবিয়ার মতো আরব দেশগুলোতে গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালের মার্চে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধেও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ফেটে পড়লে সিরিয়া সঙ্কটের সূচনা ঘটে। সিরিয়া সরকার নির্মমভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, শত শত মানুষ হত্যা করে। সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সশস্ত্র গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এতে বহিরাগত শক্তিগুলো প্রধানত ভূরাজনৈতিক বিষয়টি মাথায় রেখে পরোক্ষভাবে তাতে জড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

এই অঞ্চলে ইরানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হলো সিরিয়া। তেহরান ও লেবাননি শিয়া মিলিশিয়াকামরাজনৈতিক আন্দোলন হেজবুল্লাহর সাথে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হলো সিরিয়া। অধিকন্তু, সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলের বাইরে সিরিয়ার তারতাসেই রয়েছে রাশিয়ার একমাত্র নৌ স্থাপনা। ফলে আসাদকে ক্ষমতাচ্যুৎ করার অর্থ হচ্ছে, ইরান ও রাশিয়াকে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল করে ফেলা। আর এই খেলা থেকে নিশ্চিতভাবেই পাশ্চাত্য ও সৌদি আরবের লাভবান হওয়া। সিরিয়া সঙ্কটের এটা হলো বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক থিম। বিক্ষোভকারীরা যখন সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন সৌদি এবং তার উপসাগরীয় মিত্ররা আসাদ বিরোধীদের হাতে অস্ত্র ও অর্থ যোগান দিতে শুরু করল। জর্ডান তার ভূখণ্ডকে বিদ্রোহীদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের ব্যবস্থা করে দিয়ে আসাদবিরোধী ব্রিগেডে যোগ দেয়। রিপেস তাইয়েপ এরদোগানের নেতৃত্বে ইসলামি বিশ্বে প্রাধান্য বিস্তারকারী ভূমিকায় ফিরতে থাকা তুরস্ক এদিকে সিরিয়ার সাথে তার ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে বিদ্রোহীদের সহজে আসা যাওয়ার কাজে ব্যবহার করার সুযোগ দেয়। পাশ্চাত্যও এতে জড়িয়ে পড়ে। তারা আসাদ সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, ‘উদার’ বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করে।

অন্যদিকে ইরান ও রাশিয়া আসাদ সরকারের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন অটুট রাখে। সিরিয়াকে লক্ষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া প্রস্তাবগুলোতে রাশিয়া লাগাতার ভেটো দিতে থাকে। আর সিরিয়ায় পাঠাতে থাকে অর্থ, লোকবল ও অস্ত্র ইরান। অধিকন্তু হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। তারা বিশেষ করে সিরিয়ালেবানন সীমান্তে আসাদ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ করতে থাকে। কার্যত, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়ে পড়ে, যাতে কেউই পূর্ণ জয় দাবি করতে পারে না। বাগদাদি এখানে একটি সুযোগ দেখতে পেলেন। তিনি সিরিয়া সীমান্তে তার যোদ্ধাদের পাঠিয়ে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলেন। তারা মিত্র হিসেবে পেল সিরিয়ার আল কায়েদার শাখা জাবহাত আল নুসরাকে।

সিরিয়ার বিরোধীরা কোনোভাবেই ঐক্যবদ্ধ ছিল না। সিরিয়া সঙ্কটের শুরুতে বিরোধীদের রাজনৈতিক মুখপত্র ছিল সিরিয়ার মুসলিম ব্রাদারহুড। কিন্তু গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সরকারবিরোধী যোদ্ধা ও পক্ষত্যাগকারী সিরিয়ান সৈন্যদের নিয়ে গঠিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মি প্রভাব বিস্তার করে। প্রধানত পাশ্চাত্যের কাছ তারা সমর্থন পায়। তাছাড়া সৌদিদের কাছ থেকে কয়েকটি ইসলামপন্থী গ্রুপ সহায়তা পাচ্ছিল। নানা মতে বিভক্ত বিরোধী গ্রুপগুলোর মধ্য থেকে আইএসআইএসআল নুসরা সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে আবির্ভূত হয়। বিভিন্ন দেশ যেসব অস্ত্র সিরিয়ার অভ্যন্তরে পাঠাত, সেগুলো নানা হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত এই বাহিনীর হাতেই মজুত হতো। কিন্তু পরে আইএসআইএস ও জাবরাত আল নুসরাও বিভক্ত হয়ে পড়ে, খুব সম্ভবত আল কায়েদার নেতৃত্ব মেনে নিতে বাগদাদির অস্বীকৃতির কারণে।

পরবর্তী ঘটনাবলীতে দেখা যায়, আল কায়েদার চেয়ে বাগদাদি অনেক বেশি উচ্চাকাক্সক্ষী। কুকবার্ন লিখেছেন, ‘আল কায়েদাকে সংগঠনের চেয়ে একটি আইডিয়া বলাই ভালো। এর সাথে সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছায় ভর্তি হয় এবং যেকোনো স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু বাগদাদি চান একটি রাষ্ট্র নির্মাণ করতে, তিনি নিজে যেটাকে বলেন ইসলামি রাষ্ট্র। ২০১৩ সালে সিরীয় নগরী রাক্কা দখল করার পর আইএসআইএস আবার ইরাকে প্রভাব বিস্তারের কাজ শুরু করে। নূরি আল মালিকির শিয়া সম্প্রদায়গত সরকারের শাসনে ইরাকি সুন্নিরা ততদিন ক্রুদ্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভুল

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অন্ধকার বিন্দু হলো তারা এটা দেখতে ব্যর্থ হয়েছে যে, সিরিয়ার সশস্ত্র গণআন্দোলনে সমর্থন করার মাধ্যমে তারা অনিবার্যভাবে ইরাককে অস্থিতিশীল করছে এবং সম্প্রদায়গত গৃহযুদ্ধের নতুন মাত্রা উস্কে দিচ্ছে। ইরাকের সুন্নিদের মধ্যে বিরাজমান বিচ্ছিন্নতাবোধ ও নির্যাতনের ক্রমাগত অনুভূতিটা কাজে লাগিয়েছে আইএসআইএস’ লিখেছেন কুকবার্ন। ইরাকে মার্কিন যুদ্ধ আরো আগেই সামাজিক ভারসাম্যে আঘাত হেনেছিল। সাদ্দামের সুন্নি প্রাধান্যবিশিষ্ট বাথ পার্টি কঠোর বজ্রমুষ্টিতে কয়েক দশক শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিকে শাসন করেছে। কিন্তু সাদ্দামপরবর্তী নির্বাচনগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতায় শিয়াদের উত্থান দেখা যায়। প্রতিবেশী ইরানের (যে দেশটির বিরুদ্ধে সাদ্দাম সরকার ৮ বছর লড়াই করেছিল) সাথে অত্যন্ত শক্ত সম্পর্ক রক্ষাকারী শিয়া সরকার সুন্নি সম্প্রদায়ের সমস্যাবলী সুরাহায় কিছুই করেনি। আরো খারাপ বিষয় হলো, ইরাকি সরকারের সম্প্রদায়গত নীতির ফলে দেশটির সামাজিকরাজনৈতিক মূলধারা থেকে সুন্নিরা আরো বিতাড়িত হয়েছে, পরিণতিতে চরমপন্থার জন্য পথ খুলে গেছে। বাগদাদি এই সুযোগটি ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি ছিল সাদ্দামের বার্থ পার্টিকে নিষিদ্ধ করা। এর ফলে মার্কিন অভিযানের প্রাক্কালে লাখ লাখ যোদ্ধা ও বিপুলসংখ্যক জেনারেল বেকার হয়ে পড়েন। তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন যুদ্ধ করতে। সশস্ত্র আন্দোলন তাদের সামনে সে সুযোগই এনে নেয়। তাদের অনেকে আলকায়েদা ধরনের সংস্থাগুলোতে যোগ দেন, অন্যরা উপজাতীয় মিলিশিয়া বা বাথিস্ট প্যারামিলিটারি গ্রুপ গঠন করেন। এসব সুন্নি আধাসামরিক গ্রুপ ও উপজাতীয়দের মধ্যে বাথিস্ট নকশবন্দি, আনসার আলইসলাম, মুজাহিদিন আর্মি ইরাকে আইএসআইএসের অভিযানের সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

বাগদাদের শিয়া সরকার যে সুন্নি জনগোষ্ঠীকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, তাদের অনেকের সমর্থন তারা পায়। এই প্রেক্ষাপটে আইএসআইএস ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ইরাকি নগরী ফালুজা দখল করে। এর মাধ্যমে তারা পশ্চিম সিরিয়ার রাক্কা থেকে পশ্চিম ইরাক পর্যন্ত তাদের প্রভাব সম্প্রসারণ করে, দেশ দুটির মধ্যকার সীমান্ত কার্যত মুছে দেয়। ইরাকে আইএসআইএসের অধিকতর আক্রমণের জন্য ফালুজা হয়ে পড়ে সূচনা স্থান। পাঁচ মাসের মধ্যে আইএসআইএসের যোদ্ধারা ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মসুলে প্রবেশ করে। মসুলের পতন ২০০৫ সালে শুরু হওয়া ইরাকি শিয়াদের উত্থানের (যেমন সাদ্দান হোসেন ও রাজতন্ত্র করেছিল) অবসান হিসেবে চিহ্নিত হয়।

কুকবার্ন বলেন, আইএসআইএস নিজেদের ‘সহজে বিলীন’ করা যাবে না এমন ‘ভয়ঙ্কর অবস্থায়’ প্রতিষ্ঠিত করেছে। তারা পশ্চিম এশিয়ার মানচিত্র নতুন করে এঁকেছে, এমন এক আঞ্চলিক যুদ্ধ মঞ্চ সৃষ্টি করেছে যাতে অনেক পক্ষ জড়িত। আর এখনো আইএসআইএসের শত্রুরা অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করতে পারছে না। আইএসআইএস এবং শত্রুদের মধ্যে যত দুরত্ব রয়েছে, তার েেচয় বেশি রয়েছে এর বিরুদ্ধে লড়াইরত পক্ষগুলোর মধ্যে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আইএসআইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনে সৌদি আরব রয়েছে। আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাকি সরকারের পাশে রয়েছে ইরান। কিন্তু সৌদি ও ইরানিরা পরস্পরের প্রবল বিরোধী। সংঘাতের জটিলতা এত প্রবল যে, বিশ্লেষকেরা তো দূরের কথা, কুশীলবরা পর্যন্ত বুঝতে পারে না। বর্তমান সঙ্কটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝাতে কুকবার্ন বলেছেন, ‘এটা ১৭ শতকের জার্মানিতে হওয়া ৩০ বছর যুদ্ধের মধ্যপ্রাচ্য সংস্করণ। সব পক্ষই তাদের নিজ নিজ শক্তি ফুলিয়ে ফাপিয়ে এই কল্পনা করছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রের সাময়িক সাফল্য তাদের জন্য পূর্ণ বিজয়ের পথ খুলে দেবে’।

তিনি সঙ্কটটির নির্দিষ্ট কোনো সমাধানের কথা বলেননি। সম্ভবত কোনো দৃশ্যমান সমাধান নেই বলে। কোনটা ভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে, আজকে এই অঞ্চলে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সে জন্য কে দায়ী তা তিনি খোলামেলা করে বলেছেন? গণতন্ত্র কিংবা মানবাধিকার যে নামেই হোক না কেন, আটলান্টিক রাজধানীগুলোর হস্তক্ষেপমূলক নীতির ফলে এই অঞ্চলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিজেই একটা সমস্যা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু ওই ঘটনায় ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত সৌদি আরব ও পাকিস্তানে হামলা চালায়নি। বেশির ভাগ ছিনতাইকারী ছিল সৌদি নাগরিক। আর পাকিস্তান যে তালেবানের পৃষ্ঠপোষকতা করছিল, তারাই আল কায়েদাকে রক্ষা করছিল। উভয় দেশই ছিল আমেরিকার মিত্র। বুশ প্রশাসন এসব বিষয় পাশে ঠেলে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধে’ নামে। এটা ভয়াবহভাবে প্রত্যাঘাতের সৃষ্টি করে। যুদ্ধোত্তর আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল করতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালায় ইরাকের ওপর। পরিণতিতে দেশটি নৈরাজ্য ও গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হয়। কিন্তু এ থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করা হয়নি। তারপর ইউরোপিয়ান মিত্রদের নিয়ে লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি সরকারকে উৎখাতে নামে। এরপর তারা একসাথে মিলে সিরিয়া সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালায় ওই দেশে তাদের তাবেদারদের মাধ্যমে। আর এখন আফগানিস্তানে তালেবান প্রত্যাবর্তন করেছে, সিরিয়া, ইরাক থেকে লিবিয়া পর্যন্ত আইএসআইএস ছড়িয়ে পড়েছে।

কুকবার্ন লিখেছেন, ‘সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের সাথে জোট বেধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পাশ্চাত্যের মিত্ররা সিরিয়া, ইরাক ও লিবিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিস্তারে নামার মতো উদ্ভট বিষয় সবসময়ই ছিল। আইএসআইএস যুদ্ধের ফসল। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো তাদের মিত্ররা আইএসআইএসের উত্থানের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’ কিন্তু কেউ কি তা থেকে শিক্ষা নিয়েছে? হস্তক্ষেপবাদীরা কি কখনো তাদের ভুল কখনো স্বীকার করে, এমনকি তাদের কারণে মানুষজনের মর্মান্তিক পরিণতি দেখেও? আইএসআইএসের মতো শক্তিকে মোকাবিলা করতে তারা কি বিচক্ষণ কোনো কৌশল গ্রহণ করতে পারবে? এই অঞ্চলের বৃহৎ শক্তিগুলো সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাভিলাষ এবং আঞ্চলিক কুশীলবদের ভূরাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষার কারণে পশ্চিম এশিয়ার সমসাময়িক ইতিহাস বলে, এটা হওয়া সম্ভব নয়।

(ফ্রন্টলাইন অবলম্বনে)