Home » অর্থনীতি » ধানের দাম বেড়েও ফের কমে গেল ॥ হতাশ চাষীরা

ধানের দাম বেড়েও ফের কমে গেল ॥ হতাশ চাষীরা

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর থেকে

last 2পশ্চিমের জেলা গুলোতে প্রতি মন ধানের দাম এক’শ টাকা থেকে দেড়’শ টাকা বেড়ে ফের ৫০ টাকা করে কমে গেছে। এতে চাষিদের মধ্যে আবার অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। ধানের দাম কমার পাশাপাশি অনেক চালের দামও কেজি প্রতি এক টাকা করে কমেছিল। ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সরকারি ঘোষনার পর ধান চালের বাজার চড়তে শুরু করে। ১০ দিন যেতে না যেতেই ফের দর পতন হয়েছে। জেলা গুলো হচ্ছে, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

চলতি মৌসুমে নতুন বোরো ধান ওঠার পর ধানের দরপতন হয়। এতে চাষির উৎপাদন খরচ উঠছিল না। মোটা ধান বিআর ৩৩ ও রত্নার দাম কমে প্রতি মন ৪৬০ টাকা থেকে ৪৭০ টাকাতে নেমে আসে। বর্তমানে রত্না ও বিআর ৩৩ ধান প্রতি মন ৫শ’ টাকা থেকে ৬’শ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। সুবল লতা ধান প্রতি মন বিক্রি হচ্ছিল সাড়ে ৬’শ টাকা। তা বেড়ে ৭২০ টাকা হয়েছিল। এখন দাম কমে ৬’শ ৭০ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন উঠার পর প্রতি মন বিআর ২৮ ধান বিক্রি হচ্ছিল সাড়ে ৬’শ টাকা খেকে ৬ ’শ ৬০ টাকার মধ্যে। তারপর দাম চড়ে বিক্রি হচ্ছিল ৭৬০ থেকে ৭৭০ টাকায়। এখন ফের দাম কমে ৭১০ টাকা থেকে ৭২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিকন ধান অর্থাৎ কথিত মিনিকেট প্রতি মনের দাম সাড়ে ৭’শ টাকা থেকে চড়ে ৮৮০ টাকা হয়েছিল । এখন কমে ৮৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ধানের দাম বাড়ার পাশাপাশি চালের দাম কেজি প্রতি ৩ টাকা বেড়েছিল। পাইকারি বাজারে রত্না ও বিআর ৩৩ চাল প্রতি কেজি ২৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। বেড়ে হয়েছিল প্রতি কেজি ২৬ টাকা। আবার কমে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে। বি আর ২৮ প্রতি কেজি ৩১ ৩২ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। তারপর বেড়ে বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ৩৪ ৩৫ টাকা দরে। এখন কমে ৩৩ ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরু চাল বলে পরিচিত মিনিকেটের দাম ছিল প্রতি কেজি ৩৬ টাকা । বেড়ে হয়ছিল ৩৯ ৪০ টাকা। আবার দাম কমে ৩৮ ৩৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাজললতা প্রতি কেজির দাম ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা হয়েছিল। দাম কমে প্রতি কেজি ৩৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে খুচরা বাজোরে চালের দাম গড়ে কেজি প্রতি ৩ টাকা করে বেড়েছিল। এখন কেজি প্রতি সব ধরনের চাল ১ টাকা করে কমেছে।

বাংলাদেশে চালের ধান চালের বাজারে দর পতনের প্রধান কারন হচ্ছে শুল্ক মুক্ত ভারতীয় চাল অবাধ আমদানি। ভারতীয় চাল আমদানি কারকরা বাম্পার লাভ করেছে। শতকরা ১০ ভাগ হারে শুল্ক আরোপের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বাজারে ধান চালের দাম সামান্য বেড়েছিল। কয়েকদিন যেতে না যেতেই ফের দরপতনে চাষি হতাশ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য উৎপাদন বার্ষিক চাহিদার বেশি। বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানী হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে চাল আমদানিতে চাষি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। রংপুরে রাস্তায় ধান ছিটিয়ে কৃষক প্রতিকি প্রতিবাদ করেছে।

গত বছর বোরো ধান উঠার পর প্রতি মন মোটা ধান সাড়ে ৬’শ টাকা থেকে ৭’শ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। বিআর ২৮ ধানের দাম ছিল ৮শ’ টাকা থেকে ৯’শ টাকা মন। আর কথিত মিনিকেট ধানের দাম ছিল সাড়ে ৯’শ টাকা পর্যন্ত। কিন্ত এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও চাষির মনে সুখ নেই। এ দামে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠছে না। কৃষি শ্রমিক, সেচের পানিসহ সব ধরনের কৃষি উপকরনের দাম বেড়েছে। এতে এক মণ ফলাতে চাষির খরচ হয় কম পক্ষে ৭’শ টাকা। বর্তমান দরে ধান বিক্রি মোটা ধানে মন প্রতি এক দেড়’শ টাকা করে চাষির লোকসান হচ্ছে।

এদিকে বাজারে মিনিকেট প্রতারনা চলছে। ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে মিনিকেট নাদে কোন ধান নেই। সীমান্তবতী যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, নওগাঁ ও দিনাজপুর এলাকায় ভারতীয় একটি সরু জাতের ধানের চাষ হয়। ১৯৯১ সালের দিকে এ জাতটি ভারতীয় চাষিদের কাছ থেকে নিয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর ও যশোর শার্শা এলকার চাষিরা চাষ করে। ভারতে এ জাতটির নাম শতাব্দি। এদেশে আসার পর নাম হয় মিনিকেট। চিকন চাল হিসাবে ভাল বাজার পায়। এতে চাষ সম্প্রসারণ হয়। তবে যা উৎপাদন হয় তা দিয়ে সারা বছর লাখ লাখ টন চাল উৎপাদনের মত নয়। এক শ্রেনীর চালকল মালিক এখন বি আর ২৮ ধানের চাল তৈরি করে আধুনিক মেশিনে পালিশ করে মিনিকেট নামে বাজারে ছাড়ছে। তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে ৪ ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সরকারের কোন সংস্থা এ প্রতারণামূলক ব্যবসা বন্ধে এগিয়ে আসছে না।।