Home » আন্তর্জাতিক » মোদি সরকারের এক বছর

মোদি সরকারের এক বছর

প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা এবং বাস্তবতার বিশাল ফারাক

ভেনকিটেশ রামকৃষ্ণন, ফ্রন্টলাইন

অনুবাদ: মোহাম্মদ হাসান শরীফ

Last 1নরেন্দ্র মোদি সরকারের এক বছর আমলের মধ্যে দিল্লিভিত্তিক ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক সিনিয়র নেতার আলাদা আলাদাভাবে বলা দুটি রাজনৈতিক ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকার, দল এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির পথচলা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ঘটনা দুটি একটি অপরটি থেকে পুরোপুরি ভিন্ন এবং গত ১২ মাসে বিজেপি ও বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) নেতৃত্বাধীন সংঘ পরিবারের কার্যক্রম নিয়ে প্রবল রাজনৈতিক আশাবাদ ও আকাক্সক্ষা এবং সেইসাথে ভয়াবহ হতাশা ও মোহমুক্তির প্রতিনিধিত্ব করছে।

ওই নেতা মোদি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার কয়েক দিন আগে প্রথম ঘটনাটি বলেছিলেন। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অমিত শাহ বিজেপির সভাপতি মনোনীত হয়েছিলেন। ওই নেতা জানান, কিভাবে অমিত শাহ তামিল নাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের জনগণ ও সংস্কৃতিকে জানার জন্য পড়াশোনা করছেন। অমিত শাহ এই প্রক্রিয়ায় দৃশ্যত তামিল ও বাঙালিদের জয় করার সূত্রও আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন।

অমিতের কয়েকজন সহযোগী এই শিক্ষাপ্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, মোদি আগামী ১০ বছর ভারত শাসন করবেন এবং ওই সময়ের মধ্যে অতীত ব্যর্থতা মুছে বিজেপি নিজেদের গুণেই তামিল নাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। এমনটাও কল্পনা করা হয়, বিজেপি কংগ্রেসকে হটিয়ে একমাত্র প্রধান জাতীয় দলে পরিণত হবে। আন্তরিকভাবে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে যে দক্ষতা অর্জন করবেন তার মাধ্যমে অমিত শাহ নিজেই সামনে থেকে রাজনৈতিকসাংগঠনিক উত্থানে নেতৃত্ব দেবেন। আর এর ফল এমন হবে যে, স্বাভাবিকভাবেই বিজেপিকে ২০২৪পরবর্তী সরকারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পছন্দ করা হবে।

দিল্লির ওই নেতার (তিনি মোদি, কে এন গোবিন্দাচার্য ও পরলোকগত প্রমোদ মহাজনের সাথে একই সময়ে বিজেপির নেতৃত্বে এসেছিলেন) বর্ণনার চিত্রটি ছিল আত্মবিশ্বাস ও আনন্দের। তিনি আরো বললেন, মোদি ও অমিত একসাথে মিলে এমন এক পরিকল্পিত রাজনৈতিক ধারণার সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে প্রমাণ হয়েছে, বিজেপি ও সংঘ নেতারা সতর্কভাবে পরিকল্পনা প্রনয়ন ও পদক্ষেণ গ্রহণের ফলে তথাকথিত অসম্ভব ও অকল্পনীয় কাজটিও করা সম্ভব হয়।

মোদিশাহ জুটি ২০০৯ লোকসভা নির্বাচনে ঠিক এমনটাই করেছেন। তারা উভয়েই বিভিন্ন পন্থায় এই জাতীয় ভূমিকা ও উপস্থিতির জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। এদের একজন সেই ২০০৫ সাল থেকে ব্যক্তিগত শিক্ষক রেখে ইংরেজি শেখা শুরু করেন। উন্নয়ন ও হিন্দুত্ববাদের থিমেটিক রাজনৈতিক মিক্সার উদ্ভাবনও এই প্রক্রিয়ার অংশবিশেষ। শাহের নতুন তামিল নাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গমুখী শিক্ষাগ্রহণও দৃশ্যত ব্যাপকভিত্তিক কিংবা আরো বড় কোনো মূল্যবোধের একই ধরনের রাজনৈতিক অনুশীলন’ বেশ উচ্ছ্বসিত ভাষায় বলেছিলেন ওই নেতা। পরবর্তী সময় তথা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্কুল ছাত্রদের সাথে মোদির মতবিনিময়ে এই উৎফুল্ল মনোভাব প্রকাশ পেয়েছিল। তার মধ্যে কখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাক্সক্ষা সৃষ্টি হলো, এই প্রশ্নের জবাবে মোদি বলেছিলেন, বালকটি ২০১৪ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। তিনি আরো বলেন, ওই সময়ের আগে পর্যন্ত তার কাছে আরো কোনো হুমকি নেই।

অসন্তোষের তাপদাহ: এর প্রায় আট মাস পর, ২০১৫ সালের এপ্রিলের প্রথমভাগে দিল্লির ওই নেতা দ্বিতীয় ঘটনাটি বলেন। এবার তার মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাসের প্রবল অভাব দেখা যায়। কয়েক দিন আগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গাড়করির বাসায় আরএসএস ও বিজেপির শীর্ষ নেতারা যৌথ সভায় বসেছেন। সংঘ পরিবারের প্রধান সরকার ও বিজেপি নেতৃত্বকে যে একমাত্র বার্তাটি দেন তা হলো জনসাধারণের মধ্যে দ্রুতবেগে এই ধারণা ছড়িয়ে পড়ছে যে, মোদি ও তার মন্ত্রণালয় কৃষক বিরোধী ও গরিব বিরোধী। ওই নেতা আরো বলেন, ২০১৪ সালের জুলাইআগস্ট মাসে মোদিশাহ জুটি নিয়ে যে আত্মবিশ্বাস ছিল এখন সংঘ পরিবারের শাখাগুলোর মধ্যে তা নিয়ে ব্যাপকমাত্রায় প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।

ওই নেতা বলেন, ‘অবশ্যই, দেশজুড়ে প্রবল পরাক্রান্ত জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার লক্ষ্যে সুশাসনের নতুন ধারা বিনির্মাণ এবং সেটা ব্যবহার করার বিরাট ঘোষণা ও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমরা যখন প্রথম বার্ষিকীর দিকে অগ্রসর হচ্ছি, তখন সবকিছুই ¯্রফে তর্জনগর্জন বলেই মনে হয়েছে। উত্তর প্রদেশ ও বিহারের বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদকেরা (বিজেপি রাজ্য ইউনিটগুলোতে সাধারণত তারাই পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকেন) মোদিশাহ জুটির গ্রহণ করা কর্মপদ্ধতি এবং তারা যেসব কাজকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোদির নেতৃত্ব এবং অমিতের ক্ষমতা নিরবচ্ছিন্ন থাকার মাত্রা নিয়ে যে কথা চলছিল, সেটা এর পর বদলে দিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে অনুষ্ঠেয় বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর বিধানসভার নির্বাচনে জয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশিত হওয়া শুরু করেছে। সংঘ পরিবারের বিভিন্ন সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করছে, দিল্লিতে আম আদমি পার্টি যেভাবে বিজেপিকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে, এই দুটি রাজ্যেও ফলাফল তেমন বিপর্যয়কর হবে। সত্যি বলতে কী, নির্বাচনের উল্লাসঅনুভূতি খুবই ক্ষণস্থায়ী হয়েছে।’

কয়েক দিনের মধ্যেই ওই নেতার সুর উচ্চ পর্যায়ের অনেক মানুষের মধ্যেও শোনা যেতে থাকে। এসব মানুষের অনেকেই মোদি এবং তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রচারকাজকে সমর্থন করেছিলেন। এদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন ধারার মানুষজন রয়েছেন। বিশেষ করে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুন সৌরি, যোগ প্রমোটর বাবা রামদেব, সংবাদপত্র মানসীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মধু কিষওয়ার। তারা প্রধানমন্ত্রী এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা যে পদ্ধতিতে কাজ করছেন, তার সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মোদির আচ্ছন্নতা প্রদর্শন করছেন তা তাদের পছন্দ হচ্ছে না। অরুন সৌরি বলেছেন, মোদি এবং তার ঘনিষ্ঠ অমিত শাহ ও অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি কেবল নিজেদের মধ্যেই পরামর্শ করছেন, তারা এমনকি পার্টি, সরকার কিংবা বাইরের কোনো সূত্রের সহায়তা নিচ্ছেন না। ভুল সংশোধন করার কোনো ব্যবস্থাও দেখা যাচ্ছে না। বাবা রামদেব নীতিমালার বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভারত সিং বলেছেন, নতুন মাত্রা সৃষ্টিকারী বড় বড় প্রকল্প নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে জনগণের জন্য কার্যত কিছুই করা হয়নি। পার্লামেন্টকে এড়িয়ে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে কাজ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

তবে মোদির এক বছরের আমলে ঘটনা তিনটি বিষয় অনেকের চোখই এড়িয়ে গেছে। এর একটি হলো বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং ধর্ম জাগরণ সমিতির মতো সংঘ পরিবারভুক্ত সংগঠনগুলোর ‘ঘর ওয়াপসি’ এবং ‘লাভ জিহাদের’ মতো বিষয়টি। অনেক মন্ত্রী পর্যন্ত এর পক্ষে কথা বলেছেন। মোদি এর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। দ্বিতীয়টি হলো, তথাকথিত পররাষ্ট্র নীতি উদ্যোগের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করপোরেট স্বার্থের প্রতি নির্জলা সমর্থন ব্যক্ত। তাছাড়া বাগে আনা, তহবিল দিতে অস্বীকার এবং আরো বিধিনিষেধের মাধ্যমে নাগরিক সমাজকে দমন করা।

পাটনাভিত্তিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সুরেন্দ কিশোর উল্লেখ করেছেন, সৌরির মতো মানুষজন যে করপোরেট স্বার্থের ব্যাপারে নীরব থাকবে, সেটা বোধগম্য। কারণ তিনি এবং তার মতাদর্শী মানুষজন যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখনও করপোরেট নীতিকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, মোদিশাহজেটলিএই ত্রিরতেœর বিরুদ্ধে বিজেপিতে যে ছায়া যুদ্ধ চলছে, তাই প্রতিফলিত হচ্ছে সৌরিদের সমালোচনার মধ্যে (লাল কৃষ্ণ আদভানি, রাজনাথ সিং ও গাড়করির মতো নেতাদের নীবর সম্মতি কিংবা এমনকি অনুমোদনক্রমেও হতে পারে)

জনগণের ভাষ্য: উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের অনেক রাজ্যে ব্যাপকভাবে সফর করে ফ্রন্টলাইনের এই প্রতিনিধি সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ লক্ষ করেছেন। এমনকি উত্তর প্রদেশের মতো এলাকাতেও ক্ষোভ দেখা গেছে যেখানে ৮০টি আসনের মধ্যে ৭৩টি পেয়ে, মিত্র আপনা দলের দুটিসহ, লোকসভার মোট সদস্য সংখ্যা বিপুলভাবে বাড়াতে সহায়ক হয়েছিল। খোদ প্রধানমন্ত্রীর আসন বারানসিতেও কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ক্ষোভটা মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তের মধ্যে তেমনভাবে দেখা যায়নি, সেটা প্রকটভাবে প্রকাশিত হয়েছে সমাজের গরিবতর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে। ছোট কৃষক, কৃষিশ্রমিক, চাদোকানদার, মাঝির মতো মানুষজন ফ্রন্টলাইনের জিজ্ঞাসার জবাবে জানিয়েছে, ‘মোদি সরকার ধনী ও উচ্চবিত্তদের জন্য ভালো হতে পারে, কিন্তু গরিবদের জন্য কিছু করেনি। আমাদের মতো মানুষজনদের দেখতে বা শুনতে তাদের চোখ বা কান নেই। আমরা বুঝলাম, আমরা আবার রাজনৈতিক খেলোয়াড়দের হাতে প্রতারিত হয়েছি।’ সরকারি নেতাদের সম্পর্কে ছাপা অযোগ্য কিছু উক্তিও শুনতে হয়েছে তাদের কাছ থেকে। আর মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের প্রতিক্রিয়া সমাজের গরিবতর অংশের মতো চরম ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে এই কারণ দেখিয়ে যে, অনেক ঘাটতি রয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট ফল পেতে আরো কিছু সময় দেওয়া উচিত।

বারানসি হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আধ্য প্রাসাদ পান্ডের মতে, প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের নীতিমালা ও কর্মসূচি সাধারণভাবে ঠিকই আছে। প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা (জীবন বিমা কার্যক্রম), প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনার মতো কর্মসূচিগুলো ইতিবাচক এবং সময়ের পরিক্রমায় আরো গতিশীল হবে।

বাগাড়ম্বর ও বাস্তবতা: এ ধরনের আশাবাদ যতই প্রকাশ করা হোক না কেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ওয়াড়া না তোড়ো অভিযান (ডব্লিউএনটিএ)-এর নেতৃত্বে এনজিওগুলোর একটি গ্রুপ সারা ভারতের ১০০টি জেলার মানুষজনের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে লক্ষেèৗভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সুধীর কুমার পানওয়ার উল্লেখ করেছেন, স্বাধীন ভারতের বেশি সংখ্যক প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদির মতো এত তাড়াতাড়ি জনগণের মোহমুক্তির শিকার হননি। আরো স্পষ্টভাবে বললে বলতে হয়, জনপ্রিয়তা হারানোর ক্ষেত্রে সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন মোদিই। এর কারণ হলো লোকসভা নির্বাচনের সময় মোদি ও বিজেপিতে তার সহযোগীরা যে বাগাড়ম্বর করেছিল তা। অন্যভাবে বললে বলতে হয়, জনগণের কাছে মোদির কর্মদক্ষতা ছিল প্রত্যাশার দিক থেকে ব্যাপক, কিন্তু প্রাপ্তির দিক থেকে খুবই সামান্য। তার দুটি বাজেট এবং সেইসাথে নীতিমালা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।

শাহের মতো নেতারা যখন বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিকে চুনাভি জুমলা বা নির্বাচনী কথার কথা হিসেবে অভিহিত করেন, তখন নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়। যে তরুণরা ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেছিল, তাদের মধ্যেও সেটা আরেকটা চুনাভি জুমলা বলে মনে হয়েছে। সরকার ও এর নেতারা কৃষি খাতে ভর্তুকির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও যখন নির্বাচনী কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন, তখন কিছুই করার থাকে না। আবার ঘর ওয়াপসি ও লাভ জিহাদের মতো নির্জলা সাম্প্রদায়িক নীতিগুলো বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসছে। আর এগুলো লোকসভা নির্বাচনে প্রান্তিক অবস্থায় চলে যাওয়া কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলোকে কিছুটা শক্তি যোগান দিচ্ছে। কথা ও কাজের মধ্যে মিল প্রতিষ্ঠা করতে হলে এখন মোদি এবং বিজেপি, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সকে (এনডিএ) বিপুল পরিশ্রম করতে হবে। আরেকটি সমস্যা হলো, মোদি এবং বিজেপি ও এনডিএ নেতারা কোনটাকে গুরুত্ব দেবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। তারা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে চলছেন না।

বিশেষ করে মোদি রাজের কারণে অনেক কিছুই করা যাচ্ছে না। সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক করতে হচ্ছে। কেবল প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (পিএমও) রয়েছে নির্বাহী ক্ষমতা। এমনকি সাবেক বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই তার পছন্দমতো একজন সচিব নিয়োগ করতে পারেননি। বিহারের এক এনডিএ নেতা বিষয়টি আরো খোলাসা করে বলেছেন। তার মতে, প্রথম বার্ষিকী উদযাপনের প্রেক্ষাপটে গত দুই মাসে পিএমও’র অনুমোদনের জন্য বিপুলসংখ্যক ফাইল স্তুপ হয়ে রয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে এবং সংঘ পরিবার থেকে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও ‘মোদিশাহজেটলি’ ত্রিরত্নকে মনে হচ্ছে অবিচল। ত্রিরত্ন কাক্সিক্ষত ফল লাভ না করার দায় চাপাচ্ছেন পরিচালনায় রাজ্যসভায় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার ওপর। তারা এখন অবস্থান পরিবর্তন করে নানা প্যাকেজের কথা বলে তৃণমূল নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে পক্ষে আনার চেষ্টা করছেন। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, অমিত শাহ এ দুটি রাজ্য জয়ের জন্য যে পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন, এটা তা থেকে সরে আসা। তবে অমিত শাহের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা মনে করছেন, এই ছাড় কেবল সাময়িক সময়ের জন্য।

আর মোদি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে ইতিবাচক কোনো দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে না। অথচ অসন্তোষের সুর ক্রমাগত বাড়ছে। সংঘ পরিবারের অনেকে মনে করছেন, বিহারের আসন্ন নির্বাচনে সুস্পষ্ট নেতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে। সমালোচকে পরিণত হওয়া মোদি ক্লাব সদস্যরা এবং বিজেপি এবং সংঘ পরিবারের শীর্ষে থাকা থাদের নীরব সমর্থকেরা এই পর্যায়ে হয়তো মোদির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করবেন। আর সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে, এর ফলে পার্টির সভাপতির পদ থেকে অমিত শাহের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে। আর মোদির প্রথম বার্ষিকী উদযাপনের চেয়ে এটা হবে অনেক বেশি সিদ্ধান্তসূচক বিষয়।।