Home » অর্থনীতি » বাংলা-ভারত রেল সংযোগের আসল কারণ :: চীন কি একটি উদ্দেশ্য

বাংলা-ভারত রেল সংযোগের আসল কারণ :: চীন কি একটি উদ্দেশ্য

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

DIS 2(ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে দু’দেশের রেল সংযোগ স্থাপনের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতীয় প্রভাবশালী টাইমস অব ইন্ডিয়া’র সহযোগী বাংলা সংবাদপত্র ‘এই সময়’এ ১৬ জুন প্রকাশিত তাদের এক রিপোর্টে বলছে, ব্রিটিশ শাসনামলে যেসব রেল পথ দিয়ে তৎকালীন দুই বাংলাকে সংযুক্ত করা হতো রেল পথের মাধ্যমে তা আবার পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে। ‘হারিয়ে যাওয়া ব্রিটিশ রেল রুটে মিলবে দুই বাংলা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে এরই বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সাথে সাথে রিপোর্টে এই রেল সংযোগ পুনঃস্থাপনের কারণ সম্পর্কে ‘চীন’এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রিপোর্টটির হুবহু আমাদের বুধবারএর পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো।)

ভারতবাংলাদেশের মৈত্রীর বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে প্রায় অবলুপ্ত হয়ে যাওয়া ব্রিটিশ রেল রুটের দরজা আবার খুলতে চলেছে। সব ঠিক থাকলে দেশ ভাগের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া মোট আটটি রুট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে অচিরেই ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আরও একটি নতুন মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হবে। যাত্রীদের হয়রানি কমাতে মৈত্রী এক্সপ্রেসেই কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সার্ভিস চালু হবে। ফলে দু’দেশের মধ্যে যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে সহজ হবে উত্তরপূর্ব ভারতের মধ্যের রেল যোগাযোগও।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার রূপরেখা তৈরির জন্য খুব শীঘ্রই ভারতে আসছেন বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এবং রেলের শীর্ষ কর্তারা। দিল্লিতে রেলবোর্ডের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা ছাড়াও কলকাতাতেও তারা ঘুরে যেতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের উত্তরপূর্ব সীমান্তে তিব্বতের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে চীন যেভাবে রেল যোগাযোগ গড়ে তুলছে, তা ভারতের কাছে আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে ভারত।

ব্রিটিশ আমলে ভারতবাংলাদেশের মধ্যে মোট আটটি রুট দিয়ে ট্রেন চলত। দেশ ভাগের পর সব ক’টি রুট বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে দর্শনাগেদে, বেনাপোলপেট্রপোল, রোহনপুরসিংঘাবাদ রুট দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। আরও পাঁচটি রুটে নতুন করে ট্রেন চালাতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এর মধ্যে রয়েছে বিরলরাধিকাপুর, শাহবাজপুরমহিশাসন, আখাউড়াআগরতলা, লালগোলাগোদাগড়ি, হলদিবাড়িচিলাহাটি, গীতলদহমোঘলহাট রেল রুট। ২০০৮ সালে ভারতবাংলাদেশের মধ্যে চালু হওয়া মৈত্রী এক্সপ্রেস এখন যাতায়াত করে দর্শনাগেদে রুট দিয়ে। আরও একটি নতুন রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালানো হবে।

মৈত্রী এক্সপ্রেসে কলকাতা থেকে ঢাকায় (৩৭৫ কিমি) যেতে সময় লাগে প্রায় ১০১১ ঘণ্টা। এই পথ দিয়ে যেতে গেলে দু’জায়গায় থামতে হয়। গেদে এবং দর্শনায় রয়েছে ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট। সেখানে পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। বাংলাদেশের দিকে ইলেকট্রিক লাইন না থাকায় দর্শনায় গিয়ে রেলের ইঞ্জিনও বদলাতে হয়। তার জন্যও সমস্যা পোহাতে হয় যাত্রীদের। তা থেকে মুক্তি দিতেই মৈত্রী এক্সপ্রেসের কামরাতেই ইমিগ্রেশন অফিস চালু করার কথা ভাবা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে রেল সংযোগ গড়ে তোলা ছাড়াও বাংলাদেশে রেলের মানোন্নয়নে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালতে চলেছে মোদী সরকার। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ঠিক হয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া আটটি রেল রুটের মধ্যে পাঁচটিতে খুব শীঘ্রই রেল লাইন সংস্কারের কাজ শুরু হবে। বাকি তিনটি রুটে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। বাংলাদেশের যে স রেল প্রকল্পে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হল, সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের আধুনিকীকরণ, বিরলরাধিকাপুর, রহনপুরসিঙ্গাবাদ, শাহজাদপুরমহিশাসন, চিলাহাটিচেংড়াবান্ধা, আখাউড়াআগরতলা, ফেনীবিলোনিয়া, খুলনামংলা রেললাইন সংস্কার এবং ভারতবাংলাদেশ কন্টেনার সার্ভিস চালু করা। খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ এবং কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত রেললাইন সংস্কারে মোট ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা খরচ হবে। তার মধ্যে ভারত ঋণ হিসাবে দেবে ২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর রেললাইন সংস্কারের জন্য বাংলাদেশকে মোট ৬৭৮ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে ভারত।।