Home » অর্থনীতি » আইএসের সেরা অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের

আইএসের সেরা অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের

সিন ডি নেইলর, ফরেন পলিসি

অনুবাদ: আসিফ হাসান

LAST 3গত ১২ বছরে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে তিন হাজারেরও বেশি সাজোয়া হামভি দিয়েছিল, তখন মার্কিন কর্মকর্তারা কল্পনাও করতে পারেননি, এই সাধারণ ব্যবহার্য যানটি ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামের ওয়াশিংটনের শত্রুদের হাতে ভয়াবহ অস্ত্রে পরিণত হবে।

ঠিক সেটাই ঘটেছে। মে মাসের মধ্যভাগে তিন দিনের যুদ্ধে রামাদি জয় করার সময় ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরক্ষা লাইন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজে ইসলামিস স্টেট ৩০টি হামভিকে চলমান আত্মঘাতী বোমায় রূপান্তরিত করেছিল। গ্রুপটি সাজোয়া বুলডোজার এবং মার্কিননির্মিত অন্তত একটি এম১১৩ সাজোয়া পারসোন্যাল ক্যারিয়ারও কাজে লাগিয়েছিল। গ্রুপটির হামভি এবং অন্যান্য সাজোয়া যানকে চলমান বোমা হিসেবে ব্যবহার করার কারণ খুবই সোজা এসব যানে যে সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, তাতে করে এর চালকদের হত্যা করা সহজ নয়, আবার এগুলোতে বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক বোঝাই করা যায়। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধারা এগুলোতে কয়েক টন পর্যন্ত বিস্ফোরক বোঝাই করে। রামাদি দখল করার সময় কোনো কোনো যানে ১৯৯৫ সালে ওকলাহোমা সিটিতে হামলায় ১৬৮ জন নিহত হয়েছিল এবং ওই হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক ছিল। রামাদিতে আইএসের যোদ্ধারা যেভাবে আক্রমণ চালিয়েছিল, তাতে ইরাকি সৈন্যরা আতঙ্কে তাদের স্থান ছেড়ে পালিয়ে যায়। আর ওই দৃশ্য ভিডিওবন্দি করে আইএস বিশ্বজুড়ে তাদের সমর্থকদের জন্য সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে দিয়েছিল। আনবার প্রদেশের বাইজি তেল শোধনাগার দখলের জন্যও আইএস এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন আল সুইস্টার। তিনি হলেন জয়েন্ট ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইজ ডিফিট অরগানাইজেশনের অপারেশনাল এনালাইসিস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের প্রধান। ইরাক যুদ্ধকালে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরা কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছে, সেটা মূল্যায়নের জন্য ২০০৬ সালে এই সংস্থাটি গঠন করা হয়েছিল।

আইএসের কাছে কতগুলো হামভি রয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আলআবাদির মতে, গত জুনে মসুল দখলের সময়ই গ্রুপটি ২,৩০০ সাজোয়া হামভি কব্জা করেছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা লে. কর্নেল সোয়ার্সের ভাষ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত সাড়ে তিন হাজার হামভি দিয়েছিল ইরাকি বাহিনীকে। এর মধ্যে তিন হাজারটি ছিল সাজোয়া। এর বাইরে ইরাক ছাড়ার সময় মার্কিন বাহিনী কতগুলো হামভি ফেলে এসেছিল, সে তথ্য তার জানা নেই।

বেশির ভাগ হামভি এখন আইএসের হাতেএই খবর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন এবং ইরাকে তার মিত্র বিবেচিত সরকারের জন্য খুবই খারাপ খবর হতে পারে। আইএসের সামরিক যান প্রতিরোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য দেশগুলো এখন আইএসবিরোধী কোয়ালিশন এবং কুর্দি পেশমারগা মিলিশিয়াদের ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র দিচ্ছে।

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলা শুরুর সময় বিরোধীরা বেসামরিক গাড়ি ও ট্রাক ব্যবহার করত আত্মঘাতী অভিযানে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তারা ব্যবহার করত রূপান্তরিত বেসামরিক ট্রাক। সাধারণ ট্রাকই একটু বদলে নিয়ে কিছু বেশি চলনসই করে নেওয়া হতো। মার্কিন বাহিনী দূর থেকেই এসব বাহনে গুলি চালিয়ে সহজেই এর চালককে হত্যা করে আক্রমণ নস্যাৎ করতে পারত। কিন্তু সাজোয়া যানে সেটা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা এটাকে আত্মঘাতী হামলার তৃতীয় পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হামভিকে আত্মঘাতী বোমা হিসেবে ব্যবহারের সুবিধা অন্তত পাঁচটি। প্রথমত এটা সুরক্ষিত। পিস্তল জাতীয় অস্ত্র দিয়ে এর চালককে হত্যা করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, ইরাকি বাহিনীও এ ধরনের যান ব্যবহার করায় মার্কিনীদের পক্ষে শত্রু শনাক্তকরণের কাজ কয়েক মিনিট হলেও বেশি ব্যয় হয়। চূড়ান্ত মুহূর্তে কয়েক সেকেন্ড সময়ও অনেক। ফলে ছদ্মবেশ ধারণেও হামভি অনেক সহায়ক। আর এতে টন খানেক বিস্ফোরক বোঝাই করা যায় আনায়াসেই। একই আকারের একটা পিকআপেও এতটা সম্ভব হয় না। আর এ থেকে যে বিস্ফোরণ ঘটে, তা ভয়াবহ। সাধারণ একটা ট্রাকে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। এই যান অত্যন্ত গতিশীল। আর যে কোনো দিক থেকেই আঘাত হানা সম্ভব। আর তাদের কাছে রয়েছে বিপুলসংখ্যক হামভি। ফলে কিছু ধ্বংস হলেও খুব বেশি ক্ষতি মনে হবে না।

আইএস কেবল ইরাকেই নয়, সিরিয়াতেও এই অস্ত্রটি ব্যবহার করছে। এই অস্ত্রটিই তাদের অগ্রযাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে।

মার্কিন বাহিনী এ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় উদ্ভাবনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কাজটি যে সহজ নয়, সেটাও তারা ইতোমধ্যে বুঝে গেছে। সুইস্টার পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, আইএস অনেক বেশি স্মার্ট আর স্থিতিস্থাপক। তারা প্রতিটি হামলা থেকে শিক্ষা নেয়। পরের বার আরো ভালোভাবে হামলা চালানোর কায়দাটা শিখে নেয়।।