Home » প্রচ্ছদ কথা » নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি আর মধ্যম আয়ের উচ্ছাস

নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি আর মধ্যম আয়ের উচ্ছাস

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

coverআহা, কি আনন্দ আকাশেবাতাসে! বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ। অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছুদিন ধরে জানা ছিল বিষয়টি, বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল। আনন্দের রেশ সহসাই ফুরোবে না, প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার বিমান বন্দর উদ্বোধন করতে গিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। তার ভাষায়, এই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একমত হতে পারলে খুশিই হতাম। আগামী তিন বছরে মধ্যম আয়ের দেশ হবে কিনা, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে কিনা সেটি ভবিষ্যতের বিষয়। তবে তাঁর ডিজিটাল বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তিচ্ছু লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর সচিত্র দুর্দশা এবং আহাজারী দেখে মনে হচ্ছে, সত্যিই তো, এটি যে ডিজিটাল বাংলাদেশ!

গত ৫ জুন ওসমানী মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আগেই জানিয়েছিলেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেবার জন্য আগামী ২০১৮ সালে জাতিসংঘে আবেদন জানাবে বাংলাদেশ’। তিনি আশা করেন, ২০২১ সালের মধ্যে জাতিসংঘের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি পেয়ে যাবেন। উপস্থিত পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, এজন্য প্রয়োজনীয় মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৫ ডলার অর্জিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক নিম্ন মধ্য বা মধ্যম আয়ের দেশ বললেই কোন একটি দেশ এলডিসি’র তালিকা থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। আর জাতিসংঘ শুধু আয়ভিত্তিক হিসেবটিই গ্রহন করে না। কারন, এর মধ্য দিয়ে কোন দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন চিত্রটি বোঝা সম্ভব নয়।

মাথাপিছু আয়ের হিসেবটি যেহেতু গড়, সে কারনে এটি শ্রেণী বৈষম্যের শিকার এই রাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষের জীবনমানের প্রকৃত অবস্থা ও অবস্থান প্রকাশ করে না। উদাহরন হচ্ছে, রাষ্ট্রের অভিজাত শ্রেণীর ১০ জন যদি বছরে ১০ লাখ টাকা হারে আয় করে তাহলে মোট আয় দাঁড়ায় ১ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৯০ জন সাধারন মানুষের ৫০ হাজার টাকা হারে আয় দাঁড়ায় ৪৫ লাখ টাকা। যোগ করলে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা যার মাথাপিছু গড় হবে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। গাণিতিক হিসেবে এটি অত্যন্ত ভাল অবস্থান এবং এটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বৈষম্যের অনেকগুলি দিক আড়াল করা সম্ভব।

এখনকার বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি নানা দেশের মাথাপিছু আয় এবং কতিপয় সামাজিক সূচক অর্জন বা ব্যর্থতার ভিত্তিতে কয়েকভাগে ভাগ করে দেয়। এই ভাগ করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের পদ্ধতি ভিন্ন। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে কিভাবে দেখবে সেটি এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তবে বিশ্বব্যাংক নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ ঘোষণা দিয়ে একটি অবস্থান নিয়েছে। ব্যাংক তার সদস্য দেশগুলিকে নিম্ন আয়, নিম্ন মধ্য আয়, উচ্চমধ্য আয় ও উচ্চ আয়ের দেশএই চার ভাগে ভাগ করে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বিশ্বব্যাংকের মান অর্জন করতে হলে মাথাপিছু আয় উন্নীত করতে হবে ১ হাজার ৪৫ থেকে ৪ হাজার ১২৫ ডলারে। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ এর ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারে। তবে এ সময়ে এলডিসির তালিকা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে না। এ তালিকা থেকে বের হয়ে আসতে ১০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে’।

অর্থমন্ত্রী এবং পরিকল্পনামন্ত্রী শুধু মাথাপিছু আয়ের হিসেব দিয়ে যেভাবে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার কথা বলছেন তার সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া ও এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসতে মানব সম্পদের বিকাশ ঘটানো, অর্থনীতির ঝুঁকি কমানো এবং জাতীয় আয় ও সঞ্চয়, সর্বোপরি সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জাতিসংঘ বানিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা এলডিসি রিপোর্ট ২০১৪এ বলেছে, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে গেলে বাংলাদেশতে গড় মাথাপিছু আয় অব্যাহত রাখতে হবে। মানবসম্পদ সূচকে অর্জন হতে হবে ৬৬ ও অর্থনীতির ঝুঁকি সূচক ৩২। উভয়ক্ষেত্রে এখন বাংলাদেশের সূচক যথাক্রমে ৫৭.৪ এবং ৩২.৪। এ থেকে উত্তরণে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৫ দরকার বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত: বিশ্ববাংকের বাংলাদেশএর প্রতিনিধি ইউহানেস জাট বলেছেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছতে হলে বাংলাদেশকে যে চারটি বাধা দুর করতে হবে তা হচ্ছে সংঘাতের রাজনীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অতি মুনাফালোভী প্রবনতা দূও করা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার’।

এত গেল নানা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের ঘোষণা, আলোচনা এবং নানা পর্যায়ের বিশ্লেষণ। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধির বক্তব্যের একটি বিষয় খুবই প্রানিধানযোগ্য এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। তিনি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে সংঘাতের রাজনীতিকে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। জন্মের পর থেকেই বাংলাদেশের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে সংঘাত, সংঘর্ষ আর প্রতিহিংসার রাজনীতির অনল। যা বার বার গুঁড়িয়ে, পুড়িয়ে খাক করে দিয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠার আকাংখা। এজন্য এখনকার সবচেয়ে জরুরী প্রশ্নটিই হচ্ছে, একক ধারায় নির্বাচিত কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির একমুখীনতা শেষাবধি দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে?

সুদীর্ঘকাল ধরে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল চলছে। জন্মের পরের ক্রান্তিকালে এই দেশ দেখেছে তিন বছরের মাথায় একদলীয় শাসন, রক্তাক্ত ট্রাজেডি, সামরিক শাসনের দীর্ঘসূত্রিতা, সামরিকবেসামরিক নিয়ন্ত্রনে কথিত গণতান্ত্রিক শাসন, সেনা সমর্থনে সিভিল শাসন, সবশেষে নির্বাচিত একদলীয় শাসন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন, রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এক ধরনের পূনর্বিন্যাস চলছে এবং এটি বাস্তবে রূপ নিতে আরো এক দশক সময় লাগবে। ভবিষ্যত বাংলাদেশের বিষয় হবে রাজনীতি। অর্থনীতি প্রধান বিষয় থাকবে না এবং নির্ভেজাল রাজনীতিই হয়ে উঠবে মূখ্য বিষয়। সুতরাং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারের ধারাবাহিকতা নির্ভরই করে সঠিক রাজনৈতিক দিক নির্দেশনার ওপর।

এখনও অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে রয়েছে বিরাট ফাঁক। শিল্পের সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। সরকার শিল্পায়নে জোর দিলেই কৃষি হয়ে পড়ছে পর্যদুস্ত। জিডিপিতে এখন কৃষির অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ। কর্মসংস্থানের ৫৪.% সংগঠিত হয়েছে কৃষিখাতে। কিন্তু এই খাতে উৎপাদনশীলতা কম বলে আয় নিম্নমানের এবং জেঁকে বসছে ‘ছায়া বেকারত্ব’। সরাসরি উৎপাদনের সাথে জড়িতরা পণ্য বাজারজাতকরণ বিক্রয় থেকে প্রতিটি স্তরে মার খাচ্ছে, লোকসান দিচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এমনকি উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। মাথাপিছু গড় আয়ের ক্ষেত্রে কৃষিখাত বড় অবদান রাখলেও ব্যক্তি বা সমষ্টি হয়ে পড়ছে সর্বনিম্ন আয়ের শিকার। অন্যদিকে শিল্পখাতে কর্মসংস্থান মাত্র ১৭ শতাংশ। অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত একটি অপরিহার্য বিষয় এবং সেটি কোন একক দলের বিষয় হলে সংঘাতময়তা ও সহিংসতা প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্য নিরসন বা মোকাবেলার বিষয়টিও নির্ধারন করে রাজনীতি।

চলমান প্রবৃদ্ধির ধারাটি অব্যাহত রেখে স্ট্যান্ডার্ড সূচকগুলি অর্জন হয়তো করতে পারে বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি কি সকল নাগরিককে নিয়ে? কিছু মানুষ এই নিম্ন মধ্য আয়ের সুবিধে ভোগ করছে। কিন্তু সকলকে নিয়ে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অর্জন করার বিষয়টি নির্ধারন করবে রাজনীতি। বর্তমান রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত থাকলে, জনগণের মতামত প্রদান যদি সরকার কথিত অল্পস্বল্প গণতন্ত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, আগামী ১০ বছর পরেও যদি জনগণ অনুভব করে তাদের অংশগ্রহন ও মতামত নেই, তাহলে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে কিভাবে? নিম্ন মধ্য বা মধ্যম আয়ের দেশ কি বয়ে নিয়ে আসবে? সমস্যাটি যতটা না অর্থনৈতিক তারচেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক। রাজনীতিতে, স্রেফ ভোটের রাজনীতিতে জনঅংশগ্রহন ও মতামতের প্রতিফলন না থাকলেমোদ্দা কথা, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বজায় না থাকলে অর্থনীতি টিকে থাকতে পারে না।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কাগজেকলমে বাংলাদেশ যদি মধ্যম আয়ের দেশ হয়েও যায়, তাহলেও কি কোন পরিবর্তন আসবে? জনগণ পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটের অধিকার পাবে? বিচার বিভাগ পৃথকীকরন, স্বাধীন শক্তিমান নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন পাওয়া যাবে? আইনকে শাসন নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে? জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত গজিয়ে ওঠা মাফিয়া প্রধানদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে? রাষ্ট্রীয় সম্পদ, ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে লুটপাট বন্ধ হবে? পুলিশ, প্রশাসন, দলীয় ভূমিকা থেকে বেরিয়ে আসবে? মৌলবাদজঙ্গীবাদ নিয়ে আই ওয়াশ করার বদলে কঠোর হাতে দমন করা হবে? ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ আশংকামুক্ত পরিবেশ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দেখা যাবে? মানব পাচারকারী, মাদক চোরাকারবারী, অস্ত্র ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা দেয়া বন্ধ হবে?

এইসব গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নের মীমাংসা ছাড়াই হঠাৎ করে লম্ফ দিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ হলে ১৫ কোটি সাধারনের কিইবা আসে যায়? এটি হওয়া নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করা হচ্ছে, কিন্তু এগুলি নিয়ে সরকার কি ভাবছে? মধ্যম আয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে উল্লেখিত সমস্যাগুলোকে আড়াল করতে না পাশ কাটাতে? সরকারের অগণতান্ত্রিক ও আত্মকেন্দ্রিক পদক্ষেপের মধ্যে দেশ এগিয়ে চলছে সংঘাতময় রাজনীতি আর কর্তৃত্ববাদী শাসনের গোঁজামিলে। সরকার শুধু নিজের সাফল্যে মুগ্ধ ও চমতকৃত হচ্ছে বাস্তর অবস্থাটি উপলব্দি ছাড়াই। সত্যিকার অর্থে সবার জন্য নয়, নিজেদের জন্যই মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা, অন্তত: তাদের সামগ্রিক আচরনে সে আলামতগুলি সুস্পষ্ট।

অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানাচ্ছেন, ‘আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য রাজনৈতিক কাঠামো ঠিক নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে নিয়ে যাচ্ছে অনিশ্চয়তার দিকে। রাজনৈতিক ম্যান্ডেট না থাকা এবং এর সূত্র ধরে সৃষ্ট সহিংসতাএর প্রধান কারন। বিরোধী পক্ষগুলোও জনগণকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারছে না। রাষ্ট্রীয় ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ধ্বস নেমেছে। দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান না হলে নিম্নমানের মধ্যম আয়ের দেশ হবে আমাদের গন্তব্য’।

চলমান প্রবৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে কিনা, হলে কবে নাগাদ হবে, তা নিয়ে অনেক ব্যাখ্যার অবকাশ আছে। ধরা যাক, পাঁচ বছরের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হলো। কিন্তু এ সময়ে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় কি করণীয়, অর্থনীতি কিভাবে টিকে থাকবেরাষ্ট্রের চেহারায় সেসব উপাদানগুলি কি আছে? সাধারন মানুষ কষ্টপরিশ্রম করে যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, তাতে বাংলাদেশ আগামীতে এমনিতেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে। কিন্তু সেটিই তো সব নয়। সেজন্য রাজনীতি প্রস্তুত কিনা বা প্রস্তুত হতে কতোটা সময় নেবে সেটিই হওয়া উচিত এই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এবং আলোচনার বিষয়।