Home » শিল্প-সংস্কৃতি » অধিকার আদায়ের লড়াই-সংগ্রাম শিল্প-সংস্কৃতিতে

অধিকার আদায়ের লড়াই-সংগ্রাম শিল্প-সংস্কৃতিতে

ফ্লোরা সরকার

Last 7গত পয়লা মে, ২০১৫, বার্লিন শহরের অ্যালেক্সজান্দার প্লাজে অভিনব এক উন্মুক্ত ভাস্কর্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। ব্রোঞ্জ নির্মিত তিনটি ভাস্কর্য। তিনটি ভাস্কর্য বর্তমান বিখ্যাত তিনজন ব্যক্তি যারা ‘হুইসেলব্লোয়ার’ (ব্যক্তিগত এবং সরকারি গোপন কুকীর্তি যারা ফাঁস করে দেন) নামে পরিচিত, তাদেরকে নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সেই তিনজন হলেন এডওয়ার্ড স্নোডেন, জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জ এবং ব্র্যাডলি ম্যানিং। ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধ এবং ওসামা বিন লাদেনের হত্যারহস্য সহ সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া আরো ঘটনার বিভিন্ন গোপন নথিপত্র যারা ফাঁস করে দিয়ে মার্কির্নিসহ পশ্চিমীদের নজরে এসেছেন এবং নানাভাবে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন এখনো এবং যাদের সাহসী কর্মকান্ডের জন্যে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের স্মরণ করেন প্রতিনিয়ত। প্রদর্শনীর আকষর্ণীয় দিকটি ছিলো, উন্মুমুক্ত প্রান্তরে তিনটি ভাস্কর্য তিনটি চেয়ারের উপর দাঁড় করিয়ে রেখে তার পাশে অতিরিক্ত একটা শূন্য চেয়ার রাখা হয়। ঐ শূন্য চেয়ারের জন্যে প্রদর্শনীটির নাম দেয়া হয়, ‘কিছু বলবেন কি?’ উদ্দেশ্য সা¤্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ এবং স্বৈরাচারী শাসনের এই চরম সময়কালে স্নোডেন, অ্যাসেঞ্জ এবং ম্যানিং এর মতো সাহসী মানুষেরা যে সাহস দেখিয়ে চলছেন, শূন্য ঐ চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে আগত দর্শনার্থীরাও সাহস করে তাদের মনে যা আসে তা যেন বলেন। এভাবেই ইতালির শিল্পী ডেভিড ডরমিনো তার ভাস্কর্য প্রদর্শনীর আয়োজন করেন গত পয়লা মে’তে। ডেভিড ডরমিনোর মতে, সরকারি দমনপীড়ন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা এক বিষয় নয় এবং এই দুই বিষয়ের মাঝে যে মোটা দাগে ব্যবধান আছে তা বিশ্ববাসীকে স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেয়াই এই প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ( স্টিফেন স্টেইনবার্গ, ৭ মে,২০১৫, ওয়ার্ল্ড সোসালিস্ট ওয়েব সাইট)। গান,কবিতা, গল্প,উপন্যাস, ভাস্কর্য, চিত্রকর্ম, চলচ্চিত্র ইত্যাদি শিল্পকর্ম যে আকারেই থাকুক না কেনো, তার পরিবেশনা বিনোদন হলেও, শিল্পকর্ম হচ্ছে প্রধানত জীবনশিল্প রচনা করা। সে জীবন ব্যক্তিগত,সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা ঐতিহাসিক যেমনই হোক না কেনো। জীবনের ছাপ যেখানে নেই তা কখনোই শিল্প হতে পারেনা। প্রকৃত শিল্পী তার রং বা ক্যামেরার তুলিতে, বইয়ের পাতায় বা গানের সুরে সেসব জীবনের অসামঞ্জস্যগুলো, অনৈতিক দিকগুলো, জাতিগতসহ সব ধরনের বিদ্বেষ, নিপীড়ন আর অত্যাচারের কাহিনীগুলি তুলে ধরেন। ব্রাজিলের চলচ্চিত্র নির্মাতা গ্লোবার রাউসা সিনেমাকে তাই বলেন, ক্ষুধার নন্দনতত্ত্ব বা নাশকতার নন্দনতত্ত্ব। রাউসার মতে তারাই শুধু ভায়োলেন্সের শিকার যারা ক্ষুধার্ত থাকে। আমরা বলবো এসব ভায়োলেন্স মনুষ্য নির্মিত। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে ফেরাউন বংশ, তৈমুর লং, হিটলার, মুসোলিনী এবং বর্তমানের অনেকের মতো স্বৈরাচারেরা যেমন চিরতরে চলে যায়না, তেমনি তাদেও বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্যে শিল্পীসাহিত্যিকের সংখ্যাও কমে যায়নি বা যায়না। প্রতিবাদী সেসব শিল্পী গণমানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, অত্যাচার আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যান অবিরত, তাদের শিল্পকর্মের মধ্যে দিয়ে। আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় সেসব শিল্পকর্মের নানাদিকের প্রতি দৃষ্টি দেয়া।

লায়ন অফ দ্যা ডেজাট’ ছবিটি যারা দেখেছেন, তাদের মনে থাকার কথা, ছবির শেষ দৃশ্যের আগের দৃশ্যে সামরিক আদালতে অভিযুক্ত উমর মুখতারকে (লিবিয়ার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতা ও জাতির পিতা এবং ছবির নায়ক) প্রধান বিচারক যখন গুরুগম্ভীর স্বরে বলেন ‘তোমার দেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারণে তোমার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে’ তখন দর্শক তীর্যক হাসি হাসে। কেননা সাম্রাজ্যবাদ সব সময় এই রকম মুখোশ পরে অবৈধ ভাবে অধিকৃত দেশের বৈধতা দাবি করে থাকে। একদিকে বিচারক বলছেন ‘তোমার দেশ’ অন্যদিকে বলছেন ‘বৈধ সরকার’ সবটা ছবি দেখার পর এই দুটো শব্দ যেন দর্শকের কানে বিকট আওয়াজের মতো বেজে ওঠে। কারণ বিচারক যাকে তোমার দেশ বলছেন তা যেমন উমর মুখতারের দেশ নয়, তেমনি যে বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে সেই সরকার নিজেই অবৈধ। যে সরকার নিজেই অবৈধ সে যেমন অন্যের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেশ করতে পারেনা, তেমনি অবৈধ সরকারের দেশটিও স্বাধীন দেশ হতে পারেনা। বেশ দখলদারদের কাছে বৈধঅবৈধ, নীতিনীতিহীনতা, স্বাধীনতাপরাধীনতার কোন বিভাজন রেখা নেই। ঔপনিবেশিকতাবাদ জানে শুধু দখল, শোষণ আর দেশ দখলের বিস্তার ঘটাতে। অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে এসব দখলদারিত্বের সর্বোচ্চ লক্ষ্য এবং আদর্শ। দখলকৃত দেশটিকে তারা বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি মনে করে। ফলে সেসব দেশের জনগণকে তাদের জাতিগত পরিচয়, স্বাধীন ভাবে বসবাসের অধিকার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কোনো ধরণের অধিকার দেয়া হয়না। বরং কারোর ভেতর প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ দেখা দিলেই, তাকে সন্ত্রাসবাদী নামে আখ্যায়িত করে মৃত্যুদন্ড বা দেশ ছাড়া করা হয়। উমর মুখতারকে এভাবেই ছবিটিতে তাই মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়। কিন্তু প্রতিবাদের ধারা থেমে থাকেনা। ছবির শেষে তাই দেখা যায় উমর মুখতারের চশমা (যে চশমা জাতীয়াবাদী আন্দোলনকে তরুন প্রজন্মের হাতে হস্তান্তরের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতীক) ফাঁসীর পর যখন মঞ্চ খালি হয়ে যায় ছোট্ট সেই বালক দৌঁড়ে এসে চশমাটা নিয়ে যায়। অসাধারণ এক দৃশ্যায়নের মধ্যে দিয়ে পরিচালক আমাদের এটাই বুঝিয়ে দেন যে চশমা দিয়ে উমর মুখতার লিবিয়ার শোষিত জীবন দেখতে পেতেন, যে চশমা দিয়ে লিবিয়ার ভবিষ্যত দেখতে পেতেন, সেই চশমা এই বালকটিকে দেয়ার মধ্যে দিয়ে তাকেও দেখার সুযোগ করে দেয়া হলো। যে দেখার মধ্যে দিয়ে একদিন এই বালক যখন বড় হবে সেও উমর মুখতারের মতো শত্রুমিত্র চিনতে পারবে, পারবে তার মাতৃভূমি উদ্ধার করতে। যে চশমা একমাত্র উমর মুখতারের মতো বীরদের চোখেই মানায়। রিলে রেসের মতো চশমার প্রজ্জ্বলিত শিখাটি বালকের মাধ্যমে যেন সম্প্রসারিত করা হয়। সেই সঙ্গে মনে পড়ে ‘শতরঞ্জি কে খিলাড়ি’র সেই কিশোরটির কথা, ইংরেজ আগমনের ভয়ে সারা গ্রাম উজাড় হয়ে গেলেও, শুধু সেই কিশোরটি থেকে যায়। আমরা উপলব্ধি করি, নবাব ওযাজেদ আলী শাহ’র মতো সহজসরল উদাসীন শাসক দিয়ে দেশে শান্তি বিরাজ করলেও, শেষ রক্ষা হয় না। রাজনৈতিক দাবা খেলার সমাধান রাজনীতিবিদদের দ্বারাই সম্পন্ন করতে হয়। না হলে, দেশের বাইরের আবরণ ঠিক ঠাক দেখালেও, গভীরে চলতে থাকে ক্ষয়। দাসত্বের ক্ষয়। যে ক্ষয় বিদেশীশক্তির পরোক্ষ পরিচালনা বা নিদের্শে, দেশীয় দখলদাররা পরিচালনা করেন। সেসব দেশ সহজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনা । নির্মাতা মৃণাল সেন তাই বলেছিলেন, ‘সেসময় ইংরেজ আমল, আমরা জানতাম আমাদের বড়ো শত্রু ইংরেজ, বৃটিশ ইম্পিরিয়ালিজম, তার বিরুদ্ধে জড়ো হওয়া অনেক সহজ ছিল। এখন সেখানে বহু দল, বহু ব্যাপার, শত্রু মিত্র চেনা বড় ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এখন কে শত্রু, কে মিত্র বোঝা বড় মুশকিল” (চিত্রবীক্ষণ, এপ্রিলমে, ১৯৯৩)। শত্রুমিত্রের চেনার জটিলতার কারণে গড়ে উঠে জাতি বিদ্বেষ। যে বিদ্বেষের বীজ ‘নেটিভ’ দেশগুলি থেকে বিদায় নেয়ার সময় পুরনো বা নতুন দখলদারেরা বুনে দেয়। যার ভয়াবহ চিত্র আমরা দেখতে পাই ‘হোটেল রুয়ান্ডা’ ছবিতে। হোটেলের লবিতে জাতিসংঘ থেকে আগত একজন সাংবাদিক যখন রুয়ান্ডার সাংবাদিক বেনেডিক্টকে হুতুতুতসির দুই জাতির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যগুলো জানতে চান, বেনেডিক্ট মাত্র কয়েকটি সংলাপে রুয়ান্ডার জাতি বিদ্বেষের প্রায় পুরো ইতিহাস বলে দেন – ‘ বেলজিয়ান শাসকরা মনে করতো তুতসিরা লম্বা, সুরুচিপূর্ণ। বেলজিয়ানরাই মূলত এই পার্থক্য তৈরি করেছিলো’। সাংবাদিকে প্রশ্ন,‘ কিভাবে ?’ বেনেডিক্ট,“ ঔপনিবেশিক শাসনামলে আমাদের ভেতর থেকে তারা সেসব মানুষদের তুলে নিতো, যাদের নাক সরু, গায়ের রং কিছুটা উজ্জল। সেই সরু নাকের অধিকারী তুতসিদের দিয়ে তারা প্রশাসন চালাতো। কিন্তু দেশ ছেড়ে যাবার সময় হুতুদের হাতে সব ক্ষমতা দিয়ে গেলে তুতসিদের দ্বারা সংঘঠিত অতীতের দীর্ঘদিনের শোষণের প্রতিশোধ নিতে হুতুরা মরিয়া হয়ে উঠে’। কাজেই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়না, বিভেদের বীজ কীভাবে এসব ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো স্বাধীনতা উত্তর দেশগুলিতে জিইয়ে রাখার ব্যবস্থা করে। আমরাও আমাদের ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় এসব ঘটনা মিলিয়ে নিতে পারি।

সিক্রেট ব্যালট’ ছবিতে খোদ নির্বাচনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। ভোট দেয়া আর না দেয়া যেন জনগণের কাছে দুটোই সমান। কারণ তারা দেখেছে তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়না। কোনো ধরণের উৎসাহ উদ্দীপনা তাই তাদের মাঝে দেখা যায়না। ছবির একটা দৃশ্যে, শহর থেকে আসা একজন মাত্র নারী প্রিজাইডিং অফিসার তার সহযোগী সেনাকর্মীকে নিয়ে যখন জায়গায় জায়গায় ভোট গ্রহণ করতে যায়, স্বামী পরিত্যক্তা একজন নারীর সঙ্গে দেখা হলে, সেনাকর্মীটি মনে করে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে হয়তো সেই নারীর বিয়ে সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা যাবে। এই বিষয়ে সে জানতে চাইলে নারী প্রিজাইডিং অফিসার উত্তর দেয়, ‘জীবনের সব সমস্যার সমাধান শুধু ভোট দিয়ে হয়না’। একটা মাত্র সংলাপে পরিচালক বাবাক পায়মামি আমাদের বুঝিয়ে দেন শুধু নির্বচনই গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্রের পরিসর আরো বিশাল। ছবির নানান দৃশ্যে এভাবেই নির্বাচন আর গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। বাস্তবেও আমরা দেখি, নির্বাচন এখন আর অধিকার আদায় নয়, অধিকার আত্মসাতের একটা ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। অধিকার আদায়ের সংগ্রাম যে কত শ্রমসাধ্য একটা কাজ এবং তা আদায় করা গেলে জীবনের কতদিক যে উন্মোচিত হয় সেটা দেখা যায় ‘দ্য ব্লাকবোর্ড’ ছবিতে। ছবিতে দেখি কয়েকজন শিক্ষক ছেলেমেয়েদের পড়ানোর জন্যে ব্লাকবোর্ড নিয়ে যাত্রা করে। যাত্রা পথে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, কিন্তু কেউ পড়তে আগ্রহী না। অথচ একবার শিক্ষার মতো আলো যদি তাদের ভেতর প্রবেশ করানো যায়, তা যে কতভাবে মানুষকে সহায়তা করে, ব্লাকবোর্ডের নানারকম ব্যবহারের প্রতীকী অর্থ দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়। আবার এই শিক্ষাই যে সব না ‘আইরিশ মারডক’ ছবিতে আইরিশ মারডক দেখিয়ে দেন। শিক্ষার মধ্যে দিয়ে মানুষ যদি ‘মানুষ’ না হতে পারে, তাহলে সেই শিক্ষা জীবনে কোনো কাজে আসেনা। যেখানে কোনো মানবতা নেই সেখানে কোনো শিক্ষাও নেই।

এই মানবতাবোধের অভাবের কারণেই ফিলিস্তিনী বংশদ্ভুত আমেরিকান প্রতিবাদী কবি সুহিয়ার হামিদ তার ‘ফার্স্ট রাইটিং সিন্স’ এ ক্রোধের সঙ্গে লেখেন – ‘আমি জানিনা জীবনকে ভেঙ্গে দেয়ার জন্যে কতশত হত্যার প্রয়োজন পড়ে….’। কলাম্বিয়ার চিত্রকর ফারনেন্দো বেতেরো আবু গারিব কারাগারের নিষ্ঠুরতা দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। চিত্রপটে আঁকলেন সেই কারাগারের নিষ্ঠুরতা। স্ট্যানলি কুবরিক তার ‘এ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ’ এ দেখালেন কিভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস তৈরি করে ব্যক্তি সন্ত্রাসীকে । তার ‘ফুল মেটাল জ্যাকেট’ যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত, সেখানে যুদ্ধকে ব্যঙ্গ করার জন্যে, সেনাবাহিনীর হেলমেটে লিখে দিলেন,‘বর্ন টু কিল’। কস্তা গাভারাস তার ‘মিসিং’ নামের রাজনৈতিক ছবিতে দেখালেন, রাজনৈতিক গুম কতটা ভয়াবহ আর ত্রাসের সৃষ্টি করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার পাম দ্বীপের আদিবাসি ক্যামেরন দুমেগি যখন পুলিশ কাস্টডিতে মারা যান, সাউথ আফ্রিকার নির্মাতা টনি ক্র্যাভিটজ, সেই সত্য ঘটনার উপর নির্মাণ করলেন ‘দ্য টল ম্যান’ প্রামান্যচিত্র। আমরা ভুলতে পারিনা চ্যাপলিনের ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’। মাইকেল মুর তার ‘ফারেনহাইট ৯/১১’ প্রামাণ্যচিত্রে বুশ প্রশাসনকে ব্যঙ্গ করতে ছেড়ে দেননা। আর এভাবেই শিল্পের নানা শাখায় চলেছে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের ধারা। আমাদের মনে রাখা দরকার যেখানেই শোষণ,নিপীড়ন বেশি হয়, সেখানেই প্রতিবাদ আর অধিকার আদায়ের চাপ বাড়ে। শিল্পকর্ম তখন শুধু নান্দনিকতার চাকচিক্যের ভেতর বন্দী হয়ে থাকেনা। মুখোশ উন্মোচনের প্রয়োজন পড়ে। গলাউবার রউসার ভাষায় বলা যায়, ‘ঝলমলে পোশাক দিয়ে ক্ষতগুলোকে আড়াল করা যাবেনা। বরং ক্ষতগুলো সকল চাকচিক্য ম্লান করে দিয়ে আরো স্পষ্ট হয়ে দেখা যাবে’। এই কারণেই বোধহয় গত পয়লা মে বার্লিনের উন্মুক্ত প্রান্তরে ডেভিড ডরমিনো একালের শ্রেষ্ঠ তিনজন সত্যভাষীদের উন্মোচিত করলেন তার ভাস্কর্যের মাধ্যমে। যে প্রদর্শন আমাদেরকেও উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

১টি মন্তব্য

  1. OSHOMBHOB SHUNDOR HOYECHE LIKHATI,ONEK OJANA KOTHA JANA HOLO,ONEK DHONNOBAD APNA-K FLORA SARKER 🙂