Home » বিশেষ নিবন্ধ » ক্রীড়াঙ্গন :: ধনী আর গরিব দেশের বৈষম্য এবং করপোরেট

ক্রীড়াঙ্গন :: ধনী আর গরিব দেশের বৈষম্য এবং করপোরেট

মোহাম্মদ হাসান শরীফ

Last 6নির্মল বিনোদন হিসেবে খেলাধুলার জুড়ি এখনো নেই। এই একটি স্থানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা, বয়সনির্বিশেষে সবাই একই সমতলে অবস্থান করতে পারে, জয় বা পরাজয়ে একসাথে আনন্দের উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে পারে কিংবা বেদনায় নীল হয়ে যেতে পারে।

তবে খেলাধুলা এখন আর অ্যামেচারদের তাক লাগানোর কোনো মাধ্যম নয়। এটা একটা পেশা। এর মাধ্যমেই অনেকে রাতারাতি বনে যাচ্ছে কোটিপতি। যে বয়সে সাধারণ কেউ কলেজের গন্ডিও পেরুতে পারে না, খেলাধুলার মাধ্যমে সেই বয়সেই সে হতে পারে মিলিয়নিয়ার এমনকি বিলিনিয়রও। অন্য পেশার লোকজন যে বয়সে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেন, তখন ক্রীড়াবিদের অবসরগ্রহণের সময় হয়ে যায়। তাছাড়া খেলাধুলায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রতিভাধর যে কেউ অন্য সব প্রতিকূলতা সহজেই এড়িয়ে যেতে পারে। এখানে চারটা ‘প’ (প্রচার, প্রসার, প্রশংসা ও পয়সা) হাতের নাগালেই থাকে। তবে অন্য সব খাতের মতো এখানেও পুঁজিবাদী করপোরেটব্যবস্থা থাবা বসিয়েছে। ধনী ও গরিবের ব্যবধান ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ধনী দেশগুলোর প্রাধান্যের রহস্য এখানেই।

অলিম্পিক গেমসের মতো আন্তর্জাতিক আসরে তা আরো প্রকট হয়ে ওঠে। জেসপার ব্ল্যাকের কথাই ধরা যাক। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, নয় বছর ধরে কানাডার ট্রাইথলেট জেসপার ব্ল্যাক অলিম্পিক গেমসের জন্য প্রস্তুতির জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছেন। সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়ের সমন্বয়ে গড়া এই ইভেন্টটিতে সেরা ক্রীড়াবিদ হওয়ার জন্য তার প্রয়াস ছিল বিরামহীন। বাইসাইকেলে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তিনি এসআরএম পাওয়ারমিটার ব্যবহার করেছেন। একটি জার্মান কোম্পানির তৈরি করা এই পাওয়ামিটারে তথ্য সংগ্রহের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। সাইকেলের প্যাডেলে প্রতিবার চাপ দেওয়ার সাথে সাথে শক্তি ও ছন্দ জানা যায়, আরোহীর হার্টরেটেও পরিমাপ হয়ে যায়। এমনকি তিনি যখন ঘুমিয়ে পড়েন, তখনও তা হয় প্রযুক্তির মাধ্যমে। তিনি ভিক্টোরিয়ায় তার বাড়িতে ‘উঁচু স্থানের তাঁবু’র মধ্যে রাজকীয় বিছানা পেতেছেন। একটি কম্প্রেসর পাম্পের মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার মিটার উঁচুতে ১৫% অক্সিজেনের সমান আবহাওয়া সৃষ্টি করে (সমুদ্রপৃষ্ঠের বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ ২১%)। এতে করে ব্ল্যাক যখন ঘুমিয়ে থাকেন, তখন তার দেহের রক্তে বেশি পরিমাণে লোহিত কণিকার সৃষ্টি হয়। এতে করে প্রতিযোগিতার সময়ে তিনি সহজে ক্লান্ত হন না। একদিকে তিনি আরামদায়ক রাত কাটাতে পারছেন, সেইসাথে সেরা ক্রীড়াবিদও হতে পারছেন।

অবশ্য একেবারে সস্তায় তিনি তা পারছেন না। বিশেষভাবে নির্মিত তাঁবুটির দাম প্রায় ৭ হাজার মার্কিন ডলার। এসআরএম পাওয়ারমিটারের দাম প্রায় ২ হাজার ৯শ’ ডলার, বিশেষভাবে নির্মিত সাইকেলটির দাম ৪ হাজার ডলার। ব্ল্যাক মনে করেন, এসব সবার জন্য জরুরি নয়। তবে এগুলো না থাকলে শুরুর আগেই ক্রীড়াবিদ পাঁচ মিটার পিছিয়ে পড়বে।

আরো অনেক স্বপ্নবিলাসী ক্রীড়াবিদের মতো ব্ল্যাকও দেহ ও মনকে পরিশীলিত করার জন্য মেটট্রিক্স পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে থাকেন। মানবদেহের সর্বোচ্চ পারপরমেন্স নিংড়ে নেওয়ার জন্য এখনকার প্রায় সব কোচই অসংখ্য ধরনের যান্ত্রিক, ভিডিও আর কম্পিউটারের সাহায্য নিয়ে থাকেন। কম্পিউটারের মাধ্যমে দৌড়বিদরা বিশ্বের সেরার বিরুদ্ধে লড়তে পারেন। ভিডিও সফটওয়্যারের মাধ্যমে সাঁতারু আর ডাইভাররা তাদের আগের রেকর্ড ভাঙতে পারেন। ব্ল্যাকের মতো অনেক ক্রীড়াবিদই এখন উঁচু স্থানে ঘুমান আর নিচু স্থানে প্রশিক্ষণ নেন। ‘গতি সর্বোচ্চকরণ সিস্টেম’টির দাম ৫৮ হাজার ডলার। এর মাধ্যমে দৌড়বিদরা বেশ উপকৃত হয়। এর সাহায্যে দৌড়বিদের মনে হবে তিনি একজন বিশ্বসেরা দৌড়বিদের সাথে দৌড়াচ্ছেন। ফলে তার গতিও বাড়বে।

এতে কী লাভ হয়? ক্রীড়াবিজ্ঞানী এবং অনেক কোচ মনে করেন, এতে করে পারফরমেন্সে সামান্য উন্নতি হয়। তবে সেটাই অনেক। ভিক্টোরিয়ার প্যাসিফিকস্পোর্ট কানাডিয়ান স্পোর্ট সেন্টারের ক্রীড়াবিজ্ঞান ও মেডিসিনের পরিচালনক ডঃ গর্ডন স্থেই ভার্ট বলেন, এতে পারফরমেন্স সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ বাড়ে। তবে ১ শতাংশই হয়তো প্রথম স্থান ও অষ্টম স্থানের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। অল্পের জন্য যেসব ক্রীড়াবিদ ব্যর্থ হন, এসব যন্ত্র তাদের কাক্সিক্ষত স্থানে পৌঁছে দেবে। ১০০ মিটার দৌড়ে কোনো ক্রীড়াবিদ ঠিক কোন জায়গাটিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তা অবলীলায় জানা যাবে। দেখা গেল, কোনো ক্রীড়াবিদের সূচনাটি ভালো। কিন্তু ৫০মিটারের পর তার দম কমে যায় শ্বাসনালীর ক্রুটির কারণে। এটা জানা গেলে তার নিরাময়ও দ্রুত সম্ভব।

অস্ট্রেলিয়ার ইয়ান থর্প যে কস্টিউম পরে সুইমিংপুলে নামেন, সেটাই তার গতি তিন শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। আর বেশির ভাগ প্রতিযোগিতায় দেখা যায়, স্বর্ণপদক এবং ৪র্থ স্থানের মধ্যে পার্থক্য এই তিন শতাংশ গতিবেগ। কাজেই পুলে নামার আগেই বাংলাদেশের জুয়েল আহমেদের আর অস্ট্রেলিয়ার ইয়ান থর্পের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। শুধু সেই কস্টিউমটি এনে দিলেই আমাদের জুয়েল স্বর্ণ জয় করতে পারবে, তাও নয়। থর্পের পেছনে যে ব্যয় হচ্ছে, তার এক শতাংশও আমাদের সব সাঁতারুর জন্য ব্যয় করা সম্ভব নয়। থর্পরা যে কস্টিউম পরে পুলে নামেন, তার এক সেটের দামই প্রায় আড়াই শ’ মার্কিন ডলার। আমাদের কতজন সেটা সংগ্রহ করতে পারবে? এবং কয়টি? ডোবানালায় সাতাঁর কেটে কেটে অত্যাধুনিক সুইমিং পুলে অভ্যস্থ কারো সাথে কিভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব? সেই ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হলে, আমাদের কারার মিজান, সামেদুল না হোক, কাল কিংবা পরশু আবদুল করিম, রহিমকেউ না কেউ আলোড়ন তুলতেই পারবে। সাঁতার ক্যারিয়ার শেষ করার পর কী করবো, তা ভাবার প্রয়োজন না থাকায় তারাও সব কিছু উজাড় করে দিয়ে খেলতে পারবে। প্রয়োজন না থাকায় পালিয়ে যাওয়ার কথা মাথাতেই আনবে না। আমাদের আসিফ হোসেনদের স্বর্ণপদক পাওয়া একটি ব্যতিক্রম ঘটনাই বলতে হবে। লক্করঝক্কর বন্দুক দিয়ে সীমিত বা হাতে গোণা কয়েকটি গুলি খরচ করে উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দেওয়া সম্ভব নয়। উন্নত বিশ্বের একজন শূট্যার একদিনে যে পরিমাণ গুলি খরচ করে, আমাদের শূট্যাররা মাসেও তা করতে পারে না। আবার তাদের অস্ত্রও থাকে অনেক উন্নত। বন্দুকের মডেলের কথা বিবেচনা করলে আমরা প্রায় একযুগ পিছিয়ে আছি। অন্যান্য অনুসঙ্গ তো অনেক পরের কথা। মেসি, রোনাল্ডোরা যে বুট পরে মাঠে নামেন, সেটা অনেক জাতীয় দলের পুরো খরচের সমান হয়ে যায়। বিভিন্ন খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক সম্মান লাভ, প্রচার, প্রসার তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কল্যাণেই হয়ে থাকে। ওই খেলোয়াড় যত প্রচার পাবে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবসা তত বাড়বে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানা কৌশলের বাস্তবায়ন চলে।

পেশায় পরিণত হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতে হচ্ছে পারফরমারদের। তাছাড়া ভালো পারফম করতে পারলে নানা জায়গা থেকে আসবে নানা লোভনীয় স্পন্সর। কিশোর বয়সেই কোটিপতি হওয়ার সহজ সুযোগ আছে। সেই সাথে আছে গ্লামার। এতোকিছু সহজে পাওয়া যায় কি অন্য কোনোভাবে? আবার স্পন্সররাও চায়, তাদের বিনিয়োগের রিটার্ন। কেউ তা না পারলে স্পন্সররা তাকে ছেড়ে চলে যাবে নতুন কারো খোঁজে। স্পন্সররাও জানেন, আজকাল খেলাধুলায় বিনিয়োগ করলে তা সহজেই উঠে আসে।

তবে অনেকেই মনে করছেন, নানা সরঞ্জাম, কস্টিউম, প্রশিক্ষণ প্রভৃতির ভিড়ে সহজাত নৈপূণ্য হারিয়ে যাচ্ছে। এটা তাদের পেশা, শৌখিনতা নয়। যারা এখন আলোড়ন সৃষ্টি করছেন, তারা সহজাত প্রতিভার ঘাটতি রয়েছে, তা নয়। তারা অবশ্যই প্রতিভাবান। কিন্তু তাদের সেই প্রতিভাকে আরো শাণিত করার জন্য যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা সেগুলো সবার নাগালের মধ্যে নয়। পরিণতিতে সৃষ্টি হচ্ছে অসম বা একতরফা প্রতিযোগিতা। গরিব দেশগুলোর ক্রীড়াবিদরা তা কল্পনাই করতে পারে না। ফলে প্রতিযোগিতায় তারা হয়ে পড়ে জোকার। উন্নতদেশগুলো ক্রীড়াবিদদের নানা সরঞ্জাম, তাদের প্রশিক্ষণ ছাড়াও তাদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিক্ষা সাধারণের কাছ থেকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যায়।

তবে এর মাঝেও দেখা যাবে, অ্যাথলেটিক্সে মধ্যম ও দূর পাল্লার দৌড়ে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো এগিয়ে আছে। স্বল্প পাল্লার দৌড়ে উন্নতদেশগুলোর প্রাধান্য রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞই বলেন, বাণিজ্যকরণের দাপট না থাকলে পুরো অ্যাথলেটিক্সই একচ্ছত্র প্রাধান্য থাকতো আফ্রিকার। আফ্রিকানরা যেসব ইভেন্ট জয় করে তা করে তারা নিজস্ব প্রতিভা আর সহজাত ক্ষমতার জোরে। আর প্রশিক্ষণ এবং কস্টিউমসহ অন্যান্য কিছুর জোরে উন্নত বিশ্বের ক্রীড়াবিদরা অন্যান্য স্থানে এগিয়ে যায়। মুষ্টিযুদ্ধেও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রাধান্য হচ্ছে, তাদের বৈশিষ্ট্যসূচক শাররিক গঠনের জন্য। এখনো সহজাত শাররিক শক্তি শিরোপা জয়ের অন্যতম উপাদান হিসেবে বহাল রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রেই উন্নয়নশীল দেশগুলো সাফল্য দেখছে। তবে তারাও ক্রমাগত ধনীদেশগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছে।

স্পন্সরের যে প্রয়োজন নেই, তা নয়। স্পন্সরের কারণেই গরিব অথচ মেধাবীরা নিজেদের গড়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনও সম্ভব হচ্ছে স্পন্সরদের কারণে। কিন্তু সেটা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে ড্রাগও একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ড্রাগ একটি নিষিদ্ধ সামগ্রী। শাররিক শক্তি হঠাৎ করেই বেড়ে যায় ড্রাগ নেওয়ার ফলে। এতে করে সুস্থ ও নির্মল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে না। একারণে ক্রীড়াঙ্গণে ড্রাগ নিষিদ্ধ। কিন্তু কোনটি নিষিদ্ধ? উন্নত বিশ্বে আজ যেটাকে খারাপ মনে করছে না বা অন্যরা যা জানে না, সেটা নিষিদ্ধ নয়। তারা যেটাকে নিষিদ্ধ মনে করছে বা যেটাকে আর কাজে লাগানো যাচেছ না, তাই নিষিদ্ধ। তারা অবশ্য তাদের সব খেলোয়াড়কেই সেই সব ড্রাগ দিচ্ছে না। তারা অত্যন্ত গোপনে সুপরিকল্পিতভাবে কয়েকজনকে তা দিচ্ছে সবার অগোচরে। আর ধরা পড়লেও অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানো তখন সহজ হয়ে যায়। ২০ বছর আগে উন্নত দেশগুলো তাদের ক্রীড়াবিদদের যেসব ড্রাগ ব্যবহার করতে দিত, তা ছিল, আমাদের মতো দেশে সম্পূর্ণ অপরিচিত। তা তারা সাধারণ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে পদক বাগিয়ে নিত। উন্নয়নশীল দেশগুলো তা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতো। আজ যখন সেই সব ড্রাগের সাথে উন্নয়নশীল দেশ পরিচিত হচ্ছে, তখনই তা নিষিদ্ধ। উন্নত দেশগুলো এখন আরো সমৃদ্ধ কিছুর সন্ধান পেয়ে তা ব্যবহার করছে। অধিকন্তু তারা যেসব গবেষণা, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে, তা ড্রাগের মতো নেতিবাচক পার্থক্য সৃষ্টি করছে না, তবে তাও তৈরি করছে এক মারাত্মক বৈষম্য। বলাই বাহুল্য, এই বৈষম্য থেকে উদ্ধারের কোনো রাস্তা দেখা যাচ্ছে না। কারণ তাদের হাতে আছে করপোরেট নামের দানবীয় শক্তি। তাদের দরকার অর্থ, অর্থ আর অর্থ। আর সব মূল্যবোধ, নৈতিকতা ধুয়ে মুছে যাক, তাতে কোনো ক্ষতি নেই।