Home » প্রচ্ছদ কথা » গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতির কারণেই…

গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতির কারণেই…

হায়দার আকবর খান রনো

Coverঊনবিংশ শতাব্দীতে বৃটিশ রাজত্বের প্রথম যুগে আমাদের সমাজ জীবনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল। অবশ্যই তা ছিল পরাধীনতার ফসল, বৃটিশ রাজত্বের কুফল। যদিও বাঙালি হিন্দু মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের একাংশের মধ্যে নবজাগরণ দেখা দিয়েছিল, যাকে অনেক সময় রেনেসাঁ বলে আখ্যায়িত করা হয়, তবু তা বিশাল জনগোষ্ঠীর সমাজ জীবনকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। অন্যদিকে, ইংরেজদের আনুকূল্যে গড়ে ওঠা মুৎসুদ্দি ও সামন্তশ্রেণী কলকাতাকেন্দ্রিক যে কুৎসিত বাবু কালচার তৈরি করেছিল তা সমাজ জীবনকে কলুষিত করেছিল দলীয়ভাবে। এই তথাকথিত বাবু কালচারকে নিন্দা ও ব্যঙ্গ করে মহাকবি মাইকেল লিখেছিলেন, ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ ও ‘একেই বলে সভ্যতা’। বাবু কালচারের মধ্যেই বেড়ে ওঠা কালীপ্রসন্ন সিংহ বাবু কালচারকেই নিন্দা করে লিখেছিলেন, ‘হুতুম প্যাঁচার নকশা’।

ইতিহাসের এই প্রসঙ্গটি টানলাম এই কারণে যে, বর্তমানে রাজনৈতিক গণতন্ত্রহীনতার পরিবেশ রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে গড়ে ওঠা ধনিকগোষ্ঠীও একইভাবে এক কুৎসিত কালচার তৈরি করছে যা সমাজকে কলুষিত করছে দারুনভাবে, ভেঙ্গে পড়ছে স্বাভাবিক সামাজিক বন্ধন ও মূল্যবোধ। টাকার গরম, ক্ষমতার দাপট, আইনের শাসনের অনুপস্থিতি, সামান্যতম ন্যায় বিচারের সুযোগ না থাকা এই সবই যে সামাজিক দৃশ্যপট তৈরি করেছে তা ইতোপূর্বে কখনই ছিল না। ক্ষমতার কাছাকাছি যারা আছে এবং অতিকায় ধনী যারা, তারা পরস্পরের সাথে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি ক্ষমতা এবং বিত্তের অধিকারী। এখানে বিত্তবৈভব তৈরি হয়েছে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে এবং প্রধানত লুটপাটতন্ত্রের মাধ্যমে। এরা উৎপাদনশীল বুর্জোয়া নয়। বুর্জোয়া কালচারও তারা শেখেনি। যা শিখেছে বা নতুন করে আয়ত্ব করেছে তা হলো ক্ষমতার দাপট দেখানো এবং প্রদর্শনবাদীতা। মানবতা, সহনশীলতা, ভদ্রআচরণ ইত্যাদি তাদের চরিত্রে পুরোপুরি অনুপস্থিত।

সাম্প্রতিক সময়ের দুটি উদাহরণ আমি উল্লেখ করতে চাই। গত ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে দুটোর সময় দামি গাড়ি প্রাডোতে করে দুই বন্ধুসহ নিউ ইস্কাটন রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর পুত্র বখতিয়ার। তার গাড়িটি যানজটে পড়ে। তাতে বিরক্ত হয়ে তিনি নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে নিহত হন রিকশাচালক আবদুল হাকিম ও জনকণ্ঠের সিএনজি অটো রিকশাচালক ইয়াকুব আলী। অভিযুক্ত হত্যাকারী হয়তো মদ্যপ ছিলেন। কিন্তু মাতালেরও কিছুটা হুশজ্ঞান থাকে। সংসদ সদস্য’র পুত্র যদি ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান না করতেন, যদি তিনি সাধারণ পরিবারের সন্তান হতেন, তাহলে যতোই মদ্যপান করুন, নিজের বিরক্তি প্রকাশের জন্য রাস্তায় গুলি করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতেন না। সংসদ সদস্য’র পুত্র বলেই এক ধরনের মনোভাব ও ধারণা তার মধ্যে কাজ করছিল – ‘ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা যা খুশি করতে পারে, কোনো শাস্তি হয় না’।

এই প্রসঙ্গে আবার সেই পরাধীন যুগে ফিরে যাই, যখন শাসক ইংরেজদের যা খুশি, এমনকি মানুষ হত্যা পর্যন্ত করার অধিকার ছিল। রবীন্দ্রনাথের ‘মেঘ ও রৌদ্র’ গল্পে একটা ঘটনার উল্লেখ আছে। এক ইংরেজ ম্যানেজার স্টিমারে করে যাচ্ছিলেন। একই নদী পথে পাল তুলে যাচ্ছিল এক নৌকা। স্টিমারের ডেকে বসে শাসক জাতির লোক ইংরেজ ম্যানেজার কৌতূহল বসেই নৌকার পালকে লক্ষ্য করে গুড়ি ছোড়ে, তাতে নৌকা ডুবে যায়, সম্ভবত প্রাণহানিও ঘটেছিল। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘ইংরেজ নন্দনের মনের ভাব আমরা বাঙালি হইয়া ঠিক বুঝিতে পারি না’। বোধ হয় একই ধরনের তুলনা চলে। আজকে যারা শাসকবর্গ তাদের ও তাদের পরিবার এবং গোষ্ঠীবর্গের মনোভাব আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি না। রবীন্দ্রনাথ ইংরেজ সাহেবের মনোভাবের কথা অনুমান করে লিখেছেন, ‘…হয়তো একটা স্ফীত বিস্তীর্ণ পদার্থ বন্দুকের গুলির দ্বারা চক্ষের পলকে বিদীর্ণ করিবার একটা হিংস্র প্রলোভন আছে, হয়তো এই গর্বিত নৌকার বস্ত্রখণ্ডের মধ্যে গুটিকয়েক ফুটা করিয়া নিমেষের মধ্যে ইহার নৌকালীলা সমাপ্ত করিয়া দিবার মধ্যে একটা প্রবল পৈশাচিক হাস্যরস আছে। কিন্তু ইহা নিশ্চয়, ইংরেজের মনের ভিতরে একটুখানি বিশ্বাস ছিল যে, এই রসিকতাটুকু করার দরুন সে কোনোরূপ শাস্তির দায়িক নহে এবং ধারণা ছিল, যাহাদের নৌকা গেল এবং সম্ভবত প্রাণসংশয়, তাহারা মানুষের মধ্যেই গণ্য হইতে পারে না’। গল্পে দেখা যায়, এই ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছিল। ইংরেজ ম্যানেজার গুলির কথা স্বীকার করেছিল। কিন্তু ইংরেজ জজ তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল।

সেদিনের ঘটনায়ও কি ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও সংসদ সদস্য’র পুত্রের মনের মধ্যেও একই ধরনের ‘একটা হিংস্র প্রলোভন’ ও ‘পৈশাচিক হাস্যরসের’ অনুভূতি কাজ করেছিল? সেও কি নিশ্চিত জানতো যে, যারা ‘মানুষের মধ্যেই গণ্য হইতে পারে না’ এমন কিছু পথচারী, রিকশা বা অটোরিকশা চালক মারা গেলে তেমন শাস্তি পেতে হবে না। শাসকবর্গের লোকজনের তাদের উদ্ধত সন্তানদের মধ্যে এমন মনোভাব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শাসক দলের লোক পুলিশের সামনে পিস্তল হাতে ঘুরে বেড়ায়, প্রয়োজনে বা বিনা প্রয়োজনে ব্যবহার করলে শাস্তি হয় না। এই যে পৈশাচিক আনন্দ, এই যে টাকা ও ক্ষমতার গরিমা, কয়েক কোটি টাকার গাড়ি, বেপরোয়া আচরণ সমাজে যে বিশ্রি, কুৎসিত, অমার্জিত রুচি ও সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে তা বহুলাংশে ঊনবিংশ শতাব্দীর বাবু কালচারের সাথে তুলনীয়।

এই কালচারের আরেকটা দিক হলো প্রদর্শনবাদিতা। ঈদের কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহের এক ধনাঢ্য ব্যক্তি যাকাতের কাপড় দেবেন বলে ঘোষণা করেছিল। সেই যাকাতের লুঙ্গি, শাড়ি নিতে গিয়ে ২৭ জন নারী ও শিশু পায়ে চাপা পড়ে মারা গেছেন (মধ্যম আয়ের দেশ বটে!) ইসলামী বিধান মতে, যাকাতের দান অনেকটা ট্যাক্সেও মতো এবং তা দিতে হবে গোপনে। এখানে নাম জাহির করার প্রবণতা অপরাধ। আমরা আরও দেখেছি, আরেক ঈদ কোরবানীর গরু কেনার নোংরা প্রতিযোগিতা অতি ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে অতি দ্রুত লুমপেন গোছের এক ধনিক শ্রেণীর বিকাশ ঘটেছে, তারা সমাজের অধিপতি শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। তাদের কালচার সংক্রামিত হচ্ছে সমাজের মধ্যে। ফলে সমাজে যে স্বাভাবিক মানবিকতা বিরাজ করছিল, তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাচ্ছে। একেবারে নিঃশেষ হয়েছে, তা বলবো না। রানা প্লাজা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সময় আমরা দুটো দিক পাশাপাশি লক্ষ্য করতে পারি। একদিকে ক্ষমতাসীন দল ও উৎকট ধনিক গোষ্ঠীর নৃশংস বর্বরতা এবং তারই পাশাপাশি ও তারই বিপরীতে জনগণের সহজাত ও স্বতঃস্ফূর্ত মানবতাবোধ। বিল্ডিংএ ফাটল ধরেছে, ধসে পড়তে পারে, এই আশঙ্কার মধ্যেও পুলিশ দিয়ে জোর করে সরকারি দলের নেতা ও গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকদের ঠেলে দিয়েছিল মৃত্যুর মুখে (কারণ ওরা তো মানুষ নয়, মালিকের সম্পদ উৎপাদনের যন্ত্র বিশেষ)। এটা হল নব্য ধনিক শ্রেণীর এবং উদ্ধত নিষ্ঠুর শাসক শ্রেণীর বৈশিষ্ট। অপরদিকে উদ্ধার কার্যে ছুটে আসতে দেখেছি শত শত মানুষকে। তারা এসেছিলেন মানবিক বোধ থেকে, প্রাণের তাগিদে।

সরকার বিরোধী দলকে দমন করার জন্য নিজস্ব ক্যাডারদের হাতে তুলে দিয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। যারা ভোটকেন্দ্রও দখল করে, তারা একই সাথে টেন্ডারবাজি করে, জমি সম্পদ দখল করে, বলপূর্বক নারী ভোগ করে। এমনকি খুন করলেও কিছু হয় না। এক কথায় দেশে আইনের শাসন নেই। এর প্রতিফলন সমাজের মধ্যেও দেখতে পাই। যে পুলিশ বা র‌্যাবকে বিচার বহির্ভূত হত্যার কাজে লাগানো হয় তারা এক পর্যায়ে আপেক্ষিক স্বাধীনতা ভোগ করে এবং র‌্যাব সদস্যদের কোন কোন দুর্বৃত্ত যে টাকার বদলে ভাড়াটিয়া খুনির ভূমিকা পালন করে, তা তো নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় জানা গেল।

অভিজ্ঞতা বলে যে, যে কোনো ধরনের বড় অপরাধ করলেও পার পাওয়া যায়, যদি ক্ষমতাসীনদের কাছের লোক হওয়া যায় অথবা পুলিশের জন্য বড় অংকের অর্থ খরচ করা যায়। এমন ধারণা সমাজের মধ্যে বদ্ধমূল হয়ে যাওয়ার কারণে সম্প্রতি খুন, নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাও বাসস্ট্যান্ডে ১৪ বছরের কিশোর সামিউল আলম রাজনকে যেভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, তার বীভৎসতা, নিমর্মতা, বর্বরতা কোন বিশেষ একক ঘটনা নয়। রাজনের মতো আরও অনেকের আর্তনাদ হয়তো আমাদের কান পর্যন্ত পৌছায় না। এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, নির্যাতনকারীরা নির্যাতন করার মধ্যে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ অনুভব করেছে। শুধু তাই নয়, তারা আবার নির্যাতনের দৃশ্য ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে যে ধরনের মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়, তার মধ্যে দুটো দিক আছে। এক, সংসদ সদস্য’র পুত্রের গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা অথবা রবীন্দ্রনাথের গল্পের মতো ইংরেজ সাহেবের খেয়ালের বশে গুলি করার মতোই নির্যাতন করা যেন একটা আনন্দের বিষয়। এই যে উদ্ধত ও বিকৃত মনোভাব তা শাসকগোষ্ঠীর সৃষ্ট কালচারেরই অংশ। যা শাসকবর্গের কাছ থেকে নিচের দিকেও গড়িয়ে পড়ছে, সংক্রামিত হচ্ছে। দুই, হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীরা জানে যে, টাকা থাকলে কোন অপরাধের সাজা হবে না। বস্তুত রাজন হত্যার প্রধান আসামী দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের সহায়তায় এবং এমন অভিযোগ ওঠার পরে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এর সত্যতা মেলে। আর দু’জন এস আইকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করা যাবে কিনা বলা যায় না। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের প্রধান আসামীকে কলকাতা থেকে এখনো আনা যায়নি।

রাজন হত্যা একমাত্র দৃষ্টান্ত নয়। মাত্র কয়েকদিন আগের আরেকটি ঘটনা। পাষণ্ড স্বামী তার স্ত্রী সুখী আকতারের চোখ তুলে নিয়েছে। এই রকম বর্বর, পাশবিক ঘটনা প্রায়ই ঘটছে এবং তার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই যে সামাজিক অধঃপতন, তার সাথে রাজনৈতিক গণতন্ত্রহীনতা এবং আইনের শাসনের অনুপস্থিতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘সমাজে নিষ্ঠুরতা বেড়ে গেছে। দেশে সুশাসন না থাকলে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হলে এ ধরনের অপরাধ ক্রমাগত বাড়তে থাকবে’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘দেশে কি আইনের শাসন আছে? মানুষ যখন দেখবে অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না, তখন অপরাধ প্রবণতা কমবে। কিন্তু দেশে সে পরিস্থিতি নেই’। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, ‘সমাজে একটা ধারণা হয়ে গেছে যে, ক্ষমতার জন্য, অর্থের জন্য যা মন চায় তাই করা যায়। আইন নীতির তোয়াক্কা না করার সংস্কৃতি বিরাজ করছে সর্বত্র’।

তাহলে সমাধান কি? সমাধান হলো গণতন্ত্র ও আইনের শাসন। রাজনৈতিক গণতন্ত্রের নির্বাসন হয়েছে বলেই সামাজিক ক্ষেত্রে মূল্যবোধ ও চিরাচরিত সামাজিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। শাসকশ্রেণীর স্বৈরতান্ত্রিক নীতি, বেপরোয়া লুটপাটতন্ত্র এবং টাকার দেমাগও ক্ষমতার দাপট এই বর্বরতার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক অপরাধ প্রবণতা ও কলুষিত নোংরা কালচারকে রাজনৈতিক স্বৈরতন্ত্র, মাস্তানতন্ত্র ও অর্থনৈতিক লুটপাটতন্ত্রেরই সম্প্রসারিত অংশ হিসাবে দেখতে হবে।।