Home » প্রচ্ছদ কথা » বাধাবিঘ্নহীন ঘাতকেরা

বাধাবিঘ্নহীন ঘাতকেরা

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

Coverকালজয়ী চীনা সাহিত্যিক ল্যু স্যুনের বিখ্যাত ছোট গল্প ‘ম্যাড ম্যানস ডায়েরি বা এক পাগলের ডায়েরি’ বিদগ্ধ পাঠকদের মনে দাগ কেটে থাকার কথা। গল্পের শেষে অন্যান্য সাধারন মেসেজটি ছিল ‘সেভ দ্য চিলড্রেন বা শিশুদের বাঁচাও’। স্মৃতি থেকে খানিকটা উদ্বৃত করছি, ‘ওগো, এখনও কিছু শিশু রয়েছে, তাদেরকে তোমরা বাঁচাও। নরখাদকদের হাত থেকে বাঁচতে দাও’। ল্যু স্যুন যে সময়ে এ গল্পটি লিখেছিলেন সে সময়ে চীনের রাষ্ট্রসমাজ নরখাদকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল এবং তথাকথিত এক পাগলের জবানীতে কালোত্তীর্ণ এই গল্পটি তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু শিশু হন্তারক আমাদের এই রাষ্ট্রসমাজে এখন কোন সুনীতিসুবচন আর কাজে আসছে না। এক্ষেত্রে বীভৎসতার সবচেয়ে বড় রেকর্ডটি গড়েছে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ। তাদের হাতে এখন মাতৃজঠরে অনাগত শিশুও আর নিরাপদ নয়। জুনের শেষ সপ্তাহে তাদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে মায়ের পেটের নিরাপত্তায় বেড়ে ওঠা শিশু।

এক.

একটি প্রায় গণতন্ত্রহীন, সুশাসনবিহীন, অস্থির রাষ্ট্রসমাজ শিশুনারীঅসহায় মানুষের বিপক্ষে দাঁড়াবে স্বাধীনতার পর থেকেই এটি যেন স্বাভাবিক ঘটনা হতে চলেছে। প্রতিদিন খুন হচ্ছে শিশু, ধর্ষণখুনের শিকার হচ্ছে শিশুনারীরা। যেন নিজ ভূমে উদ্বাস্তু হচ্ছে প্রান্তিক মানুষেরা। এখন তারা ঝাঁপিয়ে পড়ছে নিজেরা নিজেদের ওপর। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত খুন হয়েছে ১৯১টি শিশু, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় একটি করে। শিশু অধিকার ফোরাম এ তথ্যের সাথে আরো জানাচ্ছে, গত সাড়ে তিন বছরে ৯৬৮টি শিশু এই দেশে খুনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ২০৯ জন, ২০১৩ সালে ২১৮ জন, ২০০৪ সালে ৩৫০ জন এবং চলতি বছরে জুলাই পর্যন্ত ধরে নিহতের সংখ্যা মোট ৯৬৮। যেখানে একটি শিশুর হত্যাকান্ড রাষ্ট্রকে নাড়া দেয়ার কথা, আইনকে তৎপর করে তোলার কথা, সেখানে অসংখ্য হত্যাকান্ডের কোন একটি ঘটনায় বিচার হয়েছে, শাস্তি হয়েছেএরকম কোন তথ্য জানা যায়নি।

দিনকে দিন শিশু হত্যার ধরন নিষ্ঠুর ও বীভৎস হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় বীভৎসতার মাত্রা এতটাই ফুটে উঠেছে যে, তাতে শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে, নিকট ভবিষ্যতে অনেক শিশুই ক্রমাগত ট্রমার শিকার হয়ে মানসিক অস্থিরতায় ধাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। শিশু রাজন, রাকিব, রবিউল ও মাতৃজঠরে গুলিবিদ্ধ সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু সুরাইয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠুরতার যে নজির স্থাপিত হয়েছে তা রাষ্ট্রের শীর্ষ থেকে নি¤œ পর্যায় পর্যন্ত নৈতিকতার চুড়ান্ত স্খলনকেই ইঙ্গিত করে। লক্ষ্য করার মত বিষয়, নিহত শিশুদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের ও ভারী শ্রম বা গৃহকর্মে নিয়োজিত ছিল এবং তারা সম্পন্ন ও দরিদ্রদু’ধরনের মানুষের জিঘাংসার শিকার হচ্ছে। ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, নির্যাতকধর্ষকরা নির্যাতন ও ধর্ষনের ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

একটি জাতীয় দৈনিক জানাচ্ছে, গত দেড় দশকে ২১ হাজার নারীশিশু যৌন সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে প্রায় ৭ হাজার শিশু। চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত ৬৭টি শিশু যৌন সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের বরাতে সংগৃহীত এই হিসেবের বাইরে যে পরিমান নারীশিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে আকছার, তার হিসেব কোথাও নেই। শিশুদের প্রতি যৌন সন্ত্রাস করেই ক্ষান্ত দেয়া হচ্ছে না, তাদেরকে হত্যাও করা হচ্ছে অথবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাচ্ছে। এসব হিসেব থেকে বোঝা যাবে, এই সমাজকে এখন ধর্ষকামীতা, যৌন বিকৃতিসহ অদ্ভুত সব উপসর্গ পেয়ে বসেছে। খুলনায় শিশু রাকিবের পায়ুপথে কম্প্রেসর ঢুকিয়ে হত্যার পেছনে হিংস্রতার পাশাপাশি যৌন বিকৃতিও কাজ করেছে বলে একজন বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন।

শিশু, নারী নির্যাতন ও হত্যা বাংলাদেশে সাংবাৎসরিক ঘটনা এবং পরপর ঘটনা ঘটলেই মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি ও এ্যাক্টিভিষ্টরা সরব হয়ে ওঠেন। সব থিতু হয়ে এলে শুরু হয় আসল খেলা। খুনীধর্ষকনির্যাতকদের রক্ষায় মাঠে নামে প্রভাবশালীচক্র ও অসৎ কিছু পুলিশ কর্মকর্তা। বিচার মাটি চাপা দেবার জন্য সবকিছু সম্পন্ন করে হত্যা বা ধর্ষণের ঘটনায় বিচার পাবার পথ রুদ্ধ করে দেয়। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে হয় নির্বিকার থাকে নতুবা পরোক্ষ সহায়তা দেয়। না হলে গত সাড়ে তিন বছরে ৯৬৮টি শিশু হত্যার ঘটনায় বিচার হয়নি কেন?

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের মতে, বিচার প্রক্রিয়ার শ্লথগতিতে অপরাধীরা অপরাধ করা থেকে নিরুৎসাহী তো হয়ই না, বরং উৎসাহী হয়। একজনের বেলায় মামলার শাস্তি নিশ্চিত করা হলেও অন্য একশ জন তা দেখে ভয় পায়। অপরাধীরা ভেবেই নিচ্ছেঅন্যায় করলে বিচার আর কি! সাবেক প্রধান বিচারপতির কথা অবশ্যই গুরুত্বের সাথে নিতে হবে, ধরে নিতে হবে এই রাষ্ট্রসমাজে অপরাধীদের এক ধরনের ‘অটো ইনডেমনিটি’ রয়েছে। উদাহরন হচ্ছে, রাষ্ট্র নিজেই বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ও গুমের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে বলে উচ্চকিত অভিযোগ সব মহলে। এখানে রাজনীতি আর সহিংসতা হাত ধরাধরি করে চলে, ধর্মের নামে প্রাণসংহার চলেমাত্রা ছাড়াতে থাকে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার লোভ বা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য রাষ্ট্রের জন্মের শুরু থেকে গণতন্ত্র অপসৃত করার পালা। অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা নির্বাসনে চলে যায়। একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। পরিনামে সামরিক শাসন জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে। সমাজের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায় সহিংসতাবীভৎসতা। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জনগণ সংগঠিত হয়েছে, লড়াই করেছে বারবার, কিন্তু রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার লোভের কাছে পরাজিত হয়েছে তাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা। ফলে গণতন্ত্রের সামান্য চর্চা, অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার প্রচেষ্টা ক্রমশ: অপসৃত হয়েছে। এর অনিবার্যতায় রাষ্ট্রসমাজ এখন সহিংসতার ও বীভৎসতার শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

দুই.

আমাদের শীর্ষ নেতানেত্রীরা তাঁদের বক্তব্যবিবৃতি বা কথাবার্তায় আসলেই সিরিয়াস নাকি কথার কথা হিসেবে বলেন, এ নিয়ে সবার মধ্যে প্রশ্ন থাকলেও অনেকেই এগুলিকে রঙ্গরস হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। কিন্তু সরকার প্রধান হিসেবে অসীম ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী যখন কিছু বলেন, নাগরিকরা তা বিশ্বাস করতে চায়, বিশ্বাস করেও। কারণ জনগণের পারসেপশন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী চাইলে এই দেশে হয় না এমন কিছুই কি আছে! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন, শিশু হত্যার বিচার হবে। ধর্ম নিয়ে কাউকে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না।

যে দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সে দেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না, এটি কি করে সম্ভব? জামায়াত, হেফাজত, তাঁর দলের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী ওলামা লীগসহ অসংখ্য ছোটবড় দল রয়েছে, সেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি টিকে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকবে। মুখে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকবে, ধর্মভিত্তিক দলগুলির সাথে তলে তলে সম্পর্ক থাকবে, কোন দলের জোট থাকবেআর বলা হবে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে দেয়া হবেনা। সাড়ে তিন বছরেও ৯৬৮টি শিশু হত্যার একটিরও বিচার না হওয়ার পরেও সরকার প্রধান বলছেন, শিশু হত্যার বিচার হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিশুর পিতামাতা হিসেবে, সাধারন নাগরিক হিসেবে আমরা আপনার এ কথাটি বিশ্বাস করতে চাই।

এই দেশে প্রতিদিনই মানুষ মরে যাচ্ছে। ঘরে বসে দুর্বৃত্তের হামলায় মরছে, বাইরে বেরোলে নানা দুর্ঘটনায়পেট্রল বোমায় পুড়ে মরছে, খুনগুম হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মুক্তমনা, আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক মানুষগুলো এখন লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত হয়েছে। আতংকে আছেন ব্লগাররা। এবার কার পালা? যারা দেশ ছেড়েছেন তারা প্রাণে বেঁচেছেন। চলতি বছরের সাড়ে পাঁচ মাসে খুন হয়েছেন চারজন ব্লগার। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায় দেশে এসে বাংলা একাডেমির বই মেলায় শতশত মানুষের সামনে খুন হয়েছেন ২৬ ফেব্রুয়ারি। ওয়াশিকুর রহমান ৩০ মার্চ, অনন্ত বিজয় দাস ১২ মে এবং সবশেষ ৮ আগষ্ট নীলাদ্রি চক্রবর্তী খুন হয়েছেন। এসব হত্যাকান্ডে পুলিশি তদন্ত এবং অগ্রগতি দৃশ্যমান নয় ও একধরনের লুকোচুরি রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। নীলাদ্রি হত্যার পরে যেমনটি বলেছেন গণজাগরন মঞ্চের মুখপত্র ইমরান এইচ সরকার। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে, ক্ষমতাবান মহলের কারো কারো পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে হত্যাকারীরা। বলেছেন তিনি, সরকার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে প্রমান করুক যে এসব ঘটনায় তাদের পৃষ্ঠপোষকতা নেই।

গণজাগরন মঞ্চের কর্মী ব্লগার রাজীব হায়দার খুন হয়ে যাবার পরে প্রধানমন্ত্রী পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি নিহত রাজীবের বাড়ি গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ ও বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ধর্মভিত্তিক দলগুলি নিষিদ্ধ করা হবে। অচিরেই রাজীবসহ গণজাগরন মঞ্চের ব্লগার ও কর্মীদের বিরুদ্ধে নাস্তিকতার প্রচার সম্ভবত: প্রধানমন্ত্রীকেও প্রভাবিত করে। সকলেই জানেন, রাজীব হত্যা মামলার অগ্রগতি প্রায় নেই। অন্যান্য নিহতদের ক্ষেত্রেও ধীরগতির তদন্ত পরিবারগুলোকে হতাশ করেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী ওলামা লীগের বক্তব্যবিবৃতি ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠিগুলির তুলনায় আরো উগ্র, ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক। তারাও উস্কে দিচ্ছে ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতা। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার মদত ও পৃষ্টপোষকতা পচ্ছে ওলামা লীগ।

এজন্যই অভিজিৎ হত্যার পরে রয়টার্সকে দেয়া সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাতকারটি প্রাণিধানযোগ্য। ঐ সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা একটি সরু রশির ওপর দিয়ে হাঁটছি। আমরা নাস্তিক হিসেবে চিহ্নিত হতে চাই না। আমার মা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ব্যক্তিগতভাবে অভিজিতের বাবাকে সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই অস্থির যে, প্রকাশ্যে তাঁর পক্ষে কোন মন্তব্য করা সম্ভব হয়নি’।

তিন.

জার্মান কবি মার্টিন নেমলার প্রথম জীবনে ছিলেন কমিউনিজম বিরোধী এবং নাৎসীবাদের সমর্থক। পরবর্তীতে নাৎসী গুপ্ত পুলিশ বাহিনী গেষ্টাপোর হাতে গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝানোর জন্য এরচেয়ে প্রাসঙ্গিক আর কি হতে পারে। এখনও যারা সবরকম অন্যায়অনিয়মঅনৈতিকতা সমর্থন করছেন, চুপ করে থাকছেন, কিংবা সাফাই গাইছেন তাদের জন্য তো বটেই, সমগ্র দেশের মানুষের জন্য নেমলারের কবিতার এই শব্দগুচ্ছো খুব বেশি রকম প্রাসঙ্গিক এবং সমিল।

যখন প্রথমে ওরা এসেছিল কমিউনিষ্টদের জন্য,

আমি কোন কথা বলিনি, কারণ আমি কমিউনিষ্ট নই।

 

তারপর ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকগুলিকে ধরে নিয়ে গেল,

আমি নীরব ছিলাম, কারণ আমি শ্রমিক নই।

 

তারপর ওরা যখন ফিরে এল ইহুদীদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে,

তখনও চুপ ছিলাম, কারণ আমি ইহুদী নই।

 

আবারও এল ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে,

টুঁ শব্দটিও করিনি, কারণ আমি ক্যাথলিক নই।

 

শেষবার ফিরে এল ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,

কেউ কোন কথা বলল না আমার পক্ষে,

কারণ, কথা বলার মত তখন আর

কেউই বেঁচে ছিল না।।