Home » আন্তর্জাতিক » যুক্তরাষ্ট্রের আইএস মোকাবিলা :: ভয়ঙ্কর গর্জন, ছিটেফোটা বর্ষণ

যুক্তরাষ্ট্রের আইএস মোকাবিলা :: ভয়ঙ্কর গর্জন, ছিটেফোটা বর্ষণ

পল ম্যাকলেরি, ফরেন পলিসি

অনুবাদ : আসিফ হাসান

Last 5ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের মোকাবিলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছিল। কথা ছিল সিরিয়ার উদারপন্থী বিদ্রোহীদের মধ্য থেকে কয়েক হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আইএসকে তাদের ঘাঁটিতেই মোকাবিলা করা হবে। কিন্তু কাজের কাজ হয়েছে সামান্যই। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত মাত্র ৬০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ইসলামিক স্টেট (আইএস) মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের কৌশলটি যুদ্ধক্ষেত্রেই জঙ্গিদের পরাজিত করতে সক্ষম এমন সংখ্যক সিরিয়ার উদারপন্থী বিদ্রোহীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলার ওপর নির্ভরশীল। এমন পরিকল্পনার কথা শুনে আইএসের মধ্যে মৃত্যুযন্ত্রণা দেখা দেওয়ার কথা। বাস্তবে অন্তত এখন পর্যন্ত ইসলামি স্টেট স্বস্তিতে থাকতে পারে। কয়েক মাস ধরে কার্যক্রম পরিচালনা এবং মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করার পর এখন মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এ পর্যন্ত তারা সব মিলিয়ে এ ধরনের মাত্র ৬০ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছেন।

সিনেট শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার বিস্ময়কর রকমের অতি নগন্য সংখ্যক লোককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে আইনপ্রণেতাদের ধাঁধার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। কারণ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইতোপূর্বে বলেছিলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইবাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯০ যোদ্ধা জর্দানে মার্কিন স্থাপনায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এই দুই তথ্যের মধ্যে গড়মিলের কোনো সুরাহা কংগ্রেস শুনানিতে কার্টার করেননি।

কার্টার স্বীকার করেন, ‘এটা ভয়াবহ ধরনের ক্ষুদ্র সংখ্যা। তিনি জানান, স্বেচ্ছায় প্রশিক্ষণের জন্য তালিকাভুক্ত সাত হাজার সিরীয় রিক্রুট যাচাইবাছাইপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব যোদ্ধাকে দামেস্ক সরকারের বিরুদ্ধে না পাঠিয়ে আইএসের বিপক্ষে পাঠানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

ইরাকেও একই ধরনের গরমিল দেখা গেছে। সেখানে সাড়ে তিন হাজার আমেরিকান সৈন্য প্রায় ২,৬০০ ইরাকিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাছে নিয়োজিত। ইরাকের হাতে গোণা কয়েকটি স্থানে কার্যক্রমটি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণে সুন্নি মিলিশিয়ারাও ঢুকে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের সরকারের বদলে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বিষয়টি প্রাধান্য পাওয়ায় সিরিয়ার বিরোধীদের মধ্যে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার পরামর্শ ও সামরিক সরঞ্জাম পেতে আগ্রহী এসব গ্রুপ আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতেই ব্যগ্র।

ওবামা প্রশাসন শুরুতে বছরে ৫,৪০০ যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণের কথা বলেছিল। কিন্তু সিরিয়া থেকে নিয়ে তুরস্ক ও জর্দানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় উৎসাহ করে যায়, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে মাথা ঘামানোর কারণে উদ্যোগটি মন্থর হয়ে পড়ে।

সিনেটের আমর্ড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর জন ম্যাককেইন এই অবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন সিরিয়া কর্মসূচির জন্য ৫০ কোটি ডলার আলাদা করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের উপায় ও বর্তমান পর্যায়ের উদ্যোগ আমাদের প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর মানে হচ্ছে আমরা জয়ী হচ্ছি না। আর আপনি যখন কোনো যুদ্ধে জয়ী হচ্ছেন না, তখন আপনি হেরে যাচ্ছেন।’

শুনানির পর কার্টার পেন্টাগনে ওবামার সাথে সাক্ষাত করেছেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট সিরিয়ায় আরো প্রশিক্ষণ প্রদান ও উদারপন্থীদের সরঞ্জাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কিভাবে সিরিয়ানদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো হবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছুই বলেননি।।