Home » রাজনীতি » ক্রসফায়ার :: সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

ক্রসফায়ার :: সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

Dis 2সকাল থেকে মধ্যরাত, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত এখানে নিরন্তর গর্বিত মিথ্যাচার ও আরো মিথ্যাচারের মধ্যে ডুবে থাকতে হয়; রাষ্ট্র অবিরল শেখায় যে, মিথ্যাচারই সত্যাচার, দুর্নীতিই সুনীতি, অত্যাচারই জনগণকে সুখী করার পদ্ধতি, প্রতারণাই সুসমাচার, অনধিকারই অধিকার, বর্বরতাই সংস্কৃতি, অন্ধকারই আলোর অধিক, দাম্ভিকতাই বিনয়, সন্ত্রাসই শান্তি, মৌলবাদই মুক্তি, মুর্খ অসৎ অমার্জিত ভণ্ড ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র তাণ্ডব আর নিষ্পেসনই গণতন্ত্র’ (সূত্র: আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম, হুমায়ুন আজাদ। ফেব্রুয়ারি ২০০৫, পৃ:১৪১৫)

সাবেক ছাত্রনেতা, বর্তমানের সবচেয়ে সরব মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বললেন, ‘এ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। সরকার কঠোর অবস্থানে। অপরাধী যে দলেরই হোক পার পাবে না’। এই বক্তব্যের দৃশ্যমান বাস্তবতা হচ্ছে, চার দিনে র‌্যাবপুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে বা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতা। সম্ভবত: কথিত বন্দুকযুদ্ধ অব্যাহত থাকছে এবং ক্ষমতাসীনদের ‘ইমেজ’ পুনরুদ্ধারে আগামীতে বিচার ছাড়াই আরো কিছু কথিত সন্ত্রাসী নেতাকর্মী নিহত বা চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবেএই আশঙ্কা ক্ষমতাসীন দলেও ছড়িয়ে পড়ছে। মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ার পাশাপাশি দলের শীর্ষ পর্যায়েও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ফজলে নুর তাপস বার এট ল এবং জাতীয় সংসদ সদস্য অবশেষে কবুল করলেন যে, বন্দুকযুদ্ধের নামে ছাত্রলীগ নেতা আরজুকে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি এ ঘটনাকে তিনি নারায়নগঞ্জের সেভেন মার্ডারের সাথে তুলনা করে তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। সংসদ সদস্য তাপসকে ধন্যবাদ দিয়ে শুরু করি। অন্তত: বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দেরিতে হলেও প্রতিবাদ জানালেন। আমরা জানি, তাপস শিশু বয়সেই কি রকম নির্মমতার শিকার হয়েছিলেন। তার পিতা শেখ ফজলুল হক মনি ও অন্ত:স্বত্তা মা আরজু মনিকে পচাত্তরের ১৫ আগষ্ট হত্যা করা হয়। ৪০ বছর ধরে তিনি বিচার বঞ্চিত। সুতরাং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং বিচার না পাওয়ার মর্ম তিনি বিশেষভাবেই উপলব্দি করেন এবং একজন আইনজ্ঞ ও রাষ্ট্রের একজন আইন প্রণেতা হিসেবে তিনি প্রতিবাদী হবার চেষ্টা করছেন বন্দুকযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে।

মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এটা ভেবে এখন আতঙ্কিত যে, প্রায় ক্ষেত্রেই গ্রেফতারের পরে খবর মেলে না। দু’একদিন বাদে লাশ পাওয়া গেলে পরিবার জানতে পারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা। সরকারী দলের নেতাকর্মীরা এতদিন বন্দুকযুদ্ধের ব্যাপারে সরবনীরব সমর্থন দিলেও এখন প্রতিবাদমুখর হওয়ার চেষ্টা করছে। আইনমন্ত্রীর ভাষায়, এ ধরনের মৃত্যু নিয়ে যদি কেউ আপত্তি তোলে বা মামলা করে তাহলে শুরুতেই আইনের ধারা অনুযায়ী বিচারিক হাকিম জুডিশিয়াল এনকোয়ারি করতে পারেন। আদালত দায়িত্ব দিলে পুলিশও সেই তদ্ন্ত করতে পারে। সন্ত্রাসনৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মহাজোটের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা রাশেদ খান মেনন সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি সমর্থন করলেও ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে হত্যার বিপক্ষে।

জন্মের পর থেকে আজ অবধি ব্যক্তির ইচ্ছাধীন এই রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বদলে আইনকে শাসন করার প্রবণতার অনিবার্যতায় নিয়ন্ত্রনহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এডহক ভিত্তিতে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ধামাচাপা দেবার সংস্কৃতি এবং আইনকে শাসন করার চেষ্টাটি তাসের ঘরের মত মনে হচ্ছে। আইনকে শাসন করার প্রবণতা রাষ্ট্রসমাজপরিবারে তীব্র ভয়ের বাত্যাবরন সৃষ্টি করছে। ভয় আর ক্ষমতার মধ্যে বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ক্রমশ: ভয়ের কারিগরদের কাছে চলে যাচ্ছে। ভয়ের বাত্যাবরনে নিরাপত্তার চাদর পড়াতে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে।

রাষ্ট্র আইনী প্রক্রিয়ার বাইরে সন্ত্রাসের মাধ্যমে সমাজ থেকে সন্ত্রাস নির্মূলের চেষ্টা চালাচ্ছে। হত্যাকারীদের দেয়া হচ্ছে লিখিতঅলিখিত ইনডেমনিটি। গত এক যুগে দুই হাজারের বেশি ‘কথিত সন্ত্রাসী’ শিকার হয়েছে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের। সবশেষ গত চারদিনের ব্যবধানে ক্ষমতাসীন দলের চারজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০০৪ সাল। সে সময়ে দেশজুড়ে সৃষ্ট সন্ত্রাসের জন্য দায়ী ছিল ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোট। একই সালে র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পরে দ্বিতীয় ক্রসফায়ারের শিকার ছিল নারায়নগঞ্জ যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মমিনুল্লাহ ডেভিড। প্রথমটি ছিল সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নান। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল ৩৬৭ জন। আর ২০১৩১৪ মিলিয়ে এর শিকার ২৯২ জন।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দৃশ্যমান ও রাজনীতি ক্রিয়াশীল না থাকলে দলীয় নেতাকর্মীরা সন্ত্রাস ও খুনোখুনিতে লিপ্ত হয়। দেশে এখন রাজপথে বিরোধী দল নেই। সংসদে সরকারবিরোধী, উভয় পক্ষ একাকার। ক্ষমতাসীন দলের ভেতর থেকেই অসংখ্য ফ্রাঙ্কেনষ্টাইন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্যই অতীত বিএনপির মত এই সরকারও দলীয় ফ্রাঙ্কেনষ্টাইন দমনে ভর করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এবং শুরু করেছে বন্দুকযুদ্ধের বাস্তবায়ন। দুই সরকারের আমলের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, স্বাভাবিক আইনী প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যার মত চরম পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষমতার থাকা না থাকার দ্বন্দ্ব ছাড়া অনেক বিষয়েই দু’দলের কি অপূর্ব মিল! এভাবেই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্ররাজনীতিসমাজে ভয়ের বিপনন ঘটায়। ভয়ের সংস্কৃতি তৈরী করে কর্ত্বত্ববাদী শাসকরা ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা চালায়।

গত কয়েকদিনে যেসব কথিত সন্ত্রাসীরা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে তারা ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা। নিশ্চয়ই তারা কোন না কোন মাফিয়া প্রধানের উচ্চাকাঙ্খা চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে আশ্রয়েপ্রশ্রয়ে আইনের উর্ধ্বে থেকে সন্ত্রাস করে আসছিল। নেপথ্যের ওই মাফিয়া প্রধানদের জনগণ চেনে, মিডিয়া চেনে, চেনে না শুধু পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ ব্যক্তিরা। সে জন্যই একজন শামীম ওসমান, বদি, নিজাম হাজারীদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগই থাকুক না কেন, বিচার তাদের নাগাল পায় না। সরকারের মন্ত্রীরা এখন বলছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স দেখাবে। এর অর্থ দাঁড়ায়, এতকাল দলীয় লোকদের অবাধে সন্ত্রাস করার লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। আর কে না জানে, বেশ কয়েকজন সাবেকবর্তমান মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী লালন, দখল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনের অভিযোগ থাকলেও দায়মুক্তির কারণে আইন তাদের ছুঁতেপারছে না।

অযোগ্য, অদক্ষ, অকর্মণ্য, অসৎ, মিথ্যাচারীএদেরই অপর নাম কি রাজনীতিবিদ? আমাদের একালসেকাল রসাতলে দিয়ে এখন যাদের দ্বারা জনগণ শাসিত হচ্ছে, তাদের জন্য শুরুর বিশেষণগুলিও কি যথেষ্ট? রাজনীতিবিদরূপী মানুষেরা সমাজের ওপর তলায় বসে তৈরী করে কিলার নামে নিয়ন্ত্রনহীন দানব। এদের ভিন্ন ভিন্ন দলীয় পরিচয় আছে। তবে আচারআচরণ, বক্তব্যবিবৃতি, স্বার্থউদ্দেশ্যে পার্থক্য নেই। ক্ষমতাবলয় একক এবং চিরস্থায়ী করার বাসনায় এরা রক্তপাতময় রাজনীতির সৃষ্টি করে। আশ্রয় নেয় খুনগুমের । খুন তারা নিজেরা করে না, করায়। ক্ষমতায় থাকতে দলীয় ক্যাডার ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অকাতরে ব্যবহার করে এবং ক্ষমতার বাইরে দলীয় ক্যাডার, জঙ্গী, সন্ত্রাসী ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার প্রাণীদের ব্যবহার করে নিপৃুন দক্ষতায়। উদ্দেশ্য অভিন্নমানুষ খুন। জন্মের পরের বাংলাদেশে এভাবেই ঘটেছে রক্তপাতময় রাজনীতি। সরকারের ভেতর গড়ে উঠেছে সরকার, যার নাম আন্ডারওয়ার্ল্ড, আর এর মদতদাতারা হচ্ছেন তথাকথিত রাজনীতিবিদরা। সামরিকসিভিল আমলা, ব্যবসায়ী, সংবাদপত্র সম্পাদকএদের ছত্রছায়ায়ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রাণীরা বেড়ে ওঠে। সবক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ক্ষমতা সংহত করা মূল লক্ষ্য।

গত ছয় বছর ধরে একথা শুনতে শুনতে জনগণের কান পচে গিয়েছিল যে, অতীত ও বর্তমান বাংলাদেশে সন্ত্রাস, খুনখারাবী, দখল, লুন্ঠন যা কিছু হচ্ছে তার জন্য বিএনপিজামায়াত জোট দায়ী। এই বক্তব্য শতভাগ সত্যি হলে দেশবাসীর কোন আক্ষেপ থাকত না যে, সব কালে ক্ষমতাসীনরা তাদের মুর্খবোকা বিবেচনা করে। ২০০১২০০৬ মেয়াদে বিএনপিজামায়াত জোটের সন্ত্রাসখুন ও লুন্ঠন, সরকারের মধ্যে ‘হাওয়া ভবন’ সরকারের কারণে জনগণের বিশ্বাস হারিয়েছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু গত সাড়ে ছয় বছরে বিএনপির শীর্ষ থেকে পুঁচকে নেতাদের অপরাধী সাব্যস্ত করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা, তারা তো সাড়ে আট বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। তাদের আন্দোলনতৎপরতা এখন নয়াপল্টনে প্রেস ব্রিফিংয়ে সীমাবদ্ধ এবং সাহস করে তারা কোন দাবিও তুলতে সক্ষম নন।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সবকিছুতে দখল ও একক রাজত্ব কায়েমের জন্য উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। নিজেদের মধ্যে শুরু করেছে খুনোখুনি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বন্দুকযুদ্ধ আর ক্রসফায়ার। সবক্ষেত্রেই আইন না মানার একটি সাধারন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আশংকার ব্যাপার হচ্ছে ২০১৬ সালের গোড়ার দিকে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তৃণমূলের স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ যতই দুর্বল কাঠামোর হোক না কেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশে অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব। এখানে প্রার্থী হিসেবে বা ভোটের অংশগ্রহণে থাকে অপার উৎসাহ। নির্দলীয় বলা হলেও এই নির্বাচন এখন দলীয় কাঠামোতেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বিরোধী দলের কর্মীদের কথা বাদ দিলে ক্ষমতাসীন দলের ইউনিয়নওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে একাধিক প্রার্থী। স্থানীয় নেতাদের রয়েছে কোটারি স্বার্থ, নিজস্ব বাহিনী। এই নির্বাচন নিয়ে আগামীতে ব্যাপক সন্ত্রাস ও খুনোখুনির আশংকা রয়েছে, যার আলামত ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে।

দেশকে নিরাপত্তার বদলে পেট্রোল বোমা, বার্ন ইউনিট, চাপাতির কোপ, বন্দুকযুদ্ধক্রসফায়ার, রাজনীতিবিদদের ইত্যাদি উপহার ইতিহাসের যে কোন পাঠককে নিয়ে যাবে সূদুর অতীতে। অনধিক বারশ বছর আগে ৬০০ থেকে ৭৫০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বঙ্গে বিরাজ করেছে মাৎস্যন্যায় পরিস্থিতি। রাজা শশাঙ্ক ও হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর বঙ্গে দেখা দিয়েছিল চরম বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা। একশ বছর ধরে এ অঞ্চলে কোন স্থায়ী, সুষ্ঠ সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারছিল না। পাল আমলের তাম্রলিপিতে এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করা হয়েছে ‘মাৎস্যন্যায়ম’ বলে। সংস্কৃত এই শব্দের অর্থ হচ্ছে, যখন রাষ্ট্রের দণ্ডদানের আইন স্থগিত ও অকার্যকর তখন এমন অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যা মাছেদের রাজ্য সম্পর্কে প্রচলিত ও দৃশ্যমান। অর্থাৎ বড় মাছ ছোটটিকে গিলে খায়। শক্তিমান দুর্বলকে বিনাশ করে। শক্তি প্রধান্য লাভ করে। ভাষা ও শাসন পদ্ধতি হয়ে ওঠে অস্ত্রনির্ভর।

মাৎস্যন্যায়ের সেই ইতিহাস নিশ্চয়ই স্বাধীন বাংলাদেশে আবার ফিরে আসেনি? সূদুর অতীতের সেই অরাজকতায় নিশ্চয়ই ফিরে যায়নি এই দেশ। দেড়শ বছরের মাৎস্যন্যায়ের অবসান কিভাবে হয়েছিল, ইতিহাসের পাঠকমাত্রই তা জানা আছে। তার পুনরাবৃত্তিও এদেশের মানুষ আর কখনই দেখতে চায় না। যেমন চায় না এই রাষ্ট্র তার জন্য প্রতিদিন হয়ে উঠুক অনিরাপদ কোন ভূমি।।