Home » আন্তর্জাতিক » বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের নারী কমান্ডো

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের নারী কমান্ডো

দি টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ : মোহাম্মদ হাসান শরীফ

Last 1প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সেস (বিএসএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। বিএসএফের নারী কমান্ডোরা ভারতবাংলাদেশ সীমান্তের নদিয়ার কৃষ্ণনগর সেক্টরে টহল শুরু করেছে। ২৩৫ কিলোমিটার বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে নারী বিএসএফ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারতের স্বাধীনতা দিবসে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো সম্ভাব্য হামলায় তরুণীদের ব্যবহার করতে পারে, এমন নিরাপত্তা সতর্কতার মধ্যে রাত্রিকালীন টহলে নারী সদস্যদের প্রথম মোতায়েন করা হয়।

বিএসএফের নারী সদস্যরা আগে থেকেই পাঞ্জাবে রাতে ‘ক্যাম্প ডিউটি’ (অর্থাৎ গেটগুলো পাহারার দায়িত্ব পালন) করে। কিন্তু অন্তর্ঘাতপ্রতিরোধ কিংবা রাতে সক্রিয়ভাবে টহল দেওয়ার কাজে নারী সদস্যদের ব্যবহারের কোনো খবর এতদিন জানা ছিল না। ওই পরিস্থিতিরও অবসান ঘটল এবার।

বর্ধমানের খাগড়াঘরে ২০১৪ সালের ২ অক্টোবরের বিস্ফোরণের পর বিএসএফ ভিন্নভাবে চিন্তা করতে থাকে। ওই ঘটনায় নারীরা প্রধান ভূমিকায় ছিল। গৃহকর্ত্রী রাজিয়া বিবি বর্ধমান বিস্ফোরণ এবং একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অধিকন্তু, এমন খবরও রয়েছে যে, বাংলাদেশের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো অল্পবয়সী গৃহকর্ত্রীদের নিয়োগ করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, সন্ত্রাসী চক্রের নারীরা গরু চোরাচালানির ছদ্মবেশে গোপনে ঢুকে পড়তে পারে। জমিয়তউলমুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) মতো বাংলাদেশী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো সীমন্ত এলাকায় বেশ সক্রিয়। তারা অল্পবয়সী গৃহকর্ত্রীদের নিয়োগ করে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তাদেরকে দমন করা কিংবা মোকাবিলা করা বিএসএফের পুরুষ কর্মকর্তাদের জন্য সহজ নয়। তাই নারী সদস্যদের কাজে লাগানোর চাপ আসছে’, বললেন গেড়েয় বিএসএফের এক কর্মকর্তা। উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার ২৩৫ কিলোমিটার বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে নারী বিএসএফ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগের তিন দিনে নদিয়ার গেড়ে এলাকায় মোতায়েন বিএসএফের ১১৩ ব্যাটালিয়নের নারী কনস্টেবলদের ভারতবাংলাদেশ সীমান্তে সর্বক্ষণ দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তিন তরুণী তাদের ক্যামোফ্লাগ ইউনিফর্মে ছিলেন। তাদের হাতে অত্যাধুনিক ইনসাস ও বেরেটা বন্দুক ও চোখে নাইটভিশন ক্যামেরা ছিল। তারা গেড়ের সাথে বাংলাদেশের দর্শনাকে সংযুক্তকারী আন্তর্জাতিক রেললাইন পাহারার কাজ করছিলেন। ইন্দোবাংলা ট্রেন মৈত্রী এক্সপেস এসব লাইন ব্যবহার করে।

এটা চ্যালেঞ্জিং কাজ। আমি এটা উপভোগ করছি,’ বললেন ২০১২ সালে নিয়োগকৃত এক নারী কনস্টেবল।

বিএসএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরুষ কনস্টেবলের মতো নারীদের পক্ষেও একই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার ইন্সপেক্টর জেনারেল সন্দ্বীপ স্যালানকে বলেন, ‘ধরে নেওয়া হয়, নারী কনস্টেবলরা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের মতোই সব দায়িত্ব পালন করছে। সব ধরনের অভিযান পরিচালনার প্রশিক্ষণ নারীদের দেওয়া হয। এ কারণে এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে, তারা রাতের টহলকাজেও নিয়োজিত হবে।’

বিএসএফ ২০০৯ সালে পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে নারী কনস্টেবল নিয়োগ শুরু করে। বর্তমানে তাদের কাছে দুই হাজারের বেশি নারী সদস্য আছে, তাদের সবাইকে কমান্ডো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাহিনীটি সম্প্রতি ইউপিএসসির মাধ্যমে সহকারী কমান্ডো মর্যাদার ২৭ জন অফিসার নিয়োগ করেছে।

সিনিয়র বিএসএফ অফিসাররা বলেন, নারী কমান্ডোদের রাতের টহলে নিয়োগ করার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর বিধান না থাকলেও বাহিনীটি প্রায়ই তাদেরকে রাতের দায়িত্ব দেওয়াটা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিএসএফের এক সিনিয়র অফিসার বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে তারা প্রথমবারের মতো রাতে টহল এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত করা হয়।’

এক অফিসার বলেছেন, নারী কনস্টেবলদের উপস্থিতি ইতোমধ্যেই বেশ পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় অনেক গ্রামবাসী চোরাচালানে নিয়োজিত। তারা অনেক সময় সারের ছোট ব্যাগ, ওষুধ, সোনার বিস্কুট, রূপা ও গরু পাচারের চেষ্টা করে। আমরা আগে এসব কাজে জড়িত নারীদের ধরতে পারতাম না। গ্রামবাসী প্রায়ই আমাদের পুরুষ সদস্যদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ আনত। কিন্তু সীমান্তজুড়ে নারী সদস্যদের মোতায়েনের পর অবস্থা বদলে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএসএফের নারী সদস্যরা সীমান্তজুড়ে থাকা গ্রামগুলোতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালানোর কারণে সন্দেহভাজন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা নারীদের তাতে সরাসরি সম্পৃক্ততা লক্ষ্যণীয় মাত্রায় কমে গেছে।’