Home » আন্তর্জাতিক » মোদির ম্যাজিক কি শেষ

মোদির ম্যাজিক কি শেষ

মনোজ যোশি

অনুবাদ : আসিফ হাসান

Last 2ভারত কিভাবে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখে পড়ছে, তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন। আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক যে, ২০১৫ সালের স্বাধীনতা দিবস বক্তৃতায় এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, তিনি আমাদের সমস্যাবলী ধরতে পারছেন না, সেগুলো সমাধানের জন্য রূপরেখার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। নতুন নতুন বাগাড়ম্বর করেছেন, যার অনেকগুলোই নতুন করে পুনরাবৃত্তি, এর বাইরে সামান্যই রয়েছে। অনুপস্থিত যা ছিল তা হলো তার ২০১৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের তেজ আর প্রত্যাশা।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যর্থতা ছিল গত বছর দেশের সিইও হিসেবে তার মেয়াদের তুলনা করতে কিংবা ভারতকে অন্যতম অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলে পরিণত করতে তার প্রধান প্রকল্পগুলোর অবস্থা পরিমাপ করতে না পারা। ব্যর্থতার একটি পরিমাপ হলো ‘ওয়ান র‌্যাংক ওয়ান পেনশন’ (ওআরওপি) ইস্যুতে বিচ্যুতি পরিমাণ নির্ধারণে। ইউপিএ ও এনডিএ উভয় সরকারের আমলেই এই বিষয়টির দিকে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয়নি। পরিণতিতে ভারতের সামরিক বাহিনী বিপজ্জনকভাবে রাজনৈতিক সীমার কাছাকাছি হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মাধ্যমে। এটা ভালো বিষয় নয়, আমাদেরকে অবশ্যই এদিকটি বিবেচনা করতে হবে।

ডামি নয় আসল শিকার

অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের ডামি নয় আসল শিকার রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য বিভাগ যেভাবে বিষয়টি তদারকি করছে তা এটাকে উচ্চকিত তুলছে। ভারতে সিপাহিরা ৪৮ বছর বয়সে, অফিসাররা ৫৪ বা এর পর অবসর গ্রহণ করেন। বেসামরিক আমলা অবসর নেন ৬০ থেকে ৬২ বছর বয়সে। বছরের পর বছর ধরে বেসামরিক আমলারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের ক্ষমতা ও অর্থসম্পদ বাড়িয়ে নিয়েছেন।

অস্বস্তিদায়কভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের বিপুলসংখ্যক ঘুষ ও আনুকূল্যের মাধ্যমে অর্থ কামিয়ে নেন, আর যারা তুলনামূলকভাবে সৎ, তারা নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করে ফেলেন, অবসর গ্রহণের পর অবসরপ্রাপ্ত প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তার যেটার প্রয়োজন পড়ে।

সামরিক বাহিনী মোটামুটিভাবে এই দিক থেকে স্বচ্ছ, ফলে সরকারের অন্য যেকোনো বিভাগের চেয়ে সৈনিকদের পেনসনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় অনেক বেশি।

যৌক্তিকভাবে ওআরওপি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে। আমাদেরকে ‘সাহসী বর্ষীয়ান সৈনিক’ বনাম ‘বেসামরিক আমলা’র তুলনামূলক মেধার মধ্যে নিজেদের আবদ্ধ করা উচিত নয়। মোদির বক্তৃতায় এই দিকটির ওপর আলোকপাত করা দরকার ছিল। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী সংস্কারের পথে না গিয়ে আইআইটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছেন, অনেক মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা ইনস্টিটিউটে আরএসএস লোকদের বসিয়ে দিয়েছেন।

মোদি ঘোষণা করেছেন, তিনি বর্ণবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বরদাস্ত করবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো তার প্রধানমন্ত্রিত্ব আমলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিপজ্জনক সামান্য বেড়েছে।

সহজতম কাজটি আগে করা

মোদি সরকার সবচেয়ে সহজ কাজটি সবার আগে করার নীতি গ্রহণ করেছে। এগুলো হচ্ছে বেশির ভাগ ভারতীয়কে একটি করে ব্যাংক একাউন্ট, বিমা স্কিম প্রদান, গ্যাস ভর্তুকি, বেশির ভাগ ভারতীয় স্কুলে টয়লেট নির্মাণ। তবে পুরোপুরি নয়, কারণ সেগুলো আমাদের বিশ্বাস করে যেতে হবে।

তার ২০১৪ সালের বক্তৃতায় দক্ষতা বিকাশ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ থিম। আর হৃদয়ছোঁয়া সাবথিম ছিল নারীদের রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং মেয়েশিশুদের তাদের ন্যায্য পাওনা প্রদান করা। চলতি বছরের বক্তৃতায় এগুলো মোটামুটিভাবে অনুপস্থিত ছিল।

নতুন বাগাড়ম্বরতা

তবে আমরা এবার নতুন বাগাড়ম্বরতা পেয়েছি : ‘টিম ইন্ডিয়া’, ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ এবং ‘বিকাশ কা পিরামিড’।

দুর্নীতির ব্যাপারে বলা যায়, শীর্ষ পর্যায়ে কোনো অভিযোগ দেখা যায়নি, বরং অন্য সব পর্যায়ে সবকিছু আগের মতোই চলেছে, মোদি সরকার কিছু করছেন, এমনটা দেখা গেছে সামান্যই। ফলে মোদি সরকার যে তার চমক হারাচ্ছেন, এটা এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রধান কারণ হলো, যে মেশিনটি ফেটে গেছে, সেটি পুরোপুরি সংস্কার করার বদলে বাবুদের পুরানো মেশিনপত্রই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করেছেন। ফলে সরকার দমকল বাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন, যা হলো আগুন দেখা গেলে তা নেভাতে হবে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এই বিষয়টি শুনে থাকবেন। আর তাই তারা তাদের দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরতে রাজপথে নেমে এসেছেন।।

মনোজ যোশি : ডিস্টিংগুইশড ফেলো, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, মেইল টুডে।