Home » আন্তর্জাতিক » বাংলাদেশী হিন্দুদের নাগরিকত্ব :: ভারতীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ

বাংলাদেশী হিন্দুদের নাগরিকত্ব :: ভারতীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ

মহুয়া চ্যাটার্জি

অনুবাদ : মোহাম্মদ হাসান শরীফ

Last 2বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ‘নির্যাতিত’ হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব মঞ্জুর করার লক্ষ্যে ভারত সরকার ‘সিটিজেন অ্যাক্ট’ সংশোধনের একটি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ করছে।

এই অধ্যাদেশটি ওই তিন দেশের উদ্বাস্তুদের জন্য প্রযোজ্য হলেও প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশের হিন্দু উদ্বাস্তু। এই দেশটি থেকে বিপুলসংখ্যক হিন্দু উদ্বাস্তু আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত অতিক্রম করছে। আগামী বছরের এপ্রিলমে মাসে এই দুই রাজ্যেই বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিজেপি আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে তার নির্বাচনী সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।

১৩ এপ্রিল টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সরকার শিগগিরই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে হিন্দু উদ্বাস্তুদের পুনবার্সনে নতুন আইন কার্যকর করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় ছত্তিশগড়ে সাম্প্রতিক মাওবাদী হামলা এবং ভূমি অধিগ্রহণ বিলের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এই বিষয়টিও স্থান পায়। সভায় অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজ, নিতিন গাড়করি, রবি শংকর প্রসাদ, বেনকাইয়া নাইডু এবং বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ, পার্টি সদস্য রামলাল, আরএসএস নেতা কৃষ্ণ গোপাল উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানিয়েছে, আরএসএসের জোর দেওয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উদ্বাস্তুদের কোন প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, সে সংক্রান্ত একটি পলিসি পেপার নিয়ে সরকার এখন কাজ করছে। হিন্দু ছাড়াও বিপুলসংখ্যক শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও চাকমা উদ্বাস্তুকে নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়েও কাজ চলছে।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রায় দুই লাখ উদ্বাস্তুকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি বছর ১৪ জুন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, সরকার এক বছরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা ৪,৩০০ হিন্দু ও শিখকে নাগরিকত্ব দিয়েছে। অথচ ইউপিএ২ সরকারের পুরো আমলে মোট ১,০২৩ জনকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল।

আসামে বসবাসকারী হিন্দুরা যাতে নাগরিকত্ব লাভপ্রক্রিয়ার মধ্যে আসতে পারে, সেজন্য পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশনেই একটি বিল আনা হতে পারে। বিজেপির এক সিনিয়র নেতা প্রক্রিয়াটিতে গতি আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দুদের উদ্বাস্তুদের কাগজপত্র পরীক্ষায় যাতে শিথিলতা দেখানো যায়, সে ব্যাপারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১৯৮৫ সালের ২৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘আসাম চুক্তি’ অনুযায়ী উদ্বাস্তুদের ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের আগে আসামে যাওয়ার কাগজ দেখাতে হয়। কিন্তু এখন যে অধ্যাদেশ তৈরি করা হচ্ছে, সেটা অনুযায়ী, ২০০৪ সালের আগে ভারতে গেছে, এমন নথিপত্র দেখালেই চলবে, এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিজেপি সভাপতি ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে আসামে আসা হিন্দুদের রক্ষা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আগামী বছরের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপি আসামের ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্ব পাবে বলে অমিত শাহ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ধর্মীয় গোলযোগের কারণে কিছু হিন্দু বাংলাদেশ থেকে এসেছে। আমরা আগামী বছর আসামে ক্ষমতায় আসা মাত্র বিজেপি তাদের সবাইকে নাগরিকত্ব দেবে।’

(টিএনএন থেকে)