Home » অর্থনীতি » শিক্ষা ও শ্রেণী সম্পর্ক (প্রথম পর্ব)

শিক্ষা ও শ্রেণী সম্পর্ক (প্রথম পর্ব)

হায়দার আকবর খান রনো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ১২ আগষ্ট আয়োজন করেছিল নাজমা জেসমিন চৌধুরী স্মারক বক্তৃতার। এতে শিক্ষা ও শ্রেণী সম্পর্ক শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন হায়দার আকবর খান রনো। এই বক্তৃতাটি ধারাবাহিকভাবে আমাদের বুধবারএ প্রকাশিত হচ্ছে।

এক

নাজমা জেসমিন চৌধুরী ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ২০১৫ সালের নাজমা জেসমিন চৌধুরী স্মারক বক্তৃতা প্রদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানোয় আমি অত্যন্ত সম্মানীত বোধ করছি। এই বক্তৃতামালা এমন একজন মহীয়ষী ব্যক্তির নামের সঙ্গে জড়িত যিনি নিজে একজন শিক্ষাবিদ, সৃজনশীল লেখিকা এবং এই দেশে প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার ধারক ও বাহক। এটা খুবই বেদনাদায়ক যে, তিনি বেশ কম বয়সেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে। তবে তাঁর লেখা ও কাজ এখনও আমাদেরকে প্রগতির পথে, শোষণমুক্ত ও উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করবে। উজ্জীবিত করবে। তিনি অনেক গল্প, উপন্যাস, নাটক, শিশু সাহিত্য লিখেছেন। বাংলা উপন্যাসে রাজনীতির প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁর অসাধারণ রচনায় তিনি নিজেকে একজন শক্তিশালী সাহিত্য সমালোচক হিসাবেই প্রতিষ্ঠিত করেননি, সাহিত্য বিচারে তিনি শ্রেণী দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সার্থকভাবে। তিনি সুদৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন নিপীড়িত শোষিত মানুষের পক্ষে এবং সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। ধর্মান্ধতা, সংকীর্ণতা, কুসংস্কার ও প্রতিক্রিয়াশীল আইডিয়ার বিরুদ্ধে তিনি মুক্তবুদ্ধি ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন সর্বক্ষেত্রে।

গণআন্দোলন দ্বারা কিছু কিছু শিক্ষার অধিকার, গণমানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে তুলনামূলক প্রগতিশীল ও বৈজ্ঞানিক উপাদান যুক্ত করা সম্ভব। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুঁজির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করে সার্বজনীন, বৈজ্ঞানিক ও মানুষের কল্যাণমুখী করার জন্যও বিপুল ও ব্যাপক সংগ্রামের প্রয়োজন

এমন এক ব্যক্তির নামের সঙ্গে জড়িয়ে যে বক্তৃতামালা সেখানে আমাকে অংশগ্রহণ করতে বলায় আমি কিছুটা দ্বিধায় পড়েছিলাম। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে একাডেমিক বক্তৃতা দেয়া আমার জন্য খুব সহজ ব্যাপার নয়। কি বিষয়ে বলবো, সেটাও ভাবতে হয়েছে। অবশেষে বিষয়বস্তু ঠিক করেছি। ‘শিক্ষা ও শ্রেণী সম্পর্ক’। প্রয়াত অধ্যাপিকা নাজমা জেসমিন চৌধুরী প্রথমত ছিলেন শিক্ষাবিদ। অতএব তাঁর স্মরণে ও সম্মানে যে বক্তৃতা তার বিষয়বস্তু শিক্ষা সংক্রান্ত হওয়াটাই যথাযথ বলে মনে হয়েছে। তবে শিক্ষার বিষয়টি বিশাল। শিক্ষার সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা করতে হলে যতটা জ্ঞান ও পািত্য লাগে, বলাই বাহুল্য, আমার তার সামান্যও নেই। শিক্ষা সংক্রান্ত শুধু একটি দিক নিয়েই আমি আলোচনার চেষ্টা করবো। শিক্ষার সঙ্গে শ্রেণীর সম্পর্কটি নিয়েই সামান্য আলোচনা করবো। প্রয়াত অধ্যাপিকা নাজমা জেসমিন চৌধুরীও যে শ্রেণী দৃষ্টিকোণ থেকে সাহিত্য, সমাজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিচার করতেন, তা তাঁর বিভিন্ন রচনা পাঠ করে আমার মনে হয়েছে। শিক্ষার সঙ্গে শ্রেণী প্রশ্নটি কতখানি সম্পর্কিত, তা আলোচনা করার প্রয়াস গ্রহণের মাধ্যমেই এই মহিয়ষী নারীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চাই। এই বিষয়টিও খুব ছোট নয়। বিষয়টির কয়েকটি দিক আমি অল্প কথায় ছুয়ে যাবার চেষ্টা করবো। বিষয়টি নিয়ে সাধারণভাবে আলোচনা করলেও প্রধানত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে।

দুই

শিক্ষা সমাজ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন কোন বিষয় নয়। সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয় নীতির দ্বারা প্রচলিত যে শিক্ষা ব্যবস্থা তার সঙ্গে শ্রেণী সম্পর্ক গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট। সমাজের অধিপতি শ্রেণীই নির্ধারণ করে দেয় কি ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হবে। এমনকি কোন শিক্ষা নিষিদ্ধ হবে, নীয় হবে সেটাও শ্রেণী বিভক্ত সমাজের অধিপতি শ্রেণী দ্বারা নির্ধারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইউরোপের মধ্যযুগে যখন সামন্ত শ্রেণীই ছিল অধিপতি ও প্রধান শোষক শ্রেণী তখন তাদেরই শ্রেণী স্বার্থে চার্চ বৈজ্ঞানিক শিক্ষার বিরোধিতা করে এসেছিল প্রবলভাবে।

কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস তাই কমিউনিস্ট ইশতেহারে বলেছেন, “আর আপনাদের শিক্ষাটা! সেটাও কি সামাজিক নয়? সমাজের যে অবস্থার আওতায় শিক্ষাদান চলে তা দিয়ে সমাজের সাক্ষাৎ কিংবা অপ্রত্যক্ষ হস্থক্ষেপ মারফত কি সে শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত হয় না? শিক্ষা ব্যাপারে সমাজের হস্তক্ষেপ কমিউনিস্টদের উদ্ভাবন নয়, তারা চায় শুধু সমাজের হস্তক্ষেপের প্রকৃতিটা বদলাতে, শাসকশ্রেণীর প্রভাব থেকে শিক্ষাকে উদ্ধার করতে।”

কাজটা সহজ নয়। সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে শোষকশ্রেণীকে উৎখাত করেই সেটা পরিপূর্ণরূপে করা সম্ভব। কিন্তু তার আগেও গণআন্দোলন দ্বারা কিছু কিছু শিক্ষার অধিকার, গণমানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে তুলনামূলক প্রগতিশীল ও বৈজ্ঞানিক উপাদান যুক্ত করা সম্ভব। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুঁজির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করে সার্বজনীন, বৈজ্ঞানিক ও মানুষের কল্যাণমুখী করার জন্যও বিপুল ও ব্যাপক সংগ্রামের প্রয়োজন।

শিক্ষার বিষয়বস্তু তো আছেই, এমনকি সাধারণ অক্ষর জ্ঞান এবং যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ করার মতো অতি প্রাথমিক পাটিগণিত বিদ্যাও যাতে সাধারণ মানুষ না পায়, সেজন্য সতর্ক ছিল শোষক ও শাসকগোষ্ঠী। শুধু আমাদের দেশেই নয়, ইউরোপেও। এমনকি সেই সমাজে রেনেসার যুগ প্রবর্তিত হবার পরেও শাসকশ্রেণী শিক্ষার প্রসারের প্রবল বিরোধিতা করে এসেছিল। ইংল্যান্ডে ১৮৩২ সাল থেকে ধাপে ধাপে ভোটাধিকার প্রসার লাভ করেছিল। অনেক লড়াই করে শ্রমিকশ্রেণী ভোটাধিকার অর্জন করেছিল। কিন্তু সার্বজনীন ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারের জন্য আরও ষাটসত্তর বছর লেগেছিল। উনবিংশ শতাব্দীতে এক ইংরেজ বলেছিলেন “ভোটদানের ক্ষমতার প্রসার যত সহজে হয়, লেখাপড়া শেখার সুযোগের প্রসার তত সহজে হয় না।”

নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে এটা আরও বেশী করে প্রযোজ্য। শোষকশ্রেণী বিশেষ করে সামন্তশ্রেণী শ্রেণীগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই নারীকে পর্দার অন্তরালে রাখতে চায়। একই কারণে তারা নারী শিক্ষারও প্রবল বিরোধী। এমনকি পুঁজিবাদী ইউরোপেও নারী শিক্ষার বিষয়টি সহজ ছিল না। গরিব শ্রমজীবী মানুষকে এবং নারীকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত রাখা শোষকশ্রেণীর স্বাভাবিক প্রবণতা। কেন?

কারণটা খুবই সহজ। লেখাপড়া শিখলে সাধারণ মানুষের চোখ খুলে যাবে। অশিক্ষিত মানুষকে বেশী ঠকানো সহজ। তাছাড়া কিছুটা জ্ঞান থাকলে মানুষ সহজেই বুঝতে পারবে কেন ও কিভাবে সে শোষিত হচ্ছে। ইংরেজীতে একটা কথা আছে Knowledge is power। শোষিত জনগণকে ক্ষমতাহীন করে রাখাই তো শ্রেণী বিভক্ত সমাজে শাসকশ্রেণীর আসল উদ্দেশ্য। ঠিক এই কথাই বলেছেন তলস্তয় বিপ্লবপূর্ব রাশিয়া প্রসঙ্গে, “জনগণের অজ্ঞতাই সরকারের শক্তির উৎস। সরকারও এটা জানে বলে সে সর্বদাই শিক্ষা বিস্তারে বিরোধিতা করে।” (On popular education)। ফরাসী দার্শনিক দিদেরো বলেছিলেন, “যে কৃষক পড়তে পারে তাকে ঠকানো যে কোন অন্য ব্যক্তিকে ঠকানো অপেক্ষা কঠিন।”

দ্বিতীয়তঃ শিক্ষালাভ করলে মানুষের চাহিদা বাড়ে। কার্ল মার্কস তার বিখ্যাত উদ্বৃত্ত মূল্যের তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার সময় বলেছেন যে, মজুরির হার অন্যান্য কারণ ছাড়াও জীবনমানের ন্যূনতম চাহিদার উপর নির্ভরশীল, যা আবার স্থানকাল পরিবেশ ভেদে কমবেশী হয়। তাই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখতে পারলে সামাজিক জীবনমানকেও কম করে রাখা সম্ভব হয়, যা অর্থনৈতিক বিবেচনাতেও শোষকশ্রেণীর জন্য লাভজনক।

তৃতীয়তঃ লেখাপড়া জানা না থাকলে নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত নরনারী পরের উপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হয়। এটাও তথাকথিত উচ্চতর শ্রেণীর জন্য সুবিধাজনক। লাভজনকও বটে। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি। ষাটের দশকে আমি যখন টঙ্গীতে শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম, তখন দেখেছি, শ্রমিকরা সামান্য একটা চার্জশিটের জবাব দেবার জন্য কিভাবে পরনির্ভর থাকতো। আগের যুগে, এমনকি বর্তমানেও অধিকাংশ গ্রামীণ নারী অথবা শহুরে বস্তিতে বাস করা শ্রমজীবি নারী চিঠি পর্যন্ত পড়তে পারে না। বড় অসহায় বোধ করে। উচ্চতর (সম্পত্তির হিসাবে) শ্রেণী থেকে আগত লেখাপড়া জানা মানুষের উপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হয়। লেখাপড়া না জানা গরিব মানুষের এই অসহায়ত্ব বিত্তশালী শ্রেণীর জন্য লাভজনক।

তিন

পুঁজিবাদী যুগে যন্ত্রবিকাশের সাথে সাথে পুঁজিপতিদের স্বার্থেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা শিক্ষা দেবার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হল। সীমিত শিক্ষার দরকার ছিল। পুঁজিপতির স্বার্থেই দরকার ছিল ইঞ্জিনিয়ার, রসায়নবিদ, আধুনিক হিসাবরক্ষক ইত্যাদি। কিন্তু শ্রমিককে বুর্জোয়া রাষ্ট্র কতটুকু সুযোগ দেবে? ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, “বুর্জোয়ারা যেহেতু শ্রমিকের ততটুকুই জীবনধারণের স্বীকৃতি দেয় যতটুকু নিতান্ত প্রয়োজন। সুতরাং আশ্চর্য হবার কিছু নেই যে তারা শ্রমিককে ততটুকু শিক্ষার সুযোগ দেবে যতটুকু বুর্জোয়াদের নিজেদের স্বার্থে প্রয়োজন।”

কিছুটা পরিমাণে উচ্চশিক্ষা দিতে বাধ্য হলেও সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপারে বুর্জোয়াদের প্রবল আপত্তি ও বিরোধিতা ছিল। ঘটনাক্রমে জার্মানী ও পরে ফ্রান্সে জনসাধারণের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার লাভ করেছিল ইংল্যান্ডের আগে, যদিও ইংল্যান্ড ছিল পুঁজিবাদী বিকাশের দিক দিয়ে প্রথম দেশ।

ফ্রান্সে শিক্ষার বিষয়টি ছিল মহান ফরাসী বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল। ফরাসী বিপ্লবের পর ১৭৯১ সালের সংবিধানে (যখন জ্যাকবিনরা ক্ষমতায়) বিধিবদ্ধ হয় যে, বিনা বেতনে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

জার্মানীতে এর আগেই প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ঘটেছিল অন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে। জার্মানীতে প্রোটেস্টান রিফর্মেশনের যুগে দাবী ওঠে যে প্রজাদের লেখাপড়া শিখতে হবে। মার্টিন লুথারের প্রভাব এবং প্রোটেস্টান ধর্মমতের আবির্ভাব এবং অন্যান্য বিশেষ রাজনৈতিক কারণে, যথা ক্যাথলিক চার্চের প্রভাব মুক্ত রাখা ও অস্ট্রো হাঙ্গারীর সঙ্গে প্রুশিয়ার দ্বন্দ্ব ইত্যাদি কারণে প্রুশিয়ার শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেছিল বা করতে বাধ্য হয়েছিল। তার মধ্যে শিক্ষাও একটি। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল জার্মানীতে অষ্টাদশ শতাব্দীতে এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে তা পূর্ণতা লাভ করেছিল।

১৮৭০ সালের দিকে এসে ইংল্যান্ড উপলব্ধি করলো যে শিল্পে জার্মানী অনেকখানি এগিয়ে গেছে। বিশেষ করে রসায়ন শিল্পে। জার্মানীর বিশেষ সুবিধার দিক ছিল এই যে সেই দেশে সস্তায় প্রচুর কেমিস্ট ও সহকারী কেমিস্ট পাওয়া যায়। “জার্মানীতে শিক্ষিত প্রলেতারিয়েত ছিল। জার্মানীতে বিশেষ ধরনের শিক্ষিত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল অনেক।” (Professor F.W. Taussig-এর লেখা International Trade, ১৯২৭ সাল)

১৮৭০ সালের দিকেই ইংরেজ বুর্জোয়ারা আরও “সুনির্দিষ্টভাবে বুঝতে পারলো যে, সাধারণ শিক্ষার প্রাথমিক শিক্ষার সোপান আয়ত্ত হয়নি যাদের, তাদের টেকনিক্যাল শিক্ষা দেয়া যায় না।” (Brigg & Jordon- Economic History of England)

ইংল্যান্ডে প্রাথমিক শিক্ষার আইন তৈরী হয়েছিল ১৮৭০ সালে ও পরে ১৮৮৯ সালে। ফ্রান্স ও জার্মানীর একশো দেড়শো বছর পর। তারপরও ইংল্যান্ডের প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থাটি তখনও পর্যন্ত ছিল খুবই নিম্নমানের। ইংল্যান্ডে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে ইতিহাস বিখ্যাত চার্টিস্ট আন্দোলনের বিশেষ ভূমিকা ছিল। চার্টিস্ট আন্দোলন ইংল্যান্ডের শ্রমিকশ্রেণীর জন্য “কমন স্কুল” দাবী করেছিল। শাসকরা সেটা মানতে বাধ্য হলেও শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য উচ্চ শিক্ষা, এমনকি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার দরজা বন্ধ ছিল বললেই চলে। বৃটেনের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনও পর্যন্ত প্রকটভাবে শ্রেণী বৈষম্য দেখা যায়। ১৮৭০ সালের শিক্ষা সংক্রান্ত আইন প্রসঙ্গে বৃটিশ পন্ডিত এইচ জি ওয়েলসের মত ছিল, “নিম্নশ্রেণীকে নিম্নমানের কাজের উপযোগী করে শিক্ষা দেয়াই” ছিল আসল উদ্দেশ্য।।

(চলবে…)