Home » বিশেষ নিবন্ধ » জাসদের জন্ম ও রাজনীতি :: খুলতে শুরু করেছে প্যান্ডোরার বক্স

জাসদের জন্ম ও রাজনীতি :: খুলতে শুরু করেছে প্যান্ডোরার বক্স

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

Last-1আমাদের বুধবারে এই আলোচনাটি সূত্রপাত করা হয়েছিল চলতি বছরের ১৫ জুলাই সংখ্যায় মুজিব বাহিনীঃ মুক্তিযুদ্ধের রহস্যময় এক অকথিত অধ্যায় নামক দীর্ঘ নিবন্ধে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে জাতিগত ঐক্য গড়ে উঠছিল তা শুরুতেই কেন হোঁচট খেয়েছিল তার একটি বিশ্লেষণ দেয়ার প্রয়াস ছিল ওই নিবন্ধ। গত সাড়ে চার দশকের বাংলাদেশে রক্তাক্ত, বৈরী ও হিংসাশ্রয়ী রাজনীতির শেকড় নিহিত রয়েছে এর মাঝে। (বিস্তারিত দেখুন : মুজিব বাহিনী :: মুক্তিযুদ্ধের রহস্যময় এক অকথিত অধ্যায়)

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালের রাজনীতিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের ধূমকেতুর মত আবির্ভাব দশকের পর দশক ধুম্রজাল সৃষ্টি করে রেখেছে। হাল আমলে ক্ষমতাসীন, বিরোধী এবং সুশীল মহল এই বিতর্ক এভাবে উস্কে দিতে চাইছে যে, শেখ মুজিব হত্যার প্রেক্ষাপট জাসদ সৃষ্টি করেছিল। কৌতুহোলোদ্দীপক বিষয় হচ্ছে, মুজিব বাহিনীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শেষে মাত্র এক বছরের মধ্যেই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েমের শ্লোগান দিয়ে কোন প্রস্তুতি ছাড়া জাসদ কেন ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, হাজার হাজার তরুন মেধাবীদের প্রাণ গিয়েছিল, সেটি এখনও প্রায় অকথিত। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রাজনৈতিক সাহিত্যে বা আলোচনায় এ বিষয়গুলি অনেকটাই উপেক্ষিত। এই অকথন ও রহস্য খোঁজার একটি প্রয়াস নেয়া হয়েছে এই নিবন্ধে।

জাসদ গড়ে ওঠার প্রাক্কালে দলটির রাজনীতি ও সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে প্রথম সরাসরি তাত্ত্বিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন প্রয়াত: বিপ্লবী নেতা সিরাজ সিকদার। সে সময়ে দেশব্যাপী প্রচারিত দুটি দলিলের মাধ্যমে প্রশ্নগুলোর অবতারনা করা হয়েছিল। দলিল দুটির শিরোনাম ছিল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলছাত্রলীগের (রব গ্রুপ) নিকট কয়েকটি প্রশ্নঃ আগষ্ট ১৯৭৩ এবং সমাজতন্ত্র, শ্রেনী সংগ্রাম ও সামাজিক বিপ্লব প্রসঙ্গেঃ অক্টোবর ১৯৭৩

দলিল দুটিতে সিরাজ সিকদার মন্তব্য করেছিলেন; …প্রথমত: জাসদ সমাজতন্ত্রের কথা বললেও সর্বহারার একনায়কতন্ত্রের কথা বলে না; সর্বহারার একনায়কতন্ত্র ছাড়া মার্কসবাদ আবির্ভূত হয় ফ্যাসিবাদ রূপে; দ্বিতীয়ত: জাসদ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা বলছেঅথচ পূর্ববাংলায় এখনও জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবই অসস্পন্ন। এরা আসলে মুজিব সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। তৃতীয়ত: জাসদ মার্কসবাদ ও সমাজতন্ত্রের কথা বলছেঅথচ সর্বহারা শ্রেনীর রাজনৈতিক পার্টি ছাড়া তারা এটা বলা শুরু করেছে, যা বিষ্ময়কর! এটা শ্রেনী বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে দাঁড়াবে। এটা সর্বহারা শ্রেনীকে অপ্রস্তুত করে রাখার নামান্তর। চতুর্থত:, শ্রেনী সংগ্রাম ও শ্রেনী রাজনীতির কথা বলার পরেও জাসদ কর্তৃক বিভিন্ন জেলায় অন্যান্য বামপন্থীদের সাথে সংঘর্ষে অবতীর্ণ হওয়ার যথার্থতা নিয়েও সিরাজ সিকদার দলিলে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অন্তিমে তাঁর মন্তব্য ছিল, জাসদের ভুল লাইন এ দলের কর্মীদের সরকারের পেটোয়া বাহিনীগুলোর নিপীড়নের খোরাকে পরিনত করবে

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করতে সিরাজ সিকদার ও সর্বহারা পার্টির গৃহীত সশস্ত্র সংগ্রামের লাইন যে কতখানি আত্মঘাতী ছিল, সরকারী বাহিনীর হাতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়ে তিনি নিজেই তার বড় প্রমান হয়ে আছেন। এরপরেও উল্লেখিত দলিলে আলোচিত জাসদের লাইন ভুল ছিল কিনাসেটি এখন প্রমানিত এবং এই দলের প্রথম প্রজন্মের মেধাবী তরুনদের বিশাল অংশ সিরাজ সিকদারের আশঙ্কাকে সত্য প্রমান করে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন। জাসদের সাথে গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগের গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সখ্যের মাঝে হারিয়ে যাওয়া সেইসব কর্মীদের পরিবারগুলো এখন কাকে দায়ী করবেজাসদ নেতৃত্ব না তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে?

নানামুখী অনুসন্ধানে জাসদের রহস্যময় জন্মের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বেশকিছু পরস্পরবিরোধী ধারনা পাওয়া যায়। তবে সে সব ধারনার সবগুলিই ইতিহাসের তথ্যউপাত্ত এবং নানাজনের বর্ণনা। ১৯৭২ সালে দ্বিধাবিভক্ত ছাত্রলীগের র‌্যাডিক্যাল অংশটি (রব গ্রুপ) পরবর্তীকালের রূপান্তরিত হওয়া জাসদের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা গিয়েছিল ভারতীয় বাম তাত্ত্বিক শিবনাথ ঘোষ ও তার দল সোশালিষ্ট ইউনিটি সেন্টার অব ইন্ডিয়া (এসইউসিআই)-এর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই সিরাজুল আলম খানসহ কয়েকজন নেতা শিবনাথ ঘোষের সংস্পর্শে আসেন এবং প্রভাবিত হয়ে পড়েন।

১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল শিবনাথ ঘোষ পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সহায়তার রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেছিলেন; ভারত সরকার একচেটিয়া পূঁজিবাদী চরিত্রের। ইতিমধ্যেই ভারত সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র অর্জন করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর মত সাম্রাজ্যবাদী অভিসন্ধি না থাকলেও স্বল্প পরিমান সম্প্রসারনবাদী মনোভাব তার নেই, একথা বলা যাবে না। বাংলাদেশকে সাহায্য করার ব্যাপারে এই মনোভাব কাজ করছে। ভারত সরকার স্বভাবতই মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন ও সাহায্য করার নামে খবরদারী বা অন্তত: ব্যবসাবানিজ্যের স্বার্থে খানিকটা প্রভাবপরিধি বিস্তারসহ একটি তাবেদার সরকার গঠনের চেষ্টা করবে

শিবনাথের এই মন্তব্যের পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু মুজিব বাহিনীর র‌্যাডিক্যাল অংশটিকে যে তিনি প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন এতে কোন সন্দেহ নেই। এসইউসিআইএর অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশেও অনুরূপ আদলে একটি পার্টি গঠনের চিন্তা থেকে সিরাজুল আলম খানের সাথে শিবনাথ ঘোষের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ভারতে। সম্প্রতি প্রকাশিত জাসদের উত্থানপতন গ্রন্থের লেখক মহিউদ্দিন খান জানাচ্ছেন, ৭৩ সালের শরৎে উভয়ের মধ্যে উপর্যুক্ত যোগাযোগ হয়েছিল এবং বৈঠকটি ছিল কয়েক দফায়। এর অনিবার্যতায় গঠিত হয়েছিল জাসদ এবং সর্বাঙ্গে ফুটে উঠেছিল এসইউসিআইএর আদল। শিবণাথ ঘোষের সাথে ঘনিষ্ট জাসদ নেতা মুবিনুল হায়দার চৌধুরী পার্টির এক দলিলে মন্তব্য করেন, ১৯৭৪ সালে গৃহীত জাসদের প্রথম থিসিস সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের লাইন, রণনীতিরণকৌশল শিবনাথ ঘোষ ও সিরাজুল আলম খানের আলোচনার ভিত্তিতে রচিত হয়েছিল

জাসদের জন্মকে রহস্যময় বলা হয়েছে এ কারনে যে, দলটির সিংহভাগ নেতাকর্মী জানতেন না, তখনকার সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় শ্লোগান বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের আড়ালে কি ছিল? পার্টি হিসেবে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা কেন তিন বছরের মাথায় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল তার একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর লেখায়। তিনি জানাচ্ছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পরপর শাসক বুর্জোয়া শ্রেনীর হাতে মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা যখন মার খেতে শুরু করল তার বিরুদ্ধে ছাত্রযুবতরুনদের প্রবল প্রতিবাদের ভিত্তির ওপর জাসদ গড়ে ওঠে। এই ছাত্রযুবরা শাসকদের লুটপাটে যুক্ত হতে চায়নি, জাসদের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের শ্লোগান আসলে একটি আকাঙ্খাকে প্রতিফলিত করে। কিন্তু কেমন করে সমাজতন্ত্র হয়, কেমন করে বিপ্লবের উপযোগী পার্টি হয়, এসব কিছুই তাদের সামনে পরিস্কার ছিল না। এ সম্পর্কে জাসদ কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে স্বচ্ছস্পষ্ট কোন ধারনা ছিল না

১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে গঠিত কথিত নিউক্লিয়াসের ধারাবাহিকতা ও পরবর্র্তী কাঠামো ছিল বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) বা মুজিব বাহিনী। এই বাহিনীর সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটেছিল মূলত: পূর্ববাংলায় তৎকালীন কমিউনিষ্ট আন্দোলন, বিশেষ করে নকশালবাড়ির আদলে বিকশিত পিকিং ধারার কমিউনিষ্টদের অগ্রগতি বিবেচনায়। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের পর সহসাই মুজিব বাহিনীর নতুন আবির্ভাব ঘটে দেশের বামপন্থী বলয় মতাদর্শিকভাবে সম্পূর্ন নতুন চরিত্রে। ইতিহাসের ওই সময়টিতে কমিউনিষ্টরা পূর্ববাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটকে শ্রেনী বৈষম্য হিসেবে ব্যাখ্যা করছিলেন। তখন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে কথিত নিউক্লিয়াস দেখছিল জাতিগত বৈষম্য হিসেবে। যে কারনে নিউক্লিয়াসকে উদ্যোক্তারা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে আখ্যায়িত করেন।

ষাটসত্তর দশকে সমাজতন্ত্র, প্রলেতারিয়েত একনায়কতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতা বিশ্বজুড়ে তরুণদের উত্তাল করে তুলেছিল। বাংলাদেশের তরুণরা, যারা পিকিংপন্থী কমিউনিষ্ট পার্টিগুলোর সাথে যুক্ত ছিলেন তারা নকশাল বাড়ি আন্দোলনের আদর্শে প্রচন্ড প্রভাবিত ছিলেন এবং সশস্ত্র শ্রেনীসংগ্রামের মাধ্যমে সর্বহারা শ্রেনীর একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তারা জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা কায়েমের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, অন্যদিকে বিভ্রান্ত উপদলগুলি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল, এমনকি পাক হানাদারদের সহযোগিতাও করেছিল। মস্কোপন্থী কমিউনিষ্টরা দীর্ঘমেয়াদে শান্তিপূর্ণ সংসদীয় পথে পৌঁছানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিলেন। একইসাথে সাম্রাজ্যবাদপূঁজিবাদসামন্তবাদ বিরোধী একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, ইতিহাসের এই কালপর্বে তৎকালীন পূর্ববাংলায় সমাজতন্ত্রী ও সমাজতন্ত্র বিরোধীউভয় শক্তিই যুথবদ্ধ হচ্ছিল, শুধুমাত্র প্রভাববলয় সৃষ্টির প্রয়োজনে, আদর্শিক বিবেচনা থেকে নয়। প্রথাগত সমাজতন্ত্রীরা শিল্পাঞ্চল ও কৃষক এলাকাকে বেছে নেয় তাদের ঘাঁটি গড়ে তোলার জন্য। কিন্ত সময়ের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার অনুসারী সিরাজুল আলম খানের কথিত নিউক্লিয়াস ভবিষ্যত রাজনীতিতে ছাত্রদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে মনোযোগী হয়েছিলেন। যে কারনে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী রাজনীতিতে জাসদের জন্মের পর হাজার হাজার মেধাবী ছাত্রতরুণদের সমাবেশ ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো, বিশেষ করে মার্কিনীরা বিশ্বজুড়ে প্রভাববলয় বিস্তার করতে এবং সম্ভাব্য সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঠেকাতে একটি বিশেষ কৌশল গ্রহন করেছিল। সেটি হচ্ছে, লাল পতাকা দিয়ে লাল পতাকার বিরোধীতা (Red Flag opposes Red Flag)অর্থাৎ বিভিন্ন দেশে গড়ে ওঠা কমিউনিষ্ট আন্দোলন ঠেকাতে একই আদলে পার্টি সৃষ্টি করা এবং তাদের বিকাশ ও ধ্বংসে সবরকম সহায়তা দান। এক্ষেত্রে তাদের মস্ত সুবিধে করে দিয়েছিল মস্কোপিকিং বিরোধ এবং বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে মতাদর্শগত বিভক্তির মধ্য দিয়ে পরস্পরবিরোধী সোভিয়েট ও চীন বলয় গড়ে ওঠা ।

ভারতসোভিয়েট ইউনিয়নমার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ একাট্টা হয়ে গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে মাওবাদী বিপ্লবীদের ধ্বংস করে দেয়ার বিষয়ে। অন্যদিকে চীনের অভিহিত, A peal of spring thunderনকশালবাড়ি আন্দোলন নিয়ে ভারত প্রকৃতই উদ্বিগ্ন ছিল। এসবের যোগফল ছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পিকিংপন্থীদের প্রতিরোধ করবে। এর সাথে তৎকালীন ভারতের সরকার প্রধানসহ বিভিন্ন সংস্থার যোগসূত্র ও তার ফলাফল সম্পর্কে দিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ ফেলো শ্রীনাথ রাঘবনের বক্তব্যে উদ্বৃতি প্রাসঙ্গিক;

…Owing to the lack of clarity about Mujib’s intention, Mrs. Ghandhi allowed Kao (Ramanath Kao, Chief of Research and Analysis Wing, RAW) to organize a separate Militia under Moni’s leadership known as the Mujib Bahini … that would function independent of Bangladesh Government and the Mukti Fouj. The Mujib Bahini was also regarded as insurance against the possibility of the liberation movement being captured by the ultra left Maoistsবাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ও মুক্তিবাহিনীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন থাকা সত্বেও মুজিব বাহিনী নামে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ফোর্স গঠনের তাৎপর্য শ্রীনাথ রাঘবনের ওপরের বয়ান থেকে অনুধাবন করা যাবে।

জাসদ ও এর মূল তাত্ত্বিক নেতা কথিত রহস্য পুরুষ সিরাজুল আলম খানের সাথে ঘনিষ্ট সাংবাদিক অধুনালুপ্ত ইংরেজী সাপ্তাহিক ওয়েভ সম্পাদক কেবিএম মাহমুদ সম্প্রতি দীর্ঘ এক সাক্ষাতকারে জাসদের জন্ম পরবর্তীকালের অনেক তথ্য সন্নিবেশিত করেছেন। এসব তথ্যের বিষয়ে বর্তমান জাসদের শীর্ষ ব্যক্তিরা বা সিরাজুল আলম খানের পক্ষ থেকে পাল্টা তথ্য বা প্রতিবাদ না আসায় সে সময়ের জাসদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মাহমুদের প্রদেয় তথ্যের ওপরে আস্থা রাখা যেতে পারে। কারন স্বাধীনতাত্তোর রাজনীতিতে হঠাৎ বিষ্ফোরণের মত জাসদের জন্মের রহস্যময় ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন লিঙ্কগুলি তাঁর সাক্ষাতকারে পাওয়া যাবে এবং জোড়া লাগানো যাবে। প্রসঙ্গত: মাহমুদ তৎকালে জাসদের পক্ষে উপ সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহীজনতার অভ্যূথানে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে মার্কিন অনুসন্ধানী রিপোর্টার জ্যাক এন্ডারসন ১৯৭৩ সালে এন্ডারসন পেপার নামে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেন, যাতে ৭১র যুদ্ধ ছাড়াও তৎকালীন বিশ্বের বিভিন্ন ফ্রন্টে নিক্সন প্রশাসনের গোপন কার্যক্রম বিধৃত হয়েছিল। ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিক্সনকিসিঞ্জার ঊীরং ড়ভ ঊারষএর পরাজয়ের পূর্বাভাসে ওয়াশিংটন মরিয়া হয়ে উঠেছিল এই পরাজয়ের বিপক্ষে একটি কন্টিজেনসি প্ল্যান এবং প্রতিশোধের পথ খুঁজতে বাংলাদেশে তাদের পরবর্তী পলিসি এবং সে সময়ে স্নায়ুযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন স্বার্থ অব্যাহত রাখতে যুদ্ধকালেই কিসিঞ্জার ঐ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সূচনা করেন।

এ প্রসঙ্গে মাহমুদ জানাচ্ছেন, নিশ্চিতভাবেই কিসিঞ্জার বাংলাদেশে একটি দুষ্ট নক্ষত্রের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিলেন, যেরকম অনেক উদাহরন সৃষ্টি করা হয়েছিল লাতিন আমেরিকাসহ অনেক দেশে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মোশতাক গংদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের যোগাযোগযড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় কিসিঞ্জারের জন্য এই গোপন বিকল্প ছাড়া উপায় ছিল না। দুরদর্শী কিসিঞ্জার অনুধাবন করতে সক্ষম ছিলেন যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি শক্তিশালী ও অঙ্গীকারাবদ্ধ তরুন প্রজন্ম সৃষ্টি করছে, যা ধ্বংস করা না গেলে দেশটি ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে এবং উপমহাদেশে এর প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য পরিস্থিতি মেনে নেয়ার জন্য সত্তরের ক্রান্তিকালে মার্কিনীরা মোটেই প্রস্তুত ছিল না।

এখানে মাহমুদ আরো জানাচ্ছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হওয়ার পরে অদৃশ্য যুদ্ধের কৌশল এই দেশকে গ্রাস করে ফেলবে, যেটি প্রতিরোধের কৌশল তরুণ প্রজন্মের যোদ্ধাদের বা জাতীয় নেতৃবৃন্দের ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের পরে বিশ্বের অন্যান্য ফ্রন্টের মত কিসিঞ্জার এখানকার পরিকল্পনা অনুযায়ী অদম্য যুবশক্তির মধ্যে অপশক্তির অনুপ্রবেশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরই বিভিন্ন ফর্ম বা রূপের একটি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আত্মপ্রকাশ। আত্মপ্রকাশের ধরন ও পন্থা থেকে শুরু করে প্রথম থেকে আজতক জাসদের ভূমিকা পর্যালোচনা করলে এ রূঢ় বাস্তবতার প্রমান মিলবে। জাসদের মূলধারার নেতৃত্বের সিংহভাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে শতভাগ সততা থাকা সত্বেও যুদ্ধ চলাকালে বা যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছু পরে নেতৃত্বের একজন বিশেষ ব্যক্তি, যিনি জাসদকে এককভাবে নিয়ন্ত্রন করতে পারতেন তার সাথে কিসিঞ্জার নেটওয়র্কের একটি ডিল্ হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল;

এক. প্রাথমিক পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র শ্লোগানটি ব্যবহার করে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে অন্যান্য বামপ্রগতিশীল শক্তিসমূহকে সংগঠিত হতে না দেয়া।

দুই. স্বাধীনতা পূর্বকালের লিবারেল ডেমোক্রেট শেখ মুজিবর রহমান যাতে র‌্যাডিক্যাল চিন্তায় রূপান্তরিত না হন, সেজন্য ছাত্রলীগের মাধ্যমে একটি মিলিট্যান্ট ধারার সৃষ্টি করা যাতে শেখ মুজিবকে দক্ষিণপন্থার দিকে ঠেলে দেয়া যায়। গণবাহিনীর সৃষ্টিই হয় যাতে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পরিবর্তে মুজিব সরকারের দৃষ্টি র‌্যাডিক্যাল অথচ দেশপ্রেমিক শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের পরে সিরাজুল আলম খানের নিয়ন্ত্রনাধীন জাসদের চরিত্র ক্রমশ: পরিস্কার ও প্রকাশিত হয়ে উঠতে শুরু করে। গণবাহিনীর গোপন কার্যক্রম ছাড়া রাজনৈতিক কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ে। মাহমুদ দাবি করেছেন, এ সময়ে খান তাকে অনেকগুলি ফোরাম গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এসব ফোরামে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সিভিল আমলা শফিউল আজম (পুর্ব পাকিস্তনের সবশেষ চিফ সেক্রেটারি ও পরবর্তীতে জিয়ার উপদেষ্টা), মোশতাকের ঘনিষ্টতম সহচর ইত্তেফাক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ ও ফোরামে অন্তর্ভূক্ত করতে বলেছিলেন।

অত:পর ৭ নভেম্বরের অভ্যূত্থানের প্রাক্কালে মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, সিরাজুল আলম খান তাকে ও কর্নেল তাহেরকে অভ্যূত্থান প্রস্তুতি ও পরিকল্পনামূলক যে চিত্র দিয়েছিলেন যথাসময়ে তা ভিত্তিহীন বলে প্রমানিত হয়েছিল। বরং দেখা গিয়েছিল অভ্যূত্থানের পর জাসদ ক্যাডারদের তুলনায় সামরিক বাহিনীর মোশতাক সমর্থক টাস্ক ফোর্স অনেক বেশি সক্রিয়, যারা খালেদ মোশাররফসহ মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারদের হত্যা করেছিল। অথচ সুকৌশলে গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল যে কর্নেল তাহেরের নির্দেশে এই হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। এটা ছিল এক ঢিলে দুই পাখি মারার চক্রান্ত। মুক্তিযোদ্ধা অফিসাররা নিহত হলেন, দায়ভার চাপান হল এমন একজনের কাঁধে, যিনি শুধু মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না ছিলেন একজন বিপ্লবীও। মাহমুদ ধারনা দেন, ৭ নভেম্বর সকালে মোশতাকের পক্ষশক্তি এমনভাবে সক্রিয় ছিল যে জাসদের পরিকল্পনা সম্পর্কে পুরোপুরি মোশতাক জ্ঞাত ছিলেন।

কেবিএম মাহমুদের উপর্যুক্ত বক্তব্যের আড়ালে ইতিহাসের অনেক সত্য বেরিয়ে আসে, যেগুলিকে পেছনের দিকে সম্পর্কহীন ও রহস্যময় মনে করা হত। সম্ভবত: ৭ নভেম্বরে সিপাহীজনতার অভ্যূত্থানে সিরাজুল আলম খান ও মোশতাকের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল। একজন প্রাক্তন চৌকশ সামরিক অফিসার হিসেবে গণবাহিনী প্রধান কর্নেল তাহের নিয়ন্ত্রন হারিয়েছিলেন, কারন সমগ্র ঘটনাপ্রবাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রন করছিলেন সিরাজুল আলম খান। যা নির্ণয় করতে জাসদের শীর্ষ নেতৃত্বের সময় লেগেছিল কয়েক দশক (বিস্তারিত দেখুন, কেবিএম মাহমুদের আত্মজৈবনিক সাক্ষাৎকার :: বিস্মৃত নিয়তি, ১৬ জুলাই ২০১৫)

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের শ্লোগান দিয়ে তরুণদের বিশাল অংশকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হলেও জাসদের সাংগঠনিক কাঠামো কখনই সমাজতান্ত্রিক পার্টিগুলোর প্রথাগত আদলে গড়ে উঠছিল না। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাথে তাদের পার্থক্য ছিল সামান্যই। গত শতাব্দীতে উপমহাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে কমিউনিষ্ট বা সমাজতান্ত্রিক ঘরানার দলগুলো শ্রমিককৃষকছাত্রদের দীর্ঘ লড়াইসংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল, সংগঠনের বিশেষ শ্রেনীভিত্তি ছিল, মধ্যবিত্ত নেতৃত্ব শ্রেনী বিচ্যুতির নানা পর্যায়ে নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছিলদল হিসেবে জাসদ সে রকম চর্চায় কখনও গড়ে ওঠেনি। এর সবচেয়ে বড় প্রমান হচ্ছে, স্রেফ ভারত বিরোধী ইমেজের কারনে একজন সাবেক সেনা কমান্ডার মেজর এমএ জলিল দলটির সভাপতি হয়েছিলেন। সেক্টর কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর ছিল বড় সাফল্যতারপরেও একটি কথিত সমাজতান্ত্রিক দলে অভিষেকই প্রধান হয়ে ওঠা ছিল বিষ্ময়কর। অবশ্য তাজউদ্দিন আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক এবং সবশেষে ড. আলীম আল রাজীকে সভাপতি করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় জাসদের সামনে কম বিকল্পই ছিল।

সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশে কথিত জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব কিম্বা নকশাল ধারার আমুল পরিবর্তনবাদী রাজনীতি ঠেকাতে বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সৃষ্টি হয়েছিল কি? এর পেছনে কি সেই কৌশল ছিল, লাল পতাকা দিয়ে লাল পতাকার বিরোধীতা (Red Flag opposes Red Flag)তত্ত্ব? জাসদের জন্মের পেছনে এটিও একটি বড় প্রশ্ন। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর সদ্য ভূমিষ্ঠ দেশে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী পিকিং ধারার দলগুলি (কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটি, পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি) ঘোষণা দিয়েছিল, জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করতে জনযুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। তাদের বক্তব্য ছিলমার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোসর পাকিস্তানী হানাদারদের হাত থেকে মুক্ত হলেও দেশ সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও তাদের তাবেদারগোষ্ঠির কবলে পড়েছে। সে সময় এসব দলগুলির হাতে বিপুল পরিমান আধূনিক অস্ত্র ছিল এবং তাদের সাথে মুজিব বাহিনী, এমনকি ভারতীয় নিয়মিত বাহিনীর সাথে একাধিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

ঠান্ডাযুদ্ধ বা স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন পরস্পরবৈরীতা থাকা সত্বেও ঐ সময়কার বাংলাদেশ ও ভারতের শাসকদের মিলিত স্বার্থের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েট ইউনিয়নের স্বার্থও অনেকটা এক হয়ে গিয়েছিল, একথা আগেই বলা হয়েছে। ১৯৭২ সালের ২৭ মার্চ প্রকাশিত নিউজউইক সাময়িকীর প্রচ্ছদ কাহিনীতে দেখা যাবে, যুক্তরাষ্ট্র যেমন বাংলাদেশে অরাজকতা ও দুর্ভিক্ষের মাঝে বিপ্লব ঘটে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল তেমনি সোভিয়েত পক্ষের চাহিদা ছিল বিপ্লব হলে যেন রাশিয়ার আদলে হয়চীনের মত নয়। পরস্পরের ওপর নজরদারি ও গোয়েন্দাগিরির মাধ্যমে পরাশক্তিসমূহের এসব উদ্বেগ ও প্রত্যাশা সে সময়ে জানাজানি হয়ে গিয়েছিল।

এসব পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে বাংলাদেশে ভারতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিকল্প হিসেবে জাসদ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। অন্যদিকে এখানে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা প্রবল তারুণ্য ও যুবশক্তির উত্থান এবং অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। পরাশক্তি হিসেবে সোভিযেত ইউনিয়ন ভারতের মাধ্যমে তার প্রভাব বজায় রাখছিল, যা ১৯৭৫ সালে এসে ত্রিদলীয় ঐক্যজোটে (আওয়ামী লীগসিপিবিন্যাপ) রূপান্তরিত হয়ে পরিনামে একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েম হয়েছিল। ১৯৭১ সালে নকশালবাড়ি আন্দোলনের সংগঠকরা বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা ও সিকিমের ভারতভূক্তির বিরোধীতা করেছিলেন। ফলে দিল্লির জন্য স্বস্তিকর ছিল, দেশের মধ্যে নকশালপন্থীদের ধ্বংস করা এবং জন্ম নিতে যাওয়া বাংলাদেশে এদের বিকাশের সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেয়া। পলিটিক্যাল কমান্ডো হিসেবে মুজিব বাহিনী সৃষ্টির পেছনে ছিল এই আঞ্চলিক পলিটিকোমিলিটারি পটভূমি। এই পলিটিক্যাল কমান্ডো মুজিব বাহিনীর অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে আবির্ভূত হয়েছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল নামে, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মোড়কে।।

১টি মন্তব্য

  1. “রক্ষীবাহীনি” ফ্যাক্টরকে বাদ রেখে জাসদের রাজনীতি আলোচিত হয় কিভাবে? না হওয়া উচিত? নাকি বলতে চান যে রক্ষীবাহীনিও সিরাজুল আলম খানের প্রযোজিত সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার অপর অংশ?